মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৩২

পৃথা চট্টোপাধ্যায়


নস্টালজিয়া ৩২
পৃথা চট্টোপাধ্যায় 

আমার শৈশবের বেশ কিছুটা সময় কেটেছিল সাগরদিঘিতে। বাবা তখন ওখানে  বিডিও অফিসে চাকরি করত। আমরা ওখানে কোয়ার্টারে থাকতাম। আমার বেশ মনে আছে আমাদের কোয়ার্টারের সামনেই ছিল রাস্তা, তার একধারে গাছপালা। ওখানে তখন রাস্তার ধারে সারি দিয়ে বাবলা গাছ ছিল, তাতে হলুদ রঙের বাবলা ফুল ফুটে থাকত। ছিল সাদা রঙের সুগন্ধি তে-চোখা ফুলের গাছ।নিশিন্ধা বলে একধরনের গাছ ওখানে অনেক ছিল। আর ছিল অনেক  তাল ও নিমগাছ। রাস্তার পাশেই ফসলের খেত - যেখানে আলু, আখ,সরষে, ছোলা এসবের চাষ হত। সেই মাঠের শেষে এক মস্ত দিঘি।এই দিঘির নামেই এই জায়গার নাম সাগরদিঘি তাই সবাই বলত। অনেক পদ্মফুল ফুটতো এই দিঘিতে। একবার হঠাৎ করে শোনা গেল  সেই দিঘির জলে মন্দির জেগেছে, তাই দেখতে  অনেক মানুষের ভিড়। দিঘির মাহাত্ম্যের কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল আশেপাশের গ্রামে।দলে দলে মানুষ এসেছিল সেই মন্দির দেখতে। কোন দেবতার মন্দির সঠিকভাবে কেউ বুঝতে পারছিল না। কারণ মন্দিরের  পুরোটা দেখা যাচ্ছিল না। শুধু চূড়া আর সামান্য কিছু অংশ। নৌকা করে সেই মন্দিরের কাছে অনেকেই যেত। আমার মা ঐ মন্দিরকে নিয়ে পরে একটা খুব সুন্দর কবিতা লিখেছিল। মায়ের কবিতা লেখার  বাঁধানো লাল রঙের লম্বা বড় মোটা একটা খাতা ছিল। তাতেই মা কবিতা, ছড়া লিখত। সেইসব লেখা মা আমাদের পড়ে শোনাতে খুব ভালোবাসত। পরে একজন মায়ের কাছ থেকে খাতাটা নিয়ে গেছিল,আর ফেরত দেয় নি। সাগরদিঘির দিনগুলো কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল যেন আমার মনে। আমি প্রাইমারি স্কুলে ওখানে কিছুদিন পড়েছিলাম। যতদূর মনে পড়ে  ব্রাহ্মণীগ্রামে একটা প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম।আমাদের কোয়ার্টার থেকে একটু দূরে ছিল সেই স্কুল।  সেখানে সিস্টারের মত সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন শিক্ষিকা আসতেন আজিমগঞ্জ থেকে। তিনি স্কুলে যাওয়ার পথে আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। তখনই তাঁর যথেষ্ট বয়স হয়েছিল। আমি স্কুলে  সবে ছোট ওয়ানে(নার্সারি ক্লাস) ভর্তি হয়েছি,তবুও আমার মনে পড়ে  অনেকটা মাদারের মত ছিলেন তিনি,সাদা কাপড় পরতেন। পরে কথা প্রসঙ্গে মা বলেছিল উনি গুরুমা ট্রেনিং করা ছিলেন বলে অনেক বয়সেও চাকরি করতেন। আজ অতীতের কথা লিখতে বসে এসব কীভাবে যেন মনে পড়ে যাচ্ছে। এখন আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই, তাই নিজের স্মৃতির পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা ছবিকেই মেলে ধরছি মনের আয়নায়। কী যে অপূর্ব সোনালি আনন্দের  অনুভূতিতে মন আজ পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে নিজেও বুঝতে পারছি না!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন বাসুদেব দাস

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন বাসুদেব দাস ৩ মার্চ বুধবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় তুলনামূলক বিভাগে রিফ্রেশার্স কোর্সে বক্তৃতা দেব...