শান্তিময় মুখোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শান্তিময় মুখোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কবিতা ।। ফাঁকি ।। শান্তিময় মুখোপাধ্যায়, Poetry

কবিতা

ফাঁকি

শান্তিময় মুখোপাধ্যায় 



পূর্বাচলের দিকে চোখ রেখে তিনি দেখছেন 

ডানা মেলে উড়ে যাওয়া

একটুকরো আলো 

ক্রমশ অস্তাচলগামী 

হতে 

হতে 

কিভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে সায়াহ্নে


নিস্তরঙ্গ লংপ্লেইং 

বিরহ আর দহনজ্বালা উগরে দিচ্ছে

শেষ বোশেখের খাঁ খাঁ বেলায়


পোষা গীতবিতানের পাতা খুলে 

দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে

ঘুরে বেড়ানো এখন শুধু সুর ভুলে

সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

শোনো কে বাজায় ।। শান্তিময় মুখোপাধ্যায় , Shantimoy Mukhopadhyay

শোনো কে বাজায় 

শান্তিময় মুখোপাধ্যায়  



রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় লিখেছিলেন "জগতের প্রত্যেক অণু পরমাণু এক মহাপ্রাণের ঐক্যসূত্রে হিল্লোলিত দেখিতে পাই--এক মহাপ্রাণের অনন্তকম্পিত বীণাতন্ত্রী হইতে এই বিপুল বিশ্বসংগীত ঝংকৃত..."। ধ্বনিতে আকৃষ্ট হয়ে আমরা প্রথমে তার উৎস নির্ধারণ করতে পারি না।মন যখন যে স্তরে অবস্থান করে তদনুযায়ী সে এই অনন্তস্পন্দিত বীণাতন্ত্রী থেকে নিঃসৃত ধ্বনি যা আদি থেকে অনাদির ব্যপ্তি নিয়ে রণিত হয়েই চলেছে তাকেই বিচ্ছিন্ন,অমার্জিতভাবে পেতে থাকে।দূরাগত সেই অব্যক্তকে প্রথমে আমরা খুঁজি বাইরে।যা বিশাল, ভূমা যা,তা যে আমারই একান্ত,চিরন্তন অনুভব তা আমরা প্রথমে ধারণা করতে পারি না।মনে হয় এই পৃথিবী, ওই আকাশই বুঝি সব অনুভব, ভাবনা, চিন্তা নিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছে।অতিমানসলোকের কোনো এক স্তরে তাই কখনো শোনা যায় সমুদ্রকল্লোল কখনো ঝিঁ ঝিঁ ডাক কখনো বা রিনরিন নূপুরগুঞ্জন।শব্দ যে নাদে পরিণত হয়ে জ্যোতি রূপে প্রকাশমান হতে পারে একথা ভারতীয় দর্শন স্বীকৃত হলেও আধুনিক পদার্থবিদ্যা বোধহয় তাকে অস্বীকার করতে পারে না।আর বিশ্বপ্রকৃতির প্রতিটি বস্তু(তা সে জীব বা জড় যাই হোক না কেন)-র মধ্যে গন্ডি বা কাঠামো ভাঙার যে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তা-ই তো বন্দিনী অহল্যার আত্মমুক্তির আকাঙ্খা। আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনের সীমাহীন ব্যাকুলতা।কবি তাই সহজেই বলতে পারেন "মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে" আর জলধিকিনারে পদাবলীকর্তাদের শ্রীমতি উন্মুখ প্রহর গোনেন "হরি গেলা মধুপুর হম কুলবালা"।


জীব আর ব্রহ্মের সম্পর্ককে যদি আমরা প্রকৃতি ও পুরুষের সম্পর্ক ধরি, বৈষ্ণবীয় কল্পনায় তাহলে দেখবো বিশ্বের রাসচক্রের কেন্দ্রে এক নিত্যমিথুনের ছবি। "একাত্মনাবপি দেহভেদং গতৌ"-- অভিন্ন আত্মা হয়েও দুটি দেহে ভিন্ন।আর চক্রের পরিধি জুড়ে সেই অনন্ত মিথুনেরই কায়ব্যুহ। এই রসের লীলা চলেছে সর্বত্রই --- জ্ঞানে,প্রেমে,কর্মে বা শক্তির উল্লাসে।রস যেন প্রেমেরই একান্ত।তা আস্বাদন ভিন্ন প্রেমের নাড়িতে রক্তধারার টান লাগে না।সব রসের ধারা সেখানে হারায়।তৈত্তিরীয় উপনিষদে বিশ্ব তাই " রসো বৈ সঃ"।অনন্ত প্রকৃতি যখন পরমা হয়ে হয়ে ফুটে উঠে পরমের সঙ্গে মিলিত হয়,অনাদিকালের তৃষ্ণা তখন এই মহামিলনে পরিতৃপ্ত হয়।যুগ যুগান্তরে অনন্ত রূপের মধ্যে দিয়ে মিলনাকাঙ্খা এই মহাসম্মিলনেই নিবৃত্ত হয়। এই অবস্থায় প্রকৃতি ক্রমশ পুরুষে ও পুরুষ ক্রমশ প্রকৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে মহা সামরস্য সংঘটিত করে।নিকুঞ্জলীলায় রসের এই মহানুষ্ঠানই রাস।  


রাসের প্রসঙ্গে স্বভাবতই এসে পড়েন কৃষ্ণ,তাঁর যাবতীয় ব্যুৎপত্তি নিয়ে।সংস্কৃতে "কৃষ" ধাতুর অর্থ চর্চা করা,অনুসন্ধান করা।অনুশীলনের দ্বারা মনকে সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতম পর্দায় বেঁধে যে সত্ত্বাকে অধিগত করা যায় তাই-ই কৃষ্ণ।আবার "কৃষ" ধাতুর অন্য অর্থ আকর্ষণ করা।এই সৌরমণ্ডলের কেন্দ্রে থাকা সূর্য তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান অসংখ্য গ্রহ-উপগ্রহকে ক্রমাগত নিজের দিকে আকর্ষণ করে চলেছে।ফলে নিজের কক্ষপথে তারা অবিরত ভ্রাম্যমাণ। ঠিক এভাবেই সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিজের দিকে আকর্ষণ করে চলেছেন বলে তিনি কৃষ্ণ। অন্য দিক দিয়ে দেখলে লাল,হলুদ প্রভৃতি যতো রং তাদের মধ্যে কালো রঙের traction power সবচেয়ে বেশি। কৃষ্ণ শব্দের আর একটি অর্থ তাই বোধহয় কালো।"কৃষ"ধাতুর ভিন্নতম একটি অর্থ "অহম অস্মি" অর্থাৎ আমি আছি।আর ভূ-ধাতু -- হওয়া,থাকা।অতএব কৃষ্ণ মানে আমরা তাই সহজেই বলতে পারি : যিনি আছেন বলে আমি আছি। আমার মধ্যে তার সুমধুর প্রকাশ যখন সব ভোলানো সুরে বাঁশিগ্রস্থ করে তোলে কৃষ্ণাকর্ষণের শুরু বোধহয় তখনই।


অসীমের প্রতি,বৃহতের প্রতি এই আকর্ষণই প্রেম।ভক্তিরসে যা সংপৃক্ত।ভক্তি আর প্রেম তাই একে অন্যের পরিপূরক।দুয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য নেই।প্রেম মনের,ভাবের। আর ভাব যখন ভাষায় প্রকাশিত হয়ে মাটিতে নেমে আসে তা হয়ে দাঁড়ায় ভক্তি।শাস্ত্রকারেরা তাই বলেছেন "প্রেম ভক্তি স্বরূপিনী"।প্রেমের সংসিদ্ধিকত্ব,উত্তরতত্ত্বই ভক্তি।আবার ভক্তি বলতে বোঝায় ভজ+ক্তিন।অর্থাৎ মনের সব বৃত্তি যখন স্থূল থেকে,জাগতিকতা থেকে প্রত্যাহত হয়ে পরমের দিকে ধাবিত হয় তাই-ই ভক্তি।বৈষ্ণবতত্ত্বে এটিই হ্লাদিনী শক্তি।পরমের প্রতি তার যে আকর্ষণ তা অন্তর্মুখীনতারই প্রতিভাস।ভয়হীনা,লজ্জাহীনা রাধা তাই প্রেমযমুনায় পাগলিনীর মতো ডুব দেন একান্তে,সহজ অনুরাগে।এ পোড়া বাঁশির জ্বালা তিনিই বোঝেন অন্যে বোঝে না দূর অধরার সুরে যিনি কখনো দংশিত হন নি --- "মুরলী শুনিয়া মোহিত হইবে সহজ কুলের বালা/দ্বিজ চন্ডীদাস কয় তখনি জানিবে পিরিতি কেমন জ্বালা"।

বাঁধন ছেঁড়ার সাধন ।। শান্তিময় মুখোপাধ্যায় ।। Shantimoy Mukhopadhyay

বাঁধন ছেঁড়ার সাধন

শান্তিময় মুখোপাধ্যায় 



"আমায় মুক্তি যদি দাও বাঁধন খুলে" গীতবিতানের পূজা পর্যায়ের ১৮৬ নং এই গানটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই আমরা পরিচিত। যদিও রবীন্দ্রনাথের অনেক গান বা কবিতায় নানাভাবে মুক্তির উপস্থাপন আছে তবু এই বিশেষ গানটি নিয়েই যতো মাথাব্যথা। কেননা ঠিক এর পরের লাইনটিতে আছে মারাত্মক এক বিস্ফোরণ --- "আমি তোমার বাঁধন নেবো তুলে"। কেন মুক্ত হবার পরও কেউ পুনরায় অবরুদ্ধ হতে চান, এটা কি শুধুই লিরিকের খাতিরে নাকি এর পেছনে লুকিয়ে অন্য কোনো দর্শন বা ব্যপ্তি যা একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক(spiritual) ও বস্তুকেন্দ্রিক (material) ! এ যেন অনেকটা শ্রম বিভাজনের মতো বৌদ্ধিক(spiritual) এবং কায়িক(physical বা material)। যা-ই হোক, মুক্তির প্রসঙ্গ তখনই আসে যখন বন্ধনের প্রশ্ন থাকে।এ-বন্ধন নানা ভাবে,নানা কিসিমে।কি শিল্পে,কি সাহিত্যে, কি মানসিকতা, জীবনের সবদিকেই পরিব্যপ্ত।যাকে কেন্দ্র করে শিল্প, সাহিত্য, চিন্তাভাবনা প্রভৃতির মুক্তি ধারণা গড়ে উঠেছে।আর ভারতীয় দর্শনে তো মুক্তি একটা ইজম বা মতবাদ হিসেবেই সুপরিচিত। দুজন কবির দুটো পংক্তি দিয়ে আলোচ্য ওই দু-ধরণের মুক্তির উদাহরণ টানা যেতে পারে। প্রথম উদাহরণ হিসেবে এখানে অবশ্যই " আমার মুক্তি আলোয় আলোয় "--- রবী ঠাকুরের গানের পংক্তিটি যেমন উল্লেখ্য তেমনই দ্বিতীয়টি কাজী নজরুল ইসলামের " আমি বন্ধনহারা কুমারীর বেণী ছল করে দেখা অনুক্ষণ"-- কে রাখাই যায়।সর্বোপরি "মুক্ত বেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতর বঙ্গে/আমরা বাঙালী বাস করি সেই তীর্থ বরদ বঙ্গে"--- কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-র আমরা কবিতাটি তো আমাদের এই সমগ্র বাংলাদেশকেই যেন বুকে ধরে আছে।


বাস্তবে আদৌ কি মুক্তি বলে কিছু আছে না তা পাওয়া যায়? এ প্রশ্ন হয়তো সর্বজনীন। তবু যখন একটা শাসন বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে আর একটা ব্যবস্থায় পৌঁছুনো যায় তখন তা কি আদপেই বন্ধনহীনতা! অথবা এক দেশ থেকে অন্য এক দেশে পাড়ি দেওয়া, এমনকি মানসিক এক স্তর থেকে অন্য স্তরে থিতু হওয়া সত্যিই কি একটা গন্ডি অতিক্রান্ত হয়ে আর একটা  ঘেরাটোপে বদ্ধ হওয়া নয়! একটা পাখিকেও যখন খাঁচা খুলে উড়িয়ে দিই আর দূর আকাশে তার ক্রমাগত মিলিয়ে যাওয়া দেখি আপাত দৃষ্টিতে তখন মুক্তির একটা মানে খুঁজে পেলেও মনে হয় একটা শূন্য অতিক্রম করে আরো বড়ো কোনো শূন্যে সে কি সত্যিই নি:সীম হতে পারবে! কেননা সাধারণ ভাবে পরিচিত যে আকাশ,সে তো আসলে বায়ুমন্ডল।বিভিন্ন গ্যাস ও জলীয় বাষ্পের সমাহার।মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে চারদিক থেকে পৃথিবী নামক এই গ্রহটিকে ঘিরে আছে।সূর্যের সাতটি রঙের মধ্যে একমাত্র নীল রঙ ক্ষুদ্রতর তরঙ্গের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তাকে নীলাভ দেখায়। আবার এই বায়ুমন্ডলেরও পাঁচটি স্তর।তাদের পরিবেশ ও আয়তনও নির্দিষ্ট। সুতরাং তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেয়া যায় পাখিটি আকাশে বায়ুমন্ডলের কোনো এক স্তরে গিয়ে পৌঁচেছে তাহলেও সে কি মুক্ত নাকি অন্য এক পরিবেশ বা পরিস্থিতির আবর্তে গন্ডিবদ্ধ! আবার ভারতীয় দর্শনে আকাশ হলো জগতের পাঞ্চভৌতিক উপাদানগুলির মধ্যে পঞ্চম(ব্যোম)।তার নিচে চতুর্থ উপাদান বায়ু।ফলে ধরে নেয়াই যায় যে বায়ুমন্ডলের পঞ্চম স্তর অর্থাৎ ট্রাপোস্ফিয়ারের পরের অসীম মাধ্যাকর্ষণহীন সেই শূন্যই আকাশ। ভারতীয় দর্শনানুসারে যা সর্বাপেক্ষা ডেলিকেট বা সুক্ষ্ম। কারণ অন্য উপাদানগুলির বাকি সবগুলিই শারীরিক পরিকাঠামোয় প্রত্যক্ষত অথবা অনুভূত।অথচ এই পাঞ্চভৌতিক দেহ গঠনেও তার আনুপাতিক হার শতকরা ছয়।


স্বভাবতই বিশাল ব্যপ্তি নিয়ে থাকা এই মুক্তি বিষয়টি যদি বন্ধনের বিপরীত হয়ে থাকে তাহলে বন্ধন কি সেই প্রশ্নটিও কিন্তু অনাবশ্যক নয়। উত্তর খুঁজতে আমাদের মহোপনিষদের শরণাপন্ন হতে হবে।"পদার্থভাবনাদার্ঢ্যং বদ্ধ ইত্যাভিধীয়তে"(২।৪১) অর্থাৎ দৃঢ় পদার্থভাবনাই বন্ধন।আর একটু এগিয়ে যোগবশিষ্ঠ রামায়নে এটি উল্লিখিত হলো "পদার্থবাসনাদার্ঢ্যং বদ্ধ ইত্যাভিধীয়তে"(২।৩৫।৩) যার মানে দাঁড়ায় শুধু পদার্থ ভাবনাই নয় তাকে কেন্দ্র করে যে বাসনা বা ইচ্ছা তাও বন্ধনস্বরূপ। 


ফলে আমাদের কবিঠাকুরও বিভাস-বাউলে গান বেঁধে ফেললেন " এই কথাটা ধরে রাখিস মুক্তি তোরে পেতেই হবে / যে পথ গেছে পারের পানে সে পথে তোর যেতেই হবে" (গীতবিতান,পূজা পর্যায়,১৯০)।তা তিনি যখন গান বাঁধলেনই তখন আমাদেরও মুক্তির সুলুকসন্ধানে আর কোনো বাধা রইলোনা। পাণিনির কাছ থেকে আমরা জেনে গেলাম এই মুক্তি শব্দটির উৎপত্তি 'মুচ্' ধাতু থেকে যার অর্থ মোক্ষণ, মোক্ষ বা মুক্তি (অষ্টাধ্যায়ী ৭।৩।৫২)। বেদের দ্রষ্টারা বললেন এ মুক্তি অমৃত থেকে নয় মৃত্যুরূপ বন্ধন থেকে, কামনা-বাসনা থেকে।গীতায় দেখলাম পাপ থেকে মুক্তি ; কর্ম,বন্ধন এবং সর্বোপরি দেহ থেকে। আর মহাভারতে বলা হলো বাসনার নিবৃত্তিই মুক্তি। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে যা মোক্ষ, নির্বাণ, অর্হৎ, অপবর্গ, কৈবল্য, নি:শ্রেয়স প্রভৃতি নানা সমার্থবোধক শব্দে পরিভাষিত। 


মুক্তির প্রকারভেদ নিয়ে দর্শনশাস্ত্রে ইতরবিশেষ প্রায় একই রকম মত থাকলেও 'সুতসংহিতা' কিন্তু একে পরমামুক্তি এবং অবরা মুক্তি এই দুই ভাগে বিভাজিত করেছে।পরমামুক্তি জ্ঞানলব্ধ (মুক্তি), পরমার্থ বা ব্রহ্মে লীন হওয়া। আর অবরা মুক্তি চার প্রকার --- (১) সালোক্য অর্থাৎ ইষ্ট বা অভীষ্টর সঙ্গে একই লোকে থাকা (২) সারূপ্য অর্থাৎ ইষ্টদেবতার রূপ প্রাপ্ত হওয়া (৩)সামীপ্য, অর্জুনের মতো ইষ্টের সান্নিধ্যে থাকা (৪) সাযুজ্য, অনেকটা ঘুমের মতো, গভীর নিদ্রায় যেমন বাহ্যিক কিছুই অনুভূত হয়না নিজের মধ্যে নিজেই মগ্ন থেকে যে সুখ পাওয়া যায় সেরকমই ইষ্টে নিমগ্ন থাকা। যেন রবীন্দ্রগানের গানের সেই কলিদুটি "দেহ মনের সুদূর পারে হারিয়ে ফেলি আপনারে"। আর অবরা মুক্তিতে জীব আপাত মুক্ত হলেও ব্যক্তিত্ব ও অপ্রাকৃত দেহ,মন ইত্যাদি অবলুপ্ত না হবার ফলে শুধু ব্রহ্মসাম্য প্রাপ্ত হন মাত্র।দুর্গাদাস তর্কবাগীশ প্রণীত 'শব্দকল্পদ্রুম'-এ 'মুচ্' ধাতুর ব্যাখ্যায় মুক্তি আবার এরকম মানে পেয়েছে : বন্ধনরহিতীভাবে অকর্ম্মকোহম্ গজ: কর্ত্তারিক্ত: এবং পাপন্মুক্ত ইত্যর্থ:(কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ সংস্করণ, পৃ: ১০৪৩)।


মুক্তির সাতকাহন ঘেঁটে তাহলে কি শেষপর্যন্ত আমরা সংযমের পথ ধরে পঞ্চেন্দ্রিয়ের সব পথ বন্ধ করে বৈরাগ্য সাধনায় রত হবো নাকি এই পৃথিবীর  রূপ, রস, গন্ধ, সুর, তাল, ছন্দ, লয় ইত্যাদির নানা বাঁধনে নিজেকে বেঁধে কবির মতোই উচ্চকিত হবো --- " মোহ মোর মুক্তিরূপে উঠিবে জ্বলিয়া, / প্রেম মোর ভক্তিরূপে রহিবে ফলিয়া "(নৈবদ্য-৩০) তা ঠিক করার দায় কিন্তু আমাদেরই।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...