বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

নস্টালজিয়া ২১ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ধারাবাহিক গদ্য

 নস্টালজিয়া ২১

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



খুব দোলাচলে কাটছে দিন। ছুটি আছে অথচ ছুটির আনন্দ নেই। অন্য বারের বিজয়া দশমীর শূন্যতা এবার আগমনীর পূর্ণতাকে ছাপিয়ে গেছে। কী এক বিষাদের ছায়া সবার মুখে। মনে আছে, যে বার পুজোর ঠিক আগে  আমার মেজমামা মারা গেছিল সেই বার মায়ের মুখে এই বিবর্ণ পুজোর ছবি দেখেছিলাম। মা তার মেজদাকে খুব ভালো বাসত।ছোটবেলায় পিতৃহারা আমার মা তার দাদা ভাইদের আদরে বড় হয়েছিল। মা খুব কাঁদত মেজদার  জন্য।  মায়ের মন খারাপের জন্য  আমাদের সে বছর পুজো খুব বিষণ্ণতায় কেটে ছিল। সংসারে  গৃহকর্ত্রী মা যদি কোনো কারণে আনন্দে না থাকে, তাহলে সেই সংসারে আনন্দ থাকে না। মায়ের মনের আনন্দ আমাদের মনেও   আনন্দের উৎস মুখ খুলে দিত। মাকে মাঝে মাঝে আমার নদী বলে মনে হত। সে সংসারের সব  দুঃখ কষ্টকে অনায়াসে বয়ে নিয়ে যেতে পারত আবার আনন্দে দু'কুল ছাপিয়ে যেত। শরতের  ভোরের হাওয়ায় শিউলির গন্ধে মায়ের আগমনের সুগন্ধি ছড়িয়ে যেত।ভোরের শিশির ভেজা ঘাসে আলতা রাঙা পায়ে মা গঙ্গা স্নান করে ঘরে এলে কত কচি ঘাস মায়ের ভিজে পায়ে জড়িয়ে থাকত।পুজোর খুশির ছোঁয়ায় মা  কাজের মাঝে মাঝেই গুনগুন করে গান গাইত। সেদিন মায়ের খুশির আলাদা কোনো কারণ আমি খুঁজে পেতাম না। সারাদিন তো আর পাঁচটা দিনের মতোই কাটত তবু কী যেন একটা ভালো লাগা মনকে স্পর্শ করত বুঝতে পারতাম না। মায়ের একবার ইচ্ছে হলো চরকায় সুতো কাটা শিখবে।আমাদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে কাটরা মসজিদের কাছে একটা চরকা সেন্টার ছিল। মা খুব উদ্যোগের সাথে সেখানে ভর্তি হলো। খুব তাড়াতাড়ি শিখেও গেল তুলো থেকে  সুতো তৈরি করতে। এইরকম শরৎকালের দুপুরে মা সব কাজকর্ম সেরে যেত সেখানে। আমিও মাঝে মধ্যে যেতাম মায়ের সঙ্গে। দুপাশে মাঠে অজস্র কাশফুলে চারদিকে পুজোর সাজ ,সবুজ ধানখেত। 

সেন্টারে দেখতাম অধিকাংশই দুঃস্থ, দরিদ্র মেয়েরা সুতো কাটছে। আমার মা কত অনায়াসে তাদের সঙ্গে বসেই নিজের কাজ করত। তুলো থেকে সুতো তৈরির বিনিময়ে মা সামান্য হলেও কিছু টাকা পয়সা মা পেত এবং তাতে খুব খুশি হতো। মায়ের এই আগ্রহ দেখে বাবা সেখানে permission করিয়ে বাড়িতেই একটা চরকা আনিয়েছিল। খুব খুশি মনে মা ঘর্ঘর শব্দে তাতে সুতো তৈরি করতো।পরে আমি সবরমতী আশ্রমে চরকা দেখে খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম। আর আমি যে চরকায় কীভাবে সুতো কাটতে হয় জানি এটা ভেবে মায়ের জন্য  কী জানি কেন খুব গর্ব বোধ হচ্ছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ৩০ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা

  শব্দব্রাউজ  ৩০  ||  নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া ২৯।১১।২০২০ সকাল ৮-৩২ মিনিট । পান্নালাল ভট্টাচার্যের কথা খুব মনে পড়ছে । তাঁর শ্যামা...