কমল কৃষ্ণ কুইলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কমল কৃষ্ণ কুইলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

ব‍্যক্তিত্ব || কমল কৃষ্ণ কুইলা || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব‍্যক্তিত্ব 

কমল কৃষ্ণ কুইলা 

দৈনিক বাংলা ডেস্ক




কমল কৃষ্ণ কুইলা। একটি বর্ণময় চরিত্রের নাম। যা রূপকথাকেও হার মানায়। ওঁনার পিতার নাম  হরিপদ কুইলা। মাতা বীনাপাণি কুইলা। ওঁনার পিতা ছিলেন একজন হতদরিদ্র দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার মধ্যেই ওঁনার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা। শৈশবে তথা বাল‍্যকালে দুবেলা দুমুঠো আহার জোটেনি ওঁনার। ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা পর্যন্ত করতে হয়েছে। তাই নিয়মিত অনাহারে থাকাটা ওঁনার একপ্রকার অভ‍্যাসে পরিনত হয়ে গিয়েছিল।


পারিবারিক চরম দারিদ্র্যতার কারণে ওঁনার শিক্ষাজীবনও পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করতে হয়েছে এমনকি অনেকের পায়েও ধরতে হয়েছে পাঠ‍্য বইয়ের জন্য। অনেকেই আবার দূর দূর করে তাড়িয়েও দিয়েছে অপমান কটুক্তি করে। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এক গ্লাস জল খেয়ে সারাদিন স্কুলে কাটিয়ে দিয়েছেন উনি। তবুও হাল ছেড়ে দেননি। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গেছেন।


গান্ধীজির নীতিই ছিল ওঁনার চলার পথে একমাত্র পাথেয় : DO OR DIE করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে। এবং শেষ পর্যন্ত উনি এই নীতিতে সফল হতে পেরেছেন। লড়াইয়ে জিতে উনি সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে শূণ্য হাতেও জীবন যুদ্ধ জেতা যায়। এখন নিয়মিতভাবে কবিতা, গল্প ও গান রচনা করেন উনি।


ওঁনার কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না। নিজেই ছিলেন  নিজের শিক্ষক। বন্ধুদের ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে এবং বই ভিক্ষা করে পড়াশোনা সমাপ্ত করেছেন। 1999 সালে মাধ্যমিক। 2001 সালে উচ্চ মাধ্যমিক। 2004 সালে বাংলা অনার্স নিয়ে গ্র‍্যাজুয়েশন। এবং 2010 সালে সোস্যাল ওয়ার্কে মাস্টার ডিগ্রী লাভ করেছেন।


এছাড়া পড়াশোনা চালাতে গিয়ে ওঁনাকে কখনও টিউশনি কখনওবা জোগাড়ের কাজ এমনকি বাড়ি বাড়ি সেলসম‍্যানের কাজও করতে হয়েছে। উনি লজ্জা বা ঘৃণা করেন নি। হাসিমুখেই অন‍্য লেবারদের দুর্ব‍্যবহার কটুক্তি হজম করেছেন।


কর্মজীবনের প্রথম দিকে কলকাতায় এসে দিনের পর দিন রেল ষ্টেশনে শুয়ে কাটাতে হয়েছে ওঁনাকে পকেটে পয়সা না থাকার কারণে। এমনকি বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে বহুবার জেলও খাটার অভিজ্ঞতাও হয়েছে ওঁনার।


2006 সালে প্রয়াত অভিনেতা সুখেন দাসের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন কমলবাবু। ওঁনার কাছে কাজ শিখে বিভিন্ন ছবি ও মেগা সিরিয়ালে কাজ করেছেন নিয়মিত। বেশ কিছুদিন অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতেও ছিলেন জি-বাংলায় "এরাও শত্রু" মেগা সিরিয়ালে কাজ করার সময়।


যাইহোক, শেষমেশ নোংরা লবিবাজীর শিকার হয়ে কাজ ছাড়তে হয়। চলচ্চিত্র জগতকে গুডবাই জানিয়ে একটি মিশনারী সংস্থায় যোগদান করেন সোস্যাল ওয়ার্কার হিসাবে। ওখানে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতেই প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন তিনি। সাংগঠনিক কলা কৌশল রপ্ত করেন।


পরবর্তীকালে নিজে সংগঠন তৈরি করেন। যার নাম হল আলো ট্রাস্ট। এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ম‍্যানেজিং ট্রাস্টি কমলবাবু স্বয়ং। এর মাধ্যমে সারা বাংলা জুড়ে সারাবছর ধরে বিভিন্ন প্রকার সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন উনি। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ছটি দেশে উনি পৌঁছে গিয়েছেন  আলো ট্রাস্টকে নিয়ে। আগামীদিনে পৃথিবীর আরও দেশে পৌঁছে যেতে চান তিনি। 


ওঁনার সেরা প্রকল্প "মডেল ভিলেজ ক‍্যাম্পেনিং" এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলেন উনি।


এছাড়া প্রতি বছর একশোজন করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজনদেরকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করে থাকেন।


পাশাপাশি লকডাউন পিরিয়ডে অভুক্ত মানুষের বাড়িতে খাদ‍্যদ্রব‍্য পৌঁছে দেওয়া, আমফান ঝড়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির আয়োজন, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বই কিনে দেওয়া, স্কলারশিপের ব‍্যবস্থা, রাজ‍্য ও জাতীয় স্তরে বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ইত্যাদি।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি অতিমারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুদূর কলকাতা থেকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ঝাড়গ্রামের কুষ্ঠ কলোনির অসহায় শিশুদের জন্য ছুটে গিয়েছেন তিনি শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য। আসন্ন শারদোৎসবে শিশুদেরকে নতুন জামা প‍্যান্ট তুলে দিলেন তিনি।


এছাড়াও কমলবাবুর নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস আছে। নিজের লেখা কবিতা, গান ও গল্প চিত্রনাট্য নিয়ে অনেক ভিডিও অ‍্যালবাম ও ছবি বানিয়েছেন উনি।


এছাড়াও ওঁনার প্রতিষ্ঠিত "প্রতিভা টিভি" নামে একটি টিভি চ‍্যানেলও রয়েছে। যেখানে নিয়মিতভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। 


এছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ব‍্যবসায়ীক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের জন্য স্ট্র‍্যাটেজি রচনা করেন উনি। যা সফলতার চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে অনায়াসেই।


******************

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

(কমল কৃষ্ণ কুইলা

লেখক, সমাজসেবী, ফিল্ম মেকার,

স্ট্র‍্যাটেজিস্ট ও ইভেন্ট অর্গানাইজার।

চেয়ারম্যান অফ আলো ট্রাস্ট।

ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর অফ প্রতিভা টিভি।)

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

বঞ্চনা || কমল কৃষ্ণ কুইলা || কবিতা

 বঞ্চনা

কমল কৃষ্ণ কুইলা 




সরকার আসে যায়

কিন্তু বঞ্চিতরা, বঞ্চিতই থেকে যায়

বিরোধী চেয়ারে বসে সবাই

শুধু বাতেলা মেরে যায়

আবার সেই দলই ক্ষমতায় এসে

মানুষকে বঞ্চনা করে যায়।


তবুও আমরা অর্থের লোভে

দেশের উন্নতি ভুলে 

লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিই তাদের

শুধু দুহাত তুলে।


জানি সে ডাকাতি খুন

কিংবা নারী ধর্ষণ করে 

কখনওবা বড়াই করতে 

ডিগ্রী জাল করে।


উন্নয়ন লবডঙ্কা 

শুধু রাজনীতিই হয় 

দলাদলি আর লাঠালাঠি

মানুষ যে পিছিয়ে রয়।


ধর্মের আফিঙ খাইয়ে নেতারা 

করছে বাজিমাত

অন্ধ ভক্ত সেজে সবাই 

করছে প্রণিপাত।


ইস‍্যু ঢাকতে ইস‍্যু তৈরি 

করছে নেতাগণ

অথৈজলে হাবুডুবু খায়

শুধু জনগণ।


ঘুরে দাঁড়াতেই হবে  

ওঠো দেশবাসীগণ

নিজ জ্ঞানে বিচার কর

বৃথা আত্মসমর্পণ!

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনামিকা || কমল কৃষ্ণ কুইলা || কবিতা

অনামিকা
কমল কৃষ্ণ কুইলা




আমি অনামিকা
মা নেই বাপ নেই
ভাই নেই বোন নেই
ফুটপাতেতেই থাকি।

ঘর নেই দোর নেই
চাল নেই চুলো নেই
কাজ কাম কিছুই নেই
ভিক্ষা করেই বাঁচি।

তবে এবার বলি শোন ।
মরদটির নাম ছিল বাবলা
পাশের বস্তিতেই থাকে;
আমার কাছে এল ভাব করল
প্রেম নিবেদন করল ।
এমনকি সহবাসও করল ।
আমি আপত্তি করি নি ।
কেননা তাকে আমি
বিশ্বাস করেছি ভালবেসেছি।

কিন্তু হায়! শেষ পর্যন্ত সে
বিয়েই করতে রাজি হল না ।
আমি কারন জিজ্ঞাসা করলাম
সে বলল তার বাড়ির লোক
আমাকে মেনে নেবে না ।।

কারন কি?
আমি নাকি দেখতে খারাপ
গায়ের রঙ কালো;
আর আমার ঠিকানা হল ফুটপাত ।
আমি চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করলাম-
সহবাস করলে কেন ?
ও বলল ও আর এমনকি !
জাস্ট এনজয় করলাম;
দু-চারশ লাগলে বল-
দিয়ে দিচ্ছি ।।

আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল ।
চোখ ঝাপসা হয়ে এল ।
মাথা বন বন করে ঘুরতে লাগল,
কি করব বুঝেই উঠতে পারছি না ।
স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম
হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম;
তারপর আর কোনও হুঁশ ছিল না ।।

আর তোমরা কি করলে;
পুরুষ শাসিত সমাজের ধ্বজাধারীরা ।
আমার মুখে এক ফোঁটা জল পর্যন্ত দিলে না ।
উল্টে কি করলে,
আমাকে পদদলিত করে গেলে ।।

ঘুরে একবার তাকালেও না
আমি বেঁচে আছি কিনা ।
এই তোমাদের মনুষ্যত্ব ?
ধিক্কার জানাই ধ্বজাধারীদের
ধিক্কার জানাই ভদ্রবেশীদের
তোমরা মানব জাতির কলঙ্ক ।।


শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গল্প : || নতুন ভোর || কমল কৃষ্ণ কুইলা

গল্প : 

নতুন ভোর
কমল কৃষ্ণ কুইলা


দিনটি ছিল ২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ । একটি মন্দিরে সুন্দরভাবে পবিত্রতার সাথে নিষ্ঠাভরে প্রশান্ত ও কবিতা বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে ।

এবার আমি লেখনীর মাধ্যমে প্রশান্ত ও কবিতার অতীত জীবনের কিছু মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরতে চাই । জনসমক্ষে আনতে চাই ।

প্রশান্তর বাবা পেশায় ছিলেন একজন কৃষক । মাঠে যে পরিমান ফসল চাষ হয়, তাতে টেনেটুনে বড়জোর ছয় মাস সংসার চলে যায় । চিন্তা থেকে যায় বাদবাকি ছয় মাসের । দিন মজুরি করেই চাল কিনে বাকি ছয়মাস সংসার চালাতে হয় । এভাবেই চলতে থাকে কয়েক বছর ।

একদিন এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দিনমজুরি কাজ করতে করতেই ঘরের চালের উপর থেকে নিচে পড়ে যায় । পঙ্গু হয়ে বিছানা নেয় প্রশান্তর বাবা । বিনাচিকিৎসায় বাড়িতেই পড়ে থাকতে হয় দিনের পর দিন ।

পরিবারে দ্রুত ঘনীভূত হয় দারিদ্র্যতার মেঘ । কেননা প্রশান্তর বাবা দীনেশ বাবু ছিলেন পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ।

শেষ পর্যন্ত প্রশান্তর মা সরস্বতী দেবী নিরুপায় হয়ে এক প্রতিবেশি বাবুর বাড়িতে ঝি চাকরের কাজ নেয় । বাবুরা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটিয়ে আধসের অথবা মন হলে একসের খুদ দিয়ে খালাস । তাই অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হয় ।

শেষ পর্যন্ত তাই ভিক্ষাবৃত্তিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয় সরস্বতী দেবীকে ।

 প্রশান্তকে দিনের পর দিন খালি পেটে স্কুলে যেতে হয় । শুধুমাত্র এক গ্লাস জল খেয়ে । কখনওবা গাছের একটি পেয়ারা খেয়ে । বারো কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটেই যেতে হত । বইপত্র সব ভিক্ষা করেই জোগাড় করতে হয়েছে তাকে  । কেননা তার আর কোনও উপায় ছিল না ।

এইভাবেই দিন মাস বছর কেটে যায় । স্কুলের পাঠ শেষ করে সে কলেজে পাড়ি জমায় । শুরু হল আর এক লড়াই । রোজ চার ঘণ্টা জলপথ অতিক্রম করে কলেজে যাতায়াত করতে হত তাকে ।

এইভাবেই অনেক চড়াই উৎরাই অতিক্রম করার পর সে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে ।

এরপর পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে সে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । পথের সম্বল বলতে মা বাবার আশীর্বাদ আর দু-টাকা ।

সে অনেক আশা নিয়ে কলকাতা এল বটে কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁই কোথাও জুটল না ।

শেষ পর্যন্ত রেল স্টেশনই হল তার একমাত্র ঠিকানা ।

স্টেশনে রাত্রি যাপন আর দিনে লেবারের কাজ করেই দুমুঠো অন্নের সংস্থান করতে হল তাকে ।

এইভাবেই বেশ কিছুদিন চলতে থাকে । অতঃপর শরীর না টানায় একদিন সে লেবারের কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ।

 খবরের কাগজে কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখে সেলসম্যানের কাজকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সে ।

এইকাজ করতে করতেই একজনের সহযোগিতায় সে একটি মেগা সিরিয়ালে কাজের সুযোগ পেয়ে যায় ।

পরবর্তী সময়ে সে সমাজসেবী হিসাবে একটি এনজিওতে যোগদান করে ।

বর্তমানে সে এনজিও, ফিল্ম মেকিং এবং অফিস জব নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে ।

 অনেক চেষ্টা করেও সে একজন ভালো সত্যিকারের জীবন সঙ্গিনী  জোগাড় করে উঠতে পারেনি ।

এই নিয়ে সে দিনের পর দিন চোখের জল ফেলতে থাকে ।

অবশেষে ঈশ্বর তার ডাকে সাড়া দিলেন ।

এতদিন পর সে সত্যি কারের একজন সৎ নিষ্ঠাবান পবিত্র ও দরদী মনের মানুষ খুঁজে পেল ।

মেয়েটির নাম কবিতা । তার জীবনটাও দুঃখ, কষ্ট ও যন্ত্রণায় ভরা । বহুবার তাকে জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে ।
একজন নরপিশাচের পাল্লায় পড়ে মেয়েটির শেষ হতে বসেছিল । কিন্তু ঈশ্বরের অসীম কৃপায় সে বেঁচে যায় ।

কবিতা এখন প্রশান্তকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেয়ে খুবই সুখী; তার আর কোনও দুঃখ নেই ।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে নব দম্পতি সুখে ও শান্তিতে নতুন জীবন শুরু করল ।

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

রঙ বদল || কমল কৃষ্ণ কুইলা || কবিতা

রঙ বদল
কমল কৃষ্ণ কুইলা 




আজকে যারে কুৎসা কর
কালকে সে হয় প্রিয়,
শব্দ আছে? জবাব দেবে!
একটু ভেবে নিও।

টাকার কাছে বিবেক বিক্রি
করছে কতো নেতা 
ওদের হাতেই খুশি রবে
মোদের ভারত মাতা!

মেরুদণ্ড সোজা রেখে
কিছু নেতা বাঁচে
কোটি টাকাও মূল্যহীন
তুচ্ছ তাদের কাছে।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

পরকীয়া নয় || কমল কৃষ্ণ কুইলা || গল্প

পরকীয়া নয়
কমল কৃষ্ণ কুইলা


ক'দিন ধরে পরিবেশটা‌ কেমন যেন থমথমে, একটা গুমোট গুমোট ভাব। সারdদার মনেও যেন তার ছাপ ফেলেছে। বিয়ের পর গ্রামে শ্ব‌শুর বাড়িতেই ছিল সে। তবে অনন্ত ছয় মাস আগে বাসা বাড়ি করে বাবা মায়ের কথায় নিয়ে এসেছে তাকে সঙ্গে করে। বেশ ভালোই কাটছিল দিনগুলো। গ্রামের মেয়ে বলে কোনো দিন অনন্ত আক্ষেপ করে নি। বরং যতটা পারত ওকে সময় দিত। কখনো কখনো ঘুরতে গিয়ে একেবারে রাতের খাবার বাইরে খেয়ে ওরা ঘরে আসত। কিন্তু দিন কয়েক ধরে হটাৎ অনন্তের ব্যবহারে পরিবর্তন আসে। বেশীর ভাগই বাইরে থাকে, যেটুকু সময় ঘরে থাকে নিজের মনে কি ভাবে কে জানে। কখনো কাগজপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। শুধালে কিছু বলে না, বিরক্ত হয়। খাবারটাও ঠিক মত খায় না। মাঝে মাঝে ফোন করে বলে দেয় দেরি হবে, সারদা যেন খেয়ে নেয়। সারদা বুঝে উঠতে পারে না কি করবে...

সমস্ত কাজ সেরে অনন্তের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে নানা রকম ভাবতে থাকে সারদা। তবু সে ঠিক কিরকম ভুল করেছে খুঁজে পায় না। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো... সারদা বুঝে নেয় কে আর কেন ফোন করেছে। তাই ধীরে সুস্থে ফোন ধরে। ও জানে, যে মানুষটার কথা প্রতি মুহুর্তে ভাবছে সেই আসতে পারবে না বলতে ফোন করেছে। শুধু ওইটুকু কথা বলতে আর কিছু না... তবে আজ অনন্ত ফোন কাটতে ভুলে গেছে, সারদা ‌শোনার চেষ্টা করে ওপাশে কি কথা হচ্ছে। ওকে যে জানতেই হবে কি জন্য ওর সুখের সংসারে কালো ছায়া।
ওপাশ থেকে একটা মহিলার গলা শুনতে পেল সারদা
-- মিসেস জানে এ ব্যপারটা?
-- না না, ওকে  বলি নি। গ্রামের মেয়ে তো, খুব সাধাসিধে...
-- কিন্তু বলতে তো হবেই, তাই না?
-- যতদিন না বলে রাখা যায়, দেখা যাক, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাববো।
-- কিন্তু আরও টাকা লাগবে তো
-- আমার ব্যাঙ্কে আর কিছুই নেই,সব শেষ। কোথা থেকে পাবো, কি করবো বুঝতে পারছি না। ওহো, এক মিনিট ফোনটা কাটতে ভুলে গেছি। হ্যালো হ্যালো, না শুনতে পায় নি। না হলে...

সারদার সব শুনে মাথা ঘুরতে থাকে, নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। তবু চুপ করে থাকে। সারা দেয় না। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। অনেক প্রশ্ন মাথায় ভীড় করেছে-- এত টাকা কি জন্য দরকার? মেয়েটা কে? অনন্ত কোথায় আছে? কি করছে? সে আলমারি খুলে দেখে ব্যাঙ্কের থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় দু'লাখ টাকা তোলা হয়েছে। এরপরেও স্থির হয়ে বসে থাকা মানে বোকামি। গ্রামের মেয়ে হতে পারে, তা বলে তো অশিক্ষিত নয়। ও অনন্তের অফিসে ফোন করে।
-- হ্যালো অনন্ত বাবু আছেন? আমি উনার স্ত্রী। উনার মোবাইল লাগছে না, একটু দেবেন প্লিজ...
-- না ম্যাডাম, স্যার তো এখনও আসেন নি। উনি বাড়ি থেকে কখন বেড়িয়েছেন?
-- বাড়িতে মানে.. রাতে...
-- বুঝলাম, উনি রাতে বাড়ি ফেরেন নি, তাই তো?
-- হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?
-- ম্যাডাম, আপনি ছাড়া সবাই জানে স্যার এখন কোথায়। আপনারও জানা দরকার। আপনি এক কাজ করুন, আমাদের অফিসের কাছে যে নার্সিংহোম আছে ওখানে গিয়ে মিস্টার দাশগুপ্তের পেশেন্টের কথা শুধান সব জানতে পারবেন।
-- নার্সিংহোম?
সারদা আর এক মুহুর্তের জন্য সময় নষ্ট না করে চটপট রেডি হয়ে  যায়  নার্সিংহোমের উদ্দেশ্যে। মনটা খচখচ করে নার্সিংহোম কেন?  অনন্তের ওখানে কি দরকার?

নার্সিংহোমে মিস্টার দাশগুপ্তের কথা বলতেই ওখান থেকে একটা বাচ্চাদের ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কয়েকজন বাচ্চার মাথায় একটাও চুল নেই।
নার্স বলে -- এখানে ক্যানসারের বাচ্চাদের রাখা হয়। ওই যে মিস্টার দাশগুপ্ত...
-- বাচ্চাটা কে?
-- ও আপনি তো কিছুই জানেন না.. একদিন সামনে মোড়ের মাথায় বাচ্চাটা মা বাবার সাথে কোথাও যাচ্ছিল। উল্টো দিক থেকে একটা ট্রাক ব্রেক ফেল করে ধাক্কা দেয় ওদের। ওরা ছিটকে পড়ে দাশগুপ্ত বাবুর গাড়ির সামনে এসে পড়ে। বাবা মা দুজনেই সাথে সাথেই মারা যায়। বাচ্চাটা উনার জন্য বেঁচে যায়। সেও খুব সিরিয়াস ছিল, তবু প্রাণে বেঁচে আছে। কিন্তু এখন নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ওর উপর নানা রকম টেস্ট করা হয়েছে, তাতে ওর ক্যানসার ধরা পড়েছে। প্রাথমিক স্টেজ, ওর কোনো আত্মীয়স্বজনের খোঁজ খবর পাওয়া যায় নি। দাশগুপ্ত বাবু নিজের দায়িত্বে সামর্থ্যমত এতদিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এবার উনিও চিন্তায় পড়ে গেছেন..
-- আমি উনার কাছে যেতে পারি? আমি উনার স্ত্রী।
-- হ্যাঁ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আপনি যান, আমি একটু পরে আসছি ওষুধ নিয়ে..
সারদা অনন্তের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। কি মিষ্টি মায়াবী মুখ বাচ্চাটার। অনন্ত ক্রমাগত ওর মাথায় হাত বুলিয়ে চলেছে। সারদা অনন্তের কাঁধে আলতো করে চাপ দিয়ে শুধায়
-- আমাকে ওর মা হতে দেবে?
অনন্ত চমকে পিছন ফিরে তাকায়
সারদা আবার বলে
-- দেবে তোমার থেকে কিছুটা ভাগ আমায়?
অনন্ত সারদার হাত চেপে ধরে, ওর চোখে মুখে ফুটে ওঠে একটা আনন্দ।
-- তুমি আমাকে মুক্তি দিলে, সত্যিই আমি আর একা লড়তে পারছিলাম না।
-- আমাকে বলো নি কেন? আমাকে কি বিশ্বাস করতে পারো নি?
-- আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে মাফ করো।
-- একটা শর্তে, আমার গয়না বিক্রি করে ওকে সুস্থ করে আইনত ওকে আমার ছেলে করে আমার কোলে দিতে হবে। রাজি তো?
-- একদম তাই হবে। ও আজ থেকে আমাদের ছেলে। ডাক্তার তাঁদের কাজ করুন, আমি আইনের আশ্রয় নিই, আর তুমি.. তোমার অনেক থাকবে অনেক কাজ। আমাদের দুই বাপ বেটাকে সামলাতে সামলাতে তুমি হিমশিম খাবে কিন্তু  বলে দিলাম।
ওদের কথা পিছন থেকে শুনে ডাক্তার বাবু ও নার্স দিদি দুজনে তৃপ্তির হাসি হাসেন।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

গল্প || পরিযায়ী || কমল কৃষ্ণ কুইলা

গল্প || পরিযায়ী
কমল কৃষ্ণ কুইলা 

ডাইনিং টেবিল।
মা প্রতিমা আর ছোট ছেলে রাজু পাশাপাশি বসে আনন্দে রাতের আহার গ্রহণ করছেন।
মা আর একটা মাছ হবে.....রাজু বলল।
ওটা তোর দাদার জন্য তোলা আছে।
কি যে বল মা। দাদা এখন গুজরাটে। ফিরবে তবে তো।
মা কারুর কথায় কান দেয় না। রোজই মা বড় খোকার জন্য রান্না করা খাবার তুলে রাখে। বাসি হলে পুকুরে ফেলে দেয়। কাউকেই দেয়না।
এতোটাই ছেলেকে স্নেহ করেন মা।

মা মনে আছে তো। কাল সকালে কোথায় যাব।
ও হ‍্যাঁ ভালো কথা বলেছিস বাবা।

খাওয়া শেষ হলে ফোনটা নিয়ে আয়। রমাপদ বাবুর সঙ্গে রাতেই কথা সেরে নিই।

অতঃপর খাওয়া শেষ করে রাজু রমাপদবাবুকে কল করে মাকে ধরিয়ে দেয়।
এই নাও মা রিং হচ্ছে কথা বল।

হ‍্যালো আমি প্রতিমা বলছি। কেমন আছেন।
আমরা সবাই ভালো আছি।
সকালেই আমরা আসছি। আপনার মেয়েকে রেডি রাখুন। দেখে একেবারে পাকা কথা সেরে আসব চিন্তা নেই। গিয়ে বাকী কথা হবে কেমন। ওকে।
নমস্কার। রাখছি দাদা। শুভরাত্রি।

পরেরদিন রাজুকে এবং গ্রামের দুজন প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
দুবার গাড়ি পাল্টানোর পর অবশেষে মেয়ের বাড়িতে এসে পৌঁছান।

এদিকে রমাপদবাবু উঠোনেই পাইচারি করছিলেন।
কখন আসবে সবাই।
দেখতে দেখতে সবাই এসে পৌঁছে যান।
অতিথি আপ‍্যায়নের সব ব‍্যবস্থাই করে রেখেছিলেন রমাপদবাবু।

সবাই পায়ে জল দিয়ে পা মুছে বাড়িতে প্রবেশ করেন।

মেয়ের মা নিজের হাতে সবাইকে সরবত পরিবেশন করেন। এবং সবাই তৃপ্তিভরে তা পান করেন।

এবার রমাপদবাবু তার মেয়েকে নিয়ে আসেন। সুন্দর সাজগোজ ও শাড়িতে খুবই সুন্দরী দেখাচ্ছিল সোমাকে।

সোমা এসে সকলকে ভক্তিভরে প্রণাম করার পর নম্রতার সঙ্গে মাথা নিচু করে বসে থাকে।

এদিকে একে একে জিজ্ঞাসা পর্ব শেষ হবার পর পুনরায় সোমা সবাইকে প্রণাম সেরে প্রস্থান করে।

মেয়ে পছন্দ হয়ে যাওয়ায় প্রতিমা দেবী খুবই খুশী।
বলল তার বড় ছেলে ফিরলেই আশীর্বাদের ডেট জানিয়ে দেবে।

স‍ৌজন‍্য বিনিময়ের প্রতিমা দেবী সবাইকে নিয়ে রওনা দেন।
খোকা পা চালিয়ে চল্। তোর দাদা কতদূর এলো ফোন করতে হবে। বাড়িতে ফেরা আশীর্বাদ পর্ব সেরে বিয়ের ডেট ফাইনাল করে নেব।
তোর দাদার বিয়েটা দিতে পারলেই আমি নিশ্চিন্ত হই। না কি বলিস খোকা।

ঠিকই বলেছ মা। আমিও চাই খুব তাড়াতাড়ি দাদার বিয়েটা হয়ে যাক্। বৌদি বাড়িতে আসুক।

সন্ধ্যায় রাজু তার দাদাকে ফোনে ধরিয়ে মাকে দেয়।
হ‍্যালো হ‍্যালো আমি তোর মা বলছি। আর কতদূর?

অন‍্যদিকে মাকে হ‍্যালো টুকু বলার পরেই বিমলের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। কেননা মোবাইলে চার্জ শেষ।

মা চিন্তা করবে এই বিমল তার সমস্ত কষ্টের কথা লুকিয়ে যায়। কোনো গাড়ি না পেয়ে পা-গাড়িতেই ভরসা করে রেল লাইন ধরে হাঁটতে থাকে।

সমস্ত দোকান পাট বন্ধ। খাবার কোথাও মেলেনি। বোতলে একটু জল আছে। খিদে পেলেই সে একটু করে জল পান করে।
খালি পেটে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে শরীর এতোটাই ক্লান্ত যে। পা ফেটে রক্ত পড়ছিল।

বাধ্য হয়ে অন্যান্য সঙ্গীদের সঙ্গে সেও রেললাইনের উপর বসে পড়ে। একটু জিরিয়ে নেওয়া যাকে বলে। কেননা আবার হাঁটা যে শুরু করতে হবে।

বসতে বসতে কখন যে সবার চোখ লেগে গেছে কে জানে। সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

এমন সময় কোন্ অজানা ট্রেন হঠাৎ করেই এসে পড়ে তাদেরকে পিষে দিয়ে চলে যায়।
ঘুমের ঘোরে কারুরই হর্নের শব্দ কানে আসেনি।

দেহ খন্ড বিখন্ড ছিন্নভিন্ন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

পরে লোকাল থানার পুলিশ এসে দেহখন্ডগুলি উদ্ধারের চেষ্টা করে।

এদিকে ফোনে না পেয়ে মায়ের খাওয়া ঘুম বন্ধ। মায়ের মন অজানা আশঙ্কায় কাঁদতে থাকে।

দুদিন পর পুলিশ এসে খবর দেয় যে বিমল আর বেঁচে নেই। রেল লাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। পুলিশ সত্য ঘটনা চেপে যায় গণবিক্ষোভের ভয়ে।

বিমলের প‍্যাকিং করা ডেডবডি এসে পৌঁছায়। সঙ্গে সমস্ত গ্রামবাসীরাও।
সবাই বলাবলি করছে ছেলেটা বাড়িতে ফিরলেই বিয়ে দেওয়ার জন্য তার মা সব আয়োজন পাকা করে ফেলেছিল। আসলে ওর কপালে নেই আর কি করা যাবে। কপালের লিখন কেউই খন্ডাতে পারেনা।

ছেলের ডেডবডি দেখার পর মায়ের যা মূর্ছা গেছে। আর জ্ঞান ফিরল না। ডাক্তার হাজার চেষ্টা করেও ব‍্যর্থ হলেন। একসময় নাড়ি স্পন্দনও স্থির হয়ে গেল।

পুত্রশোকে মা পরলোক গমন করলেন। রাজ দুজনের মুখেই আগুন দিল। হারাল মা এবং দাদাকে। এখন সে পুরোপুরিই একা। একাকী নিজের জীবনকে গড়ে তুলতে হবে। সে আর দাদার ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। ভিনরাজ‍্যে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ার ইচ্ছে তার নেই।
সে মনে মনে শুধু নিজের দারিদ্র্যতাকেই ধিক্কার জানাতে থাকে।


শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

কবিতা || বিজ্ঞান জিতবেই || কমল কৃষ্ণ কুইলা

বিজ্ঞান জিতবেই
 কমল কৃষ্ণ কুইলা

বিজ্ঞানের সঙ্গে যুদ্ধে আজ
জীবাণু জিতেই যাচ্ছে
তাইতো দেখি বিশ্ব জুড়ে
রোজই মানুষই মরছে।

অর্থ ক্ষমতা মূল্যহীন আজ
ঈশ্বর যে অসহায়
ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানীরা
তাই মগ্ন গবেষণায়।

সারাবছর ঐ ধর্মস্থানে
দেখি লক্ষকোটি ভিড়
মহামারীর এই দুর্দিনে
বল ধর্ম কেন স্থির!

আমজনতাকে ঢপ দিয়ে
কামিয়েছে কোটি টাকা
মহামারীর এই দুর্দিনেতে
তাদের কি পকেট ফাঁকা!

সরকারের কেন মুখে কুলুপ
রহস্য জানতে চাই
অর্থদানের নির্দেশিকায়
কিন্তু বাঁচবে সবাই।

জীবাণু ঠিক ধ্বংস হবে
মানুষেরা হাসবেই।
যুদ্ধ যতই কঠিন হোক্
বিজ্ঞান জিতবেই।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...