কার্তিক ঢক্ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কার্তিক ঢক্ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

ঘ্রাণ ।।কার্তিক ঢক্।। Kartick Dhok

 ঘ্রাণ 

।।কার্তিক ঢক্।। 



রোদ্দুর জেগে ওঠার আগে 

পাখিদের কাছে সা-রে-গা-মা শিখি-

ফুলে দের কাছে কোমলতার বিস্তার ...


অনার্য জীবন চর্চার পটভূমিতে 

বয়ে যায় মাধুকরীর  হাহাকার-ঘ্রাণ  --

উৎসবভাঙা সন্ধ্যার ধূলোয় লেগে থাকে

সেইসব বেসুর গুনগুন! 


ঋতুমতী হয়ে প্রতিটি সূর্যোদয় তবু আলো মাখতে শেখায়

বৃষ্টিতে ভিজতে 

শেখায়

নব-অন্নের গান গায়তে 

শেখায়...

শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস || কার্তিক ঢক্ || আজকের কবিতা

 হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস

 কার্তিক ঢক্ 



নাভিপদ্মের গন্ধে ষড়রিপু ঘুম থেকে

জেগে উঠে বলে - খেতে দাও...


তখন ভোরের বকুল ঝরছে আকাশে। 

পাখিদের হারমোনিয়াম ঝাড়পোঁছের শব্দ।


বাতাসে খিদে খিদে চিনচিনে ব্যথা

হৃৎপিণ্ডের কুরুক্ষেত্র-মাঠে ঘন ঘন বেজে উঠছে পাঞ্চজন্য শাঁখ...


অথচ,অন্নের হাহাকার -

জলের চৌকাঠেও হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস!


ওগো পদ্ম পাসওয়ার্ড দাও-

একটি ভ্রমর বসুক  নাভিকূপের নিচে

ঠোঁটে যার আকন্ঠ মরুভূমি...

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০

অসমাপ্ত পথের জলযান || কার্তিক ঢক্ || অন্যান্য কবিতা

অসমাপ্ত পথের জলযান

কার্তিক ঢক্ 



চাঁদের ধ্রুপদী  নিভে গেলে

আর এক জ্যোৎস্নায় জ্বলে যায় হাত।

দহনের ভয় নেই ললাটে  আমার

বিষ-বাষ্পে আচমন করেছি  জন্ম-সন্ধিক্ষণে...


পালতোলা নৌকা নেই ভাটিয়ালি গানে-

দাঁড়বেয়ে হেঁটেচলা উজান পথের মুখে

ভাঙাচোরা হৃদয় বজরাটির

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

ন্যায্য মূল্য ।। কার্তিক ঢক্।। গল্প

ন্যায্য মূল্য ।। ছোটোগল্প

কার্তিক ঢক্



চোর বললো ফেরত করতে পারবো না দাদা। খেঁকিয়ে উঠে বিপুল বললো,পারবি না মানে?

মানে- মাল গ'লে গেছে। গলে গেছে! সে কিরে শালা,শ্বশুরের দেওয়া আশীর্বাদটা

 রাতারাতি গলিয়ে ফেলেছিস! 

চোর বললো,দিনকাল যা পড়েছে সুমেরু কুমেরুর বরফ গলে যাচ্ছে ধান্ধাবাজির পাল্লায় পড়ে,আর সোনা তো আপনার এক টুকরো। 

আচ্ছা !  বেশ বড়ো বড়ো  কথা বলতে পারিসতো,কথাটা বেশ তির্যক ভাবে বললো বিপুল।

সে আর কি করবো বলুন,মুখচোরা হ'লে আজকাল কেউ খেতে পায় নাকি।

বিপুল বললো তা বেশ বেশ,তো বাবা ঘরে এতো জিনিসপত্র থাকতে আমার ওই আংটি খানাই তোমাকে নিতে হোলো?

আঁজ্ঞে আমার গুরু বলেছেন যতো কম মাল হাতাবি,ধরাপড়বি ততো কম।এই দেখুন না নারদা - ফারদা কান্ড গুলো, কম কম খাচ্ছিলো - চলে যাচ্ছিলো। আঁঠি শুদ্ধ  গিলতে গিয়েই শালা কি অবস্থা... 

বিপুল হাত দেখিয়ে তাকে থামতে বলে বললো আচ্ছা, ঠিক আছে ঠিক আছে,আংটির পরিবর্তে  যা দাম হয় দে।

চোর এবার একটু গদগদ হয়ে বললো এতোটা কি আর পারা যায় বলুন? মাল বেচে পেয়েছি তো মোটে হাজার টাকা।নেহাত মূর্খামির জেরে ধরা পড়েগেছি তাই। এতো দিতে পারবো না।বিপুল এবার কড়া সুরে ধমকে বললো,তুই দিবি না তোর বাপ দেবে। চোর একটু আমতা আমতা করে বললো, এ-ই দেখুন, আবার বাপকে টানছেন কেনো? বাপ তো আর চুরি করতে আসেনি! তাছাড়া বাপের সেরকম অবস্থা হলে কি আর চুরিবিদ্যায় আসতাম বলুন?।বিপুল নাক কুঁচকে বললো,বেটা প্লেন চালাতো! তোর বাপকে টানবো তোর দাদুকে টানবো।তোর চোদ্দগুষ্টিকে টানবো, আমাকে চিনিস না।বিপুলকে থামিয়ে ছিঁচকে বললো,তাতে আপনারই খরচ বাড়বে,তাদেরও তো অবস্থা একই রকম।

বিপুল রাগে গর্ গর্ করতে করতে বললো,তোকে আমি পুলিশে দেবো।

চোর এবার হেসে ফেললো, বললো তাতেও তো আপনার লোকসান,পুলিশ  হিস্যা নেবে, দামে কম পড়ে যাবেনা?

বিপুলের এবার মাথার চুল ছেঁড়ার অবস্থা, সে চীৎকার করে উঠলো, নিকুচি করেছে তোর পুলিশের, এই বলে হাঁকদিয়ে ঘরের চাকরটাকে ডাকলো, এই কানাই নাইলনের দড়িটা নিয়ে আয় তো, এই হাড়বজ্জাতটাকে নারকেল গাছটায় বেঁধে রাখবো সারাদিন। বেটা চুরি করবি আবার বাটপাড়িও।দেখাচ্ছি মজা।

চোরটি এবার ঘাবড়ে গিয়ে বললো, বললাম তো আপনার টাকা ফেরৎ দিয়ে দেবো। মওকা বুঝে বিপুল রাগ আরো চড়িয়ে দিয়ে বললো, দেবো আবার কি রে,আধ ভ'রির দাম এখনি ফেল। চোর,  ঐখনি কোথায় পাবো? আমাকে ম্যানেজ করতে হবে তো।দুদিন সময় চাই। বিপুল সমঝদারের মতো সম্মতি জানালো,তা তো বটে,তা তো বটেই,তবে দুদিন নয়,তোকে আমি একদিন সময় দিলাম।

এই বলে, তার নাম, বাবার নাম, ঠিকানা লিখে নিলো, মোবাইলে ফটাফট চোরের ছবিও তুলেনিলো কয়েকটা।

চোর এবার বলে উঠলো, একটা কথা জিঙ্গেস করবো দাদা? আবার কি বলবি, বিপুল বিরক্ত হয়ে বললো, বলে ফেল।চোর খুব বিনীত ভাবে বললো, আজ্ঞে ওজনটা আপনি ঠিক বলছেন তো? 

বিপুল তাকে মারতে উদ্যত হ'লে চোর বলে না না এতে তো আপনার কোনো দোষ নেই,  আজকাল সোনার দোকানে  এসব হয়-ই তো,তাই বলছিলাম।

তারপর এসব ঝুট-ঝামেলা মিটে যাবার পর আসল সমস্যাটা দাঁড়ালো সোনার মূল্য নির্ধারণ এর সময়। বাজারে সোনার দাম তরতর করে উঠছে,  নামছে। আজ একরকম দাম তো কাল এক রকম দাম।

বিপুল আজকের খবরের কাগজটা খুলে সোনার দাম দেখিয়ে বললো,  আঠাশ হাজার ছ'শো  - মানে আধ ভ'রিতে  চোদ্দ হাজার. …

বিপুলকে থামিয়ে চোর এবার খেঁকিয়ে উঠলো,  তাতো হবে না, কাল সোনার দাম ছিলো চব্বিশ হাজার। খামোকা এক হাজার তিনশো টাকা গচ্চা দিতে যাবো কেনো ? চুরিটা তো হয়েছে কাল, রাত বারোটার  আগে। আপনি যখন  রাতের খাবার  খেয়ে হাত ধুতে গিয়ে আংটিটা বেসিনের উপর রেখে বাথরুমে গেলেন, সেই ফাঁকে সঁটকেছি ওটা।

অতএব  কালকের দামেই দাম দেবো,বেশ জোরের সঙ্গেই চোর বললো।

এদিকে বিপুল বলে ন্যায্যমূল্যের কথা ওদিকে চোরও বলে ন্যায্যমূল্যের কথা।

সে নিয়ে শুরু হলো বচসা এবং তা গেলো তুঙ্গে। ধৈর্যের বাঁধ হারিয়ে বিপুল চোরের গালে কসে মারলো একচড়,অমনি চোরও সপাটে একটা চড় বসিয়ে দিলো বিপুলের গালে। আর চড়টা পড়বি পড় বিপুলের ঠান্ডা লেগে ফুলে যাওয়া দাঁতের ঠিক গোড়ায়। ব্যাস, একটা কাতর গোঁঙানি দিয়ে বিপুল একেবারে চীৎপাত্, আর কাতর সুরেই চীৎকার করতে লাগলো চোর চোর...


চোর চীৎকার শুনে বাড়ির সব সদস্যরা যে যেমন অবস্থায় ছিলো ছুটে এলো বিপুলের রুমে,বিপুলের বৌ  শুধু নেই বাপের বাড়ি  যাওয়ায়। সবাই মিলে একসাথে  ঝাঁকুনি দিতে লাগলো বিপুলকে। ঠেলার চোটে বিপুল জেগে উঠে ঘুম জড়ানো গলায় বলে উঠলো চো- চো- চোর কোথায়! চোর? সকলে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে বিপুলের দিকে। বিপুল চোখ কচলে তার ডানহাতের পাঞ্জার দিকে তাকিয়ে দেখলো

অনামিকায় জ্বল জ্বল করছে শ্বশুর মশায়ের দেওয়া আশীর্বাদ...

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

টবের পরিধি || কার্তিক ঢক্ || কবিতা

 টবের পরিধি 

কার্তিক ঢক্ 




পাতাঝরার যন্ত্রণায় গাছেরা কেঁদে উঠলে

হাওয়ার সান্ত্বনাই সম্বল...


হাওয়ার কোড্ ল্যাঙ্গুয়েজ না জানায়

আমাদের ম্যাগনিফাইন গ্লাসেও

অন্ধত্ব জমে থাকে!


আর এইসব রেসিপি বোঝে না  ব'লে

অন্ধকার শ্যাওলায় পা পিছলে-

গোলাপের অভিমানী পাপড়িগুলি

ঝরে পড়ে টবের পরিধি জুড়ে...


সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ধ্রুব ।। কার্তিক ঢক্ ।। কবিতা

ধ্রুব 
।। কার্তিক ঢক্ ।। 

জলের কাছে
একটি পদ্ম  দাঁড়ালো।
পদ্মের কাছে
একটি ভ্রমর দাঁড়লো।
হাওয়া দাঁড়িয়ে আছে
এলোমেলো ভ্রমরের ডানায়।

আলো ঠিকই জানে জলের সংকেত --
পদ্ম নাভির গন্ধ --
আর ডানার সঞ্চার।

একটি বুদবুদ বিস্তার করছে
শূন্য থেকে মহাশূন্যে সমস্ত ছায়ার বিপরীতে...

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

ধ্রুব ।। কার্তিক ঢক্ ।। কবিতা

ধ্রুব 
।। কার্তিক ঢক্ ।। 

জলের কাছে
একটি পদ্ম  দাঁড়ালো।
পদ্মের কাছে
একটি ভ্রমর দাঁড়লো।
হাওয়া দাঁড়িয়ে আছে
এলোমেলো ভ্রমরের ডানায়।

আলো ঠিকই জানে জলের সংকেত --
পদ্ম নাভির গন্ধ --
আর ডানার সঞ্চার।

একটি বুদবুদ বিস্তার করছে
শূন্য থেকে মহাশূন্যে সমস্ত ছায়ার বিপরীতে...

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

এলেমবাজ || কার্তিক ঢক্ || কবিতা

এলেমবাজ
কার্তিক ঢক্

আলোর উৎস থেকে যদি
অন্ধকার ঘাতক  আসে-আসুক না।
মোমবাতি তো  হাতেই আছে।
না হয় কষ্ট করে একটি
দেশলাই  জ্বালিয়ে নিও।

এরকম কতো মিছিলেই তো হেঁটেছি আমরা-
গলনাঙ্কের যন্ত্রণা কে আর বোঝে!
বডি-স্প্রের গন্ধ ছড়িয়ে গেছে ইতিহাস..
জনসমাগম নিষিদ্ধ  হলেও
বাতি-মিছিল তো বাধাহীন।

তির্যক শব্দ গুলি রুচিশীল না হলে
 বাক্যবন্ধ থেকে বাদ দাও।
বুক বাঁধো --
রাস্তায় পিচ গলছে...

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

কবিতা || অভিমন্যু-র ল্যাপটপ্ || কার্তিক ঢক্

অভিমন্যু-র ল্যাপটপ্
কার্তিক ঢক্ 

ইউটেরাসে বেড়ে উঠছে ষোলো কলার চাঁদ -
অভিমন্যু নয়, ওর ল্যাপটপে ভরে দাও
কুরুক্ষেত্রের যাবতীয় কৌশল...

ব্যুমেরাং শব্দটিকে আপডেট করো।
কেনো না যুদ্ধক্ষেত্রে বাঘ নয়-
শেয়ালের উপদ্রব বেশি

নিরাভয় ছাতাটির জন্য বাঁকা ভ্রু আর    মাস্কারা লাগানো চোখের দরকার।
মোমবাতির গলনাঙ্ক অচ্ছুৎ!

B6 12 মেগাপিক্সেল গোপন চেহারার  আলপনা  আঁকতে পারে না।
X-ray রহস্য অনাদরে খসে পড়ছে রোজ
আমাদের আঙ্গুলের বারমাস্যা থেকে...

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...