পৃৃৃৃৃৃৃথা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পৃৃৃৃৃৃৃথা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৭ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় ||

 নস্টালজিয়া ৩৭

পৃথা চট্টোপাধ্যায়


নস্টালজিয়া ৩৭
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

খুব ছোটবেলার কথা লিখতে কেন যে এত ভালো লাগে জানি না। টুকটুক করে মনে পড়ে যায় কত কিছু। আমাদের শৈশব ঘিরে বাবা-মায়ের স্নেহ ও সান্নিধ্য খুব বেশি ছিল বলেই হয়তো আমাদের মন  এত কোমল ভাবে গড়ে উঠেছিল। আজকের অধিকাংশ শিশু নানা কারণে বাবা মায়ের মিলিত স্নেহ ভালবাসা থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হয় দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। সন্তানকে একটু সময় দিতে হবে এটা অভিভাবকদের মনে রাখা খুব দরকার। আগে যৌথ পরিবার ছিল বলে মা বাবা না পারলেও ছোটদের সঙ্গীর অভাব হত না। দাদু ঠাকুমা এদের কাছে অনেক আদর, প্রশ্রয় ও সুশিক্ষা পেত ছোটরা।
আমার মা ছিল ঘোরতর সংসারী। সংসারের কাজকর্ম, পূজার্চনা, আমাদের পড়াশোনার প্রতি সজাগ দৃষ্টি ছিল তার। বাবার অবশ্য আড্ডার অভ্যাস ছিল। অফিসের পরে অথবা ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতো। এ নিয়ে অনেক সময়ই বাবা মায়ের মধ্যে মতান্তর হতো। আমার ছোটবেলায় দেখেছি বাবার তাস খেলার নেশা ছিল। পরে অবশ্য বাবা আর তাস খেলত না।
একদিনের কথা আমার বেশ মনে পড়ে। সেদিন রাতে খুব লোডশেডিং। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই দুর্যোগের রাতে মা আমাদের দুই বোনকে নিয়ে একা বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমার ভাই তখনো হয় নি।সেইসময় টিভি বা টেলিফোন ছিল না আমাদের মত অধিকাংশ বাড়িতে। মোবাইল তো দেশেই আসে নি। মা ঝড়ের তান্ডবে দুর্গানাম জপ করছিল। ঠাকুর দেবতার উপর মায়ের ছিল অগাধ বিশ্বাস। কত রাত মনে নেই তবে ঝড় একটু কমলে বাবা ফিরতেই মা খুব রাগারাগি করতে লাগল বাবা এই দুর্যোগের রাতে এত দেরিতে আড্ডা দিয়ে ফেরার জন্য। বাবা বেশ রসিক প্রকৃতির মানুষ ছিল। আর মা গম্ভীর রাগী স্বভাবের। বাবা হঠাৎ একটু কেমন জড়িয়ে কথা বলতে লাগল মায়ের সঙ্গে। মা সন্দিগ্ধ ভাবে বাবাকে দেখতে লাগল। বাবা একটা বড় কাচের বোতল বের করে ঢকঢক করে সামান্য কিছুটা খেয়ে মাকে সেটা রেখে দিতে বললো। আমরা জীবনে বাবাকে মদ্যপান করতে দেখি নি। অথচ সেই রাত্রে মা অন্ধকারে সেটা কীসের বোতল না দেখে ভয়ঙ্কর রেগে বোতলের পানিয়টুকু ঢেলে ফেলেছিল উঠোনে। বাবা তখন বুঝতে পারে নি। আমরাও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তারপরে। পরদিন সকালে দেখি উঠোনে সেই পানীয় পদার্থের চারপাশে থিকথিক করছে নানা রঙের পিঁপড়ে। মা যাকে কোনো নেশার দ্রব্য ভেবেছিল সেটা আসলে ছিল অরেঞ্জ স্কোয়াস। সকালে নিজের নির্বুদ্ধিতার কারনে মায়ের মুখ ছিল থমথমে আর বাবা মুচকি হাসছিল। আমি অরেঞ্জ স্কোয়াস নষ্ট হওয়ায় খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে তখন খুব কমই এসব ফলের রস আনা হোতো।আমরা ফলমূল খেতেই অভ্যস্ত ছিলাম। মা বাবাকে শুধু বলেছিল , ঐ দুর্যোগের রাতে এরকম ন্যাকামি না করলে দামি ফলের রসটা এভাবে নষ্ট হতো না। 

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায়

 নস্টালজিয়া ৩৫

পৃথা চট্টোপাধ্যায়



নস্টালজিয়া ৩৫
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

ছোটবেলায় অনেক বছর আমার সাগরদিঘিতে কেটেছে ঠিকই কিন্তু বড় হওয়ার পরে আমি আর কখনো সেখানে যাই নি। আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ার সময় লালবাগে চলে আসি। বাবার ছিল বদলির চাকরি। এই সময় বাবা ভগবানগোলা বি. ডি. ও অফিসে বদলি হয়ে যায়। আমরা লালবাগের বাড়িতে সেই থেকে থাকতে শুরু করি। বাবা ট্রেনে ভগবানগোলা তার পরে লালগোলা নিত্য যাতায়াত করত। আর মা সেই কোন ভোরে উঠে কয়লার উনানে পাঁচ পদ রান্না করত। তেতোসুক্তো থেকে শুরু করে শাক,ভাজা,মাছ,ডাল, সবজি (যে সময়ের যা), চাটনি সব রান্না হত রোজ। বাবা খুব সকালে পাঁচরাহা বাজার থেকে মাছ কিনে আনত। আর বারোমাস সেই সাত সকালে সব কিছু খেয়ে রুটি- তরকারি টিফিন নিয়ে অফিসে যেত আটটার লালগোলা প্যাসেঞ্জার ধরে। বাবা নিজে খুব ভালো রান্না করতে পারত।খাবারের ব্যাপারেও ভোজন রসিক মানুষ ছিল।
সাগরদিঘি তখন খুব গ্রাম ছিল। লালবাগে এসে প্রথম দিকে বেশ অন্যরকম লাগত আমার মনে পড়ে। লালবাগ নবাবের দেশ তাই নাগরিক জীবনের ছাপ ছিল। আমাদের রাস্তার নাম ছিল সিরাজ-উদ্-দৌল্লা রোড। সাগরদিঘিতে আমাদের কোয়ার্টার সব পাকা হলেও আমার যতটুকু মনে আছে তখন সেখানে প্রায় সবই ছিল মাটির বাড়ি। আমার বাবা খুব ভাল সাইকেল চালাতে পারত। আমাকে আর বোনকে নিয়ে সাইকেলে করে সাগরদিঘি থেকে লালবাগের বাড়িতে আসত মাঝে মাঝে। আবার বোন অনেক সময় আসত না, আমার খুব চৈ চৈ বেড়াতে ভালো লাগে বরাবরই। সবসময় বাবার সঙ্গ ধরতাম। লালবাগে এসে আমার প্রথম আশ্চর্য ছিল হাতি দেখা। তখনও নবাবের একটা হাতি বেঁচে ছিল। সেই গল্পের হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়ার মত। আস্তাবলে তখন অনেক কটা ঘোড়াও ছিল। মহরমের দিন বিরাট তাজিয়া বের করা হত। সেদিন সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ধবধবে শাদা দুলদুল ঘোড়া। রাস্তায় হাতি নিয়ে যেত মাহুত। হাতির গলায় ঘন্টা বাঁধা থাকত। চলার সময় সেই ঘন্টা বাজত। সপ্তাহে দু-তিন দিন হাতি বের হত রাস্তায়। মনে হয় কোনো বাগানে খাওয়াতে নিয়ে যেত হাতিকে। সকালের দিকে আমরা পরিচিত ঘন্টার আওয়াজ শুনলেই বুঝতে পারতাম হাতি আসছে। ঘরে বেগুন আলু যা সবজি পেতাম নিয়ে রাস্তার ধারে হাজির হতাম। মাহুত হাতিকে দাঁড় করাতো। নিজে হাতে হাতিকে সেই সব সবজি আমরা খাওয়াতাম আর তখন খুব আনন্দ হতো।হাতি দেখার অছিলায় সকালের পড়ায় একটু ফাঁকিও দেওয়া যেত। 

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৪ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৩৪

পৃথা চট্টোপাধ্যায়


নস্টালজিয়া ৩৪
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

২০২০ এর মার্চে আমাদের দেশে চিন দেশের য়ুহান থেকে যার উৎপত্তি ও বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আসতে শুরু করেছে শুনে আমরা সবাই আতঙ্কিত হলেও ভেবেছিলাম ধীরে ধীরে নিশ্চয়ই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। তারপর যত দিন এগিয়েছে আতঙ্ক আর আশঙ্কা পাকে পাকে ঘিরে ধরেছে গোটা বিশ্বকে। মহামারী ক্রমশ অতিমারীতে পরিণত হয়েছে। বিপর্যস্ত মানুষ কোনমতে বেঁচে থাকতে চেয়েছে সমস্ত প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে। ক্রমশ সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে, লকডাউন কথাটা সবাই শিখে গেছে। আবার আনলক প্রক্রিয়া এসেছে। আবার লকডাউন। অচেনা রোগের সঙ্গে এক নিরুপায় যুদ্ধ বলা যায় এই পরিস্থিতিকে। জীবন ও জীবিকার টানাপোড়েনে এক অসহায় অবস্থার মুখে হঠাৎ করে এসেছে দরিদ্র মধ্যবিত্ত মানুষ। মাস্ক আর স্যানিটাইজার এই দুইকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আর নিজেকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষ ক্রমশ কাজের জন্য পথে বেরিয়েছে অসংখ্য মানুষ। কত প্রিয়জন, গুণী ব্যক্তি, ডাক্তার, পুলিশ, সাধারণ মানুষ বিষাক্ত বিশে চলে গেলেন। আমিও আক্রান্ত হলাম কোভিডের কবলে। দেখতে দেখতে ২০২১ চলে এল।প্রায় তিন মাস ধরে ওষুধ পত্র খেয়ে সুস্থ হচ্ছি ধীরে ধীরে। কেন যে এই রোগকে অতিমারী বলা হয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে টের পেয়েছি হাড়ে হাড়ে।
নস্টালজিয়া আমার শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোর কথা। তবু বর্তমান বারবার চলে আসছে লেখায়।কারণ একটাই ,আজ মা-বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। আমার অসুস্থতার জন্য মায়ের মত ভাববে এমন কেউ আর নেই। আমিও মায়ের জন্য মায়ের মত করে কখনো ভাবতে পারি নি।সেভাবে সেবা যত্ন করতে পারলাম কই। ছোটবেলায় খুব ভুগতাম। অপরিণত ছিলাম জন্মকালে। আঠাশে, মানে আট মাস পড়তেই জন্মেছিলাম আমি। তিন বার টাইফয়েড হয়ে শৈশবেই যায় যায় অবস্থা হয়েছিল নাকি আমার।জিয়াগঞ্জ মিশন হাসপাতালের তখন ব্যবস্থা পত্র খুব ভাল ছিল। সেখানেই জন্মেছিলাম আমি। ছোট্ট পাখির মত নাকি হয়েছিলাম।সরু দড়ির মত হাত-পা। একমাস সর্বাঙ্গে তুলো জড়িয়ে রাখা হয়েছিল আমাকে। খুব যত্নে আমাকে বড় করে তুলেছিল বাবা- মা।একটু অসুখ বিসুখ হলেই যাই যাই অবস্থা হতো আর চিন্তার রেখা দিত তাদের মুখে। বাবার চাকরির উপরে পুরো সংসারটা নির্ভর শীল ছিল তখন। বাবার মাইনে পত্রও সেই সময় খুব বেশি ছিল না পরে তাদের মুখ থেকেই এসব কথা শুনেছি অনেকবার। 

সোমবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৩ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৩৩

পৃথা চট্টোপাধ্যায়


নস্টালজিয়া ৩৩


শৈশবে কাটানো সাগরদিঘির দিনগুলো লিখতে শুরু করে এত কিছু মনে পড়ে যাবে ভাবতেই পারি নি। সেটা ছিল আমার খুব শৈশব। আশ্চর্য এই যে লেখাপড়া করতে ভাল লাগত আমার প্রথম থেকেই। এর কারণ হয়তো মায়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল। ম্যাট্রিকুলেশনের পরে মায়ের আরো পড়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু পিতৃহীন আমার মায়ের বিয়ে হওয়ার পরে সংসারের বোঝা সামলে আর প্রথাগত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি। তবুও মা পড়তে ভালবাসত। রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, পুরাণ, মঙ্গলকাব্য এসব সুর করে সুন্দর উচ্চারণে পড়ত। আমাদের বাড়িতে বিকেলে কতজন আসত মায়ের কাছে এইসব পাঠ শুনতে।
আমার ছোটবেলায় দেখা সাগরদিঘি খুব গ্রাম ছিল। চারদিকে ফসলের খেত। বারোমাস চাষাবাদ হত সেই সব জমিতে। আমাদের কোয়ার্টারের সামনের রাস্তা পেরিয়ে জমিতে শীতের সময় আলু উঠত। মাটির সঙ্গে মিশে থাকত সেই আলু। চাষিরা বড় আলু জমি থেকে তুলে নেওয়ার পরে অনেক ছোট ছোট আলু পাওয়া যেত। আমরা তখন খুব আনন্দের সঙ্গে জমিতে সেই আলু কুড়োতে যেতাম।আমাদের মধ্যে যারা একটু বড় ছিল জমিতে এক ধারে আগুন জ্বেলে আলু পোড়াতো। আমরা ছোটরাও সেই আলু পোড়া খেতাম। কী অপূর্ব তার স্বাদ এখনো মনে আছে।
আমাদের কোয়ার্টার থেকে বাজারে যাতায়াতের পথে একটা গোরস্থান পড়ত। আমি বরাবরই বাবার সঙ্গে সাইকেলে চড়ে সব জায়গায় যেতাম। হেথা হোতা ঘুরে বেড়াতে আমার ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো লাগে। সেই কবরখানার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাবা নাকি সুরে কথা বলে ভয় দেখাতো। আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ঐ রাস্তাটুকু পার হতাম। ওখানেই পোপাড়া বলে একটা পাড়ায় খুব যেতাম বাবার সঙ্গে সনাতন সিংহ জেঠুর বাড়িতে। বাবা ওখানে তাস খেলতে যেত। সেই সনাতন জেঠুর পরিবারের সঙ্গে আমাদের একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ওদের বাড়িতে অনেক সঙ্গী ছিল খেলার, আমি তাদের সঙ্গে খুব খেলা করতাম। ছোটবেলায় দুর্গাপুজোর সময় মা আমাদের নিয়ে মোরগ্রামে আমার মামার বাড়ির পুজোতে যেতে কোনো কোনো বছরে। একবার আমরা পুজোর সময় সাগরদিঘিতে ছিলাম আর সেবার মায়ের খুব মন খারাপ ছিল। 

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

নস্টালজিয়া ৩০|| পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ২৮

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 


কয়েকদিন ধরে লেখায় মন বসছে না। এই লেখা আমার অতীতের ঘটনা প্রবাহ হলেও লিখে চলেছে বর্তমানের আমি।মন ভাল না থাকলে কখনো লিখতে পারি না। আমার মন ভাল নেই মানে অনেক কারণে তা হতে পারে। আজ আমাদের ছোট্ট ডালি, আমার ভাই এর পাঁচ বছরের ছোট্ট  মেয়েটি যখন জীবন মৃত্যুর সাথে তার ক্ষুদ্র প্রাণটুকু নিয়ে লড়াই করে চলেছে শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে তখন আমার লেখা আসছিল না। একটু আগে যখন শুনলাম ভালো আছে , ওর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে তখন লেখা এলো।
আমার জীবন বৃত্তে ভাই অনেকটা পরে এসেছে, মানে আমার থেকে অনেকটাই ছোট। আমাদের খুব আদরের  ছিল ভাই।  আর দুুই বোন ছোটবেলায় বন্ধুর মত বড় হয়েছি। খুব খেলাধূলা করতাম দুই বোনে। আমাদের পড়াশোনা নিয়ে মা বাবাকে কখনো উদ্বিগ্ন হতে হয় নি।খুব সাবলীলভাবে মন দিয়ে পড়াশোনা করতাম। স্কুলে বরাবরই ভাল রেজাল্ট হতো আমাদের। মা কিভাবে যেন বুঝিয়েছিল পড়াশোনা করাটা আমার দায়িত্ব, মারধোর করে হয় না। ভালবেসে পড়তে হয়। আমিও ছোটদের এভাবেই বোঝাতে চেষ্টা করি। মা খুব কড়া শাসনে বিশ্বাসী ছিল, তাই মাকে ছোট থেকেই আমি ভয় করতাম। বোন অবশ্য একটু ডাকাবুকো ছিল, তেমন ভীতু ছিল না। আমরা দুই বোন খেলার সময় নিজেদের নতুন নামে খেলতাম। আমার নাম তখন জুঁই, আর ও করবী। এই নামেই ডাকতাম তখন। দুজনের দুটো অ্যলুমিনিয়ামের বাক্সে পুতুলের সংসার ছিল। তাই নিয়ে আমরা কত কত গ্রীষ্মের দুপুর, বর্ষার সন্ধ্যা, শীতের রাতে খেলা করতাম। আমাদের এই নিজস্ব দেওয়া নাম মা বাবাও অনেকদিন পর্যন্ত জানত না। ভাই হওয়ার পর আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। তখন পড়াশোনার থেকে ভাই এর দিকে মন থাকত বেশি। ওকে একটা ছোট্ট পুতুল বলে আমার মনে হত। খুব তাড়াতাড়ি পড়া করে নিতাম ভাই এর সঙ্গে খেলতে পারব বলে। ভাইকে প্রথম রাখি পরানো আর প্রথমবার ভাইফোঁটা দেওয়ার আনন্দের স্মৃতি আজও মনে আছে। আর এখন যান্ত্রিক জীবনে সবকিছুই কোথায় হারিয়ে গেছে। বড্ড দূর হয়ে গেছে মনে হয় সবই।

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

নেটওয়ার্কের বাইরে || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

নেটওয়ার্কের বাইরে

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




আমেজী শীতে সূর্যের লন্ঠনে তেজ নেই

বড়োদিন
বাতাসের ঘুলঘুলি দিয়ে দেখতে চাইছিলাম
শীতের কমলালেবুর দুপুরে
ফেলে আসা অগুন্তি বড়োদিন
রাস্তার ধারে লোহার রেলিংয়ে
ভাবনার চাদর বিছিয়ে দিই
অন্নবস্ত্রহীন পথশিশু আর
ছন্নছাড়া বেওয়ারিশ কুকুরের ভালোবাসায়
পথ চলতে থমকে যাই
একটা করুণ মুখ হাত পাতে
ক্রুশবিদ্ধ মানুষের মুখ
থমকে দাঁড়াই
তাকে পেরিয়ে

সব নেটওয়ার্কের বাইরে অক্সিজেন খুঁজি
বড়োদিনের বড়ো ম্লান আলোয় ...

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০

বিপর্যয়ের চিঠি ।। পৃথা চট্টোপাধ্যায় ।। কবিতা

 বিপর্যয়ের চিঠি

 পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



প্রতিনিয়ত লেখা হচ্ছে মৃত্যুর পাণ্ডুলিপি

পাখিদের ডানায় জমছে

 তিল তিল অগাধ বিষাদ

পড়ে আছে কৃষকের  নির্বাক লাঙল

আত্মঘাতী  হতে চাইছে নীরব ফসলের মাঠ


বৃক্ষেরা ক্রমশ সরে যাচ্ছে মায়াময় ছায়া নিয়ে


 নক্ষত্রলোকে অবলীলায় পৌঁছে যাচ্ছে 

 অজস্র সংঘাতময় জীবনের শেষ চিঠি

 চারপাশে  অনাহূত শূন্যতার মধ্যে 

কতবার ফোটাতে চেয়েছি মুগ্ধ গোলাপ


তুমি বারবার সরিয়ে নিয়েছো স্বপ্নময় হাত

তুমি কী বধির হলে না কি অন্ধ


বেমানান এই আত্মবিস্মরণ আজ

 বিপর্যস্ত জীবনের শেষধাপে এনেছে

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

নস্টালজিয়া ২৭ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ২৭

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




আমার ছোটবেলার দিনগুলো পাতাবাহারের রং বাহারি সৌন্দর্যে ঘেরা ছিল। বাবা ভালো সরকারি চাকরি করত বলে সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল, কিন্তু আমাদের কখনো প্রাচুর্যের সন্ধান দেয় নি তারা।যেটুকু প্রয়োজন অনায়াস পেতাম, তাই বলে বিলাসিতা বা বাহুল্য শৈশব ও কৈশোরের দিনে কখনই ছিল না। কিন্তু খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট বিলাসিতা ছিল আমাদের বাড়িতে। ভোজন রসিক ছিল বাবা, কাকা, ঠাকুমা ( যাকে আমি আদর করে 'দাদা' বলতাম)। রোজকার মেনুতে ভোজবাড়ির মত পাঁচ পদ রান্না হত। শাক,ভাজা, ডাল, সিজন অনুসারে দুটো সবজি ,মাছ অথবা খাসির মাংস , চাটনি। রাতে রোজ মিষ্টি খেতাম আমরা। চমচম, ছানাবড়া, রসগোল্লা, রাজভোগ, কমলাভোগ- এর যে কোনো একটা থাকতই। মাঝে মাঝেই পায়েস হত। আমের সময় একসাথে দশ- বারোটা আম সবাই মিলে খাওয়া হত। মা বাবা পাকা কাঁঠাল খেতে খুব ভালোবাসত। বোন কাঁঠাল পছন্দ করত না।
ছোটবেলায় আমি স্বপ্ন দেখতাম খুব। সত্যিকারের স্বপ্ন ছিল সেসব। কত অজানা দেশে বেড়াতে চলে যেতাম। মনে আছে একবার স্বপ্নে একটা হাতি আমাকে খুব তাড়া করেছিল। ঘুম ভেঙে যাবার পর অনেকক্ষণ সেই ভয় ছিল ।সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে স্বপ্নের কথা বললে মা বলেছিল হাতির স্বপ্ন দেখা ভালো।স্বপ্নে আমি কিছুতেই দৌড়াতে পারতাম না। প্রায় সময়ই ছুটতে চাইতাম অথচ পারতাম না বলে খুব কান্না পেত। পরীক্ষার আগে প্রায় প্রত্যেক রাতে স্বপ্ন দেখতাম আমার কলমের নিব্ ভেঙে গেছে লেখা যাচ্ছে না,পরীক্ষার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ আমার লেখা শেষ হয় নি। এইসব স্বপ্ন দেখে খুব মন খারাপ হয়ে যেত ঘুম ভেঙে গেলে। আমার বোন তুতুলও খুব স্বপ্ন দেখত। ওর স্বপ্ন আবার আশ্চর্য রকমের ধারাবাহিক ছিল। আগের রাতের স্বপ্নটা continue হত পরের এবং তার পরের রাতে। ঘুম থেকে উঠেই ও নির্বিকার ভাবে ওর এই ধারাবাহিক স্বপ্নের কথা গল্পের মতো বলতো। মা,বাবা, আমি সবাই মন দিয়ে শুনতাম। কেউ অবিশ্বাস করতাম না ওর কথা। বাবা কেবল মুচকি মুচকি হাসত আর পরদিন সকালে জিজ্ঞেস করত ও আগের স্বপ্নটার নতুন কিছু দেখল কি না। বোন গম্ভীর হয়ে বলত ,"এটা কী গল্প যে রোজ দেখব?" এখন বুঝতে পারি এইসব ছোট ছোট বিষয়ে মা বাবা আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনে কীভাবে আমাদের মনের আনন্দ প্রকাশের জগৎ খুলে দিয়েছিল কত সুন্দর ভাবে। আর এখন আমরা সন্তানের কথা একটু ধৈর্য ধরে শোনার প্রয়োজন বোধ করি না, আর শুনতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। তাই এই শিশুরা বড়ই একা হয়ে যায় জীবনের শুরুতেই। 

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...