Thursday, June 18, 2020

পূরবী~ ৮ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

 পূরবী~ ৮
 অভিজিৎ চৌধুরী


বউঠানদের সময় কলকাতা ছিল বড্ডো সেকেলে।সময় ছিল ধীর স্থির। তার এতো চঞ্চলতা ছিল না।গায়ে সেমিজ থাকত না মেয়েদের বা পায়ে জুতো।তাহলেই তিনি হয়ে উঠতেন মেমসাহেবা যেমন প্রথম মেমসাহেবা আমাদের ঠাকুরবাড়িতে, মেজ বউঠান।
তিনি শুরু করলেন পত্রিকা, নাম - বালক।
রাণু বলল,আঁকা থেকে ছুটি!
কি লিকচো তুমি!ইন্দিরা এসেছে প্রমথকে নিয়ে কয়েকদিন হলো।
না, ছেলেবেলা বলে একটা গদ্য সবে ভাবছি।ইংরেজি তর্জমায় করচি,পশ্চিমের ডাকে।
ইন্দিরা বলল, তোমার প্যারিসে এক্সিবিশন কবে!
রাণু বলল, বটে বটে।দিনরাত এক করে ছবি আঁকছ।কার সম্মান রাখতে!
ওরা জানাবে।ভাবচি এতো সামান্য পু্ঁজিতে সে এক ছেলেখেলা হবে না তো!
রবীন্দ্রনাথ বললেন,ঠিক বলেচিস,তাঁর ছেলেমানুষি তাড়া না থাকলে আমি কি আর পটুয়া হতুম।
খুব হতে।রাণু বলল।সে একটি উপলক্ষ মাত্র।
রবীন্দ্রনাথ মনে মনে বললেন,মস্তো উপলক্ষ।
অবন বলছিল,রবিকাকা সেখানে তো মস্তো শিল্পীদের চিত্রশালা হয় নিয়মিত।
আমি বললুম,যাওয়াটা কি উচিৎ হবে!
অবন বললে,অ্যাবস্ট্রাক্ট।আর কড়া রং- এর ব্যবহার।অনেকটা নাকি ভ্যানগগের মতোন লাগে।
এবার প্রমথ প্রণাম করলেন।
তা বীরবল লেখা চলছে তো!
 ইন্দিরা বলল, খুব।
রবীন্দ্রনাথ বললেন,তোমার মধ্যে লেখা আছে।আর আামার ইন্দিরা সে তো অনন্যা তিলোত্তমা।
ইন্দিরা লজ্জা পেয়ে বলল, কি যে বলো তুমি!
হাসলেন রবীন্দ্রনাথ। কপালে কুঞ্চন দেখা দিয়েছে।কালো কিছু রেখা সাদা মেঘে কৃষ্ণ আভা নিয়ে জেগে উঠছে।অস্তরাগে ছেলেবেলার রবি খানিকটা তো ম্লান বটেই।
ওকাম্পোর একদিন বলেছিল,পোয়েট ইউ আর স্টিল হ্যান্ডসাম।রবীন্দ্রনাথ হেসেছিলেন।বউঠান,আমি দেখতে তো সুন্দর!
ধুস,তোমার নাকটা বাঁকা।আর তুমি কালো।
বিধাতাকে সেদিন বলেছিলেন,কেন যে আমায় রূপ দিয়ে পাঠালে না!

No comments:

Post a Comment

পূরবী-৩৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী(৩৬)  অভিজিৎ চৌধুরী। হুগলির গঙ্গা আর মা যে"ন মিলেমিশে রয়েছে তীর্থের স্মৃতির খাতায়।এখন খুব বিতর্ক হচ্ছে কোন ভাষা ক্লাসিকাল তা নিয়ে।...