বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

বিদেহ নন্দিনী~১২ || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস || Basudeb Das

 

বিদেহ নন্দিনী~১২ || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস || Basudeb Das



 

(বারো)

সারথি সুমন্ত্র আমাদের জন্য রথ প্রস্তুত করলেন,আমরা রথে ওঠার জন্য এগিয়ে গেলাম। ছেলে-বুড়ো, যুবক-যুবতি হৃদয় জুড়ে কাঁদতে শুরু করল। স্বামী রামচন্দ্রও বিচলিত হয়ে পড়লেন। লক্ষ্ণণ কান্না সম্বরণ করে অস্ত্রশস্ত্র আর দা,কোদাল এবং পাচি (বাঁশের তৈরি পাত্র)ইত্যাদি কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস রথে উঠিয়ে দিলেন। শাশুড়ি কৌশল্যা এবং সুমিত্রাও আমার আবশ্যকীয় কিছু জিনিসের একটি পুঁটলি রথে  উঠিয়ে দিলেন। আমাদের রথ চলতে লাগল। রথের পেছনে পেছনে নগরবাসীও চলতে লাগল। বেশিরভাগই সমস্ত জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আমাদের সঙ্গে বনে থাকবে বলেই যাত্রা করল। রাস্তার দু'পাশে মানুষের ভিড়। সুমন্ত্রর রথ চালিয়ে নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। এদিকে স্বামী সারথি সুমন্ত্রকে আদেশ দিয়েছিল দ্রুতগতিতে রথ চালানোর জন্য। জনতা চিৎকার করছিল-‘রথ ধীরে ধীরে চালাও। আমরা রাম সীতাকে একবার দেখতে চাই।’  বহুসংখ্যক লোক রথের  সামনে এসে পথরোধ করে দাঁড়িয়েছিল-‘হে রাম, আপনি অযোধ্যা ছেড়ে যাবেন না। আপনার অবর্তমানে রাজ্যে দিনের বেলা শিয়াল ডাকবে। চারপাশে অভাব এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। মানুষ অচেনা রোগে আক্রান্ত হবে।’ কিন্তু স্বামী সবাইকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ক্ষান্ত করলেন। এক জায়গায় জনগণ ব্রাহ্মণ এবং ঋষিদের সঙ্গে নিয়ে রথ আটকাল। তারা বুঝতে পেরেছিল যে রামচন্দ্রকে ফিরে যাবার জন্য অনুরোধ করে কোনো লাভ নেই। তাই তারা রথের ঘোড়ার কাছে  প্রার্থনা জানাল-‘হে অশ্ব, তোমাদের শক্তির সঙ্গে কারও তুলনা হয়না। বলছি শোনো তোমাদের শ্রবণ শক্তিও খুবই  প্রখর। যদি একথা সত্য হয় তোমরা আর এগিও না। জনতার ত্রাণকর্তা রামচন্দ্রকে অযোধ্যায় ফিরিয়ে নিয়ে চল।’  ব্রাহ্মণ,তপস্বীরা, পাখ-পাখালি, জীবজন্তু বাধা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। এরকম এক শোকাকুল পরিবেশের মধ্য দিয়ে রথকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছিল।

বিকেলের আগেই আমরা তমসা নদীর তীরে উপনীত হলাম। স্বামী রাম বনবাসের প্রথম রাতটা পবিত্র নদীর তীরে কাটানোর কথা ভাবলেন। তিনি সুমন্ত্রকে রথ  রাখার জন্য বললেন। সুমন্ত্র রথ  থামিয়ে ঘোড়াগুলির যত্ন নিতে লাগলেন। লক্ষ্ণণ নদীর জল এনে প্রথমে দাদার পা ধুয়ে দিল, তারপরে আমার। গাছের পাতা জোগাড় করে এনে আমাদের দুজনের শয্যা তৈরি করল। ইতিমধ্যে আমাদের পেছন পেছন আসতে থাকা নগরবাসীরা উপস্থিত হয়েছে। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমাদের কাছ থেকে একটু দূরে তারা শয্যা তৈরি করে শুয়ে পড়ল। সেই রাতে আমরা উপবাসে রইলাম। অনেক রাত পর্যন্ত পিতা এবং মাতাদের কথা মনে করে কথা-বার্তা বলতে থাকলাম। তারপরে শুয়ে পড়লাম। লক্ষ্ণণ জেগে রইল।

নগরবাসীকে নিয়ে আমাদের চিন্তা হল। আমাদের সঙ্গে তাদের দুঃখ কষ্ট হোক তা আমরা কেউ চাইনি। তাই স্বামী একটি বুদ্ধি বের করলেন। প্রজারা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকতেই তমসা নদী পার করিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সুমন্ত্রকে বললেন। নদী পার হয়ে আমরা একটি অতি মনোরম রম্যভূমি পেলাম। সেখানে স্বামী রথ রাখার জন্য বললেন। তারপর সুমন্ত্রকে নির্দেশ দিলেন-‘বন্ধু একটি কাজ কর। আমরা এখানে নামছি। তুমি রথটা এখান থেকে উত্তর দিকে কিছু দূর নিয়ে যাও। কিছুদূর যাওয়ার পরে অন্য একটি পথে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবে। আমরা পায়ে হেঁটে দক্ষিণ দিকে ধীরে ধীরে যেতে থাকব। প্রজারা জেগে উঠে যখন আমাদের দেখতে পাবেনা তখন তারা রথের চাকার চিহ্ন অনুসরণ করে আমাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। যখন এখান থেকে রথ উত্তর দিকে যাবার চিহ্ন দেখতে পাবে তখন আমরা অযোধ্যায় ফিরে গেছি ভেবে এখান থেকে রাজ্যে ফিরে যাবে। এরকম না করে অন্য কোনো উপায় নেই। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। সুমন্ত্র স্বামী বলার মতোই কাজ করল এবং তার ফলও স্বামী যেরকম ভেবেছিল সে রকম হল। আমাদের রথ তীব্র গতিতে এগিয়ে চলল। যেরকম ভেবেছিলাম তার অনেক আগেই কোশল রাজ্যের সীমায় পৌঁছে গেলাম। স্বামী সুমন্ত্রকে রথ থামানোর জন্য বললেন। দুই দাদা-ভাই রথ থেকে নেমে গেলেন। দুজনেই বড় বিহ্বল হয়ে পড়লেন। স্বামীর  চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। তার চোখের জল দেখে আমার বুক যেন ফেটে যেতে লাগল। আমি সমস্ত সহ্য করতে পারব। কিন্তু স্বামীর অন্তরের দুঃখ সহ্য করতে পারব না। তাই আমার চোখ থেকেও তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।

প্রকৃতপক্ষে বনবাসে কাটাতে হওয়ায় আমার দুঃখ হচ্ছিল না। স্বামী রামের সঙ্গে চৌদ্দটা বছর বিন্দুমাত্র চোখের আড়াল না হয়ে একসঙ্গে থাকতে পারব- সেই আনন্দ বনবাসের দুঃখ কষ্টকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আঘাত পেয়েছিলাম সারা জীবন বিশ্বাস করে আসা একজন মা এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য। মন খারাপ হয়েছিল মৃতপ্রায় অবস্থায় ছেড়ে আসা শ্বশুর দশরথ এবং চোখের জলকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা মাতা কৌশল্যার জন্য। চিন্তিত হয়েছিলাম সুদীর্ঘ চৌদ্দ বছর কাল একটা জীবন লক্ষ্ণণ বিহীন অবস্থায় উর্মিলা কীভাবে কাটাবে ভেবে। এখন স্বামীর চোখ থেকে  অবিরাম অশ্রু নির্গত হতে দেখে আমার অন্তর ভেঙ্গে গিয়েছিল। দাদা-ভাই দুজনই কোশল রাজ্যের সীমানায় উপস্থিত হয়ে হাত জোড় করে মাতৃভূমিকে প্রণাম জানিয়ে নিঃশব্দে রথে উঠলেন।

রথ পুনরায় তীব্র গতিতে এগিয়ে চলল। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আমরা গঙ্গা নদীর তীরে  অন্য রাজ্যে রাজ্যে প্রবেশ করলাম। সারথি সুমন্ত্র ধীর গতিতে নদীর তীরে আমাদের রথ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। নদীর তীরের একটি মনোরম জায়গা দেখে স্বামী সেই রাতটা নদীর তীরে একটি গাছের নিচে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। 

আমরা প্রবেশ করা রাজ্যটির নাম শৃঙ্গবেরপুর। এই নতুন জায়গাটা গঙ্গাতীরে জনজাতিদের রাজ্য। সেই রাজ্যের রাজার নাম ছিল গুহ। তিনি এককালে স্বামী রামচন্দ্রের বড় বন্ধু ছিলেন। তিনি কোনোভাবে আমাদের সঙ্গে ঘটা ঘটনাগুলি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। আমরা বনবাসে এসে তার রাজ্যে উপস্থিত হয়েছি জেনে দ্রুত তার মন্ত্রী এবং বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। স্বামীকে তপস্বীর বেশে দেখে নিষাদ রাজ গুহ কেঁদে ফেললেন। তিনি অবরুদ্ধ কণ্ঠে বললেন-‘হে মোর প্রিয় সুহৃদ, শৃঙ্গবেরপুরকে আপনারা নিজের রাজ্য বলে ভেবে নিন। আপনাদের মতো অতিথিকে শুশ্রূষা করার সুযোগ খুব কম লোকের ভাগ্যেই ঘটে। সেই সৌভাগ্য আজ আমার কপালেও ঘটেছে। আমার রাজ্যে আপনাদের কোনো কিছুরই অভাব হবেনা। চৌদ্দটা বছর এই রাজ্যেই কাটান।’ 

তারপরে রাজা গুহের মানুষ আমাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রচুর পরিমানে আনিয়ে দিলেন। তা দেখে স্বামী নিষাদ রাজকে বললেন-‘প্রিয় বন্ধু, আমার প্রতি আপনার কতটা স্নেহ তা আমি ভালো করেই জানি। কিন্তু আমরা বর্তমানে আপনার আতিথ্য গ্রহণ করতে পারব না কারণ আমরা পিতৃ বাক্য পালন করার জন্য এসেছি। দু'বছর বনবাসীদের মতো বাস করতে হবে। তাই আপনার সুন্দর মহানগরে আমরা বাস করতে পারব না। আপনি যে সমস্ত খাদ্যদ্রব্য জোগাড় করেছেন সেই সব গ্রহণ করলাম বলে ধরে নিন। কারণ বর্তমানে আমাদের ফলমূল এবং নিয়মের মধ্য দিয়ে আহরণ করা মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করতে হবে। আপনার মধুর বচন আমাদের মন আনন্দে পরিপূর্ণ  করেছে। আপনি আমার ঘোড়া দুটিকে কিছু খেতে দিন তাহলেই আমার প্রতি উপকার করা হবে। এভাবে অনেকক্ষন সময় আমরা গুহের সঙ্গে কথাবার্তা বলে আমি এবং স্বামী গাছের তলায় শয্যায় শুয়ে পড়লাম। লক্ষ্ণণ, গুহ এবং সুমন্ত্র অনেকক্ষণ পর্যন্ত কথা বলতে থাকা কানে আসছিল। লক্ষ্ণণ এবং গুহ সারাটা রাত আমাদের বিষয়ে কথাবার্তা বলেই কাটিয়ে দিলেন।

পরের দিন সকালে আমরা যাবার জন্য প্রস্তুত হলাম। গঙ্গা নদী পার হওয়ার জন্য নিষাদরাজ গুহ একটা বড় নৌকা জোগাড় করে দিলেন। তারপর এল বিদায়ের পর্ব। বড় দুঃখজনক ছিল সেই বিদায় পর্ব।  বিশেষ করে মন্ত্রী তথা সারথি সুমন্ত্রের বিলাপ ছিল বড় হৃদয়বিদারক। তিনি কোনোভাবেই অযোধ্যায় ফিরে যাবার পক্ষপাতী ছিলেন না।কিন্তু স্বামী রামচন্দ্র তাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ফিরে যাবার জন্য রাজি করালেন।–‘ হে মোর প্রিয় বান্ধব সুমন্ত্র, ইক্ষাকু বংশের তোমার থেকে বড় সুহৃদ আর কেউ হতে পারে না। তাই এই সময়ে তুমি অযোধ্যায় থাকাটা বড় আবশ্যক। তুমি অযোধ্যায় থাকলে আমি বৃদ্ধ পিতা মাতা সম্পর্কে কিছু  চিন্তা করব না। তুমি ফিরে গিয়ে তাদের আমাদের খবর দেবে। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলবে যে আমরা নিরাপদে বনবাস পর্ব কাটিয়ে অযোধ্যায় ফিরে যাব। চোখের পলকেই চৌদ্দ বছর পার হয়ে যাবে। তার পরে স্বামী ভরতের অভিষেক যাতে দ্রুত অনুষ্ঠিত হয়ে যায় তার জন্য পরামর্শ দিল।

কান্নাকাটির মধ্যে গুহু এবং সুমন্ত্রের  কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা নৌকায় উঠলাম। মাঝি নৌকা ছেড়ে দিল। আমি নদীর মাঝখানে পৌঁছানোর পরে দেবী গঙ্গাকে প্রার্থনা জানালাম-‘হে দেবী গঙ্গা,  আমরা যে সংকল্প নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করেছি তা যেন পূরণ করতে পারি। হে মাতা, তুমি আমাদের সহায় হও যাতে আমরা নিরাপদে মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পারি।’

আমরা নদী পার হওয়ার পরে স্বামী মাঝিকে বিদায় দিয়ে লক্ষ্ণণকে বললেন-‘ভাই, প্রকৃতপক্ষে এখন থেকে আমাদের বনবাস আরম্ভ হবে। বন্ধু-বান্ধব, আনন্দ-ফুর্তি এই মুহূর্ত থেকে আমরা আর পাব না। এই যাত্রায় সীতার কষ্ট যতটা লাঘব করা যায় দেখব। তুমি পথ বের করে আগে আগে যাবে। সীতা তোমার পেছনে পেছনে যাবে। আমি তোমাদের দুজনকে সামনে নিয়ে যেতে থাকব।’ স্বামীর কথা মতো আমরা চলতে লাগলাম। যেতে যেতে একটা সুন্দর বনভূমি পেলাম। জায়গাটা ফলমূল, হরিণ, পাখপাখালিতে পরিপূর্ণ। সেই রাতটা সেখানেই একটা গাছের নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। লক্ষ্ণণ জায়গাটা পরিষ্কার করে আমাদের জন্য শয্যা তৈরি করল। ফলমূল খেয়ে কিছুক্ষণ পরে তিনজন কথাবার্তা বলার পরে স্বামী আমাকে ঘুমোতে পাঠালেন। দুই ভাই সুখ-দুঃখের কথা বলতে শুরু করল। আমি শয্যায় পড়ে ছিলাম। ঘুম আসছিল না। তাই দুজনের কথাবার্তা আমার কানে আসছিল। স্বামী ভাইকে বলছিল- ‘ভাই লক্ষ্ণণ, আমার অযোধ্যার কথা মনে পড়ছে। পিতা নিশ্চয় শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অযোধ্যায় মহা আনন্দ হবে একমাত্র কৈকেয়ীর। তাঁর পুত্র ভরত রাজা হবে। আমার মা-ছেলের উপর সন্দেহ হচ্ছে, কে জানে ভরত এবং  কৈকেয়ী বুদ্ধি করে পিতার জীবনের অবসান ঘটায়।ইতিমধ্যে বোধহয় কৈকেয়ী মাতা কৌশল্যা এবং সুমিত্রার উপরে অত্যাচার আরম্ভ করে দিয়েছে। তাই ভাই, তুমি আগামিকাল প্রত্যুষে অযোধ্যায় ফিরে যাবে। তুমি অযোধ্যায় থাকলে আমি এই ধরনের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকব। কথাগুলো শোনার পরে লক্ষ্ণণ বলল –‘দাদা, বৌদি যেভাবে আপনাকে ছেড়ে এক মুহূর্ত বেঁচে থাকতে পারে না, ঠিক সেভাবে আমিও আপনাকে ছেড়ে জীবন ধারণ করতে পারব না। জল বিহীন মাছের যে অবস্থা হয় আমারও সেরকম অবস্থা হবে। তাই আপনি আমাকে ফিরে যাবার কথা বলবেন না।’ তারপরে তাদের কথাবার্তা আমার কানে আর আসেনি। কারণ স্বামী রামচন্দ্রের কথা আমার মনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল। আমি তার অন্তরের কথাগুলি জানতে পেরে অবাক হয়েছিলাম। বিশেষ করে ভরত মায়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে পিতাকে হত্যা করতে পারে বলে তিনি কীভাবে ভাবতে পারলেন- সে কথা চিন্তা করে আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। রামচন্দ্র দাদা হয়ে ভরতকে এতদিন চিনতে না পারাটা সত্যি দুর্ভাগ্যের কথা। আমি কিন্তু বৌদি হয়ে বুঝতে পেরেছিলাম যে স্বামী ভাবার মতো ভরত সেই ধরনের ছেলে নয়। সেদিন মনে মনে  ভেবেছিলাম-‘সত্যিই আমার পতির মন  অধ্যয়ন করা ভীষণ কঠিন। ভরত পিতাকে হত্যা করতে পারে বলে যদি তিনি ভাবতে পারেন তাহলে লক্ষ্ণণ আমার জন্যই বনে এসেছে বলে যে তিনি ভাববেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

কথাগুলো নিয়ে ভাবনা- চিন্তা করার সময় একটা সময়ে আমার ঘুম এসে গেল। তারা কখন কথা শেষ করে শুতে গেল আমি বুঝতে পারলাম না।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

  শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar শব্দব্রাউজ ২১৫ || নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৭।...