শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || বিদায় তোমাকে, হে স্থগিত উচ্চারণ || ব্রজ চট্টোপাধ্যায়

কিছু বই কিছু কথা।  নীলাঞ্জন কুমার




বিদায় তোমাকে,  হে স্থগিত উচ্চারণ । ব্রজ চট্টোপাধ্যায়
। কন্ঠস্বর প্রকাশনী । পনেরো টাকা।

' দুরত্বে কেন এই ক্লান্তি,  কোলাহল হলেই অস্থির কেন ' কেনই বা উচ্চারণে এই স্তব্ধতা/  স্বপ্নে আলোহীনতাই বা কেন ' (যদি পাও খুঁজে নাও ') এই পংক্তির মতো অলঙ্ঘ হাজারো প্রশ্নের মধ্যে দিনযাপন করেছিলেন প্রয়াত কবি ব্রজ চট্টোপাধ্যায় ।  এই  প্রশ্নের উত্তর তিনি পাননি,  তবে পেয়েছিলেন সামান্য হলেও কবিতার  সন্ধান । যার জন্যে পাই:  ' এই ভূমির দখলে আমার শক্তি/  প্রকৃতভাবে প্রতিষ্ঠা হলেও তুমি দাঁড়াবে কোথায়? ' ( ' ভাবনা ') , ' চোখে ভয়ংকর দৃষ্টি তাকে জন্মের ক্ষণে নিয়ে যায়/ আমি আমার এই অস্তিত্বের জন্য দায়ী? '( ' হঠাৎ গানের মধ্যে এক শব্দহীনতা ') -র ভেতর দিয়ে তাঁর অমোঘ প্রশ্নাবলি পাঠকের কাছে ছুঁড়ে দেন তিনি 'বিদায় তোমাকে, হে স্থগিত উচ্চারণ ' কাব্যগ্রন্থে । ২০০০ সালের কাব্যগ্রন্থটির ভেতরে কখনো সখনো  তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি কাব্যিক মগ্নতা , কখনো বা কবিতাহীন সরল গদ্য বিব্রত করে,  কিন্তু তাও চাবিকাঠি দিয়ে গেছেন পাঠককে যা দিয়ে অন্তত এই প্রশ্নের ঘর খুলে দেওয়া যায় ।
                কবি ব্রজ চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে তাঁর বিশ্ব সাহিত্যের উপর নিবন্ধের কথা । যা একটি কবিতা পত্রিকাতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে । তারপর অনুবাদ, সব শেষে কবিতা ।
তাঁর কবিতায় প্রধান অভাব রহস্যময়তা , কঠিন সত্য এটিই । তবু তার মধ্যে লক্ষ্যণীয়:  ' তবু কেন আজও ভিক্ষা এই/  উদ্ধত অহংকারের কাছে?  / মোমের মতো জ্বলতে থাকে স্থবির সময় । ' ( মোমের মতো জ্বলতে থাকে স্থবির সময় ') , ' সে একা একা নিজের আলোয়/ স্নান সেরে ফেরে/  অবিরত ...' ( ' এক নতুন শিল্পকলা ')। কবিকৃত প্রচ্ছদটি দেখে বোঝা যায় কবি তাঁর শখ মিটিয়েছেন ও পাঠকের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে চেয়েছেন । বিন্দুমাত্র চিত্রশিল্প ও প্রচ্ছদের মাহাত্ম্য না জানা মানুষ প্রচ্ছদ করলে এরকম কুচ্ছিত প্রচ্ছদ হবে,  তাতে অবাক হওয়ার বিন্দুমাত্র কারনই নেই ।

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১৮৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৮৬.

অনেক সাফল্যের কথা বলা হল । বলা হল বড়ো গলায়। কিন্তু অসাফল্য বা ব্যর্থতার কথাও মাথা উঁচু করে বলা উচিত ।

আমার একটা বাসনা ছিল ' কবিতাচর্চাকেন্দ্র ' নামক একটি প্রতিষ্ঠানের । যেখানে রেগুলার কবিতার ক্লাস হবে। তার সিলেবাস থাকবে। শিক্ষক থাকবেন। ইচ্ছুক ছাত্র থাকবেন। আর থাকবে একটা পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি। গবেষণার কাজ চলবে সারাবছর। 

আর এসবের জন্য প্রথম চাই এক টুকরো জমি। আর এই জমিটা কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে হতে হবে। তো আমাদের জমির অভাব নেই । আমাদের দেশের বাড়ি কাদাকুলি। আর কাদাকুলির  নতুন পুকুরের লাগোয়া উৎপল চক্রবর্তীর অভিব্যক্তি। অভিব্যক্তির  পাশেই পুকুরপাড়ে তৈরি হবে কবিতাচর্চাকেন্দ্র। জায়গা নির্বাচন করা হল। অনেকেই ব্যক্তিগত দান দিলেন। বোঝা গেল টাকার অভাব হবে না।

বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হল। আমাকে যাঁরা খুব বড়ো সংগঠক মনে করেন। তাঁরা জানেন না আমার ব্যক্তিগত আবেগ ছাড়া আর কিছুই নেই । আমি মনে করি আমি যাবতীয় কাজ নিমেষেই সম্পন্ন করতে সক্ষম। এটিই আমার সব থেকে বড়ো দোষ। আরো একটা কল্পনা আমার থাকে । সেটি হল রবীন্দ্রকে অনুসরণ করা।  ক্যালেন্ডারের বছরটাকে ভুলে যাওয়া একটা অসুখ। রবীন্দ্রনাথের আমলে উনি প্রথম বাড়িটা করেছিলেন মাটির।  আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম বাড়িটি মাটির হবে। এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এখন প্রকৃত অর্থে মাটির বাড়ি একটি অবলুপ্ত এপিসোড।

বাড়ি তৈরি হল ।দেওয়াল গাঁথার কাজ ।ইঁট গাঁদা নয়। মাটির  ওর মাটির ছিয়া। দরজা-জানলা হল লোহার। গ্রিলের। মাঝে মাঝে কাদাকুলি যাতায়াত চলতে থাকল। ঘরের ছাদ হবে খড়ের। এটাও ছিল মারাত্মক ভুল। শাখামৃগের কথাটা কীভাবে যে ভুলে গিয়েছিলাম ! সবটাই আমার একার মূর্খামি। সামনে বাগান করা শুরু করলাম। পাকাপোক্ত বাউন্ডারি ওয়াল না দিয়ে বাগান করার এই সিদ্ধান্তটিও ভুল। ভেবেছিলাম শুরুটা এভাবেই হোক। ক্রমশ সামনের দিকে একটি চারতলা বাড়ি তৈরি হবে। কোন ফ্লোরে কী থাকবে সেসবও রেডি। গ্রাউন্ড ফ্লোরে অফিস, লাইব্রেরি। দোতলায় ক্লাস রুম।তিনতলা এবং চারতলায় থাকার ব্যবস্থা।

কবিতাচর্চাকেন্দ্র-র প্রথম বাড়িটির নামকরণ করা হল 

' মাদল ' ।আর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল :

১৫ জুন২০০৪ ¤ জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি১৪১১

কবিতাচর্চাকেন্দ্র-র

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মান্যবর শঙ্খ ঘোষ।

স্বর্ণচম্পক বৃক্ষরোপন করবেন প্রভাত চৌধুরী।

সকাল  ১১ টায়

' মাদল ' সংলগ্ন নতুন-পুকুরপাড়ে

' অভিব্যক্তি ' -র পাশের প্লটে

কাদাকুলি ॥ ছান্দার ॥ বাঁকুড়া

কবিতাপাক্ষিক-এর

১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে

কবিতাউৎসব

দুপুর ১টায়

প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষণ প্রশিক্ষণালয়

ছান্দার॥ বাঁকুড়া

সকলেই আমন্ত্রিত

এই বিজ্ঞাপনটি কবিতাপাক্ষিক -এর ব্যাক কভারে ছাপা শুরু গিয়েছিল পয়লা মে২০০৪ সংখ্যা থেকেই।

আগামীকাল থেকে শুরু করবো সেই উৎসব-কথা-র দিনলিপি। 

দিনলিপি শব্দটিতে আপত্তি থাকলে ডাইরি বা ডায়েরিও মনে করতে পারেন।

ছায়ার মৃতি || অভিজিৎ চৌধুরী || কবিতা

ছায়ার মৃতি

অভিজিৎ চৌধুরী



এখনও মনে পড়ে ছায়াদের মৃৃৃৃৃৃতি

রোদ্দুরের তাতে গলছে পিচ

ডাকছে ডাহুক আর জলপিপি

তখনই জামরুল বট অশ্বত্থের ছায়া

বেকার জীবন অর্থময় করে তোলে আর ছিল এক মাতৃক্রোড় 

সনাতন সুশীতল ছায়ার মৃতি।

"আই-যুগ"-এর কবিতা || শব্দব্রাউজ ৬ || নীলাঞ্জন কুমার


"আই-যুগ"-এর কবিতা

শব্দব্রাউজ ৬ : নীলাঞ্জন কুমার



তেঘরিয়া । বিপাশা আবাসন । ২৬। ১০।২০২০ সকাল ৯ - ৫০ মিনিট ।  বড় বেশি নিস্তরঙ্গ আজ ।


শব্দসূত্র : এ লগন গান শোনাবার


এ লগনে আজকের গান কই? বাতাস ডাকপিওন তিন দিন ধরে পৌঁছে দিয়েছে বছর পন্ঞ্চাশ আগের কিশোর কুমার আশা ভোঁসলে, সত্তর বছরের হেমন্ত,  একশো বছরের রবীন্দ্রনাথ । অষ্টমীর শুভ সময় কান ফাটিয়েছে ' বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মরণযাত্রা ' । সপ্তমীর উৎকট গরমের মধ্যে শুনতে হয়েছে ' সন্ধ্যাবেলা তুমি আমি ' । শুধু এ লগনের গান নেই । চলছে চলবে। গতানুগতিক । ডাকপিওন কি করে জানবে এ মনের চাহিদা ....


গান শোনাবার গান শোনার মাধুর্য চাই । এ লগনে শুধুই ডি জে । ভিজে থাকি বিষন্নতায়, বাতাসে হট্টরোল । উদোম নাচ,  এই তো জীবন কাকা ....


আটপৌরে কবিতা ১৩-১৫ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

"আই-যুগ"-এর কবিতা




১৩.

মানুষ ছাড়া সকলেই

প্রকাশ্যে

সঙ্গম করেও প্রশংসা কুড়োয়

১৪.

দুই নদীর সঙ্গমে

দাঁড়িয়ে

ধর্মগ্রন্থের অনিবার্যতা ভুলে যাই

১৫.

সঙ্গমকে আমি কোনো

প্রতীক

করে তুলতে পারিনি এখনো

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৮৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৮৫.

কবিতাপাক্ষিক ২৭৭ - এ ছিল শান্তিনিকেতনে নোবেল পদক চুরি।তার কথা গতকাল লিখেছিলাম। আজ লিখছি দ্বিতীয় পর্বের কথা। 

পর্বটির নাম : মহুয়া  : নাম্নী

মলাট-কথায় লিখেছিলাম :

' ১৩৫৫ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ থেকে পৌষ মাসের মধ্যে মহুয়া কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমরা মহুয়া থেকে নাম্নী অংশের ১৭টি কবিতার শিরোনামগুলিকে ব্যবহার করে কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি। অবিনির্মাণ নয়। সঙ্গে মহুয়া কাব্যগ্রন্থের ভূমিকাও ছাপা হল।

রবীন্দ্রনাথের নাম্নী-র পর্যায়ক্রম ছিল : শামলী কাজলী হেঁয়ালি খেয়ালী কাকলী পিয়ালী দিয়ালী নাগরী সাগরী জয়তী ঝামরী মুরতি মালিনী করুণী প্রতিমা নন্দনী উষসী।

এই নামগুলিকে ব্যবহার করে লিখেছেন প্রভাত চৌধুরী নাসের হোসেন দীপ সাউ সুমিতেশ সরকার শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় মুরারি সিংহ গৌরাঙ্গ মিত্র ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় রুদ্র কিংশুক।

আমি এখন রবীন্দ্র-নামের কবিতাগুলি কী ভাষায় লিখতে সমর্থ হয়েছিলাম , তার কিছু কিছু নমুনা পেশ করছি । এখান আমাদের নামগুলি উল্লেখ করছি না। যাঁদের বাসনা হবে কপা ২৭৭ সংখ্যাটি খুলে দেখে নেবেন।

১॥ শামলি

অজানা কোনো এক গ্রামের মধ্যে কখন যে এসেছিল স্বচ্ছ সেই নদী , / তার ক্ষীণ শরীরের চারপাশে মৌমাছিদের গুঞ্জন , সমগ্র আকাশ/ মুখ রাখে তার মুখে ।

২ ॥ কাজলি

কাজললতার পাশে কিছুতেই কাজলদিঘিকে বসাতে পারি না, যদিও / পৃথিবীর প্রতিটি দিঘির পাশে কোনো না কোনো লতা-র সন্ধান/ পাওয়া যাবে,

৩ ॥ হেঁয়ালি

রবীন্দ্রনাথ নাম্নী-পর্বে যে হেঁয়ালির কথা লিখেছিলেন তাঁকে / সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ থেকে নির্বাচন করেছিলেন কিনা তা আমার জানা / নেই ,

৪ ॥ খেয়ালি

উইয়ের বাসার মতো স্বনির্মিত অন্ধকারে ওই

শুয়ে আছ তুমি।

৫ ॥ কাকলি

পুরুষ্টু ঠোঁটের থেকে শব্দবাণ নির্গত হয়, যেন তা প্রাণোচ্ছল / হাসিমাত্র।

৬ ॥ পিয়ালি

বরফ জমা হ্রদের নীচে মাছ হয়ে ঘুরে বেড়াই আজকাল/ আমার শীত করে না

৭ ॥ দিয়ালি

আমরা দীপাবলির কথা জানি, দীপাবলি-কে দিয়ালি করতে হয় / তা জানি না,

৮ ॥ নাগরি

নাগরির তুলারাশি যদি, নাগরের মীনরাশি

ছটফট করে  পুরুষ উত্তম, চাঁদ নামে, আমি

চঞ্চল হে ...

৯ ॥ সাগরী

সাগরকন্যা/ সাগরী হয়ে দিগন্ত আঁচলে জড়ায়।  মাঘঋতু পার হয় / তালসারিতে একা 

১০ ॥ মুরতি

' মূর্তি' -কে কোমল করে বললে ' মুরতি ' শোনা যায়,

১১ ॥ মালিনী

ফুল বা মালা জোগান দেয় যে- নারী তাকে আমরা মালিনী / নামে চিনি , যে মালা গাঁথে সে-ও কি মালিনী?

১২ ॥ করুণী

নারী , আমি তোমাকে করুণী করুণা ,

কখনো দাক্ষায়নী নামে জানি ...

১৩ ॥ প্রতিমা

আকাশের অনেক দূর দূর পর্যন্ত তার আঁচল উড়ছে,

যেন- বা পরি।

১৪ ॥ নন্দিনী

আসলে তো নন্দিনী সেই মেয়ে /যার কাছে, কোনো স্বপ্ন নয়, বিষণ্ন দীর্ঘশ্বাস শুধু / পৌছোতে পারে

১৫ ॥উষসী

 সারাটা শরীর তার এমনই আবৃত;/ গা বেয়ে নীচে নেমে গেলে জলধারা / সন্তর্পণে বয়ে চলে, ফাঁকে ফাঁকে নুড়ি- জটলা।

এক লাইন/ দু লাইন দিয়ে কিছুই বোঝানো সম্ভব নয়। সব কবিতা একত্রে কপা-র আগামী কোনো সংখ্যায় ছাপা যেতে পারে। এখানে কেবলমাত্র আমাদের উদ্যোগের ব্যাপারটা উপস্থিত করলাম মাত্র।

প্রশ্ন || দীপক কর || কবিতা

 প্রশ্ন

দীপক কর



প্রেম

সুদূর-ই ভালো

ছবি আঁকা  গান গাওয়া

কাব‍্য-জ‍্যোৎস্নার আলো

শরীর -স্পর্শ এলে-ই

লন্ডভন্ড সব


কী নিয়ে বাঁচা

শরীর না শরীর-শিল্প?

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রেম অপ্রেমের কবিতা || সম্পাদক- বিশ্বনাথ ঘোষ

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার




প্রেম অপ্রেমের কবিতা । সম্পাদক-  বিশ্বনাথ ঘোষ
। দুশো টাকা ।

জীবনে যেমন প্রেমের দিকটি বুঝি,  তেমন অপ্রেমের দিকটি । এই সংকলনের আগে পয়সার এপিঠ ওপিঠ অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেম অপ্রেমের  সত্যটি নিয়ে, কোন সংকলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে কিনা জানা নেই,  কিন্তু তা সম্ভব হয়েছে কবি ও সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষের সম্পাদনায় ' প্রেম অপ্রেমের কবিতা 'সংকলনের ভেতর দিয়ে । সংকলনটির আরো অভিনবত্ব এই,  এতে আমরা পাই বিশিষ্ট সাংবাদিক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় ও  সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীর কবিতা , যা প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে । এই গ্রন্থটির আরো বিশেষতঃ  তা একই  কবির প্রেম অপ্রেম
দু রকমের কবিতা সংকলনের মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে । যার ভেতর পাই কবি আলোক সরকারের প্রেমের উচ্চারণ:  ' মেঘ হ'লো বেদনা,  এনেছো হীরা,  অশ্রুজল , আর একবার যাবো? / দেখবো গোলাপ ফুল ফুটে আছে,  মালতীলতার অনায়াস ।' ( অস্বীকার)  , আবার তাঁর কবিতাতে অপ্রেমের আভাস পাই ' ম্লান, জ্যোৎস্না , বিবর্ণ নীরব দেখি, শব্দিত অন্তর -/ ঘরের দেওয়ালে রুগ্ন মোমবাতি জ্বলে,  আলো ভয়ার্ত বাদামী।'
( 'স্বর্গ কোনদিকে ভাবি ')। কবি  মতি মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য এক উচ্চারণ : ' ভাবো খুব জল,  না- যদি গেলাম অতটা দূর/  তুমি কি আসবে জল সিঁড়ি ভেঙে হৃদয় -পুর । ' ('হৃদয়পুর')  মতো প্রাণবন্ত কবিতার ভেতর দিয়ে ।
                  এবাদেও সংকলনটির ভেতর পাই প্রবীণ কবিদের  মধ্যে তুষার রায়,  সুধেন্দু মল্লিক , দীপেন রায়,  কমল তরফদার,  শম্ভু ভট্টাচার্য,  আল মাহমুদ,  বিশ্বনাথ ঘোষ সহ আরো কিছু নতুন প্রজন্মের কবিকে ,যেমন  বিভাস রায়চৌধুরী , নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়,  তারাপ্রসাদ সাঁতরা,  সুভাষ হালদার,  হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের  উল্লেখযোগ্য উচ্চারণে। নিঃসঙ্কোচে বলা যায়,  সংকলনের মধ্যে বাংলা কবিতাচর্চার একটি ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারা  তুলে ধরা হয়েছে । প্রচ্ছদকারের নামহীন প্রচ্ছদে ভাবনা সুন্দর , তবে ফাঁকা জায়গা ভরাটের চিন্তা রাখার প্রয়োজন ছিল ।

একজন বুড়ো মানুষ নিরুপমা বরগোহাঞি মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ:বাসুদেব দাস

একজন বুড়ো মানুষ

নিরুপমা বরগোহাঞি

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ:বাসুদেব দাস




(১)


অনেকদিন ধরে জীবনে একটাই মাত্র নেশা করে এসেছে বিজয় ভরালী। বই পড়া,খবরের কাগজ

পড়া।তার বাইরে অন্যকোনো ধরনের নেশা তাঁর নেই।না কোনো কাজ-কর্মে,না কোনো ধরনের খাওয়া

দাওয়ায়।সেভাবে কোথাও বেড়াতেও যায় না,অন্য অনেক পেনসন ভোগী প্রৌঢ়দের মতো বাগানের

কাজেও তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। কোনো বন্ধু-বান্ধব ও নেই। অবশ্য তিনি এখন যেখানে আছেন

সেখানে তাঁর বয়সী মানুষ খুব কমই রয়েছে। থাকলেও তাঁর সঙ্গে তাঁদের কতটা বন্ধুত্ব জমে উঠত সেটা

বলা খুবই কঠিন। তিনি নিজে কথা খুব কম বলেন,অন্য কেউ কথা বললে তিনি কেবল হাঁ-হু করে শুনে

যান। কিন্তু সে শোনায় যে তিনি কোনোরকম আনন্দ পান বা বক্তার কথাগুলো যে তিনি আগ্রহের

সঙ্গে শুনছেন তাঁর মুখে সেরকম ভাব মোটেই ফুটে ওঠে না। তাই এরকম ধৈর্যশীল শ্রোতা পেয়েও

বক্তার শেষপর্যন্ত কথা বলার আগ্রহ ফুরিয়ে যায় আর তার ফলে তাঁর সঙ্গে কারও বন্ধুত্ব জমে

ওঠে না।

খাবার দাবারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।নেশা জাতীয় কোনো জিনিস স্পর্শ না করা

ছাড়াও সাধারণ খাবার দাবারেও তাঁর কোনো আগ্রহ বা বিরাগ কিছুই নেই বলে মনে হয়। আর এই একটা

ব্যাপারে বোধহয় বৌমা কমলা শ্বশুরের প্রশংসা করে। স্বামী সঞ্জয় যদি কখনও রান্না বান্নার

ত্রুটি খুঁজে বের করে,খাবারের জিনিস নিয়ে খুঁতখুঁত করে,কমলা বলে-বাবা দেখছি কোনো দিনই কোনো

খাবার জিনিস নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে না,তুমি কেন খেতে পার না কমলার এই অভিযোগ কিন্তু

একদিন সঞ্জয় নির্মূল করে দিয়েছিল—‘বাবার আপত্তি নেই বল না কমলা.তার চেয়ে বরং বল খাবার

দাবারে বাবার বিশেষ কোনো রুচিই নেই। তাই ভালো-খারাপ যাই বাবাকে দেওয়া হোক না কেন ,বিনা

আপত্তিতে খেয়ে যায়,বাবার মতো সন্ন্যাসী মনোবৃত্তির মানুষ আমিও হলে তুমি কি খুশি হবে

কমলা?’,কথাটা বলে সঞ্জয় কমলার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসেছিল,কমলাও প্রত্যুত্তরে মুচকি হেসে

আর কিছু বলে নি।

ছেলে সন্ন্যাসী মনোবৃত্তির মানুষ বললেও কিন্তু সংসারের কর্তব্যটুকু ঠিকই করে

যাচ্ছেন।জীবন বীমা করা,ছেলেকে উপযুক্ত শিক্ষাদান করা,ছেলের বিয়ে দেওয়া-এর প্রতিটি কর্তব্যই

তিনি গৃহীর নিষ্ঠা নিয়ে পালন করেছেন। জীবনে কেবল একটা কাজই বাকি রয়ে গেল। একটা বাড়ি তৈরি

করা,যে কাজটা প্রতিটি সংসারী মানুষই করে থাকেন। তিনি যেন বাড়ি তৈরি করার কোনোরকম উৎসাহ

বোধ করলেন না-অন্তত পেন্সন পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরেও। অথচ গুয়াহাটি শহরে এক

সময়ে নিজেই দুকাঠা জমি কিনে রেখেছিলেন। সেই জমি বছরের পর বছর এমনিই পড়ে রইল। বন্য ঘাস

জঙ্গলে আবৃত হয়ে পড়ল।সেই জমির আশেপাশে প্রচুর বাডি-ঘর তৈরি হল। অঞ্চলটা শহরের মধ্যেই


ছিল। কিন্তু এখন শহরের বাইরে বহু দূরবর্তী এলাকায় এমন কিছু সুদৃশ্য অট্টালিকা গড়ে উঠল যেখানে

কিছুদিন আগেও মাঝে মধ্যে বাঘের দেখা পাওয়া যেত। গুয়াহাটি শহরের আশেপাশে প্রতিটি অঞ্চলেই

এখন ঘর-বাড়ি গড়ে ওঠেছে। কেবল বিজয় ভরালীর দুকাঠা মাটিই জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে রইল।

সেই দুকাঠা জমি কেনার জন্য বিজয় ভরালীর কাছে অনেক গ্রাহক এসেছিল । কিন্তু বিজয়

ভরালী সেখানে বাড়ি-ঘর তৈরি না করলেও জমি দুকাঠা কারোকে বিক্রি করতে রাজি হলেন না। অনেকে

তাকে তিনি কেনা দাম থেকে অনেক বেশি টাকা দিতে চেয়েছিলেন,তবু ও তিনি বিক্রি করতে রাজি হলেন

না। সে জমি তিনি কীভাবে বিক্রি করবেন-সেই জমি,সেই জমিতে ঘর তৈরির স্বপ্নের সঙ্গে তো সঞ্জয়

ও জড়িয়ে ছিল,সঞ্জয় যখন রয়েছে,সেই জমি তো তিনি অন্য কাউকে দিতে পারেন না।

সেদিনটা ছিল রবিবারের সকাল।চা খেয়ে ওঠার পরে বিজয় ভরালী চিরাচরিত অভ্যাসমত

সামনের বারান্দার বেতের চেয়ারে একটা বই নিয়ে বসেছিলেন। বারান্দাটা যথেষ্ট ছোট। একটা মাত্র

চেয়ার সেখানে রাখা যায়। কমলা হয়তো সেখানে কোনোকিছুই রাখতে দিত না,কিন্ত শ্বশুর ছোট ঘরের

ভেতর বসে থাকলে বৌমার চলাফেরায় অসুবিধে হয় বলে বেশিরভাগ সময় এইভাবে সামনের বারান্দায়

বসে থাকেন,বেতের চেয়ারটা ও তিনিই বের করে নিয়েছেন। ছোট্ট বারান্দাকে এভাবে চেয়ার পেতে তাকে

আরও সংকীর্ণ করা কমলার মনঃপূত না হলেও তার কিছু করার ছিল না।কারণ ঘরটা সত্যিই

ছোট।সঞ্জয় যদিও বিদেশি ডিগ্রিধারী গুয়াহাটি রিফাইনারির একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার-যে কোয়ার্টারটা

সে পেয়েছে,সেটা খুবই ছোট।অবশ্য ঘরটা দেখতে খুব সুন্দর,একেবারে আধুনিক ডিজাইনের

ঘর।মেঝেগুলি মোজাইক করা,চব্বিশ ঘণ্টা জল পাওয়া যায়,রান্নাঘরে বাসনপত্র মাজার ব্যবস্থা

রয়েছে।প্রতিটি ঘরের ভেতরে দেওয়াল আলমারি।স্নান করার বাথরুমে বেসিনের সঙ্গে আয়না সংলগ্ন

করা।এভাবেই আধুনিক যুগের সমস্ত সুবিধা নিয়ে ফ্ল্যাট বাড়িটা তৈরি হলেও গৃহস্থ মানুষদের কাছে

ফ্ল্যাটটা খুবই ছোট।মাত্র চারটে ঘর এবং প্রত্যেকটিই খুব ছোট ছোট।সেই চারটি ঘরের একটিকে

কমলা ড্রইং রুম করেছে,একটাতে খাওয়া দাওয়া,একটিতে ঘুমোনো এবং চার নম্বর ঘরটা শ্বশুর

মশাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে।কোনো অতিথি এলে খুব অসুবিধে হয়।শ্বশুরের রুমে অন্য একটি খাট

ঢুকিয়ে অতিথির ব্যবস্থা করতে হয়।দুটো বিছানা পাতার পরে রুমটা এত সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যে সেখানে

দুজন মানুষের পক্ষে চলাফেরা করাটা রীতিমতো অসুবিধে জনক হয়ে দাঁড়ায়।অবশ্য এটা একটা সুবিধের

কথা যে কমলাদের বাড়িতে অতিথি খুব কমই আসে | সঞ্জয় মা-বাবার একমাত্র ছেলে,তার ভাই বোন

কেউ নেই। জ্যাঠা বা কাকুদের সঙ্গে তাঁর বিশেষ কোনো সন্বন্ধ নেই। এই ব্যাপারটা সে পিতার কাছ

থেকেই পেয়েছে। বাবার আসল বাড়ি মঙ্গলদৈ। তিনি বাড়ির সকলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে

করেছিলেন।প্রামের পুরোনো দিনের রক্ষণশীল পরিবার।সেই বাড়ির ছেলে হীনজাতির মেয়েকে বিয়ে

করার ঘটনাকে কেউ সহজে ক্ষমা করতে পারল না। অবশ্য বিজয় ভরালী সেভাবে ক্ষমা চান নি। তবু

নিজের বাড়ি ঘর। বিজয় ভরালী সেই বাড়ির মায়া ত্যাগ করতে না পেরে কয়েকবার গেছেন,একা। স্ত্রী

ইলাকে বাপের বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন।একা গিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন –তার সঙ্গে বাড়ির লোকেরা কে

কী রকম ব্যবহার করে। মা তাকে দেখে কেঁদেছিল। বাবা গম্ভীর হয়ে ছিলেন। ভাইয়েরা গালিগালাজ

করেছিল। গ্রামের অনেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তিরস্কার করেছিল তবু মা কাঁদতে কাঁদতে অনেক আশা

করে ছেলের জন্য রান্না করা ভাত যখন অস্পৃশ্য মানুষকে দেবার মতো করে পৃথক একটা ঘরের


মেঝেতে দিলেন,বিজয়ভরালী সেদিন সেই ভাতের থালা সামনে নিয়ে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন।

সেদিন হয়তো কোনোমতেই তার মুখে খাবার উঠত না,কিন্তু মা যখন চোখের জল ফেলতে ফেলতে সামনে

দাঁড়িয়ে খাবার জন্য কাকৃতি মিনতি করতে লাগলেন তখন তিনি কেবলমাত্র মায়ের মুখের দিকে

তাকিয়েই দুয়েক গ্রাস খাবার মুখে তুললেন। তারপর তিনবছর তিনি আর বাড়িমুখো হননি । কিন্তু তিন

বছরপরে দুবার ছয়মাসের ব্যবধানে তাকে বাড়ি যেতে হল। ছয়মাসের ভেতরে মা-বাবা দুজনেরই মৃত্যু

হল। মৃত্যুর সময় দুজনের কাউকেই তিনি দেখতে পেলেন না। পুত্রবধূ এবং নাতি দুজনের কাউকেই

জীবনে একবারও না দেখে দুই বুড়ো-বুড়ির মৃত্যু হল।

সেদিন থেকে বিজয় ভরালী আর কোনোদিন বাড়িমুখো হন নি।

নিজের ভাই-বোন নেই। ঠাকুরদা বা জ্যাঠা কারও সঙ্গেই কোনো সম্বন্ধ নেই। তাই সঞ্জয়ের

দিক থেকে কোনো অতিথিই কোনোদিন তাঁদের সেই ছোট ঘরটাতে উপস্থিত হয়ে কমলাকে বিব্রত করে

তোলে নি। বাড়িটা ছোট বলেই সঞ্জয় তাঁর কোনো বন্ধুবান্ধবকে কোনোদিন তার বাড়িতে থাকার জন্য

নিমন্ত্রণ করে নি। তাই অতিথি বলতে কমলার দিক থেকেই বোঝায়। কমলারা তিনভাই,পাঁচবোন। বিজয়

ভরালী পরিপূর্ণ পরিবার দেখেই ছেলের বিয়ের বন্দোবস্থ করেছিল। আত্মীয়-পরিজনহীন নিঃসঙ্গ

জীবন কাটানো ছেলেকে আপনজনে পরিবেষ্টিত করার জন্য,তিনি বৌমা হিসেবে চেয়েছিলেন --ধন না

হলেও জনে পরিপূর্ণ ঘরের একটি মেয়ে।

অনেক সন্ধানের পরে তিনি কমলাকে পেলেন। কমলাকে তাঁর সবদিক থেকেই পছন্দ হয়েছিল।

দেখতে শুনতে ভালো,পড়া-শোনাতেও ভালো। এম.এ পাশ করেছে। ভালো ঘর। কারও মুখেই পরিবার বা

মেয়ে কারও কোনো বদনাম শুনতে পাওয়া যায় নি। কমলাকে দেখে আশীর্বাদ করে তাঁর মুখে একটা পরম

তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছিল । তিনি কমলার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করে বলেছিলেন।

---মা তোমার নাম কমলা হলেও তুমি কিন্তু লক্ষ্ণী সরস্বতী দুটোই। কমলা সেদিন লজ্জার

মুখে তৃপ্তির হাসি হেসেছিল। কমলাকে ঘিরে থাকা আপনজনদের মুখেও সঞ্জয়ের পিতার এই মন্তব্যে

সন্তোষের হাসি ফুটে উঠেছিল । বিজয় ভরালীর ধারণা -সেই সন্তোষের হাসি কমলার আপনজনদের মুখে

আজ পর্যন্ত ম্লান হতে দেখা যায় নি। তিনি বা তাঁর পুত্র সঞ্জয় কেউ ম্লান হতে দেন নি। পিতা-পুত্র

দুজনের কেউ আজ পর্যন্ত তাঁদের মেয়েকে কোনো ধরনের দুঃখ দেন নি--অন্তত তাঁর জানা মতে । আর

তার অজান্তে ?

তার উত্তর কিন্তু বিজয় ভরালীর জানা নেই। কিন্তু তাঁর মনের খুব গোপন কোণে একটা ধারণা

বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে যে বৌমা কমলা তাঁর ওপরে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। বৌমার কাছে কোনো এক গোপন

অপরাধ তিনি করেছেন। কিন্তু কী যে তাঁর সেই অপরাধ তা আজ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারলেন না।

জ্ঞানতঃ তিনি কোনোদিন কমলাকে কটু কথা বলেন নি বা কোনোরকম আঘাত দেন নি।জীবনের কাছে

আজকাল তাঁর আর প্রার্থনীয় কিছুই নেই। বেঁচে থাকার দৈনন্দিন প্রয়োজন গুলিও তাঁর অতি সামান্য।

চা-চুরুট তিনি খান না। কমলার চাকরকে তাঁর জন্য মাঝে মধ্যে দোকানে গিয়ে সিগারেট,দিয়াশলাই কিনে

আনতে হয় না,এক কাপ চা করে দিতে হয়না,কোনো ফাই-ফরমাশ খাটতে হয় না। নিজের পরনের পোষাক


পরিচ্ছদ বা নিজের গামছাটা নিজেই ধুয়ে দেন। অবশ্য কমলা প্রথমদিকে বলেছিল -নিজের স্নান করা

কাপড় চোপড় কেন তাকে ধুতে হবে। তিনি তখন কমলাকে এই বলে বুঝিয়েছিলেন যে বুড়ো বয়সে মানুষের

একেবারে বসে থাকা উচিত নয়,শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে।অল্প আধটু পরিশ্রম করে শরীরটাকে চলে

থাকার উপযুক্ত করে রাখতে হয়।তিনি একদিনের জন্যও স্নান করা নিয়ে কাউকে কোনো কষ্ট দেন

নি।অনেকে বুড়ো হলে গরম জল ব্যবহার করতে শুরু করে।তিনি সেরকম কোনো অভ্যাস করেন নি।ঠান্ডা

জলে স্নান করার উপকারিতা বিষয়ে তিনি কমলাকে একদিন বুঝিয়েছিলেন—সেদিন খুব ঠান্ডা পরার

জন্য কমলা তাকে স্নানের জন্য গরম জল দিতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করেছিল।খাওয়া দাওয়া নিয়ে

কমলার কোনো অসুবিধে ভোগ করতে হয় নি। কম পরিমাণে খান,ভাত-তরকারি ভালো হয়নি বলে

একদিনও রাঁধুনির কাছে অভিযোগ করতে শোনেননি।নূন বেশি হলে বা না হলেও মুখ ফুটে কিছু বলেন না।

তাছাড়া কিছু মানুষ বুড়ো হওয়ার পরে,পেন্সন পাওয়ার পরে নানান বিষয়ে খারাপ অভ্যাস গড়ে

উঠে।প্রায় জীবনজোড়া চাকরির অভ্যস্থতা থেকে মুক্তি পেয়ে তারা যেন হঠাৎ খুব নিঃসঙ্গ আর

অসহায় পড়ে।তাদের সামনে তখন পড়ে থাকে কেবল সময় আর সময়,অফুরন্ত,অখন্ড ভয়াবহ সময়,যে

সময় তাদের সামনে আর কখনও ভবিষ্যতের কোনো আশার স্বপ্ন জাগাতে পারবে না,যে সময় কেবলই

অতীতমুখী।মহিলা হলে বার্ধক্যের এই ভয়াবহতা এতটা প্রকট হয়ে উঠতে পারে না,কারণ মেয়েদের

সঙ্গে মৃত্যুর প্রায় অগে পর্যন্ত সংসারটা কোনো না কোনো প্রকারে একরকম আন্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে

থাকে। সংসারের চাকরি চিরদিনের।কিন্তু সরকারের চাকরির নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। এই বৃদ্ধ

পুরুষরা অনেক সময়েই যাকে সামনে পায় তার সঙ্গেই অনর্গল কথা বলে অখণ্ড সময়ের কিছুটা লাঘব

করতে চায়। অনেকে অন্য কাউকে না পেলে বাড়ির বৌমার সঙ্গেই গল্প করে সময় কাটায়। বৌমার

চোখের সামনে তাঁর সমগ্র অতীত জীবনের চিত্র তুলে ধরতে চায়। কিন্তু বিজয় ভরালীর এই স্বভাবটাও

ছিল না। বৌমার সঙ্গে দুয়েকটা সুখ দুঃখের কথা বলতে কখনও কখনও ইচ্ছা করে,কিন্তু পরমুহূর্তেই

ভাবেন,বেচারির এত কাজ,তাঁর সঙ্গে কথা বলতে থাকলে ওর কীভাবে চলবে?

এভাবেই প্রতিটি কথায় বৌমাকে কোনোরকম অসুবিধেয় না ফেলার চেষ্টা করে এসেছেন

তিনি,কিস্তু কেন জানি তাঁর মনেহয়-তাঁকে নিয়ে কমলার যতটা সুখী হওয়ার কথা ছিল,ততটা যেন সুখী

নয়। তিনি কিন্তু সুখী, অনেক আশা করে বেছে আনা বৌমাকে নিয়ে। সুখী,খুব সুখী--খুব সুখী-- নিজেকে

যেন বারবার তিনি এই বিষয়ে বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করেন।

তাঁর কথা না হয় বাদ দেওয়া গেল,তাঁর সুখের জন্য তো আর তিনি বাড়িতে বৌমা আনেন নি।

কিন্তু সঞ্জয় কি কমলাকে নিয়েসুখী?এই প্রশ্ন মাঝেমধ্যেই বিজয় ভরালীর মনে জাগে। যদিও তিনি

বিয়ের পরে সঞ্জয়কে কোনোদিন অসুখী দেখেন নি। অন্য দুটিসুখী দম্পতির মতোই সঞ্জয় এবং কমলা

জীবন কাটাচ্ছে। দুজনেই হাসে,কথা বলে-স্ফুর্তি করে, বেড়াতে যায়,সিনেমায় যায়—সবকিছু করে। আর

বিজয় ভরালী এ খবর ও রাখেন যে আর তিনমাসের মধ্যেই তিনি নাতি বা নাতনির মুখ দেখতে চলেছেন।

তবু তাঁর মনে শঙ্কা জাগে;সঞ্জয় যদি তাঁর মতো নিজে পছন্দ করে বিয়ে করত তাহলে তাঁর এই

আশঙ্কা থাকত না,এতটা দায়িত্ব বোধও থাকত না। তিনি নিজে পছন্দ করে ইলাকে বিয়ে করেছিলেন,

সেই বিয়ের সুখ দুঃখ,বিষ অমৃতের ফল ভোগ করার দায়িত্ব ছিল তাঁর একার। কিন্ত আজযদি কমলার

কোনো কথায় সঞ্জয় দুঃখ বোধ করে তাহলে সেই দুঃখ কি তাকে বেশি স্পর্শ করবে না ? তাঁর কি মনে


হবে না তাঁর নির্বাচনে ভূলের জন্যই ছেলে কষ্ট পাচ্ছে? সঞ্জয় যদি নিজে কাউকে পছন্দ করে বিয়ে

করত তাহলে বিজয় ভরালী অনেকটা স্বস্তি পেতেন। কিন্তু সঞ্জয় সে পথই মাড়ালো না।আজ পর্যস্ত

তিনি কোনোদিন সঞ্জয়ের সঙ্গে কোনো মেয়ের বন্ধুত্ব দেখতে পাননি।সেজন্যই ইঞ্জিনিয়ারিঙের

শিক্ষা সমাপ্ত করে সঞ্জয় যখন বিলাত থেকে ফিরে এসে রিফাইনারিতে চাকরিতে যোগ দিল,বাধ্য হয়ে

তিনি নিজেই তখন ছেলের জন্য মেয়ের খোঁজ করতে শুরু করলেন। অবশ্য ছেলের অনুমতি নিয়েই।

সঞ্জয় খুব সহজেই পিতার প্রস্তাবে সম্মতি জানাল। সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিল যে বাবার পছন্দই তাঁর

পছন্দ।

সঞ্জয়ের সেই পরম নির্ভরতাই তাকে বিপদে ফেলল। জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ-এই তিনটি চক্রেই

মানব জীবন সম্পূর্ণভাবে আবর্তিত হয়ে চলেছে। সেই বিবাহে,জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পিতার

ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে পরম নিশ্চিন্তভাবে বসে রইল সঞ্জয়।তাই বিজয় ভরালীর দায়িত্ব হাজার

গুণ বেড়ে গেল। চাঁদ সদাগর হওয়ার উপায় নেই। তবুও অনেক খুঁজে খুঁজে তিনি কমলাকে পুত্রবধূ করে

এনেছিলেন। এখন তাই তাঁর মনে মাঝেমধ্যেই শঙ্কামিশ্রিত প্রশ্ন জাগে-তাঁর একমাত্র পুত্র সঞ্জয়

সুখী হয়েছে তো? তাঁর নির্বাচিত বধুকে নিয়ে?

কমালর কথাও ভাবেন তিনি। কেবল ছেলের কথাই নয়। সঞ্জয়কে নিয়ে কমলা সুখী তো? কিন্তু

কমলাকে নিয়ে বিজয় ভরালীর এই ভাবনা খুব বেশি গভীর নয়। উড়ন্ত মেঘের মতো ক্ষণিকের ছায়া

ফেলে মনের মধ্যে। পুত্র-স্নেহ হয়তো এই বিষয়ে তাঁকে কিছুটা অন্ধ করে তুলেছে। কমলাকে সঞ্জয়ের

সঙ্গে অসুখী বলে ভাবতে তাঁর গর্ব বাধা দেয়। সঞ্জয়ের মতো ছেলের সঙ্গে কোনো মেয়ে কি কখনও

অসুখী হতে পারে? সঞ্জয়ের মতো ছেলে অসমে কজন আছে? রূপে-গুণে,বিদ্যায়-চরিত্রে তার তুলনা

পাওয়া ভার।অন্য কিছু তো বাদই,আজ পর্যন্ত একটা সিগারেট মুখে দিয়ে দেখেনি।শান্ত,ধীর প্রকৃ্তির

ছেলে।উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ওর জন্য কোনো ধরনের দায়িত্ব রেখে যাননি।কত ছেলের মাথার ওপরে

কত ভারী সাংসারিক বোঝা থাকে।ভাই-বোনদের পড়াতে হয়,বিয়ে দিতে হয়-কত ধরনের চিন্তাই না

থাকে।বিয়ের পরে অন্য বাড়ির মেয়ে এসে অনেক সময় সেই সব কারণে অশান্তিতে ভোগে।কিন্তু

সঞ্জয়ের সেই সব কোনো ঝামেলা নেই। সে যা রোজগার করে তার পুরোটাই কমলার হাতে তুলে দেয়।

তিনি ছেলের জন্য কোনো কর্তব্যই রেখে যাননি। নিজের অর্জিত টাকায় ছেলেকে একটা গাড়ি পর্যন্ত

কিনে দিয়েছেন।এখন যে ছেলের সঙ্গে আছেন,তাতেও নিজের পেন্সনের টাকাতেই চলেন।কিন্তু সমস্ত

কিছু করলেও বিজয় ভরালী ছেলের জন্য একটা ঘর তৈরি করে যেতে পারলেন না।

রিফাইনারির এই ফ্ল্যাট বাড়িটা সত্যিই খুব ছোট । তাঁরা বাপ ছেলের কোনো আত্মীয় স্বজন না

এলেও কমলার আত্মীয় স্বজনতো আসতেই থাকে ।কমলার কত আত্মীয়। নিজের বাড়িতেই কত

লোকজন। দাদা-ভাই,বোন,বোনের জামাই,বৌদি,ভাইপো,ভাইঝি মা বাবা-কমলার সবাই রয়েছে। তাঁরা

মাঝে মধ্যে কমলার কাছে আসবে এটা তো খুবই স্বাভাবিক। আসেও। বড় অসুবিধার মধ্যেই তাদের

এখানে থাকতে হয়। বিজয় ভরালী থাকা ছোট্ট রুমটি আরও ছোট হয়ে যায়। কিন্তু ঘর থেকেও বিজয়

ভরালী নিজেই যেন বেশি সঙ্কুচিত হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হতে থাকে তিনিই যেন সেই ছোট্ট রুমটিতে

অতিথি হয়ে এসেছেন,কমলার আত্মীয়রা যেনএখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। এই সমস্ত ক্ষেত্রে বিজয়


ভরালীর সামনের বারান্দার চেয়ারে বসে থাকার মেয়াদ আরও বেড়ে যায়। সঞ্জয়দের ঘরের সামনের

রাস্তা দিয়ে নিয়মিতভাবে আসা যাওয়া করা মানুষগুলি দেখতে পায় সঞ্জয়ের পিতা বিজয় ভরালী।

সকালবেলা সামনের বারান্দার বেতের চেয়ারটাতে বসে হয় কোনো বই,অথবা খবরের কাগজ পড়ছে।

দুপুরবেলাও দেখা যায় তিনি সেই একইভাবে একই ভঙ্গিতে চেয়ারটিতে বসে রয়েছেন। কিন্তু মানুষগুলি

সাধারণত দুপুরবেলা তাকে সেই অবস্থায় বেশিক্ষণ দেখতে পায় না।

দুপুর বেলা তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। কিন্তু বাড়িতে অতিথি থাকলে তাঁর বারান্দায় বসার

মেয়াদ বেড়ে যায়। পথ দিয়ে যাতায়ত করা মানুষ তখন দেখে --চোখের সামনে বইটা মেলে ধরে বুড়ো

মানুষটা ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে।

সেদিন রবিবারের সকালে চা-জলখাবার খেয়ে বিজয় ভরালী একটা বই নিয়ে বসার আধঘন্টা পরে

বৌমা কমলা এসে বারান্দা এবং ড্রইংরুমের দরজার সামনে দাঁড়াল।

‘বাবা।’

‘কে?’ও কমলা। প্রায় চমকে উঠল বিজয় ভরালী। বইয়ের মধ্যে একেবারে ডুবে গিয়েছিলেন।

বইয়ের মধ্যে একটা চিহ্ন দিয়ে বইটা বন্ধ করে কমলার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন-‘কী

চাই মা?’

বাবা,আমরা দুজনেই একটা কথা ভাবছি। শহরে আপনার যে দুকাঠা জমি পড়ে আছে,এবার

সেখানে বাড়ি তৈরি করলে ভালো হবে। আজকার দিনে গুয়াহাটি শহরে কেউ এভাবে জমি কিনে ফেলে রাখে

না।ঘরের ভাড়া যে পরিমাণে বেড়েছে।আজকাল গুয়াহাটি শহরে ভালো একটা বাড়ি থাকলে তা ভাড়া দিয়েই

একটা পরিবার সুন্দরভাবে চলতে পারে। আপনার জমিটা মিছামিছি কতদিন ধরে পড়ে রয়েছে । আপনি

যদি বুদ্ধি করে প্রথমেই সেখানে একটা বাড়ি বানিয়ে নিতেন,তাহলে সেখান থেকে এতদিনে আমাদের

হাজার হাজার টাকা রোজগার হত। যাই হোক,আগে যা ভূল হওয়ার হয়েছে। এখন কিন্তু আর এভাবে

জমিটা ফেলে রাখা চলবে না। আপনার যদি আপত্তি না থাকে,ও কালকেই সিমেন্ট এবং অন্যান্য

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জন্য দরখাস্ত করবে।’

প্রথমে এক মুহূর্তের জন্য বিজয় ভরালী স্তব্ধ হয়ে রইলেন। বাড়ি? তাঁর দুকাঠা জমিতে

তাহলে সত্যিই এবার বাড়ি তৈরি করাহবে?

কিন্তু কেবল এক মুহূর্তের জন্য তিনি থমকে রইলেন-তারপরে খুব উৎসাহের সঙ্গে বৌমা

কমলাকে বলে উঠলেন-‘বাড়ি করতে চাইছ,খুবভালো কথা।সংসারী মানুষের একান্ত নিজের মতো করে

একটা বাড়ির খুবই প্রয়োজন।’তারপর কিছুটা অপরাধীর সুরেই নিজের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে

বললেন-‘আমারই খুব ভূল হয়ে গেল। এতবছর এমনিতে জমিটা পড়ে রইল,সেখানে আর বাড়ি তৈরি করা

হল না।'


কমলা ড্রইং রুম আর বারান্দা সংলগ্ন দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিল। কমলার সঙ্গে আসা সঞ্জয়

কিন্তু বাবার এত কাছে আসার সাহস পায় নি। ভেতরের একটা সোফায় বসে বাবা এবং স্ত্রীর মধ্যে

কথোপকথন গুলি শুনছিল।



"আই-যুগ"-এর কবিতা || শব্দব্রাউজ ৫ || নীলাঞ্জন কুমার

 

"আই-যুগ"-এর কবিতা

শব্দ ব্রাউজ ৫ : নীলাঞ্জন কুমার



তেঘরিয়া । বিপাশা আবাসন । ২৪। ১০। ২০২০ সকাল ৯ -৪৫ । মহানবমী । বাড়িতে থেকে তেমন অনুভব করা যাচ্ছে না । বাইরে মাইকের আওয়াজ নেই ।


শব্দসূত্র:  যেতে পারি,  কিন্তু ...

যেতে পারা যায় যেতে চাইলে । চাইলেই যে হবে তারও কোন মানে নেই।  চাইলে চাইতে হয় চাওয়ার মতো । তবে যাব কোথায় সেটাও প্রশ্ন । ' যেখানে যাও সেই একই মাটি জল একই নীলাকাশ ' । বিষ্ণু দে- র এই লাইন যাওয়ার কথা উঠলেই কোথা থেকে যেন ছুটে আসে!  যাওয়া কিংবা না যাওয়ার যন্ত্রণা রাগ বাড়ায়,  অভিমান । কার ওপর অভিমান দেখানো যায়?  ভেবে কূল পাই না ।

কিন্তু বললেই থমকাতে হয় । কিন্তু অব্যয়ের জন্য সময় ব্যয় মানে কালক্ষেপ,  পলায়নী মনোবৃত্তি । কিন্তু,  কিন্তুকে কি করে জীবন থেকে বার করে দেব?  একটু
বলবেন?



আটপৌরে কবিতা ১০-১২ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

"আই-যুগ"-এর কবিতা




১০.

সঙ্গম শেষে ডিনার

টেবিল

আনন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে

১১.

সঙ্গমের কাহিনি শুনে

সামান্য

পথটি হাইওয়ের সম্মান পেলো

১২.

প্রতিটি সঙ্গমের শেষে

মস্তিষ্কে

জন্ম নেয় গঙ্গোত্রী প্রবাহ

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

কবিতা উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৯ / সোমনাথ বেনিয়া

 কবিতা


উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৯ / সোমনাথ বেনিয়া



লালার স্বপ্ন শুধু ললিপপ ঘিরে, ব্রাত‍্য কাঠির কাছে রাখে ঘৃণা

জিভের উৎসবে দাঁতের মাঢ়ী জানে গ্রহণের কাতরতা বিশাল

নিশ্বাসে ওঠা-নামা, ট্রাকিয়ার দেহজুড়ে মিষ্টির শীৎকার

ঘন অন্ধকারে কোনো জোনাকি জন্মালে তারাদের কৌতূহল

মুখের ভিতর যমজ বোন কিংবা ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়ার মেলা

ঠোঁটের উপর শুকনো রেখা হালকা জলজ অভিঘাতে মগ্ন

আলতো বোল হাসির মৌতাতে পিছলে যায় সরল সুন্দরে

সে তো তালব‍্য বর্ণের মাচা, ক‍্যান্ডির অহংকার উচ্চপর্যায়ের স্বপ্ন

বত্রিশের কে পেলো, কে-বা না, তার খোঁজে রিপুর নির্দেশনামা

সংসারে অভাব থাকলে পুনরায় পাওয়ার আহ্বান জোরদার

স্বাদ কোরকের শিরোনামে গদের আঠার মতন মুগ্ধতা থাকে

সংবহনতন্ত্রে লিখে রাখে আগন্তুকের স্বভাব ভারি উৎসাহমূলক

আঙুলে থাকে দেওয়ার ইচ্ছা, বিনিময়ে প্রত‍্যাশার ছেঁড়া পালক

কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার এই আকাশ । অসীম চট্টোপাধ্যায় । কবোষ্ণ

 কিছু বই কিছু কথা।  নীলাঞ্জন কুমার




এই আকাশ । অসীম চট্টোপাধ্যায় । কবোষ্ণ । পনেরো টাকা ।

' সামনে প্রজ্জ্বলিত কাঠের আগুন/  ভাতের বদলে থালা হল খানখান । ' (  ' উপোসী চাঁদ ') , 'তবু বেঁচে থাকে চিতায় না পোড়া কথা / অনুভবে বাঘ নখ আঁচড়/  আরো কত কী-  নিজস্ব আয়নায় ' ( ' বাঘ নখ আঁচড় ') - এর মতো পংক্তির ভেতর থেকে চেতনা ছড়িয়ে গড়ে উঠেছে কবি অসীম চট্টোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ 'এই আকাশ ' ২০০২সালে । আফশোস , সুন্দর শুরু করা এই কবি কিভাবে হঠাৎ করে লেখা বন্ধ করে দিল তা রহস্য । কবি অসীম বুকের ভেতরের ক্ষোভ দুঃখ আনন্দ সব ভাগাভাগি করে তুলে ধরেছেনকাব্যগ্রন্থটিতে  । সে কারণে তাঁকে পড়তে ভালো লাগে:  ' তুমিতো আকাশ ভেঙে হেঁটে যাও/  আমি দেখি গরীব সকাল/  যে সারাদিন ছেঁড়া চাদর গায়ে/  খুঁড়িয়ে হেঁটে যায় ' (সকাল), ' কে যেন সারাদিন গভীর দুঃখ ভেঙে/ চলে যায় ভোরের সিগন্যাল দেখে । ' ( ' ভোরের সিগন্যাল ') - এর মতো সম্ভাবনাময় পংক্তির কল্যাণে ।
         কাব্য সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে কিছু কিছু সময় তাঁর কবিতা বিব্রত করলেও,  সামগ্রিক অর্থে উক্ত পংক্তিগুলির কল্যাণে তাঁকে কবি হিসেবে মেনে নিতে হয় । অসীম খুব বেশি না লিখলেও তাঁকে একসময় লিটল ম্যাগাজিনের পাতায় পাওয়া ও পড়ার জন্য তাঁর কবিতার ক্ষেত্রে নাড়িজ্ঞান আছে বলে দুঃখ লাগে তাঁর   সফল হতে হতে কবিতা ছেড়ে চলে যাওয়া! 
              অসীম তাঁর কবিতায়  সত্যপথের চিহ্ন রেখে গেছেন,  যা পাই:  ' আনাচেকানাচে আমাদের  ঘরদুয়ারে  /  দুয়ার যতই শক্তপোক্ত রাখা থাক না কেন/  আঘাত তবু আঘাত ।' ( ' বামনের খেলা ') , ' প্রেমিক দীঘল পুরুষ কুয়াশা ভেঙে হেঁটে যায়/  ভুল করে চিনে নেয় যুবতী শরীর, / শতছিন্ন কাঁথা পেতে শুয়ে থাকে / রাতের ধবল জ্যোৎস্না , ' ( ' ভোরের সিগন্যাল ')-এর মাধ্যমে । প্রয়াত বিশিষ্ট  কবি মতি মুখোপাধ্যায়ের এই বইটির ভূমিকায়  লেখেন , যা না তুলে ধরলেই নয় :  ' তিনি ভাবুন , আরও কবিতা লিখুন,  এই দুঃসময়ে কবিতা ছাড়া কেইবা মুক্তি দিতে পারে । ' কল্লোল দত্ত গুপ্তের প্রচ্ছদের বদলে বইটি প্রচ্ছদহীন হলে বেশি আনন্দ পেতাম ।

বিদির্ণ হৃদয় || সহেলী দে || কবিতা

বিদির্ণ হৃদয় 

সহেলী দে




নীলাভ ছত্রধারী বৃক্ষতলের স্নেহময় ছায়ায়,

এক তিত্তিরে মিঠেলতা মায়াবী জ্যোৎস্নার অপেক্ষায়~

অতীন্দ্রিয় অন্তরীক্ষে স্বপ্ন বুনে চলেছে~

একঝাঁক *নক্ষত্রের* হীরকমণি` নয়ন, তার বক্ষতলে।

বিছিয়ে দিয়েছে শরীরের লতানো সবটুকু-

অনুভূতির মর্মের সূক্ষ্ম মনিকোঠায়।


পশ্চিমের কোনেদেখা মেঘের রক্তিমছটা,

লজ্জাবস্ত্রখানির আঁচলটিকে ব্যাকুল বনতলে।

সমুদ্রের উথালরহস্য ঢেউয়ের পর ঢেউতে ভিজিয়ে চলেছে, 

অবিরত আনাগোনা প্লাবনের আলিঙ্গন।

ক্লান্ত লতা চায় একটু অবলম্বন-

ঠোঁট ফুলিয়ে বলে, হে নিঠুর....!

তবু পরের ঢেউয়ের সিক্ত স্পর্শ চায় 

তাকে স্যেঁতিয়ে চুপ রাখতে!


সন্ধ্যে হতে আকাশপ্রদীপ জ্বলে;

তবুও আকাশের রক্তিমতা লতার দলকে..

তখনও স্পর্শ করে, লজ্জাবস্ত্রকে আলিঙ্গন করে।

পুবালী হাওয়ায় দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য~

ঢেউ, মুক্ত প্লাবনের তরঙ্গে তখনও ব্যস্ত।


রাত নিবির হতে অন্ধকারের গাঢ়ত্ব- 

নক্ষত্রদের দৃষ্টি উজ্জ্বল করে,

লতার চঞ্চলতাকে স্পর্শ করে,

স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চল অস্পষ্ট হয়,

ঢেউয়ের জলচ্ছ্বাসের ধূসর কোয়াশায়|


দিনের পর দিন, রাতের পর রাত!

চলতে থাকে স্বপ্নের ইচ্ছে প্রকাশ- 

আর সাগরবেলার উন্মত্ত আলিঙ্গন;

তিত্তিরে লতা ভূমিতে নিজেকে জরিয়েই বড় হয় একলা।

ধরতে পারে না বৃক্ষের অবলম্বন-

আর হয়তো সত্যই ধরা হয়ে ওঠে না..

তার প্রিয় অবলম্বন! যেখানে বাতাসে মেলবে সে। 


সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৮৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৮৪.

 গতকাল শান্তিনিকেতনের মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫০টি পরামর্শ-র কথা লিখেছিলাম কপা-র ২৭৬ সংখ্যার কথার ফাঁকে। আর আজ বলছি কপা২৭৭ সংখ্যার কথা। এই সংখ্যাটির দুটি পর্ব ছিল। প্রথম পর্ব নোবেল প্রতিক্রিয়া । আমরা এখনো নোবেলচুরি যাওয়ার কথা ভুলে যাইনি। সেই চুরির কিনারাও করতে পারিনি। তবু সেই সময় আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল তা জানাতে আমাদের হয়ে শান্তিনিকেতন থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন :

ড : জনকঝঙ্কার নার্জারী , মনুজেশ মিত্র , লালা রামানন্দ প্রসাদ , শ্যামলী খাস্তগীর , রুদ্র কিংশুক ,অহনা বিশ্বাস , মনীষা , সজল দে , খায়রুল আলম।

ঝঙ্কারদা শুরু করেছিলেন ---' নোবেল পুরস্কারের পদক চুরির খবরে যেমন খুব একটা অবাক হইনি, তেমনি পুলিশ , সি আই ডি এবং সি বি আই-এর অসফলতাতেও তেমন আশ্চর্য হইনি ।'

আর শেষে বলেছিলেন : ' একটি সুপরিকল্পিত মূল সংগ্রহশালা ঘরের প্রয়োজনীয়তা অতি আবশ্যক এবং জরুরি '।

জানিনা , এখনো যথাযথ সংগ্রহশালা করা গেছে কিনা ! 

কবি মনুজেশ মিত্র লিখেছিলেন : ' তাঁর নোবেল-পদক ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী অপহৃত হওয়ার মধ্যে এক অশুভ সংকেতই সূচিত হচ্ছে যেন। '

লালা রামানন্দ প্রসাদ বলেছিলেন : ' বাঙালির একটা জায়গা ছিল--- রবীন্দ্রনাথ। সেটাও আজ নষ্ট হয়ে গেল।'

আমাদের প্রিয় শ্যামলীদি , শ্যামলী খাস্তগীর লিখেছিলেন : ' ... সেখানে এক ছিঁচকে চোর সোনাদানার লোভে এ কাজ করলে খারাপ লাগলেও দোষ দেওয়া যায় কি ? কারণ রবীন্দ্র-ব্যবসায় তো সকলেই করে খাচ্ছে। এর জন্য আমরা আশ্রমবাসী সবাই দায়ী  '। 

শ্যামলী আপনি আমার মনের কথাটি বলেছিলাম। আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর লিঙ্কটা হঠাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

রুদ্র কিংশুক জানিয়েছিল : ' তবে এ লজ্জা এমন কিছু বেশি নয় যা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কাজ-কর্মের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের হজম হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থানুকূল্যে বিশ্বভারতী চির দুষ্কৃতি কামধেনু। দোহনের সুযোগ কে আর হাতছাড়া করে।'

অহনা বিশ্বাস জানিয়েছিল : ' আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ শুধু নোবেল প্রাইজ প্রাপক হিসাবে জানে বলেই সেটা হারানো নিয়ে এত হৈচৈ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ভাবনাই যে শান্তিনিকেতন থেকে চুরি হয়ে গেছে। '

মনীষা বলেছিলেন : ' এতদিনে জানলেম আমাদের জন্য রবীন্দ্রনাথের একমাত্র উত্তরাধিকার ছিল নোবেল মেডেলটি। ( ইহা কি কলোনিয়াল হ্যাংওভার --- পণ্ডিতেরা বলতে পারেন। ) কারণ " মুক্ত " রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কেচ্ছা খুঁজে বেড়ানো লেখক , রবীন্দ্রগানের  ভুল গায়নে শব্দ বদলানোয় কুড়োনো গায়ক- কি ...   ... '

সজল দে লিখেছিলেন : ' অনেক বছর আগে যখন সোমনাথ হোড়ের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য চুরি যায় কলাভবন থেকে, তখন এত হইচই হয়নি। অথচ রবীন্দ্রনাথের নোবেলপদক চুরি যাবার পর বলা হচ্ছে এটা জাতীয় লজ্জা। আমার মনে হয় , বাঙালি কাচ আর হিরের পার্থক্য জানে না। এটা জাতীয় লজ্জা। '

সাবাশ সজল ! বাঙালিদের গায়ের চামড়া কতটা পুরু তার তুলনা টানতে গিয়ে আমি কোনো প্রাণীকে উপস্থিত করে তাকে লজ্জা দিতে চাইলাম না।

 খায়ারুল আনাম , ' সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা ' -র সম্পাদক , - এর রচনাটি বেশ দীর্ঘ। এই রচনার এক জায়গায় খায়ারুল লিখেছিলেন :

' ...   ...   এসব তো আপাতদৃষ্টিতে বাইরের লোকদের চুরির ঘটনা। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের কর্মীর বিরুদ্ধেই তো চুরির অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে তথ্যভিত্তিক জানানো সত্ত্বেও তারা কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন ? '

এখানে খায়ারুল যে প্রশ্নচিহ্নটি রেখেছিলেন তার উত্তরও আমাদের অজানা নয়।

এখন আবার বাইরের চোর বনাম ভেতরের চোরদের একটা  দড়ি টানাটানি চলছে। আমরা আমাদের পুরোনো একটা লোককথা আর একবার ঝালিয়ে নিই :

চোরে চোরে মাসতুতো ভাই !

নস্টালজিয়া ২২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ২২

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



এখন হেমন্ত। সদ্য শেষ হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ শারদীয় উৎসব দুর্গাপুজো। কেমন যেন উৎসাহহীন উৎসবের মধ্যে কাটল এবারের পুজো। অতিমারীর পরিস্থিতিতে এখন আন্ লক পর্ব চলছে। এই করোনা আমাদের অনেক নতুন কিছু শেখালো। পুজোর কদিন ছুটির পর এখন  আবার অন লাইনে পড়াশোনা শুরু হলো। লক্ষ্মী পুজোও হয়ে গেল চড়া বাজার দরের মধ্যেই শুনশান ভাবে। এইসময় আমার খুব মনে পড়ে ফেলে আসা ছোটবেলার দিনগুলো। একমাস পুজোর ছুটি থাকতো আমাদের তখন। কালীপুজো দীপাবলির পর স্কুল খুলতো। কদিন স্কুলের পরেই  হতো বার্ষিক পরীক্ষা। উজ্জ্বল প্রজাপতির ডানার রঙে চঞ্চল ছিল  তখন উৎসবের রঙ। নতুন জামার গন্ধ লেগে থাকত গায়ে, মনে ছড়িয়ে থাকত কোজাগরীর আলো। সদ্য কিশোরী কাল। পুজোর প্যান্ডেলে বাজতে থাকা পুজোর গানগুলো ... কিশোর কুমারের 'আমার পূজার ফুল ভালবাসা হয়ে গেছে', মহম্মদ রফির , 'পাখিটার বুকে যেন তির মেরো না' , আশা ভোঁসলের ' তোমার ঐ ঝর্ণা তলার নির্জনে' মনে গুনগুনিয়ে সদ্য  অনুরণন তুলতে শুরু করেছে। কী যেন পেতে চায় মন তা মন জানত  না ! এ এক অপূর্ব মুগ্ধতা ছিল আমার। 

চিরকালই প্রকৃতির সাথে সখ্যতা ছিল। প্রত্যেকটি ঋতুর পৃথক সৌন্দর্য আমি খুব ছোট বেলা থেকেই অনুভব করতাম। হেমন্তের হালকা হিমেল বাতাসে কুয়াশার চাদরে মোড়া দিনগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে আজ। আমাদের বাড়িতে কোজাগরী  লক্ষ্মী পুজো হতো না। ঠাকুমা বলতো ঐ দিন কোনো নবজাতক  আমাদের পরিবারে জন্মগ্রহণ করলে লক্ষ্মীপুজো করা যাবে। অধিকাংশ বাড়িতে খুব ধুমধাম করে মা লক্ষ্মীর পুজো হতো। পাড়ার অনেকের বাড়িতে আমাদের  পুজোর নিমন্ত্রণ থাকতো।প্রথমদিকে যাদের বাড়িতে যেতাম সেখানে ফল প্রসাদ খেয়েই পেট ভরে যেত। অনেক রকম নারকেল নাড়ু করত এই পুজোয় সবাই। তাছাড়া  লুচি, খিচুড়ি,  তরকারি, ভাজাভুজি,  চাটনি,  পায়েস। কাদের বাড়িতে কী প্রসাদ খেতাম সেসব এখনও মনে পড়ে।

শব্দব্রাউজ ~৪ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা

 শব্দব্রাউজ ~৪ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা



তেঘরিয়া । বিপাশা  আবাসন  ২৪ ।  ১০। ২০২০ সকাল  ঠিক ৮ টা । মহাষ্টমীর পুজো  ।  মাইকে মন্ত্রপাঠ ভেসে আসছে ।

শব্দসূত্র:   সমঝদার শ্রোতৃকুল

সমঝদারেরা ফেসবুকে লাইক কমেন্ট নেই । তারা দেখে,  চাখে । ভেতরে ভেতরে । যেন ফল্গু প্রবাহ । ও প্রকৃতি! কত লৌকিক, তার ভেতরে বাসা বেঁধে কত অলৌকিক । গয়ার পিন্ডদানের সময় প্রেতাত্মার আকাঙ্ক্ষা তাই বিশ্বাস অবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা করে । সবই সমঝদারের জন্য ।

শ্রোতৃকুল কখনো মাথায় তোলে,  কখনো মাটিতে আছড়ায় । শ্রোতৃকুলরা মানুষ । মানুষের হরেক নাম পাঠক শ্রোতা কবি সমঝদার বিদগ্ধ .......


আটপৌরে কবিতা ৭-৯ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

 আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

"আই-যুগ"-এর কবিতা



৭.

পাখিদের সঙ্গম দেখে

ম্যানগ্রোভের

সালোক সংশ্লেষ পুনরাধুনিক হয়

৮.

প্রতিদিন নক্ষত্ররা সঙ্গমে

মিলিত

হলে আঁধার কমতে থাকে

৯.

সমুদ্ররা সঙ্গম করে

আর

মাছে ভর্তি হয় বণিকেরা

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

শব্দকল্পদ্রুম || রথীন বণিক || অন্যান্য কবিতা

শব্দকল্পদ্রুম

রথীন বণিক




আজকাল ভেজাই না কেন তুমির অ্যাড বোকামো চা মরে 

ফুটলে অত্যন্ত প্রয়োজন ডোররুম

মহাদেব পাবনারা 

চুল কাই জলাতঙ্ক

ওর ফিরে মচকালে 

ড্রেস টপ

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে 

পানিতে

মিশেই চলে





কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার || মেঘ বৃষ্টি চাঁদ । বিপুল আচার্য । বিবর্তন

 কিছু বই কিছু কথা।  নীলাঞ্জন কুমার



মেঘ বৃষ্টি চাঁদ । বিপুল আচার্য । বিবর্তন
। দশ টাকা ।


ইদানিং যদিও কবি বিপুল আচার্যের  কবিতা তেমন দেখা যাচ্ছে না,  তবু এক সময় বিপুলের বহু ভালো কবিতা পাওয়া গিয়েছিল লিটল ম্যাগাজিনের পাতায় । উত্তরবঙ্গের দিনহাটায় বসবাসকারী  এই কবি সারা পশ্চিমবঙ্গে বেশ ছড়িয়ে পড়েছিলেন কবিতার ভেতর দিয়ে । তাঁর ২০০৩সালের কাব্যগ্রন্থ ' মেঘ বৃষ্টি রোদ' পুণঃপাঠের পর দোলা দেয় এসব পংক্তি:  ' শিল্পসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য মুছে যায় এভাবে/  শীতকালীন বৃষ্টির হাত ধরে- ' ( ' ইচ্ছে মুখোমুখি  ' ) , 'চড়ুইপাখি বিষয়ক তীব্র অন্ধকার যাপনের প্রাচীন/  কারবার সমীকরণ খোঁজে  ফিউজ কথোপকথনের কাছে । ' ,  ' অন্ধত্ব জীবন মুছে যায় সম্পর্কের অন্য অন্বেষণে । ' ( ' চেনা মুখ বিষয়ক ') যা এখনো প্রাসঙ্গিক ।
                বিপুলের কবিতার  ঈর্ষণীয় দিকটি হল তাঁর সংযম জ্ঞান । খুঁজে পাওয়া যায় না একটিও অপ্রয়োজনীয় শব্দ । এক বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে তাঁর প্রতিটি লাইন গড়ে তোলার আগ্রহ অনেকাংশে আলাদা করে তোলে তাঁকে । কারণ : ' তবুও ../ আকাশ স্থির কান্নালিপি  শুনে শুনে ।' ( ' কান্নালিপি ' ) , ' পাখিরা আইন ভাঙে না/  দীর্ঘ নিখুঁত পরিক্রমণে ' ( ' যাত্রাযাপন ' )-এর মতো উজ্জ্বল পংক্তি তাঁর থেকে জন্ম নেয় ।
                 এই ক্ষীণতনু  কাব্য পুস্তিকাটির ভেতরে যেতে কিছু মগ্নতা প্রয়োজন । তাঁকে যে এখন প্রয়োজন তা বলা যায় বইটি পড়ে । তবে পল্লব বরণ পালের বইটির সঙ্গে অমানানসই প্রচ্ছদ কেন যে আসে তা রহস্য । প্রচ্ছদ দেখলে মনে হয় আজ থেকে আশি বছর আগের কবিতা ছাপা হয়েছে ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...