শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

পূরবী~ ৯ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ৯
অভিজিৎ চৌধুরী।



ছেলেবেলায় বৃষ্টি হলে বেশ লাগত,স্কুল যেতে হবে না।অনেক সময় এতো আগেভাগে বৃষ্টি শুরু হতো যে বেলায় আর কিচ্ছুটি নেই।অগত্যা স্কুল।
কখনও কখনও টানা বৃষ্টি হতো।একবার তো বন্যা হয়ে গেলো।রাতে জল ঢুকলো ঘরে।মা আর তীর্থ মিলে জল বের করেছিল সারা রাত।
গিয়ে তারা দেখলো রবীন্দ্রনাথ জলে ভাসছেন।দুষ্টু ছাত্রদের কাছে ডেকে বললেন,আমারও তো ঘুম হয়নি।
তাই একটা গান লিখলুম।তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখে ওগো দুখ জাগানিয়া তোমায় গান শোনাব।
শান্তিনিকেতনে টানা বৃষ্টি হচ্ছে কয়েকদিন।আবাসিক ছাত্র ছাত্রীদের ঘর থইথই করছে জলে।কয়েকজন ছাত্র মিলে ঠিক করল এই ভোরেই গুরুদেবকে ধরতে হবে।উনি নিশ্চ তোফা আছেন।
তীর্থ মোটেই কাজের নয়।মহাদেশ পরিষদ থেকে রেশনটা সে আনতো।কখনও কখনও বাজার।
শীতকালে মা কাপড় আর কাগজ দিয়ে ফ্যানগুলি জড়িয়ে দিতো।তীর্থের কাজ ছিল টুল ধরে থাকা।
রবীন্দ্রনাথের মা সারদা দেবী মারা যান যখন তিনি সবে বালক হয়ে উঠছেন।
তাদের বাড়ি ছিল মাতৃতান্ত্রিক। মায়ের শাসনে বড় হয়েছে তীর্থ,অপার ভালোবাসা ও ক্ষমায়ও।বাবা ছিল বন্ধুর নতোন।
পিতার সঙ্গে প্রথম বাইরে যাওয়া হিমালয়ে।পিতৃদেবকে গান শোনানোর সুযোগ চুঁচুড়ায় যখন তিনি ডেকে পাঠান।গান শুনে বলেছিলেন,দেশের রাজা তো এ গান বুঝবে না।রাজার কাজটা তবে আমাকেই করতে হয়।
তাঁর মৃত্যু প্রকৃত ব্রহ্মবাদীর মতোনই মৃত্যুকে অনেকটা নিঃশঙ্ক চিত্তে গ্রহণ করা।
সেই বাইরে যাওয়াটা ছিল বড় পাওয়া।পিতৃদেবের সান্নিধ্যে উপনিষদের পাঠ।পশ্চিম ভারতের সংগীত শোনার সুযোগ।ফিরে এসে শ্রীকণ্ঠবাবুকে বলা।তিনি ছিলেন বিশ্বাসী মানুষ।তাই কিশোর রবির সমস্ত কথা বিশ্বাস করতেন।আর বাবামশাইকে বারবার বলতেন,রবি ভাল গীতিকারও।
কখনও কখনও মনে হয়,মরণ রে তুহুঁ মম শ্যাম সমান।আবার কখনও ভয় হয়।সেই বড়োর মার পারবো তো সহজ ভাবে নিতে!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Student Registration (Online)

STUDENT REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...