শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

নস্টালজিয়া ২৮ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ২৮

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



লিখতে বসেছি কিন্তু ভালো লাগছে না। বিষণ্ণতা ঘিরে রেখেছে যেন। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মৃত্যু সংবাদ আমার লেখার উৎসাহ দমিয়ে দিচ্ছে। আমি তো আজকের কথা নয়, স্মৃতির গভীরে ডুব দিয়ে কুড়িয়ে আনতে চাইছি মণিমাণিক্যর মত আমার শৈশবের কত উজ্জ্বল স্মৃতি । আসলে আমি তো লিখি না ,লেখে আমার মন। মন না চাইলে এক বর্ণও লিখতে পারি না।  হেমন্তের শূন্যতাকে এবার ছাপিয়ে গেছে মৃত্যুর বিষণ্ণতা। অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, কবি নাসের হোসেন,  কবি গৌরাঙ্গ মিত্র,ফুটবলের কিংবদন্তি মারাদোনা আরো কত কত মানুষ চিরতরে  চলে গেলেন। এঁরা সবাই আমার মনের কত  কাছে ছিলেন চলে যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি। আমিও কোভিড থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি। সব কিছু থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আপাতত আমি লিখতে চাই,  নস্টালজিয়ায় ডুবে থাকতে চাই। এত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চলা খুব দুঃসহ। 

 মৃত্যু ছাড়াও কত ছোট ছোট বিচ্ছেদ আমাদের মনে গভীর শূন্যতাবোধ সৃষ্টি করে। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব অনেক সময় কত সামান্য কারনে ক্রমশ দূরে সরে যায় । একবার ভেঙে গেলে যে কোনো সম্পর্ক অথবা মন জোড়া বেশ কঠিন। এ আমার জীবনের অভিজ্ঞতা। আমি কোনদিনই কোনো  সম্পর্ক নষ্ট করে দেওয়া ভালো বাসি না। ভুল তো হতেই পারে। মিটিয়ে নিতে চাই সবসময়। 

এখন ছোটবেলার একটা মজার ঘটনা বলি। তখন  আমি ক্লাস সিক্সে  আর আমার বোন প্রাইমারিতে ক্লাস ফোরে পড়ে । আমাদের নতুন পড়াতে আসছেন অমল মাস্টার। খুব শৌখিন অনেকটা যাত্রার নায়কের মত চেহারা আর হাবভাব ছিল তাঁর। আমার বোন খুব সামান্য কারনে বকা খেত তাঁর কাছে। ঘেরা বারান্দার চৌকিতে বসতাম আমরা, অমল মাস্টার সামনে হাতলওলা কাঠের চেয়ারে। বোন পা গুটিয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারত না। পা নামিয়ে বসলেই বকতেন ।বলতেন একদম পা দোলাবি না।সব পড়া ঠিকঠাক করে রাখলেও নতুন কিছু জিজ্ঞাসা করতেন আর না পারলে ধমক দিতেন। একদিন মা কিছুক্ষণের জন্য পাশের প্রতিবেশির বাড়িতে নারায়ণ পুজোয় গেছিল, আমি আর বোন অপেক্ষা করছি স্যার আসবেন। বোন স্যারের বসার চেয়ারটা পাল্টে একটা পা ভাঙা চেয়ার এনে রেখে দিল। অমল মাস্টার এসে অহেতুক গাম্ভীর্য নিয়ে চেয়ারে বসতেই চেয়ার ভেঙে ধপাস করে পড়ে গেলেন। 'বাবা গো মা গো' বলে প্রায় কাঁদতে লাগলেন। আমরাই হাত ধরে তাঁকে ওঠালাম। বোন খুব গম্ভীর মুখ করে ছিল। আমি কিছুতেই হাসি চাপতে পারছিলাম না। স্যার বোনকে বারবার বলছিলেন, 'এ সব তোরই কারসাজি'। মা এলে নালিশও  জানালেন বোনের নামে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ- ৪/৪ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ- ৪/৪ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু Debjani Basu আটপৌরে ৪/৪ ১. পুকুরের মুকুর উল্লাস প্রমাণ । সাক্ষ্য। অমিল- ...