শব্দকল্পদ্রুম
রথীন বণিক
আজকাল ভেজাই না কেন তুমির অ্যাড বোকামো চা মরে
ফুটলে অত্যন্ত প্রয়োজন ডোররুম
মহাদেব পাবনারা
চুল কাই জলাতঙ্ক
ওর ফিরে মচকালে
ড্রেস টপ
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
পানিতে
মিশেই চলে
শব্দকল্পদ্রুম
রথীন বণিক
আজকাল ভেজাই না কেন তুমির অ্যাড বোকামো চা মরে
ফুটলে অত্যন্ত প্রয়োজন ডোররুম
মহাদেব পাবনারা
চুল কাই জলাতঙ্ক
ওর ফিরে মচকালে
ড্রেস টপ
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
পানিতে
মিশেই চলে
কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার
সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী
১৮৩.
আজ লিখতে বসেই ' ঝাঁপি ' শব্দটি এসে উপস্থিত হল। আর কোনো শব্দ এসে গেলে তাকে যোগ্য মর্যাদা দেবার জন্য আমি সবসময় অভিধানের ওপর নির্ভর করি । অভিধানে কী লেখা আছে দেখুন :
ঝাঁপি বি ---- বেত , বাঁশ বা তাল বা খেজুরের পাতা দিয়ে তৈরি ঢাকনাওয়ালা ঝুড়ি [ সাপের ঝাঁপি ]।
বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান বলছে ঝাঁপি শব্দটি বিশেষ্য। এবং উদাহরণ : সাপের ঝাঁপি।
আমাদের গ্রামজীবনে ' লক্ষ্মীর ঝাঁপি 'ও একটি প্রচলিত শব্দ।
এই প্রসঙ্গে একটি স্বীকারোক্তি আগেভাগে করে রাখতে চাইছি , আমার যা সঞ্চয়ের পরিমাণ তা দু-চারটে ঝাঁপিতে ধরবে না, প্রয়োজন শতাধিক ঝাঁকামুটের। এটা যে কেউ ঝাঁকি-দর্শন করে দেখে নিতে নিতে পারেন। আর যাঁরা ঝাঁকি-দর্শন করতে জানেন না , তাঁরা উঁকি দিয়ে কিংবা আড়াল থেকে দেখে নিতে পারেন।
এখন দ্যাখা কিংবা না-দ্যাখাতে এই ধারাবাহিকের কিছুই আসবে-যাবে না। ধারাবাহিকটি নিজস্ব গতিপথ ধরেই এগিয়ে যাবে।
আর আড়াল থেকে দ্যাখা নয় , সরাসরি মনোযোগ দিন এই লেখাটিতে। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন :
কবিতাপাক্ষিক ২৭৬ (১৭ এপ্রিল ২০০৪ ) -এ মাঝের পাতায় ছিল হলুদ ম্যাপলিথো কাগজে ছাপা মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায়- সংকলিত ৫০ টি পরামর্শ।
আর পরামর্শগুলির পর ছিল এডিটোরিয়াল নোট। প্রথমে সেই নোটটি পড়ে নেওয়া যাক।একটা বক্স-এর মধ্যে ছাপা হয়েছিল সেই নোট।
' প্রভাত চৌধুরী গত সপ্তাহে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন। সেখানে রুদ্র কিংশুকের বইয়ের আলমারির কাচে এই ৫০টি পরামর্শ সাঁটা ছিল। নববর্ষে গ্রাহক এবং পাঠকদের এটিই আমাদের উপহার।পত্রিকা থেকে খুলে এটিকে চোখের কাছাকাছি রাখুন , অন্তত কিছুদিন ।
দুই পৃষ্ঠা জুড়ে হেডিং -এ লেখা হয়েছিল :
নতুন বছরের জন্য ৫০ পরামর্শ □সংকলক মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মনীষা যে শান্তিনিকেতনের একজন আত্মজন , এটাও জানিয়ে রাখলাম। এখন ওই ৫০ পরামর্শ থেকে টেন পার্শেন্ট অর্থাৎ মোট ৫টি পরামর্শ এই লেখায় ব্যবহার করছি। সেই সঙ্গে ঘোষণা করছি কবিতাপাক্ষিক/ আবার প্রতিমাসে আবার নিয়মিত প্রকাশ করা সম্ভব মনে হচ্ছে।কবিতাপাক্ষিকের আগামী কোনো সংখ্যায় ৫০টি পরামর্শ আবার প্রকাশ করব। সেটা নববর্ষেও হতে দোষ কী ! এখন পরামর্শ-পর্বে :
১ ॥ বছরে অন্তত একদিন সূর্য ওঠা দেখো।
৬ ॥ তোমার হাত দিয়ে সুন্দর কিছু তৈরি করতে শেখো।
১৫ ॥ লোকে যেন বোঝে তুমি কীসের পক্ষে আর কীসের বিপক্ষে।
৩৫ ॥ ভালো আইডিয়া কাজে লাগাতে দেরি কোরো না। হতে পারে আর কেউ সেটা ভেবেছে। সাফল্য তারই আসে যে প্রথমে এগোয়।
৪৩ ॥ মৃত্যুর আগে যে পঁচিশটা কাজ তুমি করতে চাও তার তালিকা বানাও । মাঝে মাঝে সেটা দেখো।
৫০ -এর মধ্য থেকে যে ৫টি নির্বাচন করলাম , সেটি নিজের মর্জি মতো। বাকি ৪৫টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
আমার কথা হল , আমরা যেহেতু মানুষ , আমরা সকলেই পরামর্শ দিতে যতটা পছন্দ করি অপরের পরামর্শ শুনতে কখনোই আগ্রহ প্রকাশ করি না ।
ঝাঁপি নয় , আমার ঝাঁকাগুলির মধ্যে আর কী কী আছে , তার কিছু কিছু দেখানোর চেষ্টা করা যাক।
স্মৃতি কথা
"আই-যুগ"-এর কবিতা
শব্দব্রাউজ ৩ || নীলাঞ্জন কুমার
আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস
"আই-যুগ"-এর কবিতা
৪.
একাধিক সঙ্গম পেরিয়ে
মনস্তত্ত্বের
ভিতরে পুনরায় মিলিত হয়েছি
৫.
বর্ষায় যেমনটি গেয়েছিলে
সঙ্গম
বসন্তে বদলে গেলো অন্তরা
৬.
তোমার সঙ্গম ভাবনা
বাস্তবে
পুরোটাই স্বপ্নের ভাষায় রচিত
কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার
নকশি গল্প । নীলিমা সাহা । কবিতা পাক্ষিক । দশ টাকা।
পোস্টমডার্ন কবিতার চিহ্ন বহনকারী কবিতা এখনো অনেকেই লিখে চলেন, যদিও তা আজকের তরুণ কবিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । ' আই যুগ ' আন্দোলনে যেসব কবিতা নিয়ে ভাবনা চলেছে তাতে অনেকেই যে এর বিষোদ্গার করেছেন তার প্রমাণ ও আছে । কিন্তু ২০০২ সালে অর্থাৎ কবি নীলিমা সাহার এই বইটি যখন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন পোস্টমডার্ন নিয়ে কবি ও পাঠকদের বিশেষ আকর্ষণ দেখা গিয়েছিল । দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবার যখন বইটি পড়ছি তখন বোঝা যায় পোস্টমডার্ন চিহ্নগুলো থেকে কেন আজকের কবিতা বেরিয়ে এসেছে । যাই হোক এই কবি তখন লিখেছিলেন: ' মানব পোশাকে দেখি ভোর ওঠে শূন্যের গভীরতা থেকে ....' ( ' জিরো আওয়ার ' ) 'পূর্ব পশ্চিমের ভিত আগলে তবু আঁকি টেরাকোটা হর্ম্যতল ' (' সার্ভে সংক্রান্ত কিছু তথ্য- ৩')এর মতো লাইন জ্যাক দেরিদা র বিনির্মাণকে সহজভাবে বুঝিয়ে দেয় আর কবি নিজের চেতনার সঙ্গে কবিতা লিখলেও তার ভেতর বিনির্মাণ কৌশল খেলা করে ।
কার্যত এই কবি কবিতা লিখতে এসেছেন, যখন বাংলা কবিতার ক্লিশে অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য কিছু কবি প্রচেষ্টা নিচ্ছেন । তাই আলুথালু দেশ- এর অহংকারী ঠোঁট তবু বেসুরো হতে দেয় না । ' ( ' আলো ও সুর বিষয়ক কবিতা '), ' ক্লান্ত চোখের পাতার তবু অপেক্ষা যদি কেউ নয়নে চুম্বক রেখে/ স্বপ্ন বুনতে আসে ।' ( ' ক্লান্ত চোখের পাতা ' ) পংক্তির ভেতরে কবির সে সম্ভাবনা প্রকাশ পায় , তবে নয়নের মতো শব্দের ব্যবহার নিয়ে একটু ভাবনার দরকার ছিল ।
কবি অবশ্যই তাঁর মতো করে কবিতা লেখার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তার ভেতরে অতৃপ্তি আছে । আজও তিনি লিখছেন, অবশ্যই ভালো । রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ বিমূর্ত মেজাজে কবিতার দিকগুলোর কথা চিহ্নিত করে। যদিও অপূর্ণতা রয়ে গেছে ।
ফেলে আসা আমি
নিলয় মিত্র। কবিতা ।।এক।।
চোখের পাতায় ঘুম নেমে এলে
কালজানির মাথার উপরে
উঠতেন জেগে
চিত্রা ফাল্গুনী অনুরাধা
স্বাতী শতভিসা।
ঠাম্মার হবিস্যিঘরের পেছন
থেকে
গন্ধলেবুর গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ত
উঠোনে ঘরে।
শুরু হতো কালজানির রাতের
সংসার,
ব্যাপারীদের ছই নৌকা আর
বৃহস্পতি রবিবার হাট নৌকার
রান্নার
ছোঁক ছাঁক শব্দ,জেলে ডিঙির
গীতিময় দ্যোতনা
জলযাত্রার নাবিকদের
ভাটিয়ালি ভাওয়াইয়া
বুক ধরে দিত টান,
উত্তরের মেঘ ভাসতে ভাসতে
সনচারিত হত প্রণয় নির্মাণে।
"আই-যুগ"-এর কবিতা
শব্দব্রাউজ- ২ । নীলাঞ্জন কুমার
সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী
১৮২.
গতকাল কবিতার কিয়স্কটি নিয়ে গিয়েছিলাম শিবথানে , চড়কগাছের সামনে। তারপর যা লিখেছিলাম , তা পড়ুন :
' সেদিন সন্ধের মুখে কালবৈশাখী আর তুমুল বৃষ্টিপাত। প্রথমে ঢাকিরা ঢাক নিয়ে শিবথান পরিত্যাগ করল, তারপর ভোক্তেরা, যাদের এখানে সন্ন্যাসী বলা হয়। কিন্তু কবিরা তাদের কিয়স্ক ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, এক ইঞ্চি নড়েননি। সামনের দিকে সুব্রত চেল, পেছনের দিকে আমি আর আমার ভগ্নীপতি কান্তি লাহা দাঁড়িয়েছিলাম কিয়স্কের স্ট্যান্ড ধরে। পাকা আটচালার এক কোণে হয়েছিল কিয়স্কটি। বৃষ্টি থেকে মাথা মাথা বাঁচাবার জন্য সবাই ঢুকতে চাইছিল আটচালার ভেতর। কিয়স্কের সাইডের কাপড় প্রায় ছেঁড়ার উপক্রম, খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। বৃষ্টি থামার পর যখন কদমগাছ ফুটছে ( কদমগাছ এক-ধরনের বাজি ) , তখন কিয়স্কের ভেতরে ক্যাশমেমো কাটছেন রাজকল্যাণ চেল। আর ক্রেতাদের কেনা বই বা ক্যাসেটে স্বাক্ষর করে চলেছি আমি। এই প্রাপ্তিই আমাকে আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার রসদ জোগাবে।আমি জানি মান্যবর শঙ্খ ঘোষের সুপারিশে দেজ থেকে আমার শ্রেষ্ঠ কবিতা প্রকাশিত হবে না বা সুনীলদার সুপারিশে আনন্দ থেকে কবিতার চটি বই।কিন্তু আমার বই বিক্রির সংবাদ যাঁরা রাখেন প্রকৃত তথ্য জানেন ।
২৫শে বৈশাখ থেকে ১৫ দিন কলকাতার ১৫টি অঞ্চলে কবিতার কিয়স্ক রাখা হবে। আপনারা দেখবেন যতই বৃষ্টি হোক যতই ঝড় হোক আমাদের কিয়স্ককে টলাতে পারবে না, আমরা ঠিক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকব।'
এরপর কয়েকটি প্রতিক্রিয়ার কথা লিখেছিলাম, এক থেকে পাঁচ । এখন আমি এই ৫ টি পয়েন্ট সংক্ষেপে জানাতে চাইছি । পড়ুন সেদিনের স্পর্ধাকথা :
১ ॥ একটি বাণিজ্যিক পত্রিকায় কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের আগে তরুণদের সুযোগ কম ছিল। ছয়ের মধ্যে খুব বেশি হলে দুই। পরে এটা ছয়ে ছয় হয়ে যায়।কারণ সমস্ত প্রান্তের তরুণতম কবিরা কবিতাপাক্ষিক- ছাতার নীচে সমবেত হচ্ছিল। এটাকে ভাঙার প্রয়োজন ছিল ভারপ্রাপ্ত কর্মীর।
২ ॥ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের রূপচর্চার পত্রিকায় হঠাৎ করে কবিতা ছাপা শুরু হল। কবিতাপাক্ষিক-এর গর্ভে -জাত আরো কিছু কবিকে জায়গা করে দেবার জন্য।
৩ ॥ পাঁচের দশকের বিশিষ্ট পত্রিকা কোমা-য় আচ্ছন্ন কৃত্তিবাস- কে নতুন করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হল। কী এমন প্রয়োজন পড়েছিল !
হ্যাঁ , প্রয়োজন একটা ছিলই। পোস্টমডার্ন চিন্তা ও চেতনার সঙ্গে তরুণতমদের আকর্ষণ থেকে মুক্ত করার জন্য খুবই জরুরি ছিল কৃত্তিবাসের কোমামুক্তির।
৪ ॥ কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি পাক্ষিক কবিতাপত্রিকা বাজার এসেছিল। কিন্তু কোনোটাই কোনো দাগ কাটতে পারেনি।
৫ ॥ তখন কবিতাপাক্ষিক প্রকাশিত হত
অল্টারনেটিভ শনিবার। এটা শুধু কলকাতার জন্য নয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাশহরেও অল্টারনেটিভ শনিবারে পৌঁছে যেত কবিতাপাক্ষিকের নতুন সংখ্যা। এটাও খুব ছোটোকথা ছিল না। আর সব থেকে বড়োকথা কথা বা বড়ো গলা করে বলেছিলাম যে কথাটি , তার নাম দিয়েছিলাম :
আমার স্পর্ধা , আমার কথা
এই সাবহেডিং-এ লিখেছিলাম :
' কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের আগে বাংলাকবিতা ঠিক কোন অবস্থায় ছিল বা কীভাবে লেখা হত আর কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর বাংলাকবিতা কী অবস্থায় আছে বা কীভাবে লেখা হচ্ছে সেটার একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করুন , করে দেখুন আমরা সত্যিই কি বাংলাকবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণ করতে পেরেছি ? যদি না পারি তাহলে, আমাদের নির্বাসন দিন কোনো দ্বীপে অথবা একটি পোস্টকার্ড পাঠিয়ে আমাদের অহংকারকে চূর্ণ করে দিন।'
আগামীকাল এই প্রসঙ্গে আরো কিছু কথা বলব। সঙ্গে নির্বাচন করব আরো কয়েকটি জলাশয়কে , যেখানে মনের সুখে সাঁতার কাটবো ৷
বিবৃতি
আটপৌরে কবিতা ১-৩
অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা
১.
সঙ্গমের গন্ধ দূর
দূরান্ত
হতে অনুভব করা যায়
২.
ঝড় এসে গেলেও
সঙ্গম
চলতেই থাকে চলতেই থাকে
৩.
সঙ্গমের নাম স্টেশন
পরের
স্টেশনে কাশফুলে মেতে যাবো
মেদিনীপুর ফিল্ম সোসাইটি হলে "বিজয়া সম্মিলনী"
আজ মেদিনীপুর ফিল্ম সোসাইটি হলে লেখক-শিল্পীদের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হল ৷ পাঞ্চালী চক্রবর্তী রীতা বেরা তাপস মাইতি বিশ্ব বন্দোপাধ্যায় সিদ্ধার্থ সাঁতরা প্রমুখ বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন ৷
ধরা দেয় তা'র কাছে
দীপক কর
কবিতার ঘরে কেউ
কড়া নেড়োনা
দরোজা খুলবেনা।
কা'রো ডাকে সে সাড়া দেয়না
শুধু ধরা দেয় তা'র কাছে
যে-হৃদয়-কুসুমে মধুঝর্ণা আছে।
শব্দব্রাউজ- ১ । নীলাঞ্জন কুমার
মাটির প্রদীপ
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
আমি ছিলাম মাটির প্রদীপ আর তুমি রোজ সন্ধ্যেবেলা তেল ঢেলে দিয়ে যেতে গায়ে
সলতে পাকাতে ,তুলসী তলাতেই
মানাতো বেশ,আমি জ্বলতে জ্বলতে বলতাম
অন্ধকার দূর হোক...আলো জ্বলুক ... আলো ...ঘরভর্তি আলো নিয়ে তুমি হ ও আলোর রোশনাই....
তোমার পেটে যেদিন সন্তান এলো
অফিস থেকে ফিরেই তোমার স্বামী আনন্দে আত্মহারা হয়ে কোলে তুলে নাচালো খুব
তুমি বল্লে করো কী,কেউ এসে পড়বে...
আসলে আমি সেদিন ই বুঝলাম
আলো সম্পর্কে শেষ কথা বলা হয় নি এখনো
এখন আর সলতে পাকাও না
তেল দিতে আসোনা
আর আসবেই বা কি করে, তুলসী তলাটায় তো নেই, সেখানে এখন ফ্ল্যাট বাড়ির বাথরুম
তোমার ও সময় কাটে টি ভি র পর্দায়
তবু তুমি মাঝে মাঝে বারান্দায় এসে দাড়াও
হাফিয়ে উঠলে কিংবা আকাশে
নিম্নচাপ হলে আর এদিকে ওদিকে চোখ ঘুরিয়ে
খোঁজো, আমি জানি তুমি কি চাইছো তখন
আলো,এক টুকরো আলো...কিন্তু সখি
তা কি আর সম্ভব ?সম্ভব না
কেন ? তুমি তাও জানো....
সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী
১৮১.
গতকাল বলেছিলাম ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' শীর্ষক যে লেখাটি কপা ২৫১ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল ৩ মে ,২০০৩ , সেটি এই লেখায় আনার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আজ ওই লেখাটি আর একবার পড়লাম। পড়ার পর দেখলাম : এখনো পড়া যাচ্ছে। পড়া যখন যাচ্ছে , তখন পাঠকদের পড়াতেও অসুবিধা হবে না। অতএব শুরুটা পড়তে থাকুন :
' আমার স্ত্রী রাজমাতা যূথিকা চৌধুরানি একটি রচনার কথা প্রায়ই বলেন, যেটি তিনি লিখবেন, তার নাম " কত পাখি এল গেল "। আমি ঠিক এভাবে ভাবতে অভ্যস্ত নই। আমি বিশ্বাস করি মানুষ এবং পাখির ফিজিওলজি এক নয়। আর মানুষকে পাখিরূপে দেখা আমার চোখের পক্ষে কঠিনতম কাজ।আমার স্ত্রী মানুষের ডানায় পালক সংস্থাপনের প্রক্রিয়া জানলেও জানতে পারেন ,আমি জানি না। তবে আমার স্ত্রী যাঁদের পাখিরূপে চিহ্নিত করেন , আমি তাঁদের চিনি কবিযশোপ্রার্থী রূপে --- এটুকু লিখতে দ্বিধা নেই। পাখিদের যাতায়াত বিষয়ক রচনাটি বর্তমান সংখ্যায় প্রকাশ করা গেল না, পরবর্তী কোনো সংখ্যায় সেটি শোভিত হবে।
একদিন শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় আর আমি গাড়ির পেছনের সিটে, কোনো চিত্রপ্রদর্শনীতে যাচ্ছি , হঠাৎই জানতে চাইলাম --- তুমি কী করে কবিতাপাক্ষিকে ভিড়লে ? শুভাশিস বলতে শুরু করল সেই রূপকথা , নাকি গল্প ! সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলাম এবারে কবিতা- পাক্ষিক-এর ২৫শে বৈশাখের সংখ্যার বিষয় হবে
" আমাদের কবিতাপাক্ষিক"।সেই মতো প্রস্তুতি , তার ফলস্বরূপ এই সংখ্যা ।
শিবসেনাপ্রধান কোনো আত্মকথা লিখেছেন কিনা জানি না , জানার কথাও নয়, তবে কবিতাপাক্ষিক প্রধানের লেখাটা বাধ্যতামূলক। তাই লিখছি '।
এখন কী লিখেছিলাম সেটিও বা তার কিছু কিছু নমুনা তো পেশ করা যেতেই পারে । কেউ আপত্তি করতে যাবেন কেন খামোখা ।আর আপত্তি করলে তা শুনতে আমি বাধ্য নই। বাধ্য অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তাকে ঝাঁট দিয়ে বের করে দেওয়া। যেমন তখন দিয়েছিলাম। পড়ুন ঝাঁটার কার্যবিবরণী :
' বর্ধমানে কবিতাপাক্ষিক ৫ প্রকাশ উপলক্ষে একটি সভা হয়েছিল। ওখানে জানতে পেরেছিলাম বর্ধমান জেলার একটি পত্রিকা কবিতাপাক্ষিক সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের আনুগত্যের অভিযোগ তুলেছিল । আমরা নাকি প্রতিষ্ঠানের হয়েই কাজ করতে চাইছি।সেই মতামতটি কবিতাপাক্ষিক২০০-তে একবার প্রকাশিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আমি ওই পত্রিকাগোষ্ঠীর একজনকে জানিয়ে ছিলাম যে বম্বের চলচ্চিত্র তারকা নীতু সিং এসে কবিতাপাক্ষিক বিক্রি করবেন মেট্রোর উলটো দিকে, আপনারা আসবেন। কবিতার জন্য প্রয়োজনে আমি এটাও করতে পারি । এটুকুই জানাতে চেয়েছিলাম।'
ওটা ছিল কথার কথা। নীতু সিং নামটা ব্যবহার করাটা একটা ধমক বলে মনে হয়েছিল তখন। ওইসব লিটল ম্যাগাজিনের কর্মকর্তাদের পেছনের সিটে বসে লেজ নাড়া ছাড়া অন্য কোনো কাজ নেই । কাজ করার বাসনাও নেই। সেই যোগ্যতাও নেই । আছে শুধু প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মূলগায়েনের মূল-বুলিতে গলা মেলানো ।
নীতু সিং -এর বিকল্প হিসেবে আমরা উপস্থিত করেছিলাম ' কবিতার কিয়স্ক '। সেই কিয়স্ক সম্পর্কে কী লিখেছিলাম, সেটুকু পড়ে দেখুন।
' আমরা একটা কিয়স্ক বানিয়েছি । সেই কিয়স্ক নিয়ে ইতিমধ্যে গেছি শুশুনিয়ায়, ছান্দারে ।শুশুনিয়ায় ছিল ধারার মেলা , লক্ষাধিক লোকের সমাগম।থাকার কথা ছিল তিনদিন । প্রথম দিনেই প্রায় সব বই শেষ ।আমরা শেষের দু-দিন খালি কিয়স্ক সাজিয়ে বসে থাকতে পারিনি। শুশুনিয়ার মানুষ , কবিতাপ্রেমীদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। উচিত ছিল শেষ দু-দিন থেকে যাওয়া ।গাজন এবং চড়ক বাঁকুড়া জেলার বেশ কয়েকটি জনপদে হয়ে থাকে, তার মধ্যে জগন্নাথপুর পাঁচাল বাঁকুড়া জেলার বেশ কয়েকটি জনপদে হয়ে থাকে, তার মধ্যে জগন্নাথপুর পাঁচাল বাঁকুড়া আর ছান্দার উল্লেখযোগ্য। আমরা ছান্দারের মোড়ে দিনগাজন আর রাতগাজনের দিন বিকেল ৪টে থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত কিয়স্ক সাজিয়ে বসেছিলাম ।এই অঞ্চলে কবিতার বই বিক্রির রেওয়াজ নেই বললেই চলে । কিন্তু যতক্ষণ কিয়স্ক ছিল ততক্ষণই আগ্রহী মানুষজন ভিড় করে কিয়স্কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন । সামর্থ্য অনুযায়ী বই কিনেছেন । চড়কের দিন আমরা কিয়স্কটিকে নিয়ে যাই শিবথানে , ঠিক চড়কগাছের সামনে ।'
সেসবের জন্য আগামীকাল
কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার
অনৃতভাষণ । আবদুস শুকুর খান । কবিতা পাক্ষিক । দশ টাকা ।
' মা ; কতদিন পরে; আঃ কতদিন পরে/ উড়ে এলে আত্মার পাখি হয়ে নির্ঘুম রাতে । ' ( ' মা ') এর ভেতর দিয়ে কবি আবদুস শুকুর খান যে সন্ধান করে যান, তার ব্যাখ্যা দেন আর মন্ত্রমুগ্ধ করেন তাঁর আঠারো বছর আগের কাব্যগ্রন্থ ' অনৃতভাষণ ' এর মাধ্যমে । যাকে পুনঃপাঠ করতে গিয়ে পেয়ে যাই এধরনের অলঙ্ঘ অথচ সহজ উচ্চারণ: ' বুঝি, কী একাত্মে কারা যেন লঘু পায়ে/ এগিয়ে যাচ্ছে কবরভূমির দিকে ।/ কে যেন ডাকছে শূন্য থেকে শূন্যের ভিতরে ...( ' সন্মোহন ') , ' সুন্দরের সুন্দর হবো শত ইচ্ছা আমার/ কুঁড়িতে ঝরে যায় স্বপ্ন, তোমার আমার ।' ( 'সুন্দরের গন্ধ ') তন্নিষ্ঠ করে তোলে ।
আবদুস শুকুর সেই জাতের কবি যিনি ভীষণভাবে সংযমিতার পরিচয় দেন তাঁর কবিতায় । বিভিন্ন কবিতা তাঁর পড়তে পড়তে বুঝে নিই যে তাঁর ভেতরের গভীরতা মগ্ন পাঠকের জন্য গচ্ছিত রাখেন ।অমগ্নদের সন্তুষ্ট করার দায় কোনমতে নেই । ' তুমিই পার/ পৃথিবীর স্মরণযোগ্য মৃত্যু তুলে দিতে/ তুমিই পার/ শাশ্বত প্রেমিক করে নিতে । ' ( ' যাবার বেলা ') -র সহজতা বশ করে পাঠককে । তখন নিজেকে ভেতরে ভেতরে ভাবতে শুরু করতে হয় । যা ধীরে ধীরে শুদ্ধ করে ।
কবির কবিতার দীর্ঘ পরিক্রমা সে কারণে সুখকর হয়ে ওঠে । তাঁকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে । 'অনৃতভাষণ ' বয়ে আনে সেই স্নিগ্ধ হাওয়া যা একান্ত অনুভবী। দীপান্বিতা হালদারের কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রচ্ছদ হতাশা জোগায় । প্রচ্ছদের কাগজের ও ছবির রঙ কোনমতেই সুসমন্ঞ্জসপূর্ণ নয় ।
সবাই মিলে সিনেমা হলে~ ২০
কান্তিরঞ্জন দে
অন্য ক্যানভাস-এর ২০বর্ষ, শারদ-১৪২৭ সংখ্যা (অনলাইন) প্রকাশ
মেদিনীপুর, ৩১ অক্টোবর || প্রকাশিত হল অন্য ক্যানভাসএর ২০বর্ষ, শারদ-১৪২৭ সংখ্যা (অনলাইন)। সংখ্যাটি একযোগে প্রকাশিত 'বাইফোকালিজম্ ' এর পাতাতেও। ফেসবুকের পর্দায় টাচ্ করে প্রকাশ করলেন কবি অচিন্ত্য নন্দী। উপস্থিত ছিলেন কবি সিদ্ধার্থ সাঁতরা, সঙ্গীত শিল্পী সমীর মহান্তি, চিত্র শিল্পী প্রসেনজিৎ মন্ডল, আলোকচিত্র শিল্পী রাকেশ সিংহ দেব, কবি ও সমাজ সেবিকা, রীতা বেরা এবং সম্পাদক, বিশ্ব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।এই সংখ্যায় রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের কবিতা গুচ্ছ। কবি শ্যামল কান্তি দাশ,গৌর শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়,প্রভাত মিশ্র, ধীমান চক্রবর্তী, অমিতাভ মৈত্র, শাহীন রেজা,শান্তা মারিয়া, সৌমিত বসু, তৌফিক জহুর, সৌর মন্ডল, সিদ্ধার্থ সাঁতরার কবিতা ছাড়াও অনেক কবিতাই উল্লেখযোগ্য । সপ্তদ্বীপা অধিকারী র গল্প অবশ্যই মন কাড়ার মতো। রয়েছে অচিন্ত্য নন্দী, অলোক বিশ্বাস এবং রুবী আদক পান্ডার তিনটি অসাধারন গদ্য। কবিতা,গদ্য ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ ও বহির্ভারতের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পীদের আঁকা ছবি এবং আলোকচিত্রীদের ছবিগুলি প্রসংশাযোগ্য।আছে বর্ষীয়ান কবি মোহিনী মোহন গঙ্গোপাধ্যায় এর সাক্ষাৎকার। অন্য ক্যানভাসএর এই সংখ্যাটিতে বিশ্ব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ আরো মাত্রা যোগ করেছে।