Friday, July 3, 2020

পূরবী~ ১৩ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১৩
অভিজিৎ চৌধুরী



এমন অনুর্বর হয়নি কখনও তাঁর সৃজনভূমি। গান লেখা যেন শেষ হয়ে এলো।দিনু যতোদিন ছিল সংগীত ভবন মুখরিত থাকত।নাটমঞ্চেও সে ছিল রাজা।গায়ক আগেই গেছিল,এখন যেন গীতিকারও বিদায় নিলো।স্বরলিপি তিনি কখনও লিখতে পারতেন না।শুরুতে লিখতেন জ্যোতিদাদা,ইন্দিরা আর অনেকে।তারপর দিনু এসে একাই সামলে নিলো স্বরলিপির ঝক্কি।স্মৃতিশক্তিও ছিল অসাধারণ। কিছু একবার শুনলে ভুলতো না।


প্রিয়জনের চলে যাওয়াতেও গান কখনও তাঁকে ছেড়ে যায়ইনি। কন্যা মাধুরীলতা দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা গেলো।মন বড় পীড়িত।অন্ধকারে চুপচাপ বসে আছেন।তারায় আকাশ ছেয়ে রয়েছে।দিনুর ঘর থেকে ছেলেদের গান শেখার শব্দ পান তিনি।দ্বারিক গৃহে থাকত দিনু।এখন সে ঘর শূন্য দেখে দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে অজান্তেই।দেহলিতে গিয়ে থাকলে দিনুর সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হতো।


মাকে দাহ করে তীর্থ বেদনা অনুভব করেছে কিন্তু পারলৌকিক ক্রিয়ার উপাচার,বিধি সেই শোক যেন শিথিল করে দিয়েছিল।

বাবার বেলা অফিসে যেতে হতো।লৌকিক ক্রিয়া আসল বেদনাকে ঢেকে দেয়।

কান্না আসে অবদমিত স্মৃতি থেকে।সে যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই,এতো বড় আত্মখণ্ডন!

ছিল আর ছিল না এই মস্তো ফাঁকের মাঝখানে জীবন তার আপন বেগে চলেছে।যেন মানুষের যাওয়া আসা দিনরাত্রির খেলা।কতো রাতে তীর্থ দেখেছে মৃত মানুষেরা প্রিয়তমরা তার চারপাশে এসে বসেছে।সেই হাসি, সেই কলহাস্য।

কামুর আউটসাইডারে এক নিরপেক্ষ শোকহীনতায় আচ্ছন্ন ছিল নায়ক।তার মধ্যে বেদনা ছিল নিশ্চয় কিন্তু যেন আলাদা আরোপিত কিছু নয়।তাই হয়তো মাধুরীলতার মৃত্যুতেও শান্তিনিকেতনের শারদোৎসব বন্ধ করেননি।যদিও সেবার জমলো না।

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || থানোস গোগোস- এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
থানোস গোগোস- এর কবিতা


থানোস গোগোস (Thanos Gogos, 1985)-এর জন্ম গ্রিসের লারিসা শহরে।  তিনি Thraka নামক একটি সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড (২০১৩) এবং গ্লাসগো (২০1৪)। তাঁর কবিতা ক্রোয়েশিয়ান ইংরেজি রুশ এবং স্লোভেনিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১.
আনুপূঙ্খিক তবুও অস্মরণীয়

ঈশ্বর
যোনি-ছাপ

নরম
নীল
শব্দ

 যখন তিনি ভেলকিতে তৈরি করেন
রাতের ভেতর
লোহা

ঈশ্বর
মুখোশপরা
 প্রতিশোধকারী

ভালোবাসা ও তোমার যুক্তিহীনতা
"কাঠঠোকরার থেকে মুক্তি"

তিনি
প্রচলিতমত বিরুদ্ধ

আমার চিরস্থায়ী অ্যালুমিনিয়াম দাঁত

লিঙ্গবোধহীন

যখন তারা উলঙ্গ সময়কে কাটাছেঁড়া করে
আর তুমি বেপরোয়াভাবে তাকে আঁকড়ে ধরো

 ঈশ্বর থাকেন
আত্মরোপিত

উৎপাদনের সম্পূর্ণ পরীক্ষায় প্রস্তুত প্রস্তুত

২.
কবিতা ১

কঠিনতম বুক
ছোট্ট ফুল থেকে নির্মিত
যা কিছুই তুমি এখন ভাঙো তার উপর তার উপর
সে ছড়াবে
কেবল
বরফ

৩.
কবিতা ২

আমাদের এখন এত বেশি বেশি বলার আছে
আমরা পাথর ধরে আছি

আর আমরা ভিড়ের ভেতর গাড়ি চালাই
 হারানো রাস্তা, তুমি চালাকি করো

যা কিছু এখন আছে তুমি তার সব
 তুমি ধরো আমি বলি আমি ছুঁড়ি আমি হাসি

আর আমি হেসেই চলি
যদিও তুমি অন্য জায়গায় চলে যাও

৪.
কবিতা ৩
তুমি এক হাতে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ছোট্ট মেয়েটিক
 অন্যহাতে আমাকে

 আর আমি ধরেছিলাম
গাছপালা
জলাশয়
 পশুপাখি

 সারাটা শীত ধরে শীত ধরে

রক্তদান শিবির


রক্তদান শিবির


নিজস্ব সংবাদ, কেশিয়াড়ি ০৩-০৭-২০২০ ||'করোনা' আর তার ফলে ঘটে যাওয়া এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার জন্য মানুষের বড়োই অভাব এ সমাজে। হাসপাতাল গুলোতে রক্তের বড়োই আকাল পড়েছে।আর সেই অভাব কিছুটা হলেও নিরসনের জন্য, যৌথভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের উদ্যোগ গ্রহণ করলো কেশিয়াড়ী ব্লকের "বিদ্যাসাগর জন্ম দ্বি-শত বর্ষ উৎযাপন কমিটি"ও "নালন্দা এডুকেশন সার্ভিস সোসাইটি"।কেশিয়াড়ী ব্লকের অন্তর্গত"খাজরা" বাজার সন্নিকটে খাজরা এস.সি.এম হাইস্কুলে আজ ৩রা জুলাই এই মহান উদ্যোগ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩৫জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন এবং এই মহৎ কর্মসম্পাদনে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করেছেন খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সেইসঙ্গে লাদাখের গালওয়াল  সীমান্তে যে কুড়িজন বীর জওয়ান শহীদ হয়েছেন,তাদের প্রতিও যোগ্য শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন যৌথ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে। প্রবাদপ্রতিম পুরুষ বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে।রক্তদান জীবন দান এই মহান উদ্যোগকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর দ্বিশতবর্ষ উৎযাপন কমিটির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সহ সভাপতি'হরেকৃষ্ণ সামন্ত'।জেলার সহ সম্পাদক'প্রভাত ভট্টাচার্য্য,কেশিয়াড়ী ব্লক কমিটির সভাপতি'সুভাষ চন্দ্র জানা',সম্পাদক প্রবীর ভট্টাচার্য্য,খাজরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক'সঞ্জয় মোদক' ও নালন্দা সোসাইটির সম্পাদক'চয়ন বেরা' ও সভাপতি'প্রবীর পাত্র', প্রমুখরা।এ হেন কর্মসূচি এই প্রথম নয়,যৌথ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ পুরো লকডাউন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে অভাবী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।কখনো শুকনো খাবার তুলে দেওয়া, আবার কখনো রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া প্রভৃতি সেবামূলক কাজ এই প্রত্যন্ত এলাকা জুড়ে ক্রমান্বয়ে বজায় রেখেছে।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

দিনকাল । অজয় নাগ । মাতৃমুখ । ত্রিশ টাকা ।

অজয় নাগ বেশ কিছু ছোট কবিতা লিখেছেন। যেগুলো তন্নিষ্ঠ হয়ে পড়লে বোঝা যায় তাঁর এই ছোট কবিতাগুলি কতখানি দামী হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে । তাঁর এই ধরনের এক ফর্মার কাব্য পুস্তিকা ' দিনকাল '-তে তার অন্যথা হয়নি : ' প্রতিটি জন্ম আমায় মনে করায়/  আমি বন্দি /মৃত্যু এসে খুলে দেবে বাহির ? ' ,
' পুরানো গল্পেরা বাইরে চেয়ার সাজায় না/  হাঁটতে হাঁটতে দেখি  - / সামনে পেছনে সাবধানের নোটিশ ' ,
' অপেক্ষায় শাদা ক্যানভাস/  বাইরে চলমান রঙরেখা ' ,
বৃষ্টির পাঠশালায় পৃথিবী আদিম ছাত্র ' -র মতো পংক্তি এর সত্যতা তুলে ধরে ।
               কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় এক সময়ে ' ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ' নামে একটি ছোট কবিতার বই প্রকাশ করেছিলেন, তার ভেতরে দীর্ঘদিন মশগুল থাকার কারণে ছোট কবিতার যে রূপ পাই তা ফেলে দেবার নয় অজয় নাগ সেই রূপ কে এক টানটান অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন বলে তাকে পড়ে ফেলতে হয় দ্রুত ।
              কবির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক দুই তিন লাইনের কবিতা বারবার টানে,  যেমন:  ' বীজ বুনতে নুন জোগাড়ে/  মুখ ঘুরিয়ে সময়/ মানুষ বড় অসহায় ',
' শুধুমাত্র  তোমার জন্যেই ন্যায় অন্যায়/ হে আমার অকরুণ প্রেম; ' আমার সূর্যের আলোয় তোমার আঁধার ক্ষয়ে যাক/  অবশেষে দেখি- আলো নয় অন্ধকার তোমায় রক্ষা করে । '
             অজয় নাগের কবিতার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে ইচ্ছে হয় । যা তাঁর গঠন, যুক্তি , উচ্চারণ ,ব্যন্জ্ঞনা, দ্যোতনা মিলেমিশে অন্য স্রোত বয়ে নিয়ে যায় রক্তে । কবিকৃত প্রচ্ছদটি অন্য রকমের ।কবি চিত্রশিল্পী নন; তবু তাঁর পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে কবিতার  বই এর প্রচ্ছদ হিসেবে স্বাদু হয়ে ওঠে ।

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য ৬০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬০.
অনেকেই ভাবছেন আমি কেবলই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রিপোটার্জ দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছি আমরা কতটা অনুষ্ঠান-পটু ছিলাম। তাঁদের চিন্তার মধ্যে খুব একটা অন্যায় কিছু দেখছি না। ভুলটা আমারই। আমি কি দেখাতে চাইছি আমার সঙ্গে কবিতার রথী- মহারথীরা কত সংখ্যায় ছিলেন !
তা তো লেখার কথা ছিল না। লেখার কথা , কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের আগে বাংলাকবিতা ঠিক কেমন ছিল , আর কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর বাংলাকবিতার ঠিক কী কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল বা হল।
এই প্রকল্পে আমি আগে একবার এই পক্ষের কবি শিরোনামে কাদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তার উল্লেখ করেছিলাম মাত্র । কেবলমাত্র নাম বললেই সবটা উন্মোচিত হয় না। আলোচনায় আনতে হবে কবিতাকে।
সেই কাজ শুরু করেদিলাম এই পর্ব থেকেই।

আমার প্রথম নাম : রোশনারা মিশ্র। এবং তার 'স্কুলমিথ '।
এই রোশনারা মিশ্র মেদিনীপুরের। কবিতাপাক্ষিক -এর অনুষ্ঠানে প্রথম দেখি।আমাদের যুক্ত কমিটির ব্রজেনদার মেয়ে মুঙ্কা-র সহপাঠী ছিল রোশনারা এবং মউলি।
রোশনারা-র স্কুলমিথ ১ প্রকাশিত হয়  কবিতাপাক্ষিক ১১- ১২ সংখ্যায়।তারিখ :16 অক্টোবর 1993।
কবিতাপাক্ষিক ১৭ তে রোশনারা মিশ্র -- এই পক্ষের কবি । যার প্রকাশকাল 08 জানুয়ারি 1994। এই সংখ্যায় একসঙ্গে চারটিই স্কুলমিথ সিরিজের ।আমার মনে আছে এই কবিতাগুলি কবিতাপাক্ষিক পাঠকের কাছে মিথে রূপান্তরিত হয়েছিল । আমি কয়েক টুকরো উদ্ধৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছি । হে প্রিয় পাঠক , আপনার সামনে উপস্থিত করছি নতুন কবিতা।
'  মিস রুথ ড্যানিয়েলস আমাদের রূপকথায় আছেন ,যসব আকন্দবীজ ফেটে যাচ্ছে বাতাসের টানে তার ধূসর আঁশের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি , ওই তাঁর সাইকেলের ঘণ্টি বেজে উঠল মফসসল নোতরদামে ...... '
' প্রত্যেক মেয়েদের স্কুলে থাকে অজস্র দমচাপা গল্প ; গল্পের সোনাঝুরি গাছ, অজস্র গল্পের ঝুরোঝুরো হলুদ রেণু , গল্পের মেহগিনিগুঁড়ি , কাষ্ঠল , ভাঙাচোরা ছালওঠা গল্পের বিবর্ণ ছাপ , গল্পের টানাগাড়িবারান্দা , লাল , নীল , সবুজ গল্প সাইকেল ঢলে আছে এ ওর গায়ে ....... '
 আমি অধ্যাপক নই। আমি কেবলমাত্র পাঠক এখন। কেন ভালো লাগল , সেই অনুভবকে বিশ্লেষণ করতে শিখিনি। ভালো লাগল মানে ভালো লাগল। আমাকে স্পর্শ করেছিল। সেই ভালোলাগাটা এখনো স্থায়ী আছে। হিসেব করুন , 1994- এর জানুয়ারি থেকে 2020- জুলাই !
জানিয়ে রাখি রোশনারা তখন সবে স্কুল ডিঙিয়ে কলেজে। তার স্কুল জুড়ে মিস রুথ ড্যানিয়েলস , যাঁকে সে চোখেও দ্যাখেনি।
ধন্যবাদ রোশনারা , তুমি স্কুলমিথ না লিখলে আমি সাক্ষাৎকার কিংবা নোটবই -এর কবিতাগুলি লিখতে পারতাম না ।
আগামীকাল নতুন কবি, নতুন কবিতা

আটপৌরে কবিতা ৪০৬- ৪১০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৪০৬

লাথি/  কিল/ চড়
   ) মার (
দুষ্কৃতীদের জন্য প্রকৃত ওষুধ ।

৪০৭

বিস্কোরণ/ ব্ল্যাকহোল/ আগুন
        ) নক্ষত্র  (
অনন্ত সময় জ্বলছে জ্বলবে ।

৪০৮

তরল/ কঠিন/ বায়বীয়
     ) পদার্থ  (
দেখছি বুঝছি ভাবছি শিখছি ।

৪০৯

স্বাভাবিক /অস্বাভাবিক/ রহস্য
          ) সংবাদ (
খবরের কাগজের শব্দে জাগে ।

৪১০

বোকা/ গবেট/ বেয়াক্কেলে
     ) মানুষ  (
বাকি মানুষের তামাশার পাত্র ।

আম্ফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনে আলো ট্রাস্টের ত্রাণ বিতরণ...

আম্ফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনে আলো ট্রাস্টের ত্রাণ বিতরণ 
      
নিজস্ব সংবাদদাতা,কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ||
কোলকাতা কেন্দ্রীক ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আজ সুন্দরবন এলাকার দক্ষিণ ২৪ পরগণা
জেলার অন্তর্গত কুলতলী ব্লকের বৈকুন্ঠপুর গ্রামের 50 টি পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হলো। ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়। যেমন চিড়া, মুড়ি, বাতাসা, সয়াবিন, সিমুই, বিস্কুট, গায়ে মাখা সাবান, কাপড় কাচা সাবান, কোলগেট, ধূপ, দেশলাই ও মাস্ক। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরুর আগে শহীদ ভারতীয় সেনা জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি করোনা আবহে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।উপস্থিত ছিলেন আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কমল কৃষ্ণ কুইলা, সমাজসেবী হরিপদ কুইলা, বীনাপাণি কুইলা, নমিতা কুইলা ও সুব্রত দাস।
 সমস্ত শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় আগামীদিনে
সুন্দরবনে তাঁদের সংগঠনের উদ্যোগে আরও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কমল কৃষ্ণ কুইলা।পাশাপাশি কমলবাবু আরও জানান,এই গ্রামের পঞ্চাশটির টির বেশি শিশুর হাতে আগামীদিনে আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিভি_বুকের ব্লা ব্লা || অভিজিৎ দাসকর্মকার || কবিতা

টিভি_বুকের ব্লা ব্লা
অভিজিৎ দাসকর্মকার 



টিভিটা চালাও। লিবার্টি রয়েছে, তবুও বাইরে যাবেন না। কোমার বাঁকিয়ে নেচে নিন। মেয়ের চুল বেঁধে দিন। আমরা ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করছি, ফেসবুকে বোতাম খুলে স্টোরি দিন, উফ্ হাঁপিয়ে উঠলাম ____
এখনো অনেক ব্লা ব্লা বা ব্লক ব্লক বাতেলা ছটফট করছে এক নিশ্বাসে। তার মাঝেই———
  উষ্মা প্রকাশ করছে এই নববর্ষ সংখ্যায়।

সমুদ্রে গতবছর যারা নাইতে গিয়েছিল তাদের ছবি আসছে মেমোরি হয়ে____
নববর্ষের হলুদ শাড়ি। ক্লিন সেভড সঙ্গ-সেলফি। তারসাথে যারা রক্তদানার মধ্যে ছেলেখেলা করছে তাদের ক্রিয়া আর পদে, জোড় ভাঙা চলছে।

 হুমকি আর ভাইরাল এগুলো কি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়!__

এইযো ৭ মিনিট ধরে
আগামীর জাতীয় ঐক্য
প্রক্রিয়ার বিবর্তন
পশ্চিমে জোড়-বিজোড় শব্দ-প্যারাসাইট 
এইসব নিয়ে লাইভ করলাম এগুলো কিন্তু কেউই অমেরুদণ্ডী নয়,
সবাই অ্যান্টবডি খুঁজছে।
তবে এরা ব্রাউন সুন্দরীর হাসি টিভিতে দ্যাখে আর ভ্রূ কুঁচকে সেলফি পোস্টায় ____

*

Thursday, July 2, 2020

তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা "টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে || সৌমিত্র রায়

তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা "টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে
© সৌমিত্র রায়
ISBN: 978-81-933729-0-6 (তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা)




বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে মানবসভ্যতা - একথা অস্বীকার করার উপায় নেই ৷ প্রভূত উন্নতি ৷ তথাপি যেদিকে তাকাই সে টিভির পর্দা হোক, বাড়িতে সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়া সংবাদপত্র হোক কিংবা অফিস আদালত দোকানদারি নানাক্ষেত্রে চর্চার প্রধান বিষয় যেন "কেউই ভালো নেই" ৷ আরো একটু খোলসা করে বললে - কারো মনেই যেন "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" চিহ্নমাত্র নেই ৷ তা কবিসমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রেও বিস্তৃত ৷ এই যুগ আই-যুগ ৷ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই সময় যেমন "সলিউশনের সময়" ৷ আমরা i-প্রজন্মের কবি, এই সলিউশনে আমরাই বা পিছিয়ে থাকবো কেন ? নবযুগ এই আই-যুগের কবিতায় আমরা শেয়ার করতে থাকি অসামান্য আদর্শ নিয়ে সামান্য প্রয়াস "টিপস্ কবিতা" ( Tips Poems ) ৷ চলুন বন্ধুরা, Rhythmic Tips Poems পাঠের মধ্য দিয়ে আমাদের আলোচনায় প্রবেশ করি ৷

"টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে "রিদমিক টিপস্"
...
সৌমিত্র রায়

       সেপ্টেম্বর ; ২০১৭ ; মেদিনীপুর
                       || শান্তি ||
                             |
দিনযাপনের খুঁটিনাটি; নানান রকম টিপস্ ~
কাব্যকথার প্রক্রিয়াতে ধ্যান-ধারণার মিক্স~
         থাকতে ৷ ভালো | রাখতে ৷ ভালো
                   কাব্য যায় না বৃথা
      পড়তে ৷ জানতে ৷ ভাবতে ৷ মানতে
             ~ বেটার "টিপস্ কবিতা"~
                                |
                        || আনন্দ ||

টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা হল এই সময়ের কবিতাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা ৷ বিধি মেনে প্রক্রিয়াজাত একটি "রিদমিক টিপস্ কবিতা" পাঠের মাধ্যমে আজ আমরা তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা আলোচনার এই পর্বে প্রবেশ করেছি ৷

এই যে নবযুগ, এই যুগ "আই-যুগ" ৷ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সফল প্রসারে, সময়ের চাহিদা অনুসারে, মানবসভ্যতা ইন্টারনেটে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এবং রিয়েল টাইম স্পিরিচুয়ালাইজেশনের দিশায় প্রত্যেকেই যে যার আত্মশক্তিকে সম্মৃদ্ধ করার প্রয়াসে মেতেছে, সেখানেও "টিপস্ কবিতা" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে আমি মনে করি ৷

সভ্যতায় কোভিড-১৯ সমস্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে সময়ের চাহিদা অনুসারে ভার্চুয়াল মাধ্যম সভ্যতায় কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে এবং স্ব স্ব বিশ্বাস অর্থাৎ অন্তর্চেতনায় আত্মবিশ্বাসের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও ইমিউনিটি ধরে রাখা বা শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে ব্যক্তির সশক্তিকরণ কতটা জরুরি হয়ে উঠেছে ৷ এই যেমন অনলাইনে অফিস করা, অনলাইনে মিটিং, অনলাইনেই ছাত্রীছাত্রদের পাঠগ্রহণ, অনলাইনে বেচাকেনা ইত্যাদি ৷ আবার অন্যদিকে সময় মতো যোগাভ্যাস, সময়ের কাজ সময়ে সেরে নেওয়া, সময়ে ঘুমোতে যাওয়া সময়ে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তার অনুভব ইত্যাদি ৷ এক্ষেত্রে সভ্যতার পূণর্গঠনে "টিপস্ কবিতা" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি ৷
কিন্তু কীভাবে ?
এর উত্তর পেতে আমাদের "টিপস্ কবিতা" সম্পর্কে আরো একটু বিস্তারিত আলোকপাত করতে হবে, জানতে হবে কিছু তথ্যও (কারণ এটা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তাই না ? হা হা হা...) ৷

বন্ধুরা, তথ্যপ্রযুক্তি যুগে আমরা বলি কবিতা হল সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় টেকনিক্যাল শাখা ৷ আমরা কবিতার লেখার বিষয়টিকে সময়োপযোগী চেতনায় বলে থাকি "কবিতার প্রক্রিয়াজাতকরণ" | কবিতার এই প্রক্রিয়াজাতকরণের ধারণার কাজটি সুনিপুণভাবে করতে গেলে আপনাকে বুঝে নিতে হবে কবিতা আসলেই টেকনিকসর্বস্ব ৷ যথাযথ টেকনিকছাড়া কবিতা মানসম্পন্ন হতে পারে না ৷ "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" (২০১৭, i-সোসাইটি) গ্রন্থে "চিন্তাসূত্র-৭৫" ১৫১তম পৃষ্ঠায় এই কবিতার বর্ণণা ও উদাহরন আছে ৷ এখানে "টিপস্ কবিতা"-কে ইঙ্গিত কবিতাও বলা হয়েছে ৷ বলা হয়েছে, "পরামর্শধর্মী ইঙ্গিতপূর্ণ তথ্য ও চিন্তনের প্রক্রিয়াজাতকরণের কবিতাই হল "টিপস্ পোয়েমজ/ইঙ্গিত কবিতা" ৷ শূন্য দশকের সূচনালগ্নে কোন যুক্তিতে কবিতাকে সংজ্ঞায়িত করেছিলাম সেই কথাটিও স্মরণে রাখা প্রয়োজন ৷ এই গ্রন্থে সেকথাও আছে ৷ যে অক্ষর/সংখ্যা/চিহ্ন/শব্দ প্রক্রিয়াজাতকরণের ভাষায় এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে পাঠে/শ্রবণে/স্মরণে তুলনামূলক দীর্ঘ চিন্তনের সূত্রপাত ঘটায়, তা-ই কবিতা ৷

এবার গোড়ার কথায় ফিরে যাই ! এই সময়ের কবিতাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা তাহলে কী ? টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা হল পরামর্শধর্মী সেইসব কবিতা যা কবির সুনির্দিষ্ট কিছু অভিজ্ঞতার/ পরামর্শধর্মী ইঙ্গিতপূর্ণ তথ্য ও চিন্তনের নির্ধারিত টেকনিকে প্রক্রিয়াজাত প্রকাশ ৷ এই কবিতার শুরুতেও প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান, সময়, তারিখ উল্লিখিত থাকে, থাকে "আনন্দ" বা "শান্তি" শব্দের প্রকাশ এবং শেষেও অবশ্যই "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ প্রক্রিয়াজাত হয় ৷

হাংরি ইত্যাদি উচ্ছৃংক্ষল কবিতা-যাপনের প্রভাবে এখনো দিশেহারা সময় ৷ কিন্তু এই যুগ i-যুগ ৷ এই যুগ সলিউশনের যুগ ৷ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির এই সময়পর্বে দিনযাপনের খুঁটিনাটির নানান রকম পরামর্শধর্মী টিপস্ যা আমাদের ভালো রাখতে এবং ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে এই ধারণায় প্রক্রিয়াজাত হয় "টিপস্ কবিতা" ৷

***গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে "টিপস্ কবিতা" (Tips Poems)  তিন প্রকারের ৷ ১) রিদমিক্স টিপস্ কবিতা (Rhythmix Tips Poems) ২) রিদমিক টিপস্ কবিতা (Rhythmic Tips Poems) এবং ৩) নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা ( Non-Rhythmic Tips Poems) ৷ এবার এই তিন প্রকারের "টিপস্ কবিতা"র টেকনিক-বিধি সম্পর্কে আলোকপাতে আসি ৷

***রিদমিক্স টিপস্ কবিতা এবং তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

এবার আসি রিদমিক্স টিপস্ পোয়েমজ ( Rhythmix Tips Poems) বা রিদমিক্স টিপস্ কবিতা প্রসঙ্গে ৷ টিপস্ কবিতার যা যা উদ্দেশ্য, ধারণা তা অটুট থাকছে এখানে ৷ তবে এখানে কবিতার গঠনতন্ত্রের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ ৷ সে সম্পর্কে বলি, ১) কবিতার শুরুতে প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান, সময়, তারিখ উল্লিখিত থাকে, ২) এরপর "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ , ৩) এরপর এক বা একাধিক শুধুমাত্র স্পেশাল ক্যারেক্টার, ৪) এরপর দুলাইন রিদম অর্থাৎ পদ্যছন্দ থাকছে, তিন লাইন নন-রিদম, আবার দুলাইন রিদম, এরপর আবার তিন লাইন নন-রিদম এবং শেষে দুলাইন রিদম থাকছে, এভাবেই প্রক্রিয়াজাত হয় রিদমিক্স টিপস্ কবিতা ৷ ৫) এক বা একাধিক শুধুমাত্র স্পেশাল ক্যারেক্টার ৬) "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ ৷ সবেমিলে মোট ১৭ লাইনের কবিতা ৷


***রিদমিক টিপস্ কবিতা ও তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

রিদমিক টিপস্ কবিতা (Rhythmic Tips Poems) হয় ১১ লাইনের ৷ ১) প্রথম লাইনে স্থান, তারিখ, সময়; ২) দ্বিতীয় লাইনে "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ ; ৩) তৃতীয় লাইনে স্পেশাল ক্যারেক্টার ৪) চতুর্থ থেকে নবম লাইন রিদমিক অর্থাৎ পদ্যছন্দ ; ৫) দশম লাইনে স্পেশাল ক্যারেক্টার;
৬) একাদশ লাইনে "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" ৷

*** "নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা" এবং তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

"নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা"-র (Non-rhythmic Tips Poems)  লিখন প্রণালীতে শুরুতে স্থান, তারিখ, সময় এবং দ্বিতীয় লাইনে "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ এবং এরপর নন-রিদমিক বা গদ্যছন্দে প্রক্রিয়াজাতকরণ ৷ শেষে অবশ্যই "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ দিয়ে সুন্দরভাবে সমাপ্তি ৷ সবে মিলে সর্বাধিক ১৬ লাইন হবে এই কবিতা ৷ এক লাইনেও হতে পারে ৷ তবে ১৬ লাইন অতিক্রম করলে তা বিধিভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে ৷

কবিতা হল সাহিত্যের জনপ্রিয়তম টেকনিক্যাল শাখা ৷ কৌশলগত দিক দিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কবিতার বিধিভঙ্গ হওয়া চলবে না ৷ এই শৃঙ্খলায় আমাদের এই শুভ উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ৷ এবার এক নজরে কয়েকটি তথ্য পড়ে নেওয়া যাক ৷

**এক নজরে~

** "টিপস্ কবিতা" ধারণার উদ্ভাবক কে ?
~ আই-যুগ অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে "টিপস্ কবিতা" ধারণার উদ্ভাবনা করেন কবি সৌমিত্র রায় ৷ ( পরশ্রীকাতর বাংলার কবিসমাজে নিজের কথা নির্লজ্জের মতো নিজেকেই তুলে ধরতে হয় যে ৷ নইলে যে কেউ আত্মসাৎ করে নেবে ৷ নিশ্চিত ৷ )

**কবে প্রথম প্রক্রিয়াজাত হয় টিপস্ কবিতা ?
উত্তর~ প্রথম "টিপস্ কবিতা" লিখি ১৯ এপ্রিল ২০০২ তারিখ, সকাল সাড়ে ৬ টায় ৷

**প্রথম প্রক্রিয়াজাত "টিপস্ কবিতার" শিরোনাম কী ?
উত্তর~ প্রথম প্রক্রিয়াজাত "টিপস্ কবিতার" শিরোনাম হল "চোখের পরিচর্যা করি" ৷

** "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" গ্রন্থে কততম চিন্তাসূত্র এই "টিপস্ কবিতা" ?
উত্তর~ ২০১৭ সালে প্রকাশিত সৌমিত্র রায় প্রক্রিয়াজাত "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" গ্রন্থে "টিপস্ কবিতা"-র চিন্তাসূত্রর ক্রম- ৭৫ ৷

তো এই হল টিপস্ কবিতা এবং তার রকমভেদে নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা, রিদমিক টিপস্ কবিতা এবং রিদমিক্স টিপস্ কবিতা প্রসঙ্গ ৷ এবার আগামিপর্ব থেকে পরপর ক্রমান্বয়ে নানান রকম "টিপস্ কবিতা" পড়তে থাকবো ৷ শুভ হোক ৷
        |
|| আনন্দ ||

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

সংযম || কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

সংযম
কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়


নতুন কিছু জানতে গিয়ে যদি অরণ্যে আগুন লাগে তাই
যা কিছু জেনে ছিলাম সেটুকুই জেনে রাখা ভালো

ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই জানি
মেঘ ও বৃষ্টিপাতের ব্যারোমিটার সদা পরিবর্তনশীল

এখন শুধু সুদূরে তাকালে নিজস্ব শীত খুব বরফপতন ঘটায়
সূর্যরোদ ঠিকরে ওঠে বেসামাল লাইনের ওপর

একদিন যেসব মুখেরা সত্যি বলতে পারেনি
নিজেকে ঢেকে রেখেছিল
আজ তাদেরই মুখে মুখে মাস্কের মজা

পূরবী~ ১২ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১২
অভিজিৎ চৌধুরী

পুরোনো একজন বন্ধু বলল,তুই যে লিখিস ত- তো জানতাম না।
তীর্থ বলল, দিনলিপি লিখি।
হাসল সে।রবীন্দ্রনাথের বিনির্মাণ!
চমকে উঠল তীর্থ। বলল, একেবারেই না।আমি কখনও কঠিন বই পড়তে পারিনা।।সহজ ভাবেই ভাবি।আর সেখানে রবীন্দ্রনাথ আসেন।অলেখককে লেখক তিনিই নির্মাণ করেন।
সে বলল আবার,তবে রবীন্দ্রনাথ বেশী এলেই ভাল হয়।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়ার সময় একজন বন্ধু ছিল।নাম রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। কালো,মুগুভাজা চেহেরা।খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসত।ইংরেজি সাহিত্যে অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল কিন্তু রেজাল্টে রবীন্দ্রনাথ তেমন আশানুরূপ কিছু করতে পারত।সে তীর্থকে বলত,তোমার মধ্যে লেখক সত্তা আছে।
চুপ করে রইল তীর্থ।সব অন্তর্লীন ভাবনা মুখে বলা যায় না।যিনি প্রশ্ন করছেন,তিনিও বলতে পারছেন না।
সেই রবীন্দ্রনাথ সংসার ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়েছে।খুব দেখতে ইচ্ছে করে।স্বপ্নে সে মাঝেমাঝে উঁকি দেয়।
একদিন রবীন্দ্রনাথ বললেন,তুই নাকি কাজ আর কর্তব্য দুটোকেই রসের ভিয়েনে মজিয়ে রাখিস,সত্যি!
দীনেন্দ্রনাথ বানানটা বদলে করলেন দিনেন্দ্রনাথ।ডাকতেন দিনু বলে।
তখন একজন বললেন,গুরুদেব,আপনার দিনু উৎসব- রাজ।
দিনু মৃদু হাসতে থাকলেন।
হো হো করে হেসে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ। যদিও উচ্চকিত হাসি তাঁদের ব্রাহ্ম পরিবারের নয়।কবি নবীন সেন এই নিয়ে তাঁকে খোঁচাও দিয়েছেন।তখনও তিনি তরুণ।শিলাইদহে জমিদারি দেখাশোনা করছেন।
তারপর নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়ে বললেন,অবনের তো স্মৃতিরেখাও ছবিরেখার মতোনই।সে সেদিন বলচিলে,দিনুর বয়স তখন সবে তিন পেরিয়েছে।বাল্মিকী প্রতিভায় সে এলো তার পোষা টাট্টু ঘোড়া নিয়ে।সেই ঘোড়ার পীঠে শিশুর যাবতীয় লুঠের মাল।সংলাপ ছিল না অবিশ্যি।
দিনেন্দ্রনাথ লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলেন।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

হলদে গোধূলির বাইপাস । অসীম ভুঁইয়া ।দিগন্ত পাবলিকেশন । একশো টাকা ।

কবি অসীম ভুঁইয়ার তিন লাইনের কবিতাগুলির  ভেতরে তাঁর পরিশ্রম , চেষ্টা, অভ্যেসের ছাপ থাকলেও  তিনি কিন্তু তেমন ভাবে উতরে যেতে পারেননি, অভিজ্ঞতার কারণে ।ছোট কবিতা লিখতে যে ব্যাপক গভীরতা ও চিন্তনের প্রয়োজন তা নেই এই কবির ভেতরে । তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ 'হলদে গোধূলির বাইপাস ' সে কারণে মন ভরাতে পারলো না । তবু অভ্যেসের গুণে তিনি সামান্য কয়েকটি কবিতার কাছে দাঁড় করাতে পেরেছেন । যেমন :'কুবাই ব্রিজে পড়ে আছে হলুদ সন্ধ্যা/  নদীটির বুকে শুকনো দাগ /কবেই বয়ে গেছে জীবনের কাটাকুটি বাঁক ।' (হলুদ সন্ধ্যা), 'স্কুলের গেটে স্তব্ধ বিকেল অজানা এক আলো/ চিনতে গিয়ে ছিটকে পড়ি আমি/  হঠাৎ বুকে পথ খুঁজে দেয় আমার অন্তর্যামী ।' ( আলো) -র মতো উচ্চারণ ।
          তাঁর এই বইটি আদ্যন্ত পড়ে বোঝা যায় তিনি নিজেকে খুঁজতে  ও বুঝতে চান আরো আরো, যা একজন প্রকৃত   কবির  পক্ষে বিশেষ প্রয়োজন । এর প্রমাণ পাওয়া যায়: ' কষ্ট লিখেছি শুকনো পাতায়/  পরিক্রমায় কালো দাগ/ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে হয়েছি নির্বাক  ' ( নির্বাক) -এর মতো কবিতায় ।
        কবির প্রতিভার প্রতি কোন সংশয় নেই । তাঁর দেখার চোখ চমৎকার, কাব্যিক মানসিকতায় অপূর্ব বোঝাপড়া আছে । চাই বেশি পর্যবেক্ষণ যা অভিজ্ঞতায় হবে ।মৃগাঙ্ক চক্রবর্তীর প্রচ্ছদে  নামাঙ্কন ভালো । রঙের ব্যবহারে সচেতনতার প্রয়োজন ।

আটপৌরে কবিতা ৪০১- ৪০৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার




৪০১

চেয়ার/  কেদারা/  কুরশি
      ) বসা  (
বিভিন্ন রকম মানে আছে!

৪০২

কিসসা/ চর্চা/ নিন্দা
      ) জটিল  (
হয়ে যায় মুখে মুখে ।

৪০৩

টক/ ঝাল/ মিষ্টি
     ) স্বাদ  (
মুখোরোচক কে না চায়!

৪০৪

স্বজন/ ধৃতরাষ্ট্র/ অপত্য
      ) স্বজন  (
নেপোটিজম জন্ম নেয় এভাবে ।

৪০৫

ইচ্ছেশক্তি  /স্ট্রাগল/ স্বপ্ন
       ) লক্ষ্য  (
সামনে এনে দাঁড় করায় ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য প্রভাত চৌধুরী ৫৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৫৯ .
২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ যে রবিবার ছিল , এটা জানার জন্য ক্যালেন্ডারের কোনো সাহায্য গ্রহণ করলাম না। দেখে নিলাম ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ১০৭ সংখ্যাটি। আমরা জানতাম কবিতাপাক্ষিক ক্যালেন্ডারের শনিবারেই প্রকাশিত হয়। এই তথ্যটি আমরা ছাড়াও আরো কয়েকজন যে জানতেন না , এমনটা মনে হয় না আমার। আমার যাত্রাপথকে যাঁরা অনুসরণ করতেন , তাঁরা সকলেই জানতেন।
২৭ শনিবার হলে ২৮ রবিবার হবেই।
ওইদিন কবিতা পাঠের আসর বসেছিল ' অমরাবতী '-তে।বানিয়ে বলছি না । লেক রোডের এই বাড়িটি  কবিতাপাক্ষিক-এর বন্ধু শর্মিলা বসুঠাকুর-এর বাড়ি।ওইদিন কবিতা পড়েছিলেন : আলোক সরকার এবং অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।
শুরুতেই টেপরেকর্ডারে বাজানো হয়েছিল কবি জগদিন্দ্র মণ্ডলের সুচারু কণ্ঠের রবীন্দ্রগান।
প্রারম্ভিক কথা বলেছিল নাসের হোসেন।
সঞ্চালনায় সুজিত সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন : শঙ্খ ঘোষ ট্রুডবার্টা দাশগুপ্ত দীপংকর দাশগুপ্ত অজয় দাশগুপ্ত জগদিন্দ্র মণ্ডল প্রভাত চৌধুরী সমীর রায়চৌধুরী মলয় রায়চৌধুরী সুধীর দত্ত দীপ সাউ কুমুদবন্ধু নাথ সৈয়দ কওসর জামাল কামাল হোসেন গৌতম বহ্মর্ষি গোপাল আচার্য কানাইলাল জানা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
সমাপ্তিভাষণ তথা ধন্যবাদজ্ঞাপন : রবীন্দু বিশ্বাস।
ঠিক এর পরের মাসেই ছিল আমাদের শারদসম্মেলন।আমরা পুজোর পর মিলিত হতাম প্রতিবছর। একে বিজয়াসম্মেলন বলিনি কখনো  এটাই আমাদের হেরিটেজ।
শারদ সম্মেলন হয়েছিল আলিপুর হেস্টিংস পার্ক রোডে ড: সুবোধ রায়-এর বাড়ি। গোপনে জানিয়ে রাখি , অতীতে এই বাড়িতেই ক-দিন ব্রিটিশ রাজবংশের কেউ কেউ বসবাস করেছিলেন। সেটা হতেই পারে।
সূচনায় ছিল জগদিন্দ্র মণ্ডলের রবীন্দ্রগান।মূলত ছিল আড্ডা। এবং মেলামেশা এরই ফাঁকে ফাঁকে গান শুনিয়েছিল : রশ্মি বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় যশোধরা রায়চৌধুরী পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ড: নীলাদ্রি বিশ্বাস গান এবং আবৃত্তি দুটিই শোনান । রজতেন্দ্র-র গানের কিছুক্ষণ হাততালি দিয়ে নেচেছিলাম আমি ।
সঞ্চালক ছিলেন রবীন্দু বিশ্বাস।
শেষের দিকে গানে গানে গলা মিলিয়েছিল : রশ্মি স্বপ্না রজতেন্দ্র যশোধরা পিয়ালী বুবলি অশোক তৃপ্তি সীমা যূথিকা ও অন্যান্যরা।উপস্থিত ছিলেন : আলোক সরকার সমীর রায়চৌধুরী মঞ্জুষ দাশগুপ্ত ভূমেন্দ্র গুহ কবিরুল ইসলাম অজয় দাশগুপ্ত সৈয়দ কওসর জামাল কামাল হোসেন নাসের হোসেন জহর সেনমজুমদার রফিক উল ইসলাম শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় অনিন্দ্য রায় গৌরব চৌধুরী ঋদ্ধিমান এবং সুবোধ রায় , তাঁর জননী এবং ভগিনী।
আমাদের   পারিবারিক ক্যাটারার কেষ্ট ঠাকুরের তৈরি  ফ্রায়েড রাইস এবং মটন।
পাশাপাশি  জমজমাট ককটেলও ছিল। তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন কেবলমাত্র রসিকজনই।
আগামীকাল ভিন্ন রস। ভিন্ন ভিয়েন।

Wednesday, July 1, 2020

খাঁড়ি পথে ইচ্ছেপাড়ি ...২ || মধুছন্দা মিত্র ঘোষ || ভ্রমণকথা প্রতি বুধবার


খাঁড়ি পথে ইচ্ছেপাড়ি ...|| ভ্রমণকথা প্রতি বুধবার

মধুছন্দা মিত্র ঘোষ 



পর্ব -  ২

কুমারাকোম 

        ক্ষুরধার প্রকৃতি বিন্যাস আর ছায়া ছায়া আকাশ প্রশ্রয়ে রেখেছে আজ কেরলের কুমারাকোম এলাকাটিকে। বেশীরভাগ পর্যটকই কোট্টায়ামের হোটেলে রাত্রিবাস করে পরের দিন কুমারাকোম বেড়াতে যান। আমাদেরও কুমারাকোম পছন্দ। জানা ছিল ওখানে একটি বিরল বার্ড স্যাংচুয়ার‍্যি আছে। প্রচুর পাখপাখালির আনাগোনা সেখানে। আমরাও কোট্টায়ামের নির্বাচিত হোটেলে রাত্রিবাস করে সকালে হাউসবোটের জলজ অভিজ্ঞতার শরিক হতে রওনা হলাম। যেখানে নৌকারা হাত মেলাচ্ছে, একধাপ ভ্রমণ খুলে যাচ্ছে তার একান্ত ছলাৎছল্‌ নিয়ে। হ্রদ সংলগ্ন জেটি থেকে চমৎকার সব হাউসবোটে জলবিভাজিকা সাঁতরে যাওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। কোট্টায়াম থেকে খাঁড়ি পথে কুমারাকোমের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। এখান থেকে জলসফরে আলেপ্পিও ঘুরে আসা যায়। তবে আমরা আজ যাবো কুমারাকোম। সে জলভ্রমণে ভেম্বানাদের প্রকৃতিদত্ত দৃশ্যই সব ভুলিয়ে দেবে। 
        হাউসবোটে খাঁড়িপথে জলভ্রমণ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এই জলভ্রমণ ভ্রমণপিয়াসী মনে ‘চার চাঁদ লাগিয়ে দেয়’। দুর্ধর্ষ একটি ব্যাকওয়াটার গন্তব্য হল কুমারাকোম পথে পাড়ি দেওয়া। এটি মূলত একটি ছোট দ্বীপের মতো। সনাতনী কেরালার সৌন্দর্যের আঁচ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে গেলে কুমারাকোম নিশ্চয় শ্রেষ্ঠতার দাবি রাখে। কেরলের এইসব অঞ্চলের নদী বা উপনদী সমুদ্রের কাছাকাছি আসার পর বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারনে তাদের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়ে যায়। ফলত কখনও সেখানে উদ্বৃত্ত বিশাল জলরাশি খুঁজে নেয় অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গা। সৃষ্টি হয় খাঁড়ি-নালার মতো প্রচুর জলবিভাজিকা। সেখানে জলের প্রবাহ সাগরের জোয়ার-ভাঁটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জোয়ারের জলে তরতর করে এগিয়ে যায় জলযান। 
        আমাদের জলযানের নাম ‘ইন্দ্রপ্রস্থম’। নামটি বেশ। জেটি থেকে হাউসবোটের প্রবেশপথ পেরোতেই একটা বড় বসার ঘর, সেখানে অনেকগুলি দামি ও আরামপ্রদ সোফাসেট ও সেন্টারটেবিল পেতে রাখা। তারপর সেই বৈঠকখানা পেরিয়ে, টানা প্যাসেজের রেলিং দেওয়া বারান্দার একধারে ব্যাকওয়াটারের বিপুল জলরাশি, অন্যদিকে পর পর পাঁচটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিপাটি দুই শয্যার বিলাসবহুল ঘর। লাগোয়া স্নানাগার। ঘরের মধ্যে শৌখিন সোফা, প্রসাধনী টেবিল, স্টুল, নরম বিছানা। আর ঘরের একদিকে পুরো দেওয়াল জুড়ে কাঁচের জানলা। আপাদমস্তক কাঁচের জানলার ভারি পর্দা সরাতেই দিগন্তজোড়া জলরাশি। প্যাসেজের একদিকে স্টিলের সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায় খাবারঘরে। প্রচন্ড একটা ভোঁ দিয়ে আমাদের বিশাল জলযান চলতে শুরু করেছে। পর্দা দুপাশে সরিয়ে বেঁধে রাখি, যেন এতোটুকুও দৃষ্টির আড়ালে না থাকে হ্রদের নিঃসীম লাবণ্য ঘেরা অসাধারন শোভা। দুই পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে আরও অনেক বিশাল বিশাল হাউসবোট। কী তাদের রাজকীয় ঠাটবাট। প্রতিটি হাউসবোটই স্থাপত্য নৈপুণ্য শৈলীর অদ্ভুত মিশেল। এই রাজকীয় ময়ূরপঙ্খি জলযানের সুসজ্জিত ডেকে এসে বসতেই, ‘Welcome Drinks’ তথা ‘আমন্ত্রনি পানীয়’ হিসাবে সুদৃশ্য কাঁচের লম্বা গেলাসে মিষ্টি সুস্বাদু ডাবের জল পরিবেশন করা হল। জলযান ধীর গতিতে চলতে থাকে। হাউসবোটের ডেকে বিলাসবহুল সোফায় জ্যুত করে গা এলিয়ে বসি। সেই মুহুর্তে নিজেকে কেমন ‘জমিদারগিন্নি’ মনে হয়। 
        খাঁড়ি পথে ভেসে যেতে যেতে সঙ্গী করে নিচ্ছি দুই পাশের কেরল রাজ্যের গ্রাম্যজীবন। ঘাটে ঘাটে ডিঙি নৌকা বাঁধা। দুই পাড়ে জলে প্রায় নুইয়ে থাকা নারকেল গাছে ছাওয়া বাড়িঘরছায়া মেলে নুইয়ে রয়েছে তার সবুজ ঝালরের মতো পাতাগুচ্ছ। এইসব অঞ্চলে রবার, লবঙ্গ, গোলমরিচ এর আবাদ বেশি। এছাড়া নারকেল, কাজু ইত্যাদির ফলনও বেশ ভালো। ১০টি নদীর জলে পুষ্ট এই হ্রদ, তার মধ্যে মনিমালা, মিনাচিল, পম্বা, মুভাট্টাপুজাহ্‌, পেরিয়ার এবং আচেনকোভিল্‌ নদী উল্লেখযোগ্য। এরনাকুলাম, আলপুঝাহ্‌ ও কোট্টায়াম জেলা পরিবেষ্ঠিত এই হ্রদ। আগেই শুনেছিলাম, কুমারাকোম এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের নাম। তিনি নাকি এখানকারই কোনও এক গ্রামে বসে লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত তথা পুরস্কৃত উপন্যাস ‘The God of small things’.     
         বিশাল ভেম্বানাদ হ্রদের একদিকে হল কুমারাকোম এবং খাঁড়িপথের একদম অন্য পাড়ে হল আলেপ্পি। পর্যটকরা অনেকেই কুমারাকোম পথেই যান, কারন এই খাঁড়িপথের পাশেই রয়েছে একটি পাখিরালয়। ঘন ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে ঘেরা ১৪ একর জমি জুড়ে এর বিস্তার। ১৮০ প্রজাতির পাখিদের মৌরুসিপাট্টা এখানে। এই অঞ্চলটি এককালে ব্রিটিশ আধিকারিক জর্জ হেনরি বেকার প্রথম আবিস্কার করেন। তাই এই অঞ্চলটিকে ‘বেকারস এস্টেট’ বলা হয়ে থাকে। বেকার সাহেব সেকালে এই স্থানটি ট্রাভাঙ্কোর রাজার কাছ থেকে কিনে নেন। এবং তিন পুরুষ ধরে জমিদারি বজায় থাকে। স্বাধীনতার পর ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্টে পড়ে যায় তাঁর এই জমিদারি। তখন রবার গাছ লাগিয়ে ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট থেকে অব্যহতি পেয়ে যান। ১৯৭৪ পর্যন্ত তাঁর বংশধরেরা এটি ধরে রেখেছিলেন। তারপর সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। রবার বাগান ও পক্ষীরালয় কেরল সরকার কিনে রিসর্ট নির্মান করে। এখানে পানকৌড়ি, জলমোরগ, পাতিহাঁস, মাছরাঙা, ব্রাম্ভনী চিল, ঈগল, কোকিল, প্যাঁচা, ইত্যাদি দেশজ পাখি এবং মুরহন, ইগ্রেট, সাইবেরিয়ান স্ট্রোক, হেরন, গার্গনে, টিল, অসপ্রে, ক্যাটেল ইগ্রেটস, ডার্টার, মার্স হেরিয়ার, লিটল কর্মোব্যান্টস ইত্যাদি পরিযায়ী পাখিদের জমাটি আড্ডা বসে। ওরা খুঁটে খায় দানা, ঠোঁটে গান নিয়ে। জুন থেকে অগস্ট দেশীয় পাখিদের দেখার মরসুমপরিযায়ী পাখিদের দেখা মেলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে। কুমারাকোম পক্ষীআলয় তথা KTDC ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স থেকে ঝোপঝাড় বেষ্টিত একটি হাঁটাপথ আছে ওখানে রিসর্টের গা বেয়ে। কুমারাকোম পাখিরালয়টি ভেম্বানাদ পাখিরালয় নামেও পরিচিত। খাঁড়িপথে যেতে পাথিরামানল দ্বীপটি হল সুদূর সাইবেরিয়া থেকে উড়ান পথে আসা পাখিদের স্বর্গরাজ্য। 
        খাঁড়ি পথে চলতে চলতে এখানকার গ্রামীণ জীবনযাত্রার সঙ্গেও ভাব জমে। জল-জঙ্গলই যাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে আছে। তুখোড় স্নিগ্ধ নির্জনতা ছেয়ে আছে গ্রামগুলোতে। স্কুলের অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা নিজস্ব ডিঙ্গি বেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এই পথে মাঝেমাঝেই মাথার ওপর বড় সেতু পেরতে হচ্ছে। সেগুলি স্থলপথ। গাড়ি যানবাহন মানুষজন চলাফেরা করছে সেখানে। যখন এখানে থানেরকুক্কুম্‌ বাঁধ নির্মিত হয়নি, তখন সাগরের জল জোয়ারের সময় ক্যানেলে অবাধে চলে আসত। বর্তমানে বাঁধ হওয়ার পরে এই জোয়ারভাটার খেলাটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলত খাঁড়ির জল এদিকটা আবার কিছুটা স্রোতহীন ও স্থির হয়ে থাকায় জলজ পুষ্প লতা গুল্ম খুব সহজেই বিস্তার পেয়ে সবুজে ছেয়ে গেছে খাঁড়িপথ।  
        হাউসবোট যাত্রার দুধারে নারকেল, কলা, ‘আইনি’ নামের স্থানীয় গাছগুলি ঝুঁকে আছে জলের বুকে। মিনচিল নদী ও ক্যানেলের জন্য জমা জলাভূমে কলা, আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, তেঁতুল, আনারস গাছের ফলন প্রায় প্রতিটি পরিবারের লাগোয়া জমিতে। কোথাও তো পুষ্প লতায় সবুজ ক্যানোপির মতো তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার কচুরিপানা ও আগাছায় সেই জায়গাটা আদৌ জলভূমি না স্থলভূমি বোঝার উপায় নেই। কেরালার ভেম্বানাদ হ্রদটি কোচি থেকে কোট্টায়াম হয়ে আলপুজ্জাহ্‌ বা আলেপ্পি পর্যন্ত বিস্তারিত। মালয়ালাম গ্রামীণ মানুষদের দৈনন্দিন সহজ সরল জীবনের রোজনামচা, ব্যাকওয়াটার, ক্যানেল, লেগুন এইসব নিয়েই জলভরা সংসার। কুমারাকোম অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি এবং বিখ্যাত তার হাউসবোট ও বোট ক্রুজের জন্য। রাতে এক জায়গায় নোঙর করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের ইন্দ্রপ্রস্থম। রাতের জলজীবন দেখার আশা বন্ধ হয়ে যায়। ভিজে ভিজে রাত। হাউসবোটের গা চুঁইয়ে মাস্তুলের আলো জলে একা পড়ে আছে। বেবাক নিস্তব্ধ চারদিক। স্তব্ধতারও যে একটা নিজস্ব শব্দ আছে টের পাই

সাঁকো || নিখিলকুমার সরকার || কবিতা

নিখিলকুমার সরকার - এর কবিতা

সাঁকো

সাঁকোর ওপর
থমকে দাঁড়াল মানুষটা
সাঁকো দুলছে , নাকি
সে নিজেই দোদুল্যমান

নদী নয় ,
সাঁকো পেরোতে চাইছে
অপূর্ণ বাসনা
দোদুল্যমানতা পেরোতে চাইছে

আটপৌরে কবিতা ৩৯৬- ৪০০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার


৩৯৬

বখাটে / বিচ্ছু/  ফচকে
     ) ছোঁড়া  (
বদনাম যার অঙ্গে দোলে ।

৩৯৭

সিগারেট/  চুরুট/ বিড়ি
      ) ধূমপান  (
শরীরের জন্য বড় ক্ষতিকর ।

৩৯৮

পতিব্রতা/  ঝগড়ুটে/ স্নেহশীলা
             ) নারী  (
   একই অঙ্গে এত রূপ !

৩৯৯

খবর/ ঘটনা/ কথা
     ) বাসি (
হলে কোন বিস্ময় নেই ।

৪০০

মিডিয়া/  বুম/ ক্যামেরা
     ) প্রচার  (
পাবলিক ভালোই খেয়ে যায় ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

স্বপ্ন পুরাণ । মানসকুমার চিনি । শ্রীরামপুর প্রেস । তিরিশ টাকা ।

'এই সেই মরণকাল জড়াল অক্ষররূপে/ যেন রাত্রি ডাকছে খুব বিকেল স্বরে ' অথবা, ' পৃথিবীর প্রতীক যদি কবিতা হয়/ সে শুকনো অক্ষরে আখর নির্বিশেষ ব্রহ্মস্বাদ  জানে ; -র মতো কবিতা প্রায় নিয়মিত আমাদের উপহার দেন কবি মানসকুমার চিনি ।মানসের সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ  ' স্বপ্ন পুরাণ ' ( প্রকাশ:  ২০১৯ )-এ আছে এ ধরণের অজস্র কাব্য উপাদান যা রক্তে সংবহিত হয় । মানস আরো লেখেন:  ' গাঢ় হচ্ছে শূন্যতা, বুকে পাথর জমেছে/ নিয়তি কার? তোমার না আমার? ' ' ভেঙ্গে পড়া সেতু থেকে চাঁদ উঠেছে, / প্রাচীন সম্পর্ক জেনেছে বুঝি? '- র মতো টানটান কবিতা পংক্তি
 ।
          মানসের কবিতা ভাবনার গাঢ়তা আমাদের তাঁর প্রতি আকর্ষণ করতে বাধ্য ।তাঁর কবিতা ধারার সঙ্গে যাঁরা পরিচিত, তারা বোঝেন এই অপ্রান্ঞ্জল  কবিতাগুলির জন্য সময় দিতে হয়, যার থেকে সুফল পাওয়া যায় ।
            এ কবির কবিতার তীর্যকতা ও তাঁর দেখা চোখের  তীব্রতা আমাদের তার কবিতার কাছে নিয়ে যায় : ' গ্রাম থেকে আসছে/ কাটা মুন্ডুর দীর্ঘ মিছিল/  যদি তুলি না ধরি তাহলে অভিশাপ '( 'শিল্পবোধ)  , ' কপালে পাথর ঠুকে জন্মায় ঈশ্বর/   বিপন্ন তোমার দিব্যগাছ/ বাঁশির শব্দ তাড়া করে ।' ( 'পাথর')-এর মতো পংক্তি আমাদের অন্তত কিছুক্ষণ  তাদের কাছে দাঁড় করিয়ে রাখে । প্রচ্ছদের ভাবনা ভালো, তবে অন্য কিছু ভাবনা ভাবলে আরো ভালো হতো ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৮.
কবিতাপাক্ষিক ১০৭ সংখ্যার ব্যাক কভারে ছাপা একটি সংবাদ দিয়ে শুরু করছি আজকের কিস্তি :
অগ্নিদগ্ধ বইমেলার ক্ষতিপূরণ বাবদ
১৬, ৩০০ টাকা পেয়েছিল কবিতাপাক্ষিক। এবং
বাংলাভাষার সমস্ত কবি এবং কবিতাপ্রেমীদের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মাননীয় মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-কে কৃতজ্ঞতা এবং উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিল।
কিন্তু সেদিন একটা কথা ওখানে লেখা হয়নি। তা হল এই ক্ষতিপূরণ দেবার সরকারি সিদ্ধান্ত-কে কার্যকর করতে  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন ডাইরেকটর কালচার কবি কালীকৃষ্ণ গুহ-র তৎপরতার কথা না লিখলে পাপ হবে । আরো একটা কথাও খুব বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই , এই কাজে বা কাজটি সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ছিল আমার কিছুটা শ্রম এবং অঙ্কবিদ্যা।
এসব টুকরো টুকরো কথা যদি না জানাই তাহলে প্রকৃত সত্য কখনোই প্রকাশিত হবে না।
এবার ১ অক্টোবর১৯৯৬ - এ যেতে চাইছি।
গন্তব্যস্থল : পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাদেমি সভাঘর ।
অনুষ্ঠান : শংকর চট্টোপাধ্যায় স্মরণ-উৎসব।
আয়োজক : কবিতাপাক্ষিক।
কবি শংকর চট্টোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর কুড়ি বছর পর এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শ্যামল দত্তরায় সত্যেন্দ্র আচার্য এবং আলোক সরকার
এই উপলক্ষে প্রকাশিত পুস্তকটির অসাধারণ ব্লার্ব লিখে দিয়েছিলেন মান্যবর শঙ্খ ঘোষ।
কবি শংকর চট্টোপাধ্যায় মারা গিয়েছিলেন ১৯৭৬-এ গৌহাটিতে। চাকরি সূত্রে ওখানে গিয়েছিলেন।হার্ট- অ্যাটাকে মৃত্যু ।
মৃত্যুর ঠিক পরেই যে স্মরণ-সভা হয়েছিল , সে সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। ওইদিন অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি এখনো শুনতে পাই।
কুড়ি বছর পরে এই স্মরণ-উৎসবে স্মৃতিচারণ করেছিলেন চার আহ্বায়ক সহ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় কালীকৃষ্ণ গুহ  দীপ সাউ।
কবি-প্রাবন্ধিক সুজিত সরকার শংকরদার কবিতা পাঠ করে আলোচনা করেন।
আর শংকরদার কবিতা পাঠ করেছিলেন :
বিদিশা মাইতি মিতা দে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় নাসের হোসেন এবং ড:  নীলাদ্রি বিশ্বাস।
আরম্ভের গান : রশ্মি বন্দ্যোপাধ্যায় ।
মাঝে ও শেষে গান শুনিয়েছিলেন : তৃপ্তি সেন এবং শ্যামসুন্দর গোস্বামী।
মঞ্চে ব্যবহৃত শংকর চট্টোপাধ্যায়-এর প্রতিকৃতিটি  দিয়েছিলেন সমরেন্দ্র দাস
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন রবীন্দু বিশ্বাস।
সমাপ্তিভাষণের সুযোগ পেয়েছিলাম আমি।
আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করা যাক।

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইলিনা পেনগা-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
ইলিনা পেনগা-র কবিতা


ইলিনা পেনগা (Elena Penga, 1964) গ্রিসের এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবি-নাট্টকার। তাঁর জন্ম গ্রিসের থেসালোনিকিতে। থিয়েটার, দর্শন, চিত্রনাট‍্য-লিখন প্রভৃতি বিচিত্র বিষয় নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন। মূলত নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও তিনি কবিতা লিখছেন নিয়মিত।

১.
দুঃস্বপ্নের গোলাপি

বৃষ্টি।এখানে। সেখানে। যেখানে তুমি গাইছো। প্রবল বৃষ্টি।বাড়িতে চেয়ারে বসে আছি।
 রাত।আমি চেয়ার ঘোরাচ্চি আর বৃষ্টি শুনছি। তুমি গাইছো। বৃষ্টি যথেষ্ট জোরে। শোনা যাচ্ছে। আমি শুনি। বৃষ্টি। আরেকজন এলো। গোলাপি ল্যাম্পশেড নিয়ে। পুরো নতুন। সে আলো নেভানো,  বাল্ব খুললো, সরালো কাল শেড, পরালো গোলাপিটা, আবার আলো জ্বাললো। আমারা গোলাপি আলো মেখে বসে আমরা গোলাপি আলো মেখে বসে থাকলাম, আর  আর সেট শেড নিয়ে কথা বললাম। ল্যাম্পশেড। আমি বেলকনির দরজা খুললাম। তুমি গাইছো। কিন্তু বৃষ্টির শব্দ আরও জোরে। বাড়িতে আসছে। ল্যাম্পশেডে লাগছে। আলোর ধাক্কা। বাস্তবের সঙ্গে সংঘর্ষ। প্রতিবেশীর উঠানের ঠিক চেরিগাছে ফল আসেনি বহু বছর। চারজন ঢুকলো লাঠি হাতে হাতে লাঠি হাতে ।  তারা প্রতিবেশীর উঠানে ঢুকলো বৃষ্টি নিয়ে । তারা এসেছে এ গাছগুলোকে সহবত শেখাতে এবং বলতে যে ফুল না ধরলে তারা তাদের কেটে ফেলবে। আমি লোকগুলোকে দেখলাম গাছ গুলো কে কে আঘাত করতে। আমি দেখলাম বৃষ্টিকে লোকগুলোকে আঘাত করতে।
২.

মাছ

ওর দিকে তাকাও।মাছেরা রং বদলায়। যখন পুরুষটা উত্তেজিত, তার রঙ কালো। মেয়েটাকে নিয়ে উপরতলায় উঠছে আর যেই তাদের যৌন খেলা শেষ সে আবার রুপোলি। তারা সংখ্যায় বহু এবং তারা খুবই উত্তেজিত। মনে হচ্ছে আলো মিটমিট করে জ্বলছে নিভছে।
                                                দেখবে তাদের? আমরা অনেক ওপরে। আমি কিছুই দেখতে পাইনি।
 তুমি কি জেলেদের দেখতে পাও? হ‍্যাঁ, আমি তাদের ঘৃণা করি ।
কেন?
 কারণ তারা মাছ ধরে ।তারা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।
 জেলেরা ত এমনই। যদি তোমাকে মাছ ধরতে
 নিয়ে যায় এবং অনেক মাছ পায়, তারা তোমাকে আবার নিয়ে যাবে।তখন তারা সর্বদাই তোমাকে নিয়ে যেতে চাইবে।

আজকের দিন || সৌমিত্র রায়

আজকের দিন
সৌমিত্র রায়

আজ ১ জুলাই ২০২০ ৷ আজ রেজাউল করীম ও আবুল ফজল-এর জন্মদিবস ৷

১৯০২ সালের আজকের দিনে বীরভূমের এক গ্রামে জন্ম প্রাবন্ধিক রেজাউল করীম-এর ৷ প্রথম বই 'ফরাসী বিপ্লব ' , সম্পাদিত পত্রিকা ' সৌরভ '৷ মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ১৯ টি ৷ যার মধ্যে ১ টি কবিতা সংকলন ও বাকি গুলি প্রবন্ধের ৷ ছিলেন উল্লেখযোগ্য দেশপ্রেমিক সাহিত্যিক. মৃত্যু ১৯৯৩ সালে ৷

১৯০৩ সলের আজকের দিনে চট্টগ্রামের এক গ্রামে জন্ম প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের ৷ পেশায় ছিলেন অধ্যাপক ৷ ঢাকার বুদ্ধি মুক্তি আন্দোলন মঞ্চ মুসলিম সাহিত্য সমাজের একজন কনিষ্ঠ সদস্য ৷ ১৯৮৩ সালে মৃত্যু হয় তাঁর ৷

আবুল ফজল

Tuesday, June 30, 2020

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

জন্মের ভিটেমাটি । সপ্তর্ষি রায় । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

অগোছালো কিছু কবিতা, তাতে মুক্তিরাম মাইতির রঙ সর্বস্ব দায়সারা  প্রচ্ছদ বাঁধাইছাঁদাই করে কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পাঠকের কাছে বিতরণ করার মধ্যে ব্যক্তি আনন্দ থাকতে পারে । কিন্তু তা কতটা বিরক্তিকর
সপ্তর্ষি রায়ের ' জন্মের ভিটেমাটি ' পড়া পাঠক নিশ্চিত বুঝেছেন । কাব্যগ্রন্থের ভেতরে যে টিউনিং পাঠককে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন তা এখানে অনুপস্থিত । তিনি : ' মাটির ভেতর বীজের মতো/ উঠবে জেগে এক প্রভাতে ' কিংবা ' শব্দহীন মৃত্যু আজ / অমোঘ আশার শব্দ খোঁজে' র মতো মুছে যাওয়া পংক্তি  উপহার দেন ।
তাকে গ্রহণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে ।
      যারা কবিতা খুব তুচ্ছ বিষয়,  প্রতিদিন দশটি করে লেখা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি ভেবে থাকেন ,সিরিয়াস পাঠক তাদের মধ্যে একজন  হিসেবে এই কবিতাকারকে  বিবেচনা করলে তা দোষের হবে না । তা  আরওয়ালের ওপর অথবা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়র উদ্দেশ্যে হোক না কেন ।
         কোন ভালো পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ হলে তিনি যে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের উপযোগী তা নিশ্চয়ই নয়, এ কবির বোঝা উচিত ।

হার || দীপক মজুমদার || কবিতা

হার 
দীপক মজুমদার


 গালওয়ান ভ্যালিতে বীর যোদ্ধারা প্রাণ দেয়
দেশের মাটি বেহাত হতে হতে
একদিন হয়ত  আমরাই বিদেশী  হয়ে ওঠব

তবু রাষ্ট্রনেতার  চোয়াল শক্ত  হয়না

শত্রু-বিমান মাথার ওপর অনবরত  চক্কর কাটে
আমাদের মাথা নত করা কাজ

সুযোগ বুঝে চুনোপুঁটিরাও গলার কাঁটা হয়ে যাচ্ছে ...
                         
                                              ***

তোমার সাথে || রোশেনারা খান || কবিতা

তোমার সাথে
রোশেনারা খান



তোমার সাথে হারিয়ে যেতে পারি,
শহর থেকে সুদূর সাহারাতে।
কিন্তু আমায় ফিরতে হবে রাতে,
চেনা মানুষ চেনা বিছানাতে।

তোমার সাথে ভেসেও যেতে পারি,
সাগর বুকে বন্দরে বন্দরে।
কিন্তু আমায় আসতে হবে ফিরে,
নিজের কাছে নিজেরই অন্দরে।


তোমার সাথে উড়েও যেতে পারি,
উড়োমোটর কিম্বা হাওয়ায় ভেসে।
কিন্তু আমায় ফিরতে হবে শেষে,
আমার ঘরে আমারই এই দেশে।


             
                 

নস্টালজিয়া ৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ৫
পৃথা চট্টোপাধ্যায়


ছোটবেলার দিনগুলো যে এতো আনন্দের মুঠোয় ভরা ছিল তখন বুঝতে পারি নি। আজ লিখতে বসে মুঠো খুললেই তা ফুলঝুরির মতো ছড়িয়ে পড়ে । আমার এই আনন্দের ফল্গুধারা ছিল আমার ঠাকুমা যাকে আমি ও অন্য ভাই বোনেরা  'দাদা' বলেই ডাকতাম। আমিই প্রথম ঠাকুমাকে এই অদ্ভুত নামে (কারণ দিদি হলে তবু মানাত) ডাকতে শুরু করেছিলাম ।' দাদা ' শব্দটি আমি প্রথম বলতে শিখি ,কিন্তু আমার দাদা বা ঠাকুর্দা না থাকায় আমার প্রথম উচ্চারিত শব্দটি  ঠাকুমা সাদরে গ্রহণ করে এবং তাকেই দাদা বলা শুরু করি। গঙ্গাস্নান করতে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেলায় যাওয়া সিনেমা দেখতে যাওয়া সব কিছুতে তার সঙ্গ ধরতাম । তাহলে মাও খুব একটা কিছু বলতে পারত না, মায়ের অমত ধোপে টিকতো না।শুধু বলতো লেখাপড়াটা মন দিয়ে করতে তাহলে তারও মুখরক্ষা হবে মায়ের কাছে। শ্যামবর্ণ হলেও ঠাকুমার মুখের গড়নটি ভারি মিষ্টি ছিল। টিকালো নাক, হাঁটু ছাড়িয়ে কোঁচকানো চুল ।আমি তার মাথায় চুল বেঁধে বিনুনি করতে শিখেছিলাম। সকাল থেকে অ-দরকারি  সব কাজ সেরে একটু বেলা করে গঙ্গাস্নানে যেত ঠাকুমা।  আমি এবং পাড়ার দুতিন জন আমার বন্ধু তার সঙ্গ ধরতাম ।স্নানে যাবার আগে অসাধারণ দুটো গোলারুটি বানিয়ে চা দিয়ে খেত। আমার জন্যেও বরাদ্দ ছিল একটা। তার সঙ্গে কোথাও যাওয়া মানেই অবাধ স্বাধীনতা, অগাধ মুক্তির স্বাদ । জলে যতক্ষণ খুশি সাঁতার,  ঝাঁপাঝাঁপি করা যেত। স্নান সেরে অপেক্ষা করত আমাদের জন্য,  কখনো একটুও বকাবকি করত না বা মায়ের কাছে নালিশ করে বকা খাওয়াতো না। নশিপুর রাজবাড়ির রথযাত্রা আর ঝুলনের মেলায় যেতাম তার সাথে, অনেকটা রাস্তা হলেও হেঁটে যেতাম অনায়াসে। রিক্সা বা টাঙ্গা  (ঘোড়ার গাড়ি) করে যেতে পছন্দ করতো না,  হেঁটে গেলে পথে অনেকের সাথে দেখা আর গল্প  হোতো সেটা তার খুব ভালো লাগত।পৌষ মাসে যেতাম কিরীটেশ্বরীর মেলায়। নৌকায় চড়ে গঙ্গা পার হয়ে হলুদ সর্ষে খেতের মাঝখানে পথ ধরে  আমি আর ঠাকুমা যে কতবার গেছি এই মেলায় আমার আজও সেই দিনগুলো ছবির মত  মনে পড়ে। ঠাকুমা  ঠিক যেন আমার বন্ধুর মতো ছিল ।  কত বৃষ্টিঝরা অন্ধকার রাতে তার কোল ঘেঁষে আমি  রূপকথার রাজকন্যা-রাজপুত্র-দৈত্যর গল্প, সুয়োরানি দুয়োরানির গল্প, আলিবাবা-চল্লিশচোরের গল্প, টুনটুনির গল্প, ফিঙেপাখির গল্প শুনেছি। সেই স্বতঃস্ফূর্ত বাল্যকালে এখনকার  বাচ্চাদের মতো টি ভি দেখা,  গেম খেলা,  কার্টুন দেখা এসব কৃত্রিম আনন্দের জোগানের দরকার ছিল না আমার শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোতে । ঠাকুমার হাতের  রান্না ছিল অনন্য,  খুব সাধারণ নিরামিষ রান্নাও তার হাতের ছোঁয়ায়  অমৃত লাগত। কুল, তেঁতুল, আমের আচার করতো দারুণ,  আমচুর করে রোদে দিত শুকোতে , আর সেই আমচুর তৈরি হবার আগেই কুলো থেকে বারবার শেষ হয়ে যেত।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


 ৫৭.
কবিতার নতুন মানচিত্র প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলাম  আগের মানচিত্রে যেখানে জলাভূমি ছিল সেখানে তৈরি হবে নগর। এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে রাখতে চাই জলাভূমি ভরাট করে হাউসিং কমপ্লেক্স করার কথা বলিনি।সে ক্ষমতা আমার নেই। আমি শাসকের মদতপুষ্ট প্রমোটার নই। আমার কাজ কবিতা লেখা। নতুন কবিতা লেখা। যে কবিতা আমার আগে কেউ লেখেননি , সেই কবিতা লেখা। আর সেই কবিতা লেখার কারণেই কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের প্রসঙ্গ এসেছিল।
এই প্রসঙ্গে কিছুটা বিশদে যাবার জন্য আমি আমার 
' কবিতার মানচিত্র ' প্রবন্ধটির সাহায্য গ্রহণ করছি ।সেই প্রবন্ধটিতে আমি যা লিখেছিলাম , তার কিছু কিছু অংশ আমি আপনাদের পড়াতে চাইছি ।
১. Map Projection বা মানচিত্র অভিক্ষেপণ ভূ - বিজ্ঞানীদের একটি জরুরি বিষয়।
২. মানচিত্র নির্মাণ একটি জরুরি কাজ।সেই সমুদ্র- অভিযানের যুগ থেকে কিংবা তীর্থযাত্রীদের কাল থেকে মানচিত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য।কিন্তু কবিতার মানচিত্র তো আগে কেউ বলেননি। নতুন কবিতা লেখার জন্য নতুন মানচিত্র একটি আবশ্যিক আইটেম।
৩.  ৩ জুন, ২০০০ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে কবিতা বিষয়ক সেমিনারে বক্তব্য বলতে উঠে বলেছিলাম : নতুন মানচিত্র নির্মাণের অর্থ হল যেখানে সমুদ্র আছে সেখানে নিয়ে আসতে হবে পাহাড় বা মালভূমি , যেখানে ব- দ্বীপ আছে সেখানে আসবে মরুভূমি , নদীর পরিবর্তে রেললাইন ইত্যাদি কিছু কথা।
সেসময় যা বলেছিলাম তার মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক একটি বর্ণও ছিল। মানচিত্রে যা যা থাকে সেগুলিকে বর্জন না করে কেবলমাত্র স্থান পরিবর্তন করেছিলাম। এর প্রতিক্রিয়ায় সেসময় যাঁরা 'গেল- গেল ' রব তুলে হইচই  করেছিলেন তাঁরা নিজেদের কানে হাত না দিয়ে কাকের পেছনে দৌড়েছিলেন।
আমি চেয়েছিলাম কবিরা এখন নতুন কবিতা লিখুক  । একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হোক । এই টুকু চাওয়াটা কি খুব অন্যায় ছিল আমার ! জানি না। রক্ষণশীলদের একটা নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকে সব কালে। সব যুগে। ইতিহাসে এর অসংখ্য নজির আছে।
আর মনে রাখবেন চিরদিন রক্ষণশীলরাই সংখ্যাগুরু। আর পরিবর্তনকামীরা সংখ্যালঘু 
শেষকথাটি হল : ইতিহাস পরিবর্তনকামীদেরই মনে রেখেছে । কবিতার কী কী পরিবর্তনের সূচনা আমরা করেছিলাম তার প্রতিফলন হল আজকের কবিতা ।
এখন অল্প দু-একটি উদাহরণ পেশ করছি।
১.  একটা মন্ত্রমুগ্ধ ক্রাচ হেঁটে আসছিল সাঁকো পেরিয়ে ॥ প্রভাত চৌধুরী
২. ভালোবাসা আমার কাছে একটা বৃত্ত এই বৃত্তের ব্যাস আছে ব্যাসার্ধ আছে জ্যাও রয়েছে॥ কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়
৩.   একটি বুদবুদের গঠনতন্ত্রে রয়েছে একটি জলবিন্দুর প্রতিবাদ॥ সমীর রায়চৌধুরী
৪. তৎসম শব্দের মতো ঝরে পড়ছে বৃষ্টি ॥ নাসের হোসেন
৫. মানুষের মন মানে নানারকম আয়নায় তৈরি কোনো কুয়াশা ॥ বাপন চক্রবর্তী
৬. ক্ষীণ গোধূলির মাথা একখানা ফুলস্কেপ কাগজ দিয়েই ঢেকে দেওয়া যায়॥ অনিন্দ্য রায়।
৭. আমাদের সম্পর্কও বহুব্রীহি সমাসের মতো ॥ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
৮. আলোকবর্ষ শব্দটা বললেই মেহগিনির ছবি তৈরি হয় ॥ রুদ্র কিংশুক।
৯.  পিছুডাকগুলি কখনো-সখনো পালিয়ে বাঁচতে চায় ॥ মুরারি সিংহ।
১০. হাসপাতালমুখী সব রাস্তাই মিতভাষী হয়॥ রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ১০ টি মাত্র উদাহরণ দিলাম। মাননীয় পাঠক আপনারা বিচার বিবেচনা করে দেখুন আমাদের নতুন মানচিত্র নির্মাণের নমুনাগুলি। প্রতিটি লাইন ধরে ধরে পড়তে থাকুন। দেখুন এগুলি প্রকৃতই নতুন কিনা।
আগামীকাল এগুলির ব্যাখ্যা দেবো না , কথা দিলাম।ব্যাখ্যা যে যাঁর নিজের মতো করে করবেন। আমি পাঠকের সামনে হাজির করলাম মাত্র।

গ্রিসের নতুন কবিতা রুদ্র কিংশুক ইভা স্টেফানি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ইভা স্টেফানি-র কবিতা


গ্রিক কবি, চিত্র-পরিচালক এবং চিত্রশিল্পী
ইভা স্টেফানি (Eva Stefani, 1964)-র  জন্ম আমেরিকায়।তাঁর পিতা-মাতা অবশ্য গ্রিক।  সিনেমা ও নৃবিজ্ঞান নিয়ে স্তেফানি পড়াশোনা করেছেন পারি, লন্ডন ও ন‍্যুইয়র্কে‌। তাঁর বিখ্যাত সিনেমাগুলি:
আথিনি ১৯৯৫
আক্রোপলিস, ২০০১,
দ্য বক্স  ২০০৪ প্রমুখ।

 টানা গদ‍্যে লেখা কবিতায় তিনি এনেছেন পশুপক্ষীর চিত্রকল্প । কিন্তু সেগুলো মানুষের নানান অনুভবের অভিব্যক্তির চিহ্নায়ন বা চিহ্নকল্প।

১.
নববর্ষের পূর্ব সন্ধ্যা

নতুন বছর আর কেক নেই। দোকানপাট বন্ধ।। আমি দিলাম আমার বাম স্তন হালকা মিষ্টি রুটি হিসেবে। আমার বাবা ছুরি দিয়ে কাটলেন।খ্রিষ্টের জন্য এক টুকরো,, গরিবদের জন্য এক টুকরো, বাড়ির জন্য একটুকরো। বাবা-মা-বোন। নতুন বছর সবার খুব ভালো হোক।

২.
 পরিবার

 আমরা সবাই একসঙ্গে রান্না ঘরে ঘুমাই যাতে আমরা টিভি দেখতে পাই। আমরা একে অপরের ওপড়ে শুই। প্রথমে বাবা উপুড় হয়ে। মা বাবার পিঠে। তাদের মাঝখানে এক ভাই।
যমজ দু'জন ওপরে । এবং অন্তিমে সবার ওপরে কন্যা মুখ নামিয়ে। আমাদের কম্বলের দরকার হয়না কারন আমরা পরস্পরকে উষ্ণ রাখি। আর আত্মীয়রাও হেঁটে যায় এই বিছানায় যদি তারা নিয়ে আসে তাদের নিজস্ব রিমোট কন্ট্রোল ।
৩.
আমি হারিয়েছিলাম আমার বুটজুতো এবং ঘরে আটকে থাকলাম কারণ খালি পায়ে আমি কোথায় যাব? যখন ভোর হলো আমি দেখলাম আমার পিঠে সবুজ কুঁজ। আয়নায় দেখলাম একটা পিস্তা গাছ আমার দুই কাঁধের মধ্যে গজিয়ে উঠেছে। গাছের নিচে মায়েরা এবং ছেলেমেয়েরা ছায়ার উপভোগে এদিকে ওদিকে শুয়ে আছে।

৪.
গভীরতা

আমার পেটে একটা ওজন আছে। আমি তাদের অপারেট করতে বলি। খননে সাহায্য করতে আমি ধরে ছুরি-কাঁচি। প্রথমে একটু বালি আর সাদা নুড়ি‌। আমি আরো গভীরে যাই আর একটা নরম দলায় ধাক্কা খাই।  সমুদ্র আগাছার ঢিপি। আমি খুজে চলি কিন্তু ছুরি-কাঁচি বৃথা নড়ে চলে। সব সারল? আমার সন্দেহ। আমি যন্ত্রপাতি ছুড়ে ফেলি এবং দগ্ধ শরীরে হাত চালাই। কিছু একটা খুঁজে পাই। একটা বিশাল শিকল। আমি টেনে বার করি। শেষ সব যন্ত্রণার কারণ। আমার বাবার পুরানো ঘড়ি।

আটপৌরে কবিতা ৩৯১- ৩৯৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার

৩৯১

পুঁই/ লাউ/ নটে
     )শাক(
না খেলে জন্ম বৃথা ।

৩৯২

সংঘাত/ দ্বন্দ্ব/ প্রতিবাদ
      ) বিদ্রোহ  (
বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে ।

৩৯৩

স্থাবর/অস্থাবর/ সর্বস্ব
      ) সম্পত্তি  (
থাকলেও অশান্তি না থাকলেও ।


৩৯৪

জমি/ জিরেত/ ফসল
     )  সচ্ছল  (
মানুষ দেখতে গ্রামে যান ।

৩৯৫

অংশ/ ভাগ/ বেড়া
      )  নিজস্ব  (
আমার জায়গায় আমি রাজা ।

Monday, June 29, 2020

মাইকেল মধুসূদন দত্ত- এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানাই

মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(১৮২৪–১৮৭৩)

ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ ভারতের যশোর জেলার এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশে জন্ম হলেও মধুসূদন যৌবনে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে মাইকেল মধুসূদন নাম গ্রহণ করেন এবং পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণবশত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন আকৃষ্ট হন নিজের মাতৃভাষার প্রতি। এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন। মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি: দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী (নাটক),বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ ইত্যাদি। মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কলকাতায় কপর্দকশূন্য করুণ অবস্থায় মৃত্যু হয় এই মহাকবির। ৃৃৃৃ  ৃৃৃৃৃতথ্য ৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃঋণ~ উইকিপিডিয়া

শীলাবতী অববাহিকার ইতিহাস ও কৃষ্টি~ ৫ || মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি || প্রতি সোমবার

শীলাবতী অববাহিকার ইতিহাস ও কৃষ্টি~ ৫
মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি

আমার নিজের গ্রাম রাজবল্লভপুর সহ বৃকভানুপুর, কিশোরপুর, গড়বেড়িয়া, এলনা, লাউমারা, রঘুনাথপুর, বড়াই, দেওয়ান, কালিন্দীপুর, পাঁচামি, নিত্যানন্দপুর, চৈতন্যপুর, ধর্মপোতা ইত্যাদি গ্রামগুলি এই শীলাবতী নদী এবং তার খালের মধ্যবর্তী স্থানে অর্থাত্‍ বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থান করছে। স্বাভাবিকভাবেই বর্ষাকালে এই গ্রামগুলির মানুষজনের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। প্রায় বছরই শীলাবতীর বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়ে গ্রামগুলি। বাইরের সঙ্গে তখন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকাগুলি। যাতায়াতের একমাত্র যোগাযোগ তখন নৌকা। বন্যাতে প্রায় প্রতি বছরই এলাকার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ১৯৭৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার কথা ভাবলে তো শিউরে উঠতে হয়। সেবার শীলাবতীর বিধ্বংসী বন্যায় সে যে কী ক্ষতি হয়েছিল তা এককথায় অবর্ণনীয়।
কাঁচা মাটির বাড়ি একটিও ছিল না সেবার। সব বন্যার জলে তলিয়ে গিয়েছিল। কত নিরীহ গবাদি পশুর যে প্রাণহানি ঘটেছিল তার ইয়ত্তা নেই। বিঘার পর বিঘা চাষযোগ্য জমি সেই বন্যাতে বালিচাপা পড়ে গিয়েছিল। তার রেশ এখনো এত বছর পরেও এলাকার মানুষজনকে বহন করে বেড়াতে হচ্ছে। ১৯৭৮ সাল। তখন এই প্রবন্ধকারের বয়স ছিল ১৩ বছর। ক্লাস এইটের ছাত্র ছিলাম। সচোক্ষে দেখেছিলাম সেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার মারাত্মক রূপ। মনে পড়ছে সেই বন্যার সময় আমাদের পরিবারকেও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র উঁচু ভিটায়
গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। প্রায় এক মাস অন্যত্র বসবাস করতে হয়েছিল। শুধু আমাদের নয় এরকম দুর্ভোগ অসংখ্য মানুষকে পোয়াতে হয়েছিল। এখনো পোয়াতে হয়। এমনিতেই শীলাবতী বেশ শান্ত, ধীর। কিন্তু বর্ষার জল পেলেই সে ফুলে ফেঁপে উঠে। ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে আছড়ে পড়ে গ্রামগুলিতে। আমরা প্রতি বছরই ঘাটালে যে বন্যার কথা শুনি, শুনি ঘাটাল বন্যায় ভেসে গেছে তা এই শীলাবতী নদীর জন্যই।
   একসময় শীলাবতী নদী এবং তার খালের মধ্যবর্তী গ্রামগুলিতে রাস্তাঘাট বলতে কিছু ছিল না। হাঁটু অব্দি, কোথাও কোমর অব্দি কাদায় ভরাট থাকত। মোটর বাইক তো দূরের কথা সাধারণ বাই সাইকেল পর্যন্ত নিয়ে যাতায়াত করা যেত না প্রায় অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত। এখন রাস্তাঘাটগুলির অনেক উন্নতি ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি গ্রামের মানুষই যে যার এলাকায় সারাবছর নদী পারাপার হওয়ার জন্য বাঁশের সেতু বানিয়েছে। কিন্তু বর্ষাকালে সে সেতু আর থাকে না। বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। বন্যার জল সরে গেলে গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে আবার সে সেতু বানায়। সারা বছর ভাঙাগড়ার খেলা চলে। ভাঙাগড়ার অনন্য নজির বোধহয় এই এলাকাতেই আছে।
 
 
   যাইহোক শীলাবতী নদী তীরবর্তী জমিগুলি বেশ পেলব এবং উর্বর। যার ফলে নদীর দুধারের জমিগুলিতেই ব্যাপক চাষবাস হয়ে থাকে। ধান, আলু গম, তিল সর্ষে, মটর, মুগ ইত্যাদির রমরমা চাষ এখানে। আর হয়ে থাকে ব্যাপক শাক-সবজি ও কাঁচা আনাজপতির চাষ। কপি, বেগুন, মূলো, পালং, করলা, উচ্ছে, বরবটি, সিম, ওল, কচু, তরমুজ, কুঁদরি, পটল ইত্যাদি। কী চাষ নেই এখানে? সব চাষ হয়ে থাকে শীলাবতীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। আর সেসব বাজারজাত করার জন্য যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সবজিবাজার। এখান থেকে প্রচুর শাকসবজি কলকাতা হয়ে অন্যত্র দূর-দূরান্তে চলে যাচ্ছে। এই কাঁচা আনাজপাতির চাষবাস করে এলাকার অনেকেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। তবে বর্তমানে এখানে অর্থনৈতিক কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে মূলত আলু চাষের উপর। শীলাবতীর অববাহিকা জুড়ে আলুর ব্যাপক চাষ। টন টন আলু এখানে উত্পমন্ন হয়। তা সংরক্ষনের জন্য গড়বেতা, হুমগড়, গোয়ালতোড়, চন্দ্রকোণা, ঘাটাল, আরামবাগ প্রভৃতি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য হিমঘর। আলু চাষ হওয়ার জন্য এই সব এলাকায় অনেকেই আলু ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। গড়ে উঠেছে আলু ব্যবসায়ী সমিতি। তাই যে বছর আলুর দাম থাকে সে বছর এলাকার চাষিদের মুখে আনন্দের সীমা পরিসীমা থাকে না, কিন্তু যে বছর আলুর দাম ঠিকমতো থাকে না সে বছর চাষিদের মাথায় হাত পড়ে যায়। আলু চাষের পাশাপাশি ধান চাষও হয়ে থাকে প্রচুর। আউশ, আমন এবং বোরো এই তিন রকমেরই ধান চাষ হয়ে থাকে বিভিন্ন এলাকায়। বর্ষাকালে যেহেতু ঘাটাল এলাকাটি শীলাবতীর জলে ডুবে থাকতো তাই এখানে বর্ষাকালে তেমন ধান চাষ হোত না, হোত বোরো চাষ। যা শীতের মরশুমে হয়। তবে ইদানিং বন্যার প্রকোপ কিছুটা কম হওয়ার এই এলাকাতেও আমন ধানের চাষ হচ্ছে।
  একসময় শীলাবতীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আখ এবং পাট চাষ হোত প্রচুর। জমির পর জমি আখ চাষ হোত। বছর শেষে শাল বসত, গুড় তৈরি হোত। কিন্তু সেসব আজ ইতিহাস। আলু চাষ এসে যাওয়ায় আখ ও পাটের চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। একবছর তো আর একটা চাষের জন্য একটা জমিকে ফেলে রাখা যায় না। আলু চাষ আসায় আর একটা সুবিধা হল, জমিগুলো প্রায় তিনফসলি হয়ে গেল। যার ফলে এখনকার বেশির ভাগ জমিই তিনফসলি, কোনো কোনো জমি দোফসলি। একফসলি জমি আর নেই বললেই চলে।

উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ২১ || সোমনাথ বেনিয়া || কবিতা

উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ২১
সোমনাথ বেনিয়া


জানি না, দূর বলতে যতটা দেখি, সেটাই জীবন কিনা
ওপাড় বলতে বুঝি কেউ বঁড়শি ঝুলিয়ে রেখেছে, টোপ
কোন ইন্দ্রিয়কে ধামাচাপা দেবো, নিজের কি, সেটাও প্রশ্ন
এই তো সন্ধ‍্যা মানে অনেকেই নিজেকে অপরাধী ভাবে
মনে থাকার কথা নয়, দেবীর ঋতুস্রাবে দেবতার জন্ম
শুধু ভাবছে হৃদয়, পানকৌড়ি, ডুব দিলেই মাছের ঝাঁক
কে কাকে শিকার করে, রক্ত এক্সপায়ারি ডেট পেরোলে
তবে কি সব আনন্দঘন পথের শেষে নো ম‍্যানস ল‍্যান্ড
বিষ মাখানো তর্জনীর সূচিপত্র, তফাত যাও, তফাত ...
অন্তরকে বেশি গুরুত্ব দিও না, একটু পাগলাটে ধরণের
জিজ্ঞাসা উঠতে পারে, কবেই-বা সে সুস্থ ছিল, অসুখপ্রিয়
কোলাহল শেষে কার চোঁয়াঢেকুরের কাছে টোকেন চাইবে
কাঁধে হাত রাখলে যে নিশ্বাস দীর্ঘতম, তাকে কী নামে ডাকবে

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রাত্যহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার


চন্দন বনের রুদ্ধ সংগীত । বিশ্বজিৎ রায় । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

' সম্ভাবনাগুলি মিহি গুঁড়ো হয়ে মিশে যায়/  অন্তর্জালে বেজে ওঠে/  স্বপ্ন মাদল ...' নয়তো ' ধুলোমাটি মেখে/ নদীতে পা ডুবিয়ে বসে থাকব, আর/ ভাটিয়ালি বাজিয়ে লিখব/  নতুন জীবনের কবিতা ...'-র মতো কবিতার লাইন উপহার দেওয়ার কবি বিশ্বজিৎ রায় তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' চন্দন বনের রুদ্ধ সংগীত ' -এ ক্রমশ আরো বেশি প্রত্যাশা গড়ে তোলেন । বিশ্বজিৎ লেখেন তাঁর মতো নিজস্ব কৌশলে, তাঁর লেখার ডিকসনে থাকে জীবনকে ধরাছোঁয়ার সঙ্গে লেগে থাকা মায়ান্ঞ্জন, যা অস্বীকার করা যায় না । সে কারণে: ' রাতে টুকরো চাঁদের আলো নেমে এসে/  স্নিগ্ধ আদর বুলিয়ে দিয়ে যায় আমার সর্বাঙ্গে ....' -র মতো পংক্তি চিত্তে  আরাম দিয়ে যায় ।
            বিশ্বজিৎ ঠিক যতখানি ভালোমানুষ  তাঁর কবিতায় ঠিক ততটাই ভালোমানুষির সন্ধান পাই । তাঁর কবিতা অহেতুক স্মার্ট নয়, সচেতন কবিতা পাঠক যা চান তাই তিনি নিরিবিলিতে ছড়িয়ে দেন । অহেতুক জটিলতার ভেতরে তিনি নেই ।
          কবির সমস্ত বই পড়ে ফেলার কল্যাণে বলতে পারি , তাঁর কবিতা প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে আলাদা আলাদা উচ্চারণ দিতে সচেষ্ট । ব্যন্জ্ঞনায় ঘিরে রাখে পাঠককে ।
সেখানে কবির  ত্রুটি ধরা গৌণ ।
            আমরা আশা করব বিশ্বজিৎ ' আমার পোশাক খুলে পড়ে, / আমার উর্ধাঙ্গে আলো/ নিম্নাঙ্গে অন্ধকার খেলে যায় '-এর মতো বোধকে বশ করে নেওয়া কবিতা আরো উপহার দেবেন । মুক্তিরাম মাইতির প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে একটাই শব্দ উচ্চারণ করা যায়,' ওয়াও ' ।

উড়ে যাবো || বন্দিশ ঘোষ || কবিতা

উড়ে যাবো
বন্দিশ ঘোষ



বৃষ্টি ডাকছে, ডাকতেই পারে
রোদ্দুর বলে আয় আয় -
নেচে মেতে দু-চারখানা শব্দ হয়ে
ভাবি উড়ে যাবো রাগ রাগিণীর সাথে,
ভাসতে থাকবে সজানা বলামা
সাথে আরো থাকবে সেই অবশিষ্টাংশ -
যার কোনো ধর্ম নেই ভয় নেই
সাধ্য নেই অসাধ্য নেই
তফাৎ নেই নকশা নেই
নতুন নেই পুরাতন নেই...

একটা দুটো বাক্য নিয়ে
এদিক ওদিক অদল বদল করে
যোগ বিয়োগ করে
উড়ে যাবো..


                     

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৩৮৬

উৎকন্ঠা/ আশঙ্কা/ শ্বাসরোধী
           ) বিষয়  (
ঠান্ডা মাথায় সমাধান হয় ।

৩৮৭

সুরক্ষা/  নিরাপত্তা/ জীবন
         ) সেনা  (
রাতে নিরাপদে ঘুমোতে পারি ।

৩৮৮

রিমঝিম/ রুমঝুম/ ঝুমঝুম
     ) শব্দ  (
আনন্দে রক্তে বাজতে থাকে ।

৩৮৯

পিশাচ/ ডাইন/ প্রেম
      ) অপদেবতা  (
সব আমাদের ভেতরে আছে ।

৩৯০

কৌশল/ মানুষ/ আলো
       ) ম্যাজিক  (
হাতসাফাই ভেলকি বিস্ময় আনন্দ ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৬.
গতকাল লিখেছিলাম আজ নতুন এপিসোড -এর কথা লিখব। কী সেই নতুন এপিসোড তা কিন্তু গতকাল জানতাম না। এই দীর্ঘ ৭৭ বছর জীবনে ঠিক কতগুলি নতুন এপিসোড থাকতে পারে বা আছে তা জানার জন্য কোনো যন্ত্র আমাদের হাতের কাছে মজুত নেই।  যন্ত্রটির প্রাপ্তিস্থানও জানি না । যতটুকু জানি ঠিক ততটুকু দিয়েই খেলাটা খেলে যেতে হবে। অর্থাৎ লেখাটা চালিয়ে যেতে হবে।
আমি তখন যেটুকু জানতাম , তার একটা তালিকা করা যেতে পারে।এই তখনটা ঠিক কখন ? যখনকার কথা এখন লিখছি। অর্থাৎ কবিতাপাক্ষিক - এর তৃতীয় বর্ষ পূর্তি উৎসবের সময়। কিংবা কবিতাপাক্ষিক-এর বইপাড়ায় একটা বসার জায়গা পেয়ে যাবার সময়।ক্যালেন্ডারের মাপকাঠিতে 1995- 96 ।
এখন আমার নির্বাচিত ঘটনাগুলি পরপর লিখছি :
১. 19 নভেম্বর 1995-এ সাক্ষাৎকার সিরিজের প্রথম
       কবিতাটি লেখা শুরু করি।
২. কবিতাপাক্ষিক ৬৩ সংখ্যায় প্রথম ২০ টি
      সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় 09 ডিসেম্বর 1995।
৩ . কবিতাপাক্ষিক ৬৯ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল
      09 মার্চ 1996 ।
       ওই সংখ্যা থেকেই কবিতাপাক্ষিক-এর প্রথম
        মলাটে লেখা শুরু হয়েছিল নতুন শ্লোগান :
        কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের জন্য
                            কবিতাপাক্ষিক
 এখন একবার সময় ও দূরত্বের অঙ্ক করা যাক। 1995-এর 19 নভেম্বর থেকে 09 মার্চ 1996 -এর ভিতর কতবার নতুন সকাল হয়েছিল বা কতগুলি তারিখ পার হতে হয়েছিল সেটি নির্ধারণ করতে সমর্থ হলেই নতুন মানচিত্র-র প্রকল্পনাটি বোঝা যাবে।অর্থাৎ এই সময়সীমার মধ্যেই ঘটে গিয়েছিল সেই অলৌকিক ঘটনাটি।
মানচিত্র তো দেশের হয় , বিদেশের হয়। ভৌগোলিক হয় , সামাজিক / রাজনৈতিক হয়। নদীর হয় , পর্বতের হয়। মালভূমির হয় , মরুভূমির হয়।
তার সঙ্গে যোগ করলাম কবিতার মানচিত্র ! কই , কবিতার মানচিত্র-র কথা তো আগে কখনো শোনা যায়নি। না শোনার কারণ হল : কবিতার যে মানচিত্র হতে পারে এই কনসেপ্টটা এর আগে তৈরিই হয়নি।
আমরা , গৌরবার্থে বহুবচন , প্রথম কবিতা প্রসঙ্গে মানচিত্র -কে যুক্ত করলাম। বললাম আগের কবিতায় যেখানে জলাভূমি ছিল , এখনকার কবিতায় ঠিক সেখানেই নগর গড়ে তুলতে হবে।  অর্থাৎ কবিতার  আগাপাছতলা পাল্টে দিতে দিতে হবে। আর এই মহান কাজটি সম্পন্ন করতে হবে আমাদের। হ্যাঁ , আমাদেরই।
এর জন্য আবিষ্কার করতে হবে নতুন নতুন পরিসর।
ঠিক তখন থেকেই আমরা আধুনিকতা থেকে মুক্ত হতে সচেষ্ট হয়েছিলাম।
তার অল্প কিছু নিদর্শন আগামীকাল।

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র কিংশুক
কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু-র কবিতা


কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু (Kiriakos Sifiltzoglou, 1983)-র জন্ম  গ্রিসের ড্রামাতে। ২০০৪ এ তিনি আইনশাস্ত্রে স্নাতক হন এবং ২০১১ তে তিনি ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি  থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রি সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন । এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ। সেগুলি হল:
To Each His Own Grave, 2007
Half Truth, 2012
In the Style of an Indian, 2014
এবং
In the House of the Hanged 2015 প্রমুখ।

Austerity Measures:The New Greek Poetry, edited by Karen Van Dyck (Penguin Books, 2016), Futures: Poetry of the Greek Crisis, edited by Theodore's Choti (Penned in the Margins, 2015)--- এই দুই  সংকলনে তাঁর কবিতা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৩ থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফিও করে আসছেন। তাঁর তোলা ফটো থেকে দুটো সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ নির্মিত হয়েছে । এছাড়া তাঁর অনেকগুলি ফটোগ্রাফি বিভিন্ন কবিতা-গ্রন্থের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

১.
পরিযায়ী পাখি

দেশ ভুগছে
ভাইরাল রক্তস্রাবী জ্বরে

দুর্বল বসন্ত
আর মাথাব্যথা
 আতিথেয়তা হঠকারী প্রকাশ প্রকাশ

অসময়ের জলপরী
সেনেগাল থেকে আসা
ঘুমিয়েছে অ্যান্টিকিথেরাতে

ঘুম হতে পারে
ভবঘুররানির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা

 পরিবেশ ঠিক
ততটা প্রাকৃত নয়
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্তন্যপায়ীরা
দুধ খায় অপটুভাবে
  কী এসে যায়  যদি আমরা হই
শ্রেষ্ঠ  আপ‍্যায়ক

দোষারোপ
সবসময় পরে
লাল
             বক্ষের
                          ওপরে

২.
পথচ‍্যূতি
সিদ্ধান্তকারীরা পারলে পাল্টে দিত
এমন কি বজ্রপাতের দিক
কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে
যেখানে বুলেট আছরে
 পড়ে যখন অন্ধকার নামে
আর মোরগগুলো ডেকে উঠেছিল

                                            অনেক যুগ আগে

৩.
অর্ধসত্য থেকে
উচ্চতা অদৃশ্য হয়েছে
 ঘটনার উচ্চতা থেকে

এখন আমরা কেবল সওদা করি ঘটনার

 তারা জানত এটা ভালোমতোই : সেইসব  সাজনেদার
যারা ভেসে বেড়াতো মনে হয়
চিহ্নিত।



পূরবী~ ১৩ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১৩ অভিজিৎ চৌধুরী এমন অনুর্বর হয়নি কখনও তাঁর সৃজনভূমি। গান লেখা যেন শেষ হয়ে এলো।দিনু যতোদিন ছিল সংগীত ভবন মুখরিত থাকত।নাট...