শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৬ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৩৬

পৃথা চট্টোপাধ্যায়



নস্টালজিয়া ৩৬
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

খুব আশ্চর্য হয়ে যাই আমি নস্টালজিয়া লিখতে বসে, কী করে ছোটবেলার এত কথা আমার মনে পড়ে যাচ্ছে আপনা থেকেই! পুরোন অধিকাংশ কথা বা বিষয় আমি ভুলে যাই। অথচ লিখতে বসলে আজকাল স্মৃতির সরণি বেয়ে আমার শৈশবের অনেক ঘটনা দিব্যি মনে পড়ে যাচ্ছে। তাহলে আমি যাকে ভুলে যাওয়া ভাবি তা হারিয়ে যায় না, মনের মধ্যে কোথাও ঠিক চাপা পড়ে থাকে।
একবার আমার ইচ্ছে হল সাইকেল চালান শিখব। মায়ের আপত্তি ছিল কারণ পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে এই ভয়ে। আমাদের ছোটবেলায় চাইলেই সব কিছু তক্ষুনি পাওয়া যেত না। আর আমি চাইতাম না তেমন কিছু। একটা সাইকেল কিনে দিক বাবা এটা মনে মনে চাইছিলাম কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারি নি । যাই হোক বাবার সাইকেলেই চালানো শিখলাম। প্রথমে হাফ-প্যাডেল তারপরে ফুল প্যাডেল সিটে বসে চালানো। আমার বাবার সাইকেলটা বেশ উঁচু ছিল। প্রথম দিকে সিটে বসে প্যাডেলে পা পেতাম না ,অসুবিধা হত। তাতে অবশ্য কিছু ভ্রূক্ষেপ ছিল না। সাইকেল চালান শেখার সময় একবার হাজারদুয়ারি মাঠে গঙ্গার ধারের রাস্তায় চালাতে চালাতে গড়িয়ে গঙ্গার জলে পড়ে যাচ্ছিলাম প্রায়। বাবা সঙ্গে ছিল। তখনো আমি ব্রেক কষা ঠিকমত শিখিনি। গঙ্গার ধারের পুরোনো রেলিং গুলো অনেক জায়গায় ভাঙা ছিল বলেই এই কান্ড ঘটেছিল। বেশ কয়েক জন ছুটে এসে সাইকেলটা না ধরলে সেই বিকেলে নিশ্চিত একটা বিপদ ঘটত। সাইকেল চালান শেখার পর সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ভাবতাম কখন সাইকেল নিয়ে বেরোব। বাবা সকাল আটটায় অফিসে চলে যেত। মা বেশ রাগী ছিল বলে যথেষ্ট সাবধানে থাকতাম। সকাল থেকে পড়াশোনা ইত্যাদি যা যা আমার করা দরকার তখন মন দিয়ে করে নিতাম যাতে মায়ের কাছে সাইকেল চালানোর অনুমতি পাই। আর একবার সাইকেল নিয়ে বেরোলে সে যে কী মুক্তির আনন্দ তা আজকেও আমার মনে আছে। এক হাত ছেড়ে চালাতে শিখলাম যখন তখন আরো আনন্দ। সাইকেল নিয়ে গঙ্গার ধারে হাজারদুয়ারির মাঠ, দক্ষিণ দরজা, ইচ্ছাগঞ্জ, নশিপুরের দিকে চলে যেতাম। এদিকে তখন বেশ ফাঁকা থাকত রাস্তা। পাঁচরাহা বাজারের দিকে গাড়ি ঘোড়া বেশি ছিল বলে টিউশন পড়তে যাওয়া ছাড়া তেমন যেতাম না। সাইকেল চালানোর আনন্দ ও সেই স্বাধীনতার স্বাদ যে কী মধুর ছিল আমার কাছে তা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। আমাকে সাইকেল কিনে দিয়েছিল বাবা ক্লাস এইটে ওঠার পরে। অ্যানুয়াল পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের পুরস্কার ছিল লাল রঙের হারকিউলিস লেডিজ্ সাইকেল। খুব খুশি হয়েছিলাম সেইদিন। বাবার সাইকেল চালিয়ে অভ্যস্ত আমার কাছে এই সাইকেলটি বেশ নিচু আর চালিয়েও সুখ বলে মনে হত। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিদেহ নন্দিনী || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস || Bideha Nandini- 20

বিদেহ নন্দিনী ডঃমালিনী  মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস    (বিশ) চিত্রকূট ছেড়ে আসার পর থেকে দুর্ভাগ্য আমাদের পিছু ছাড়ছে না। মাঝ...