শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০

বাঁধনা পরব || ডঃ শান্তনু পাণ্ডা, নৃ-তাত্তিক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক || বিশেষ গদ্য

  বাঁধনা পরব

  ডঃ শান্তনু পাণ্ডা, নৃ-তাত্তিক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক






ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কুড়মী, ভূমিজ, লোধা/শবর, মুণ্ডা জন জাতির কৃষি ভিত্তিক উৎসব । প্রতিবছর কাতিক মাসের অমাবস্যার রাতে অনুষ্ঠিত হয় কালী পূজা তার পরদিন থেকে পালিত হয় বাঁধনা পরব । প্রতিপদ, দ্বিতিয়া  ও তৃতীয়া এই তিনদিন ধরে চলে  বাঁধনা পরব । এই উৎসবে গরু ও কাড়া কে পূজো করা হয় । অমাবস্যা কাটলে ভোর বেলায় গোয়াল পূজো করা হয় । গরু ও কাড়া কে খুব সেবা করা হয় । ভালো করে স্নান করানো, সিং ও নখ এ তেল দেওয়া হয়, মাথায় সিন্দু্র ও গায়ে আলতা ছাপ, গলায় শালুক ফুলের মালা দেওয়া হয় । ধুপ, মোমবাতি  ও প্রদিপ জ্বালিয়ে ধান, দুবা  সহযোগে বাড়ীর কতা অথবা গৃহীনি ভোর বেলায় গরু ও গোয়াল পূজো করে থাকেন । ঐ সময় গরু ও কাড়া কে ভালো মন্দ খাওয়নো হয় । এই উৎসবে যে গান গাওয়া হয় তাকে বলে “আহিরা” গান । এই “আহিরা” গানের মাধ্যমে গরু ও কাড়া কে জাগানো হয় । পরদিন (ভাই ফোঁটার দিন) বিকেল বেলা ধাম্সা ও মাদল সহযোগে গরু ও কাড়া খুটান অনুষ্ঠান হয় । গ্রামের মোড়ে, গ্রামের মাথায়, রাস্তার ওপর অথবা খেলার মাঠে জব্দ খুটি গেড়ে জব্দ দড়ি দিয়ে বেঁধে গরু ও কাড়া কে একটি চামড়া দিয়ে ধাম্সা মাদল বাজিয়ে খেলানো হয় । বাড়ীতে পিঠে পুলি তৈরি হয় ।   বাঁধনা পরবে নতুন পোশাক পরার চল রয়েছে ।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর ব্লকের মনিদহ গ্রাম পঞ্চায়েতে অধিনস্থ মুচিবেড়িয়া গ্রামে পালিত হলো বাঁধনা পরব । এই গ্রামের লোধা, মুন্ডা ও ভূমিজ রা মিলে ভাইফোঁটার দিন ১৬.১১.২০২০ তারিখ গ্রামের রাস্তা, খেলার মাঠ ও পতিত জমিতে গরু ও কাড়া কে বেঁধে খেলানো হলো । খুঁটির মাথায় ৫০ টাকা অথবা দেশী মদের বোতল ঝোলানো ছিল গরু ও কাড়া কে বেঁধে খেলানোর সময় যে উঠে আনতে পারবে ওটা তার । পুরুষ রা দল বেঁধে ধাম্সা মাদল বাজিয়ে বোম ফাটিয়ে প্রথমে গরু ও কাড়া গুলো কে জাগিয়ে তুললো । তারপর দুজন ব্যক্তি দুটি শুকনো চামড়া ও কলাগাছ নিয়ে  খেলা দেখালো । সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিল তা নাহলে ঐ খেলা করাতে পারবে না । ঐ দিন সারা রাত গরু ও কাড়া ঘুমোবে মানুষ জেগে থাকবে । 

 এই  বাঁধনা পরব সাঁওতাল সমাজে “সহরায়” নামে পরিচিত । সাঁওতাল সমাজে এই অনুষ্ঠান ৫ দিন ধরে চলে । বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাঁওতাল সমাজের শ্রেষ্ঠ উৎসব । গোমাতা ও কৃষি কে সম্মান জানাতে এই উৎসব ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সবাই মিলে সিনেমা হলে ২১ || সিনেমা ও বিরতি || কান্তিরঞ্জন দে

  সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ২১) সিনেমা ও বিরতি  কান্তিরঞ্জন দে        নমস্কার ।  উৎসবকালীন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম । আমরা যখন সবাই মিলে সিনেমা...