শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

নস্টালজিয়া ২৭ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ২৭

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




আমার ছোটবেলার দিনগুলো পাতাবাহারের রং বাহারি সৌন্দর্যে ঘেরা ছিল। বাবা ভালো সরকারি চাকরি করত বলে সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল, কিন্তু আমাদের কখনো প্রাচুর্যের সন্ধান দেয় নি তারা।যেটুকু প্রয়োজন অনায়াস পেতাম, তাই বলে বিলাসিতা বা বাহুল্য শৈশব ও কৈশোরের দিনে কখনই ছিল না। কিন্তু খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট বিলাসিতা ছিল আমাদের বাড়িতে। ভোজন রসিক ছিল বাবা, কাকা, ঠাকুমা ( যাকে আমি আদর করে 'দাদা' বলতাম)। রোজকার মেনুতে ভোজবাড়ির মত পাঁচ পদ রান্না হত। শাক,ভাজা, ডাল, সিজন অনুসারে দুটো সবজি ,মাছ অথবা খাসির মাংস , চাটনি। রাতে রোজ মিষ্টি খেতাম আমরা। চমচম, ছানাবড়া, রসগোল্লা, রাজভোগ, কমলাভোগ- এর যে কোনো একটা থাকতই। মাঝে মাঝেই পায়েস হত। আমের সময় একসাথে দশ- বারোটা আম সবাই মিলে খাওয়া হত। মা বাবা পাকা কাঁঠাল খেতে খুব ভালোবাসত। বোন কাঁঠাল পছন্দ করত না।
ছোটবেলায় আমি স্বপ্ন দেখতাম খুব। সত্যিকারের স্বপ্ন ছিল সেসব। কত অজানা দেশে বেড়াতে চলে যেতাম। মনে আছে একবার স্বপ্নে একটা হাতি আমাকে খুব তাড়া করেছিল। ঘুম ভেঙে যাবার পর অনেকক্ষণ সেই ভয় ছিল ।সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে স্বপ্নের কথা বললে মা বলেছিল হাতির স্বপ্ন দেখা ভালো।স্বপ্নে আমি কিছুতেই দৌড়াতে পারতাম না। প্রায় সময়ই ছুটতে চাইতাম অথচ পারতাম না বলে খুব কান্না পেত। পরীক্ষার আগে প্রায় প্রত্যেক রাতে স্বপ্ন দেখতাম আমার কলমের নিব্ ভেঙে গেছে লেখা যাচ্ছে না,পরীক্ষার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ আমার লেখা শেষ হয় নি। এইসব স্বপ্ন দেখে খুব মন খারাপ হয়ে যেত ঘুম ভেঙে গেলে। আমার বোন তুতুলও খুব স্বপ্ন দেখত। ওর স্বপ্ন আবার আশ্চর্য রকমের ধারাবাহিক ছিল। আগের রাতের স্বপ্নটা continue হত পরের এবং তার পরের রাতে। ঘুম থেকে উঠেই ও নির্বিকার ভাবে ওর এই ধারাবাহিক স্বপ্নের কথা গল্পের মতো বলতো। মা,বাবা, আমি সবাই মন দিয়ে শুনতাম। কেউ অবিশ্বাস করতাম না ওর কথা। বাবা কেবল মুচকি মুচকি হাসত আর পরদিন সকালে জিজ্ঞেস করত ও আগের স্বপ্নটার নতুন কিছু দেখল কি না। বোন গম্ভীর হয়ে বলত ,"এটা কী গল্প যে রোজ দেখব?" এখন বুঝতে পারি এইসব ছোট ছোট বিষয়ে মা বাবা আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনে কীভাবে আমাদের মনের আনন্দ প্রকাশের জগৎ খুলে দিয়েছিল কত সুন্দর ভাবে। আর এখন আমরা সন্তানের কথা একটু ধৈর্য ধরে শোনার প্রয়োজন বোধ করি না, আর শুনতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। তাই এই শিশুরা বড়ই একা হয়ে যায় জীবনের শুরুতেই। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নস্টালজিয়া ৩২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

  নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায় নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায়  আমার শৈশবের বেশ কিছুটা সময় কেটেছিল সাগরদিঘিতে। বাবা তখন ওখানে  বিডিও অফিস...