সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১৮৯|| প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৮৯.

কবিতাচর্চাকেন্দ্র-কথা চলছে , চলবে।

□ ১৪ তারিখ রাতে শোওয়া , শান্তনুর বাঁশিতে ' মিয়া কি মল্লার '

ওইদিন রাত্রে সকলেই আমাদের বাড়িতেই ভাত খাওয়ার পর শুতে গিয়েছিল কলেজে। রাত্রে পরিবেশন করেছিল যূথিকা ,আমার বোনেরা, শান্তনু ও কয়েকজন। আমাদের বাড়িতে শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল শঙ্খদা , নাসের ,শান্তনু-র। খাওয়াদাওয়ার পর শঙ্খদাকে তাঁর শয়নকক্ষে পৌঁছে দিয়ে নাসের মুরারি এবং আমি দুটি বালতি নিয়ে গিয়েছিলাম কলেজে। নাসের-এর রিপোর্টিং-এ ছিল --- ' প্রভাতদা খালি গা , পরনে বারমুডা '  । কলেজের হলঘরে পুরুষেরা এবং অন্য একটি ঘরে মহিলারা । এদিন রাত্রে বেলেতোড়ের চার নবীন কবি আর  নিজেদের বাড়ি ফেরেনি । খাওয়ার পর কলেজের দোতলার একটি ঘরে তারা শুয়েছিল। ডা: প্রদীপ ঘোষ এবং শুভাশিস শুয়েছিল অভিব্যক্তির অতিথিনিবাসে ।

ঠিক হয়েছিল নাসের ও শান্তনু একতলায় বাবার ঘরে শোবে। আমি আর যূথিকা আলাদা একটি ঘরে । শান্তনু তার রাইফেলকেস-সদৃশ কোষটিতে নিয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন মাপের চারটি বাঁশি। শান্তনু বাজিয়েছিল ' মিয়া কি মল্লার '  । বাঁশি শোনার পর আমরা দুজন চলে গিয়েছিলাম আমাদের ঘরে । নাসের খাটে শুয়ে পড়েছিল , কিন্তু ঘুমোয়নি , লক্ষ করেছিল শান্তনু পড়ে চলেছিল কবিতাপাক্ষিক ২৮০ ।

রাত আড়াইটা পর্যন্ত।

□ জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি ১৪১১-র সকাল, জন্মদিনের সকাল

উৎসবের দিন সকালে নাসেরকে ডেকে যুললাম।শঙ্খদা এবং শান্তনু ঘুমে।

কিছুটা হেঁটে দেখা গেল কলেজ থেকে বাইরে এসেছে ঠাকুরদাস , ব্রাশ করছে। কলেজে ঢুকে দেখলাম ছেলেরা প্রায় সকলেই জেগে উঠেছে ।দু-একজন ঘুমে। আর মেয়েদের ঘরে সকলেই নিদ্রামগ্ন ।আমি ডেকেছিলাম : মা জননীরা উঠে পড়ো।

আমাদের বাড়িতে সকলের স্নানপর্ব সমাপ্ত। এই সময়ের মধ্যে আমার প্রসাধনপর্ব ছিল । ছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। ছিল কারুকাজের পাঞ্জাবি আর মেরুন রঙের ধুতি। জন্মদিনের পোশাক। এরপর পরমান্ন ভক্ষণ। মা খাইয়ে দিলেন। পায়েসের পর মা-কে এবং শঙ্খদাকে প্রণাম করেছিলাম।

শঙ্খদা তাঁর সাদা সাইডব্যাগটি দোতলাতেই রেখে এসেছিলেন। হালকাভাবে বেরোবেন বলে।

শঙ্খদা নাসের এবং আমি। প্রথমে ভিত্তিপ্রস্তর , তারপর কলেজে। শোনা গেল কেউ কেউ পুকুরে স্নান করতে গেছে । যাওয়া হল অভিব্যক্তি এবং মাদলে। নাসের চাইছিল জলখাবারের আগেই মাদল-এ জন্মদিনের ছোটো অনুষ্ঠানটি সেরে নিতে।গোলাপস্তবকদুটি মাদল-এর ভিতরে রেখে এসেছিল নাসের । স্বর্ণচম্পকটি রেখে দিয়েছিল শান্তনু।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অবহেলা || দীপক মজুমদার || অন্যান্য কবিতা

অবহেলা দীপক মজুমদার আর গোপন রাখব না আমাদের সম্পর্কের ইতিবৃত্ত।  শব্দের খাঁজে লুকানো গোলাপের উষ্ণতা। ঝাউবনের নির্জনতায় জৌলুস সম্পৃক্তি। প্রি...