রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

পূরবী~ ৫৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস, Purabi

পূরবী~ ৫৬

অভিজিৎ চৌধুরী 



সাজাদপুরের কোঠাবাড়ি ও জমিটি বোধহয় মাত্র ১৩ টাকায় রাণী ভবানির এস্টেট থেকে কেনেন প্রিন্স দ্বারকা নাথ ঠাকুর।দেবেন ঠাকুরের অংশে সাজাদপুর না পড়লেও অনুজ ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে তাঁকেই দেখাশোনা করতে হয়।

সাজাদপুরে আসেন রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার কাজে।কুঠিবাড়িটি ছিল তাঁর অসম্ভব  প্রিয়।বড় বড় ঘর আর প্রকাণ্ড ছাদ ছিল তারাদের সঙ্গে সখ্যের বিচিত্র পটভূমি।এখানে তিনি বিসর্জন নাটক লেখেন।এক যুবক পোস্টমাস্টারের সঙ্গে আলাপের সূত্রে পোস্টমাস্টার গল্প।এখানকার স্নানঘরে রবীন্দ্রনাথ অনেক স্মরণীয় গানও লেখেন।ছিন্নপত্রের আটচল্লিশটি চিঠি যা তিনি ভাইঝি ইন্দিরাকে লিখেছেন,সাজাদপুর থেকেই লেখা।

তীর্থেরও প্রিয় খোলা ছাদ।ছেলেবেলায় তারা নক্ষত্রগুলো তাকে যেন ডাকত।গঙ্গার তীরে খোলা ছাদে রাত কেটেছে বকুলতলার বাড়িতে।সেই সময় খুব ফিচার লিখতে ইচ্ছে করত।লিখেছেও তীর্থ।সবুজ বয়া শুশুক আর গোপন সুড়ুঙ্গ দিয়ে নদীর কাছে রাতে যাওয়া সে ছিল এক খেলা।

খেলার পুতুল প্রলয় ঝড়েতে ভাঙলেও আবার ফিরে আসে ভালোবাসা।এবারের হাউজিং এর ছাদটা প্রকাণ্ড। এই যে ওরা জোর করে রেখে দিলে তীর্থকে সেও তো ভালোবাসার টানেই।

ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে.. এই গানটিও লিখেছিলেন সাজাদপুরে।প্রিয় ভাইপো অবনকে শুনিয়েছিলেন সবার আগে।আর হয়তো ইন্দিরার বিবাহবাসরে গেয়েও থাকতে পারেন।

সাজাদপুরের জমিদারির উত্তরাধিকার ছিল শিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।প্রাণের চেয়েও ভালোবাসতেন ভাইপো,ভাইঝিদের।তাঁদের কাছেও রবিকাকা ছিল স্বর্গের দেবতা।হিন্দু কলেজে গান গাইতে গেলেন রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে পরমাসুন্দরী ভাইঝি ইন্দিরা।সেই প্রথম দেখায় প্রমথ চৌধুরী প্রেমে পড়েন ইন্দিরার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিদেহ নন্দিনী~ ২৭ || ডঃমালিনী || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস ,Basudeb Das,

  বিদেহ নন্দিনী~ ২৭ ডঃমালিনী  মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস  (২৭) হনুমানের ধ্বংসাত্মক কার্য অব্যাহত  রইল। রাবণ দ্রুত আশি হাজার স...