বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

চপ || দেবাশিষ সরখেল || গল্প

চপ
দেবাশিষ সরখেল


রঘু ও তাপস দু’জনেই মূলত ফুটপাতে চপ বিক্রি করে। কে আসল এবং কার ঢপের চপ, তা সময়ই বলবে। তাপসের দোকান অনেক পুরোনো, তার কিছু বাঁধা খদ্দের আছে। সে সারাদিন খুলে রাখে। তার দোকানে আড্ডা জমে। চপের সাথে চা, ফুলুরি, কুচো নিমকি ইত্যাদিও থাকে। চপ সে তিনটাকা করে নেয়। চা ইত্যাদিতে খরচ পুষিয়ে যায়। চপে লাভ কম।
এবার রঘুর চপের দাম দু’টাকা। তার দোকানে কোনো আড্ডাবাজি নেই। সারাদিন সে থাকে না। বিকেলে ঘন্টা তিনেক। তার চপের ভেতর ফুলকপি, বাদাম, কাজু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বলেস্বাদ উত্তম। তবু প্রথমার্ধে তেমন পাত্তা পায় নি। ধীরে ধীরে ভীড় বাড়তে থাকে। চপ আমি খাই না। পেটে সয় না, তবু তার চপ নাকি প্রখ্যাত মাখন দত্তের সমতুল্য। ফলে লোভে পড়ে কিনলাম, খেলামও।
একদিন জিজ্ঞেস করেই বসলাম, তোমার দু’টাকায় পুষিয়ে যায় ? বলে, না দাদা। খরচ তিন টাকা। প্রতি চপে দু’টাকা লস্‌। ওর খদ্দের আর সিকিভাগ আছে। দেখবেন অতি শিগগির ঝাঁপ বন্ধ হবে। তখন আমি দাম বাড়িয়ে চার পিস চার টাকা করব।
রঘুর মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। সে নির্বিকার ঠোঙায় চপ ভরছে।

দেবাশিষ সরখেল
রঘুনাথপুর
পুরুলিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), সূচক – ৭২৩১৩৩
ফোন – ৯৯৩২৬৬৭৮৮১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সাহিত্যের ধ্রুবপথে এগিয়ে চলার লক্ষ্যে "মৈত্রীদূত" পত্রিকা || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || বাংলার গর্ব ছোটো পত্রিকা-১

সাহিত্যের ধ্রুবপথে এগিয়ে চলার লক্ষ্যে "মৈত্রীদূত" পত্রিকা পৃথা চট্টোপাধ্যায় ২০২১ সালকে স্বাগত জানিয়ে 'চরৈবতি' জীবনের এই মন...