বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায়

 নস্টালজিয়া ৩৫

পৃথা চট্টোপাধ্যায়



নস্টালজিয়া ৩৫
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

ছোটবেলায় অনেক বছর আমার সাগরদিঘিতে কেটেছে ঠিকই কিন্তু বড় হওয়ার পরে আমি আর কখনো সেখানে যাই নি। আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ার সময় লালবাগে চলে আসি। বাবার ছিল বদলির চাকরি। এই সময় বাবা ভগবানগোলা বি. ডি. ও অফিসে বদলি হয়ে যায়। আমরা লালবাগের বাড়িতে সেই থেকে থাকতে শুরু করি। বাবা ট্রেনে ভগবানগোলা তার পরে লালগোলা নিত্য যাতায়াত করত। আর মা সেই কোন ভোরে উঠে কয়লার উনানে পাঁচ পদ রান্না করত। তেতোসুক্তো থেকে শুরু করে শাক,ভাজা,মাছ,ডাল, সবজি (যে সময়ের যা), চাটনি সব রান্না হত রোজ। বাবা খুব সকালে পাঁচরাহা বাজার থেকে মাছ কিনে আনত। আর বারোমাস সেই সাত সকালে সব কিছু খেয়ে রুটি- তরকারি টিফিন নিয়ে অফিসে যেত আটটার লালগোলা প্যাসেঞ্জার ধরে। বাবা নিজে খুব ভালো রান্না করতে পারত।খাবারের ব্যাপারেও ভোজন রসিক মানুষ ছিল।
সাগরদিঘি তখন খুব গ্রাম ছিল। লালবাগে এসে প্রথম দিকে বেশ অন্যরকম লাগত আমার মনে পড়ে। লালবাগ নবাবের দেশ তাই নাগরিক জীবনের ছাপ ছিল। আমাদের রাস্তার নাম ছিল সিরাজ-উদ্-দৌল্লা রোড। সাগরদিঘিতে আমাদের কোয়ার্টার সব পাকা হলেও আমার যতটুকু মনে আছে তখন সেখানে প্রায় সবই ছিল মাটির বাড়ি। আমার বাবা খুব ভাল সাইকেল চালাতে পারত। আমাকে আর বোনকে নিয়ে সাইকেলে করে সাগরদিঘি থেকে লালবাগের বাড়িতে আসত মাঝে মাঝে। আবার বোন অনেক সময় আসত না, আমার খুব চৈ চৈ বেড়াতে ভালো লাগে বরাবরই। সবসময় বাবার সঙ্গ ধরতাম। লালবাগে এসে আমার প্রথম আশ্চর্য ছিল হাতি দেখা। তখনও নবাবের একটা হাতি বেঁচে ছিল। সেই গল্পের হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়ার মত। আস্তাবলে তখন অনেক কটা ঘোড়াও ছিল। মহরমের দিন বিরাট তাজিয়া বের করা হত। সেদিন সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ধবধবে শাদা দুলদুল ঘোড়া। রাস্তায় হাতি নিয়ে যেত মাহুত। হাতির গলায় ঘন্টা বাঁধা থাকত। চলার সময় সেই ঘন্টা বাজত। সপ্তাহে দু-তিন দিন হাতি বের হত রাস্তায়। মনে হয় কোনো বাগানে খাওয়াতে নিয়ে যেত হাতিকে। সকালের দিকে আমরা পরিচিত ঘন্টার আওয়াজ শুনলেই বুঝতে পারতাম হাতি আসছে। ঘরে বেগুন আলু যা সবজি পেতাম নিয়ে রাস্তার ধারে হাজির হতাম। মাহুত হাতিকে দাঁড় করাতো। নিজে হাতে হাতিকে সেই সব সবজি আমরা খাওয়াতাম আর তখন খুব আনন্দ হতো।হাতি দেখার অছিলায় সকালের পড়ায় একটু ফাঁকিও দেওয়া যেত। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ১৮৩ । নীলাঞ্জন কুমার Nilanjan Kumar

  শব্দব্রাউজ ১৮৩ । নীলাঞ্জন কুমার Nilanjan Kumar শব্দব্রাউজ ১৮৩ । নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৬।৫।২০২১। সকাল ৮টা ৫০ম...