রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা ২১৪ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

 কিছু বই কিছু কথা ২১৪ ।  নীলাঞ্জন কুমার



কোন কোন কবিতার ভেতরে বেশ গোলকধাঁধা থাকে । ভুলভুলাইয়ার মধ্যে দিয়ে ঘুরে বেড়াতে বেশ মজা লাগে ,  তেমন এর ভেতর ঢুকে পড়লে বেরনোর কথা তেমন মনে থাকে না । কবি ধীমান চক্রবর্তীর কবিতাও তেমন । তাঁর '৯৮ সালের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ' জ্যোৎস্নাকলস ' -এ তাই প্রথম কবিতায় পাই: '  বুনো আপেলে ব্রেকডাউন সারাতে গিয়ে/  দেখি বাঘের শরীরে ফুটে উঠছে/ কিছু মুথাঘাস অরণ্যসুড়ঙ্গ । ' ( ' বাঘ ও আপেল ') সব চেনাজানা বিষয় ও ভাবনা নিয়ে অন্য ভাবনায় পৌঁছে দেওয়ার কৌশল সব কিছুর ভেতরে মানবিক দিক ফুটিয়ে তোলে । সে কারণে এই কবির কবিতা পড়ার আগ্রহ চেপে বসে , কারণ পংক্তিতে পংক্তিতে  আমাদের রুটিন ভাবনার বাইরের ভাবনা ছড়ানো আছে বলে ।
              বৃষ্টি ফিতেয় মাপি হরমোন, / চাঁদের বিরল শস্য বর্গ্ । রক্তরেখা মাখামাখি পিচবাগিচায় এগোয় / হলুদ গাছ , পুরনো জীবন খুলে গেল । ' ( ' সমুদ্রচিকিৎসা ')  ,  ' ছায়ার মাথায় এসে ছায়া পড়ছে/  ছোটবেলা ঘুমপাড়ানি । ' (  ' ক্ষুর ') , ' মর্চে পড়া ডিম ফাটিয়ে ক্রমাগত/  দ্রবীভূত করে বেগুনিআলো বালি-  কাগজ।'
( মর্চে পড়া ডিম)  ইত্যাদির সামনে দাঁড়িয়ে এই সব কবিতার গঠনের মধ্যে থেকে ব্যন্ঞ্জনা বের করে আনার কৌশল ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায় । তবে আশ্চর্য কোন কিছুই মাথার ওপর দিয়ে যায় না । কবিতার আলাদা উচ্চারণ ও ভাবনা করে যাচ্ছেন কবি ধীমান ,  সেখানে হয়তো এই আলাদা উচ্চারণের জন্য রয়ে যাবেন পাঠকমনে ।
             কবি অরুণাংশু ভট্টাচার্যের প্রচ্ছদ বইটির মেজাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করা । প্রচ্ছদের বিমূর্ত উপলব্ধি তৃপ্ত করে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তিনটি কবিতা || ফটিক চৌধুরী || শনিবারের কবিতা

  তিনটি কবিতা ফটিক চৌধুরী অভিঘাত কিছু গোলাপ ফুটে আছে টবে                                     নীরবে তাঁর কাঁটা যদি ফুটে যায় হাতে            ...