বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

বিদেহ নন্দিনী~১৬ || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস || Basudeb DasBideha Nandini

বিদেহ নন্দিনী~১৬ || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস || Basudeb Das


 (ষোলো)

মেজ শাশুড়ি সুমিত্রা ভরতের সম্পর্কে বলেছিল বুঝেছ জানকী ভরত মামার বাড়িতে বিন্দুমাত্র শান্তি পায়নি। তার শরীরে অনবরত জ্বালা করছিল। হবে নাইবা কেন নিজের বাড়িতে এরকম একটি শোকাবহ ঘটনা, খবর পাইনি যদিও অন্তর বলে একটা কথা আছে তো।’

কেকয় রাজ্যের আনন্দের মধ্য ভরতের নাকি মনটা অনবরত বিষন্নতা ঘিরে ধরেছিল। মধ্যে মধ্যে সে নাকি দুঃস্বপ্ন দেখতো। দূতরা পৌঁছানোর আগের দিনও একটা খারাপ স্বপ্ন দেখে চিন্তান্বিত ছিল । তাই সে দূতদের পিতা-মাতা,ভ্রাতা,প্রজা এবং দেশের কুশল  বার্তা জিজ্ঞেস করে দ্রুত আসার জন্য প্রস্তুত হল। মন থেকে দুশ্চিন্তা গুলি দূরীভূত হয়ে ভরতের মন পরিষ্কার হয়েছিল। তাই দাদু মামা দেওয়া বহুমূল্য উপহার নিয়ে আনন্দিত মনে নিজের রাজ্যের অভিমুখে যাত্রা করেছিল। দূতেরা যখন কেকয়  রাজ্যে গিয়েছিল তখন তারা যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাস্তা বেছে নিয়েছিল। কখনও জঙ্গলের মধ্যে আঁকাবাঁকা পথ বেছে নিয়েছিল। ভরতকে যেহেতু অযোধ্যার  সংকটের কথা একেবারেই জানতে দেওয়া হয়নি তাই সে রাজকুমারের মতো শহরের মধ্য দিয়ে এসেছিল। ফলে তার অযোধ্যায় পৌঁছাতে সাতদিন সাতরাত লেগেছিল। অষ্টম দিনের দিন সকালে তারা নিজ রাজ্যে পৌঁছেছিল।

অযোধ্যা নগরে প্রবেশ করার পর থেকেই নাকি বিষাদ তার মনকে ঘিরে ধরেছিল। রথ থেকে নেমেই নাকি সারথিকে বলেছিল-‘সারথি কিছু একটা গন্ডগোল নিশ্চয় হয়েছে। না হলে এত নিস্তব্ধ পরিবেশ কেন বিরাজ করবে। মন্দির গুলি ফুলে সাজানো হয়নি। কোথাও ধুপ ধুনার গন্ধ এখনও পাচ্ছিনা। যজ্ঞশালা গুলিতে যেন অনেকদিন পূজা-পার্বণ হোম আদি কার্য হয়নি বলে মনে হচ্ছে কেন?’

ভরত নাকি দ্রুতপায়ে প্রথমে পিতার সঙ্গে দেখা করার জন্য রাজার ভবনে গিয়েছিল। পরে সেখানে তাকে দেখতে না পেয়ে সোজাসুজি মা কৈকেয়ীর প্রাসাদে গেল।  ভরত ভেবেছিল পিতা নিশ্চয়  মায়ের প্রাসাদে রয়েছে। ইক্ষাকু বংশের কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে পিণ্ড ইত্যাদি কাজ না হয়ে  যাওয়া পর্যন্ত পরিবারের কোনো মানুষ বেশি জাঁকজমক পূর্ণ  পোশাক পরে না। রানি কৈকেয়ীও জাঁকজমক পূর্ণ পোশাক পরে নেই। যদিও মাকে দেখে ভরত মা যে ইতিমধ্যে স্বামীকে হারিয়েছেন তা বুঝতে পারেনি। খাটে শুয়ে থাকা আরামপ্রিয় মাকে যখন ভরত দরজার সামনে থেকে ডেকেছিল, তখন বিছানা থেকে উঠে আসা মায়ের কোনো পরিবর্তন ভরতের চোখে পড়েনি। কৈকেয়ী নাকি  ছেলেকে দেখে লাফ মেরে এসে আশীর্বাদ  করেছিল। তারপরে বাপের বাড়ির খবরা খবর নেয়। ভরত নাকি সংক্ষেপে মায়ের প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়ে ব্যাকুল ভাবে জিজ্ঞেস করেছিল-‘মা, বাবা কোথায়? তিনি তো এই সময়টা  তোমার সঙ্গেই কাটান। পিতার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমার মন বড় ব্যাকুল হয়েছে । তার চরণ স্পর্শ করার পরই আমি বাড়ি এসেছি বলে ভাবব।’

শাশুড়ি কৈকেয়ী নাকি ছেলেকে খুব সাধারণভাবে বলেন-‘ তোমার পিতার পরলোকপ্রাপ্তি ঘটেছে।’ মায়ের মুখে আশ্চর্য এবং করুন কথাগুলি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভরত নাকি কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল এবং তারপরে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে কাঁদতে শুরু করেছিল।ভরত বিলাপ করে বলছিল-‘ইস, আমি কী ভেবে এসেছিলাম আর কী শুনলাম। ভেবেছিলাম পিতা দাদার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত করবে। আমরা প্রত্যেকেই সেই উৎসবে আনন্দ করব। কিন্তু আমাদের আশা চুরমার করে চলে গেলেন।’তারপর নাকি ভরত  ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বললেন-‘ আমি কত দুর্ভাগা, পিতার কাছে অন্তিম সময় থাকতে পারলাম না। দাদা রামচন্দ্র সত্যিই ভাগ্যবান। তিনি পিতাকে অন্তিম সময়ে শুশ্রূষা করার সুযোগ পেলেন। আমার কপালে তাকে শুশ্রূষা করা তো দূরের কথা, এমনকি শেষবারের জন্য একবার দেখতেও পেলাম না।’ ভরত এভাবে মাটিতে গড়িয়ে বিলাপ করতে লাগলেন।

  মাঝখানে একবার শোক সম্বরণ করে নাকি পুনরায় মাকে জিজ্ঞেস করেছিল-‘বলতো মা পিতার কী এমন বড় অসুখ হয়েছিল? তিনি হয়তো নিজে মৃত্যুর কথা ভাবতে পারেন নি। না হলে আমাকে আগেই ডেকে পাঠাতেন।বল তো মা,  পিতা অন্তিম সময়ে আমার বিষয়ে কিছু বলেছিল কি?’

মা বললেন-‘ পিতা অন্তিম সময়ে হা রাম, হা সীতা,হা লক্ষ্ণণ বলে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তিনি বলেছিলেন –‘যারা জানকীর সঙ্গে রাম এবং লক্ষ্ণণকে অযোধ্যায় ফিরে আসতে দেখবে তারা কত ভাগ্যবান।’ মায়ের এই সমস্ত কথা শুনে ভরত নাকি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল-‘ মা তুমি এই সমস্ত কী বলছ? পিতার অন্তিম সময়ে দাদা বৌদি এবং লক্ষ্ণণের সঙ্গে কোথায় গিয়েছিল?’ শাশুড়ি  কৈকেয়ী নাকি তখন ছেলেকে সমস্ত কথা খুলে বলেন। তারপর নাকি তিনি ভরতকে আদেশ করেন-‘হে পুত্র ভরত,  রামের অভিষেক বন্ধ করে চৌদ্দ বছরের জন্য তাকে বনবাসে পাঠিয়ে তোমার জন্য রাজ সিংহাসন নিষ্কণ্টক করেছি। এই কাজে বাধা দিতে গিয়ে পিতা স্বর্গগামী হলেন। তাই এই রাজপদ গ্রহণ করে তুমি রাজভোগ কর। ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ এবং অন্যান্য ব্রাহ্মণদের সঙ্গে আলোচনা করে পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজকার্যে মনোনিবেশ কর।’ 

মায়ের কথাটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভরত নাকি যে দৃশ্যের সৃষ্টি করল  তা দেখে মা নাকি কিছুক্ষণের জন্য ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। কথাগুলি শুনে প্রথমেই নাকি ভরত কিছুক্ষণ বজ্রাহত মানুষের মতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপরে তর্জন গর্জন করে বিস্ফোরিত নেত্রে  মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করে –‘পাপিনী,কুলনাশিনী, তার মানে তুই পিতা রাজা দশরথকে হত্যা করলি। তুই  আমাকে কী বলে ভেবেছিলি? তোর চক্রান্ত আমি মেনে নেব? দাদাকে বনবাসে পাঠিয়ে আমি রাজা হব? আমি দাদা রামচন্দ্রকে কাকুতি-মিনতি করে ফিরিয়ে এনে সিংহাসনে বসাব আর তারপরে আমি বনবাসে চলে যাব। প্রকৃতপক্ষে তোকে বনবাসে পাঠানো উচিত ছিল। তুই মর। হয় জলন্ত আগুনে ঝাঁপ দে না হলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু বরণ কর। তুই  রাজা দশরথের পত্নী নস। তুই পত্নী ধর্ম  লংঘন করেছিস। আমি আজ উপলব্ধি করছি। তোকে পত্নী হিসেবে পাওয়াটা পিতার কতটা দূর্ভাগ্য ছিল। দাদা রাম তোকে কত স্নেহ এবং শ্রদ্ধা করত। তুই নিজে রামচন্দ্রকে তোর জ্যেষ্ঠপুত্র  বলিস না কি? সেক্ষেত্রে তুই তাকে দণ্ডকারণ্যে কীভাবে পাঠাতে পারলি? তোকে এই মুহূর্ত থেকে আমি মা বলে গণ্য করছি না। আমার সঙ্গে তোর সম্বন্ধ আজ থেকে ছিন্ন করলাম।’ এ কথা বলে নাকি ভরত কৈকেয়ীর প্রাসাদ থেকে রাগ করে চলে এসেছিল। এদিকে নাকি বড় শাশুড়ি কৌশল্যা ভরতের আসার কথা জানতে পেরে মেজ শাশুড়ি সুমিত্রার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসতেই শত্রুগ্নের  সঙ্গে সেখানে দেখা হয়ে গেল। ভরতকে দেখেই শাশুড়ি কৌশল্যা নাকি অচেতন হয়ে পড়লেন। পরে দুজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। কাঁদতে কাঁদতে  তিনি বললেন-‘ভরত তুমি রাজা হতে চেয়েছিলে না। মা তোমার জন্য রাজ সিংহাসন নিষ্কণ্টক করে রেখেছেন। মাত্র বড় নিষ্ঠুর উপায় অবলম্বন করে তোমার মা রাজসিংহাসন হাত করেছেন।’ 

ভরত বড়মা কৌশল্যার  কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য মূর্ছা গিয়েছিলেন। তারপরে নাকি বড় মায়ের পায়ের কাছে লম্বা হয়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করেন-‘হে মাতা, আমাকে দোষারোপ করবেন না। আমি কোনোদিন আমার মাতা কৈকেয়ীকে রাজা হব বলে বলিনি। এখানে যে আমার অনুপস্থিতে আমার মা চক্রান্ত করে এতগুলি ঘটনা ঘটিয়েছে আমি সেই সব বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আর এই সমস্ত কথার সঙ্গে  আমি জড়িতও নই।’ কথাটা বলে ভরত নাকি দুই মায়ের সামনে মাতা কৈকেয়ীকে এমন  অভিশাপ দিলেন যে দুই মাতা স্তম্ভিত হয়ে পড়লেন। তারপরে ভরত নাকি বড়মা কৌশল্যার প্রাসাদে চলে আসেন।   সে রাতটা বড়মার সঙ্গেই থেকে যান।

পরের দিন সকালে ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ, বিশিষ্ট ব্রাহ্মণরা, মন্ত্রীবর্গ, পরিষদবর্গ,রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য জমায়েত হল। তেলের পাত্র থেকে রাজার মৃতদেহ বের করে আনা হল। মৃত দেহকে স্নান করিয়ে রাজকীয় পোশাক এবং অলংকারের দ্বারা সজ্জিত করা হল। এতদিন রেখে দেওয়ার পরেও রাজার মৃতদেহ নাকি বিন্দুমাত্র নষ্ট হয়ে যায় নি। শান্তিতে শুয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছিল। ভরত নাকি পিতার দেহটার দিকে তাকিয়ে ছোট ছেলের মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। ধূপ ধুনার পবিত্র গন্ধ, মন্ত্রের উচ্চারণ, কান্নার বিলাপ এক শোকাকুল পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। ব্রাহ্মণ, মন্ত্রীবর্গ, রাজার সমস্ত রানি, পরিচারক- পরিচারিকা ,সভাসদ প্রজাবর্গের উপস্থিতিতে ভরত মুখাগ্নি করে। তারপর রীতি অনুসরণ করে এক এক করে সমস্ত ধর্মীয় কার্য সম্পন্ন হয়।

রাজার শ্রাদ্ধকর্ম সমাপ্ত হওয়ার পরে ঋষি বশিষ্ঠ এবং রাজসভার উচ্চপদে  অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা একটি সভার আয়োজন  করে ভরতকে বললেন-‘ হে কুমার ভরত, রাজা দশরথ আপনার জন্য এই রাজ্য রেখে স্বর্গগামী হয়েছেন। এখন আপনি এই রাজ্যের শাসনকর্তা। রাজকার্য সুচারুরূপে চালিয়ে আপনাকে প্রজাকে রক্ষা করতে হবে। আপনার অভিষেকের জন্য সমস্ত দ্রব্য জোগাড় করা হয়েছে। অতি দ্রুত আপনার রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠিত হওয়া সমস্ত অযোধ্যাবাসীর কাম্য।’ 

সভাসদদের কথা শুনে ভরত নাকি অত্যন্ত নম্রভাবে তাদের উপস্থিতিতে অভিষেকের জন্য জোগাড় করে রাখা সমস্ত দ্রব্য একবার প্রদক্ষিণ করে বলেন-‘ হে সজ্জনবৃন্দ ,একটা কথা আপনাদের অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে আমি কখনও কোনো দিন রাজত্ব চাইনি বা এই বিষয়ে মাথা কৈকেয়ীর সঙ্গে কোনো কথা বলিনি। জ্যেষ্ঠ জনেরই রাজা হওয়া উচিত। সেটাই  আমাদের কুল প্রথা। দাদা রামচন্দ্র আমাদের জ্যেষ্ঠভ্রাতা। তাই তাকেই রাজা হতে হবে। আমি খুব দ্রুত বনে গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনব। তার পরিবর্তে আমি বনবাস খাটব। কুচক্রান্তকারী মাতা কৈকেয়ীর মনোবাঞ্ছা আমি কখনও পূর্ণ হতে দেব না। আমরা প্রত্যেকেই অভিষেকের দ্রব্য সামনে নিয়ে শোভাযাত্রা করে দাদা রামচন্দ্রের কাছে যাব। বনের মধ্যেই অভিষেক সম্পন্ন করে রাজকীয় সম্মান দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনব। অতএব প্রত্যেকে যাবার মতো পথ ঘাট সুগম করা হোক।’ 

ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ মুখ্য করে সমস্ত সভাসদ ভরতের ভ্রাতৃ ভক্তি দেখে নাকি চোখের জল মুছতে লাগল।

ভরত রামচন্দ্রকে ফিরিয়ে আনবে। নিমিষের মধ্যে কথাটা রাষ্ট্র হয়ে গেল। মানুষগুলি হাতে-কলমে কাজে লেগে গেল। নতুন উদ্যমে বন জঙ্গল কেটে পথঘাট বের করল। নদীর উপর সেতু বসানো হল। শোভাযাত্রায় যোগদান করার জন্য দলে দলে লোক বেরিয়ে এল। শাশুড়ি কৌশল্যা এবং সুমিত্রাও বেরিয়ে এলেন। ছোট শাশুড়ি কৈকেয়ী নাকি পুত্রের ব্যবহার দেখে দুদিন মাটিতে গড়িয়ে কান্নাকাটি করল। তারপরে নাকি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মৌন হয়ে রইল। পরে স্বইচ্ছায়  নাকি  শোভাযাত্রায় যোগ দেবার  সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুদিন আগে একটা ঘটনা ঘটল। ভরত আর শ্ত্রুঘ্ন নাকি রাজভবনের পুবদিকের উদ্যানের সামনে বসে বনযাত্রার বিষয়ে আলোচনা করছিল। ঠিক তখনই নাকি মুখে প্রসাধন, জাঁকজমক পোশাক,হাতে কানে মূল্যবান অলঙ্কার, কোমরে করধ্বনি পায়ে  নুপুর পরে মন্থরা এসে রাজভবনের পূর্ব দুয়ারের কাছে উপস্থিত হয়েছিল। ছোট শাশুড়ি কৈকেয়ীর এতগুলি দেখাশোনা করার লোক, ভরত শত্রুঘ্ন একদুজন ছাড়া বাকিদের জানতই না। প্রহরী নাকি মন্থরার হাত দুটি ধরে ভরত শত্রুঘ্নের এর সামনে এনে বলেছিল-‘ এই পাপীর জন্যই চন্দ্রের মতো একজন পুরুষকে বনে যেতে হল। এইজন্যই মহারাজের মৃত্যু হয়েছে। অনবরত কু-বুদ্ধি দিয়ে মহারানী কৈকেয়ীর মন বিষিয়ে  তুলেছে।

সঙ্গে সঙ্গে নাকি শত্রুঘ্ন মন্থরার চুলের মুঠি ধরে সমগ্র মেঝেতে ছেঁচড়ে নিয়ে বেরিয়েছে। লাঠি কিল খেয়ে মন্থরা নাকি প্রাণ ভয়ে চিৎকার করে উঠেছে। মন্থরার চিৎকার শুনে শাশুড়ি কৈকেয়ী এসে উপস্থিত  হলেন। তিনি নাকি শত্রুঘ্নকে কিছু বলতেই ভরত মাকে তিরস্কার করে পাঠাল। ভয়ে,লজ্জায় কৈকেয়ী  সেখান থেকে সরে গেলেন। মন্থরা শত্রুঘ্নের হাতে মার খেয়ে মরতে চলেছে দেখে ভরত বলে-‘ ভাই শত্রুঘ্ন, ক্ষান্ত হও। কীটটাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার মাকে বধ করতাম। কিন্তু দাদা রামচন্দ্র আমাকে মাতৃহন্তা বলে নিন্দা করবে বলেই সেই কাজে বিরত হলাম। আর এখন এই কুঁজি তোমার হাতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানলে তিনি আমাদের দুজনেরই মুখ দেখবেন না।’ ভরতের কথা শুনে নাকি শত্রুঘ্ন মন্থরাকে ছেড়ে দেয়। মন্থরা নাকি অর্ধচেতন অবস্থায় অনেকক্ষন সেখানে পড়েছিল।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems

  নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems   নীলিমা সাহার আটপৌরে  ১১৭) কাকভোর  থেকে   কাকসন্ধ্যা               ...