মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

স্মৃতিকথা ৯ || এই আমি চরিত্র || নীলাঞ্জন কুমার

  

স্মৃতিকথা ৯



                       এই আমি চরিত্র


                          নীলাঞ্জন কুমার








                                   ।।৯।।


বেলা ভবনের জীবন শৈশবের এক বিশেষ সময় আমার  কাছে । মনে আছে আমাদের উঠোনে কুমির চোর খেলার ঘটনা । নয়তো লম্বা দাগ কেটে কিৎকিৎ খেলা । দিদিদের কিছু বন্ধু আসত খেলতে ।  বাড়ির থেকে কিছু দূরে একটা মাঠে'   ' বৌ বাচকি ', ' রুমাল চোর ' খেলা হত । সেখান আমাদের চেয়ে বেশ বড় এক দিদি আমাদের খেলাতেন । আরো মনে আছে এদের মধ্যে একজন আমার সমবয়সী ছেলে আমাকে  ইংরেজি শব্দ  বলে  তার মানে জিজ্ঞাসা করতো । আমি জানতাম না বলে চুপ থাকতাম। ছেলেটির ভেতর সবজান্তা ভাব ফুটে উঠত । তা ক্রমশ বেড়ে উঠছিল । আমি একদিন বড়দির ইংরেজি বই থেকে শব্দ শিখে ছেলেটিকে তার মানে জিজ্ঞাসা করতে সে কঠিন ইংরেজীর উত্তর দিতে না পারলে আমি তা বলে দেবার পর আর কোন দিন আমায় সবজান্তা ভাব দেখাতে আসেনি । বেলা ভবনের পেছন দিকে ছোট্ট ডোবা মতো ছিল। সেখানে  দোলের আগের দিন নেড়াপোড়া হত। তার পাশে এক আদিবাসী মাহালি পরিবার বাস করত। যারা আমাদের বাড়িতে কাজকর্ম  করতো। পৌষ পার্বনে আমাদের পিঠে পুলি দিত। তারিয়ে তারিয়ে সে পিঠে খেতাম ।
             যাহোক এভাবে চলছিল ছোড়দিমণির সঙ্গে রিকশো করে স্কুল যাওয়া , দুপুরে বাড়ি ফিরে সামান্য
নিজে নিজে খেলাধুলা তারপর চান করে মায়ের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া সঙ্গে  ঘুম । বিকেলে খেলাধুলা তারপর সূর্য ডোবার আগে ঘরে ঢোকা ও পড়া শুরু করা । সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঘুমে ঢোলা শুরু, চোখ হত জবা ফুলের মতো লাল । তারজন্য  মায়ের কাছে কত বকুনি খেয়েছি । রাত আটটায় পড়া শেষ । তারপর রাতের খাবার খেয়ে  টেনে ঘুম । একবারে সকালে বিছানা ছাড়া । এই ছিল আমার তখনের রুটিন । মনে আছে বাড়ির পেছনে  ছিল হরি সিনেমা,   সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা শো র আগে গান বাজতো । আমার শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে গেছলো গান গুলো । গানগুলো চিৎকার করে নেচে নেচে গাওয়া আমার বিশেষ মজা ছিল ।    কখনো গাইতাম বহুশ্রুত
' এপ্রিল ফুল ' ছবির গান ' এপ্রিল ফুল বনায়া তুমকো গুসসা আয়া ' কখনো আবার মুকেশের গান ' ডাম ডাম ডিগা ডিগা ' গানটির মধ্যে ' খুশিসে ম্যায় ভি গিরা ' কথাটি আমি অক্লেশে বানিয়ে ছিলাম ' খুশিসে মালপো গিরা ' । বাংলা গানের ক্ষেত্রে আমি ' পিছপা ' ছিলাম না। গেয়ে উঠতাম শ্যামল মিত্রের গান ' যদি কিছু আমারে শুধাও' গানটি ।
              মনে আছে প্রতি শুক্রবার  মাইকে প্রচার করতে করতে যেত সিনেমার । সঙ্গে থাকত সিনেমার হ্যান্ডবিল । সেই হ্যান্ডবিল নেবার জন্য রাস্তায় বাচ্চারা  হুল্লোড় করত । আমিও পেয়ে ছিলাম রাশি রাশি হ্যান্ডবিল  । অনেকদিন জমিয়ে রেখেছিলাম । কিন্তু কালের নিয়মে সব হারিয়েছে । সেইসব হ্যান্ডবিল যদি আজ থাকত,  তবে সেই বিষয় নিয়ে কত ভালো প্রবন্ধ লেখা যেত । লাল নীল হলুদ রঙের সস্তা কাগজে ছাপা হত সগৌরবে সগৌরবে  চলিতেছে রাজ কাপুরের অসাধারণ হিন্দি ছবি 'জিস দেশ মেঁ গঙ্গা বহতি হ্যায় '।
কিংবা ' মায়ামৃগ ' ছবির হ্যান্ডবিলে ক্যাপশন ছিল  ' টাকা!  টাকা কি ভুলিয়ে দিতে পারে মায়ের অপত্য স্নেহ!  '  যা স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে ।  একটু বড় হলে যখন নিজে নিজে বাড়ি ফিরলাম তখন ছোট বাজারের রাসু ময়রার মিষ্টি দোকানের বিরাট দেওয়ালে বিরাট বিরাট সিনেমা পোস্টার শুক্রবার বদলানো হত । আমি   ' ভূতবাংলো 'ছবির  পোস্টার চেটানো হাঁ করে অনেকক্ষণ দেখেছিলাম বদলাতে ।
                                                          ( চলবে)


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu   আটপৌরে ২২/৬ আটপৌরে২২/৬ ১. পৃথিবী ...