বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধাহাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

৮৬.

আতঙ্ক/  শ্বাসরোধী/  উদ্বেগ 
     ) করোনা  (
সারাক্ষণ সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে ।

৮৭.

হাল্কা/  উড়ন্ত/  বায়বীয় 
    ) প্রাকৃতিক  (
বিস্ময় বিস্মিত করে তোলে ।

৮৮.

উদগ্রতা/  কামনা/  রিপু 
      ) বোধহীন  (
করে শুধু ধুলোয় মেশায় ।

৮৯.

ভ্রম/  নির্বুদ্ধিতা/ হঠকারিতা 
     ) হঠাৎ  (
ছুঁয়ে যায় আমার পরিধি ।

৯০.

গরমিল/ যোগবিয়োগ/ অংক
    ) সমাধান  (
কি করে ঘটে যায় !

কবিতা || দুঃসময় || সোমনাথ দে

দুঃসময়
সোমনাথ দে।

বিশ্ব জুড়ে চলছে মহামারী---
লক্ষ জীবন নিচ্ছে দেখো কাড়ি
বন্ধ ঘরে প্রমাদ গুনছে সবাই
করছে না কেউ অহংকারের বড়াই।

শতবর্ষে ফিরে ফিরে এসেছে সে
সাক্ষ্য রেখেছে প্রতিবার ইতিহাসে
বিশ্ব মানব কত দেখেছে দুঃসময়
ধ্বংস বুঝি এভাবেই হতে হয়।

তমসা কেটে আসবে কবে আলো
সেই ঠিকানা জানা আছে কারো বলো?
দেশ থেকে দেশ হচ্ছে দিশেহারা
চেনা পৃথিবীটা আজ হঠাৎ সৃষ্টিছাড়া।

ভারত থেকে শিকাগো জুড়ে কান্না
এই মৃত্যু মিছিল আর দেখতে চাইনা
ইতালি থেকে ফ্রান্সের অলি গলি
ছাপ রেখে, সে আজ  গিয়েছে চলি।

সারাদেশে দিনমুজুরেরা আজ
এই দুর্দিনে হারিয়েছে সবাই কাজ
রাজাবাহাদুর দিয়েছে যৎসামান্য
 চলবে কদিন সে খুবই নগন্য।

সারা পৃথিবীর গৃহ বন্দি দশা
তবুও তারা লালন করছে আশা
এই ঝড়ের একদিন হবে শেষ
তছনছ করেও রয়ে যাবে তার রেশ।

কিছু বই, কিছু কথা ।। নীলাঞ্জন কুমার || প্রসঙ্গ~ শ্রীচরণেষু মা । গুরুপ্রসাদ যশ ।

কিছু বই, কিছু কথা ।। নীলাঞ্জন কুমার


শ্রীচরণেষু মা । গুরুপ্রসাদ যশ । আলোপৃথিবী । ত্রিশ টাকা ।


' মা আত্মদর্পণে লিখে রাখে/ ছোট ছোট/ অশ্রুকথা ' কিংবা ' তুমি হাত ধরলে/ নুড়ি কুড়াবো/ যার মধ্যে লুকিয়ে থাকবে/  নারায়ণ শিলা । '-র মতো পংক্তির সামনে  দাঁড়িয়ে কবি গুরুপ্রসাদ যশ কে আবিষ্কার করি । তাঁর ' শ্রীচরণেষু মা ' কাব্য পুস্তিকায় ভালো খারাপ মিশ্রিত নামহীন কবিতাগুলি পড়তে গিয়ে বোঝা যায় তাঁকে লক্ষে পোঁছোতে হলে আরো বহুদূর  কণ্টকাকীর্ণ পথ ধরে চলতে হবে । যে পথ তাঁকে অভিজ্ঞতা জোগাবে ।কবির ভেতরের আকুলতা অনেকাংশে অতিরিক্ত আবেগী হওয়ায়  তা অতিসরলীকরণের স্বাদ নেয় । মাত্র বারোটি কবিতারএক ফর্মার কাব্য পুস্তিকার ভেতর দিয়ে তাঁর কবিতা নির্মাণ তেমন আকর্ষণীয় না হলেও কিছু কিছু শব্দ কৌশলের কাছে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে । যেমন,  ' সকালে পথে এসে/ খুঁজতে থাকে মেয়েবেলা ' অথবা 'এখনও সন্তানের অসুখ হলে/ মা শুঁয়ো কাপড়ে মন্দিরে ছোটেন/  অন্তরে দপদপে ভয় ।' কবির কবিতা আরো পড়ার প্রত্যাশায় থাকলাম ।

কবিতা || ঘুম || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়


 ঘুম
 অরবিন্দ  মুখোপাধ্যায়

  ঘুম এসেছিল ।
জাগরনে নীলাভ ছিল দেহমন ;
তার সময় ডুব দিয়েছিল নীল ছবিতে-
রবাহূত ঘুম ছিল ছদ্মবেশী  বিশ্রামের।
সাদা পাতা চিঠি হয়ে ওঠেনি তখনও..
কিছু বলার আগেই আসে নিশিসখা
আত্মমগ্ন সন্নাসী ঘুম ।।


বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

৮১.

জীবনদায়ী/ জীবন্ত/ সচল
      )শ্বাস  (
লাব ডুব লাব ডুব 

৮২.

জানালা/ আলো/হাওয়া 
       )প্রাণোচ্ছল  (
কবির সামনে অন্য ব্যন্জ্ঞনা ।

৮৩.

বই/  জ্ঞান/ তৃষ্ণা 
    )সাধনা  (
সে পথে আমি যে ।

৮৪.

প্রসাধন/ সৌন্দর্য/ নায়িকা 
    )বিনোদন  (
স্বপ্নে মোহে উল্লাসে ভাসে ।

৮৫.

আগাছা/  জন্জ্ঞাল/ নোংরা 
       ) আবর্জনা  (
আস্তাকুড়ে ফেলে ভুলে যাই ।


গল্প || ঘরবন্দি || কমল কৃষ্ণ কুইলা

গল্প

ঘরবন্দি
কমল কৃষ্ণ কুইলা

ডাইনিং টেবিল।
ডিনার পরিবেশন ও খাওয়া চলছে সপরিবারে জোরকদমে।
মা: খোকা মাছ আর এক পিস দিই।
খোকা: না না মা থাক। ওটা বোনকে দিও।
মা: না না তুই খা। যা বলছি তাই শোন।
বোন: মা একদম ঠিক কথা বলছে বুঝলি। আমার এক পিসেই হয়ে যাবে। আর তাছাড়া আমি মাছ খুব একটা পছন্দ করি না তুই তো জানিস।
খোকা: আচ্ছা মা। বোন যখন বলছে দাও আর কি করা যাবে। খেয়েই নি। তারপর যা হয় দেখা যাবে।
মা: খেতে বসে আবার কি হল খোকা। অমন অলক্ষুণে কথা বলছিস কেন!
খোকা: বলব না! চারিদিকে যা ঘটছে সবই তো জানো মা।
টিভি খুললেই একটাই খবর। নতুন করে করোনা আক্রান্ত, মৃত্যু, লকডাউন অমান্য, রেশনে খাদ্য চুরি, করোনা কিট কেলেঙ্কারি, পলাতক ঋণখেলাপিদের ঋণ মুকুব ইত্যাদি ইত্যাদি।

বুঝলে তো মা রাগে ঘেন্নায় মাথা গরম হয়ে যায়। রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে। মারি কি মরি অবস্থা। ছিঃ ধিক্কার জানাই অমন অপদার্থ সরকারকে।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং
মা: এতো রাতে আবার কে!
আশ্চর্য। আমার ছেলেটাকে একমুঠো শান্তিতে খেতেও দেবেনা দেখছি।
খোকা : ও কথা বলতে নেই মা। মানুষ নিশ্চয়ই বিপদে পড়েছে। নইলে এতো রাতে ফোন করবে কেন।
মা ফোনটা নিয়ে এসো।
মা ফোন আনতে এগিয়ে যায় কিন্তু ফোনটি কেটে যায়।
খোকা : আবার ঠিকই করবে।
সঙ্গে সঙ্গে রিং বেজে ওঠে।
মা ফোনটি নিয়ে এসে খোকার হাতে দেয়।
খোকা : নমস্কার। কে বলছেন। হ্যাঁ আমি আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বলছি।
আমি এখন খেতে বসেছি স্যার। খাওয়া সেরে রিং ব্যাক করছি কেমন।
ওকে ওকে।

খাওয়া শেষ করে খোকা বেসিনে হাত মুখ ধুয়ে নেন।
এরপর বিছানায় এসে বসেন। হাতে ফোন।
ঐ নং এ ডায়াল করার পর.....
খোকা: হ্যাঁ স্যার এবার বলুন। হ্যাঁ হ্যাঁ এবার ফ্রি হয়েছি।
খোকা: কি বলছেন কি! দুদিন খাওয়া নেই!
নিশ্চয়ই সাহায্য তো করবই। আমাকে পুরো বিষয়টি পরিস্কার করে বলুন....

ফোনের অপর প্রান্তে।
লকডাউনে গৃহবন্দী এক অসহায় অভুক্ত পরিবারের হাহাকার।
অভুক্ত মানুষ : হ্যালো স্যার। আমার নাম গোবিন্দ দাস। আমি একজন দিনমজুর। দিন আনি দিন খাই। আমার বউ বাবুর বাড়িতে ঝিএর কাজ করে।
করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে এখন তো লকডাউন চলছে। কাজকর্ম সবই বন্ধ। এবার খাব কিভাবে বলুন। দুজন ছোট বাচ্চা আছে।
আমরা তো এখানে ভাড়া বাড়িতে থাকি। রেশন কার্ড আছে বাড়িতে। তাই রেশন থেকে কোনো চাল পাওয়ার ব্যপার নেই। খুবই খাদ্য সংকটে আছি স্যার। দয়া করে আমাদের বাঁচান স্যার।
বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেললেন।
খোকা: আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আলো ট্রাস্ট আপনাদের পাশে ছিল আছে থাকবেও।
দেখছি কি করা যায়।
রাখুন একটু পরে আবার করছি।

মা: কি হয়েছে রে খোকা।
খোকা : জানো তো মা কলকাতা থেকে ফোন এসেছিল। ওদের বাড়ি আসলে। কর্মসূত্রে কলকাতায় ভাড়া বাড়িতে থাকে।
দিনমজুরী করে। ওনার বউ বাবুর বাড়িতে ঝিএর কাজ করে। এখন লকডাউনে গৃহবন্দী। কাজকর্ম সবই বন্ধ। যে টুকু সঞ্চয় ছিল ফুরিয়ে গেছে। ফোন করে হেল্প চাইছে। দুজন বাচ্চাকে নিয়ে অনাহারে আছে।
বোন : এ বাবা দেখ দাদা দেখ যদি কিছু হেল্প করা যায়।
মা: বোন ঠিকই বলেছে। আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কিছু সাহায্যের ব্যবস্থা করে দে খোকা।
খোকা: ওটাই তো ভাবছি মা। কিভাবে কি করা যায়।

খোকা বসে ভাবছে। পাশে বসে মা ও বোন।
খোকা : আচ্ছা মা যদি
৫ কেজি চাল
১ কেজি ডাল
১ কেজি পেঁয়াজ
৫০০ গ্রাম নুন
১ কেজি মুড়ি
২ কেজি আলু
৫০০ গ্রাম সয়াবিন
১ ট্রে ডিম
৫০০ গ্রাম সরষে তেল
১ প্যাকেট বিস্কুট

এইসব একসাথে রেডি করে যদি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কেমন হবে।

মা: খুবই ভালো হবে খোকা।
বোন : হ্যাঁ রে দাদা। খুবই ভালো হবে।
খোকা: তবে মা এটাই ফাইনাল করছি।

খোকা : হ্যালো শুনতে পাচ্ছেন। আপনার জন্য কি কি রেডি করেছি একটু শুনুন.....

৫ কেজি চাল
১ কেজি ডাল
১ কেজি পেঁয়াজ
৫০০ গ্রাম নুন
১ কেজি মুড়ি
২ কেজি আলু
৫০০ গ্রাম সয়াবিন
১ ট্রে ডিম
৫০০ গ্রাম সরষে তেল
১ প্যাকেট বিস্কুট

কি হবে তো।
এগুলো নিয়ে আপাতত চালান। পরে আবার দেখছি।
আগামীকাল আপনার বাড়িতে লোক চলে যাবে কেমন। আপনার হাতে এই জিনিস গুলো কিনে দিয়ে আসবে কেমন। একদম চিন্তা করবেন না।

অভুক্ত : কি বলে যে ধন্যবাদ দেব। ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।
খোকা: কোনো ধন্যবাদ দিতে হবে না। ধন্যবাদ ঈশ্বরকে দিন। আমরা সারা বছর ধরেই সারা বাংলা জুড়ে কাজ করি। মানুষের পাশে থাকি। এটা আমাদের কর্তব্য।
রাখছি তাহলে....

এই পলাশ শোন। তোর বাড়ির কাছাকাছি একটা পরিবার অনাহারে আছে। শোন শোন তোকে পরে ডিটেলস বলব। এখন আমি তোর account এ কিছু টাকা transfer করছি। আর ফর্দ পাঠাচ্ছি।
তুই ফর্দ ধরে ঐ জিনিস গুলো কিনে ঐ ভদ্রলোকের হাতে তুলে দিতে হবে। কেমন। ঠিকানা টিও তোর wp এ দিচ্ছি।

পলাশ: ওকে বস...

পলাশ খোকার ফর্দ অনুযায়ী সবকিছুই ঠিকঠাক কিনে নিয়ে ঐ ভদ্রলোকের বাসায় হাজির হয়।
পলাশ: কই বাড়িতে কেউ আছেন?
অভুক্ত : ও আপনি এসে গেছেন। ভিতরে আসুন।
পলাশ: জিনিস গুলো ধরুন। এখন ভিতরে যাওয়ার সময় নয়।
আর একটা কথা লকডাউন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঘরবন্দী থাকতেই হবে। জরুরী দরকারে যদি বেরোতেই হয় তবে মুখে মাস্ক পরতেই হবে এবং কাউকে স্পর্শ করা চলবে না। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
মনে রাখবেন এভাবেই আমরা করোনা ভাইরাসকে হারাতে পারব। এর অন্য কোনো উপায় নেই।

আসছি কাকু....
অভুক্ত : এসো বাবা এসো...
ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করুক।
তোমরা অনেক বড় হও বাবা অনেক বড় হও।

কবিতা || মহাকাল দণ্ড || সঞ্জয় চক্রবর্তী


মহাকাল দণ্ড 
সঞ্জয় চক্রবর্তী

লিখেছ তুমি রাত্রিকাব্য, কোনো পত্রালির গায়ে ।
আমাদের ছায়া আছে ঐ পাহাড়ের পাদদেশে ।
ঘেন্নাতেও বাঁচে ভালোবাসা, রক্তমুখী তবু ।
মহুয়ার বনে বনে অনেক শীতলতা, অনুভব করো ।
এ শীতলতা আগেও ছুঁয়ে দেখেছ জামরুলে ।

অচল দুর্বোধ্য জ্ঞানে অমানিশা, কাঁটা অধিকারবোধের আত্মবিশ্বাসে লাল পূর্ণচ্ছেদ টেনে দিয়েছে ।
সংশয় নদীপথের নাব্যতা খোঁজে, পাংশু পারুলে ।

কক্ষপথে গ্রহগুলো গন্ধমাদন টানে বহুবর্ষ ধরে ।
ওদের সবার মাথায় একটা করে পিলসূজ ।
নীলরক্ত বইছে মহাকাশ জুড়ে, অজন্তা ইলোরা গুহাতে গর্বিত স্খলনে কল্পিত যত চিত্রিত মহাভূজ ।
নিঃসীম সময়ের পানপাত্রে পীযূষ ।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

কবিতা || এক পরিযায়ী পাখি || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

এক পরিযায়ী পাখি
সুধাংশুরঞ্জন সাহা

আমার চেতনা মনে হয় এক পরিযায়ী পাখি।
সমুদ্র গিরি পেরিয়ে আসে এক গভীর অরণ্যে।
ডালে ডালে দোল খায় পাতা আর বাতাসের সাথে ।
চোখের কোটরে তার অসম্ভব উড়ানের স্বপ্ন।
একে একে বন্ধ হলো চলার পথঘাট যখন
তখনই সে উদয় হলো আমার মনের তারে !
অবাধ্য মনের গতি সাঁতরে যায় নিষিদ্ধ নদী।
পাখিটা আমাকে ডাকে চোখে নির্ভরতার আভাসে ।
#
কিন্তু শহরে হঠাৎ নেমেছে শ্মশানের স্তব্ধতা।
কাকজোছনায় সাজে না আর ভোরের জনপদ
সব প্রাণ হতাশায় ঘরবন্দী অসহ্য সময়ে ।
হে আমার প্রিয় পাখি, ডানায় অকপট উষ্ণতা,
এই অক্ষর জীবন বুঝি এক ভোঁতা তরবারি
শোনাও তোমার কথা ভূগোলের মানচিত্র ছিঁড়ে ।

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

৭৬.

আদিখ্যেতা/ ভাঁড়ামো/ হাস্যকর 
       )অতিনাটকীয়  (
হাসায় আর মিলিয়ে যায় ।

৭৭.

বসন্ত/ রঙ/  সুখ 
   )ভরভরন্ত  (
দিন আসে প্রিয় মরশুমে ।

৭৮.

গর্ব/ শ্লাঘা/ অহং 
     )রক্তে  (
চাগাড় দেয় কখনো সখনো ।

৭৯.

উদোম / আদর/ বিস্ময় 
       )সদ্যোজাত  (
প্রতিনিয়ত দেখতে দেখতে স্বাভাবিক ।

৮০.

ওস্তাদ/  প্রতিভা/  অপ্রতিদ্বন্দ্বী 
     )  প্রথিতযশা (
শুধু দেখি আর দেখি ।



কিছু বই, কিছু কথা আজ প্রসঙ্গ ~ অগ্নিঋষি লেখক~ অভিজিৎ চৌধুরী

কিছু বই, কিছু কথা
আজ প্রসঙ্গ ~ অগ্নিঋষি
লেখক~ অভিজিৎ চৌধুরী


অগ্নিঋষি এক অগ্নিময় পর্বের ইতিহাস।যখন এই উপন্যাস লিখি তখনও ভাবতেও পারিনি, আমি চাকরিসূত্রে বিপ্লবের আঁতুরঘর মেদিনীপুর জেলায় আসব।১৯০৮ এ আলিপুর বোমার মামালার রায় এবং হেমচন্দ্র, বারীন,উল্লাসকরদের কালাপানি যাত্রা,অরবিন্দ ঘোষের অলৌকিক মুক্তি ও এক নতুন আলোকিত পথে যাত্রা দিয়ে উপন্যাসের পরিসমাপ্তি।সি আর দাশের অনন্য সওয়ালও পাঠককে অভিভূত করবে।আত্মিক বীক্ষণ নাকি সহিংস আন্দোলনের ঋত্বিকের স্বেচ্ছাকৃত আত্মগোপন- এই বিতর্কিত ও দ্বান্দ্বিকতার আবর্তে লেখক যাননি।সময়কে লিপিবদ্ধ করা কল্পনাকে সংহত করে এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য। যুগশঙ্খের রবিবারে পাতায় সাড়ে সাত মাস ধারাবাহিকভাবে বের হয় অগ্নিঋষি।অগণ্য পাঠক পাঠ- প্রতিক্রিয়া জানাতেন।জানাতেন রানাঘাট থেকে অনেকটা দূরের কানুবাবু।অগ্নিঋষি তাঁর কাছে জীবনবেদ- এমনটাই বলেছেন তিনি লেখককে।ক্ষুদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়কে মিথ্যে করে দিয়ে এই প্রণম্য পাঠক হয়তো লণ্ঠনের আলোয় পাঠ করতেন অগ্নিঋষি।অগ্নিঋষির পাঠকদের কাছে লেখক আবার নতজানু হলেন।পুনশ্চে অভিজিৎ চৌধুরীর দ্বিতীয় উপন্যাস।প্রথমটি ছিল কিশোরদের জন্য।।

অণুগল্প || দেশ || সোমনাথ বেনিয়া

অণুগল্প

দেশ
সোমনাথ বেনিয়া

- দাদু আমরা যে এই দেশে বেড়াতে এলাম, এখানে দেখছি সবাই মাথা নিচু করে হাঁটছে। কেন বলতে পারবে!
- ঘুরতে আসার আগে পড়াশোনা করে জেনেছি, এটা নাকি এই দেশের নাগরিকদের সহবত। সেটা আবার সংবিধানে উল্লেখ আছে।
- সংবিধানে আছে! সহবত তো সহজাত ব‍্যাপার। তার আবার সংবিধান কী?
- আসলে সংবিধানটা মূলত বন্দুকের সংবিধান।
- বন্দুকের সংবিধান!
- হয় তো। তাই তো সবাই মাথা নিচু করে হাঁটছে। আমরাও হাঁটছি।
- খোলসা করে বলবে আসল কথা কী?
- বলছি শোন, কাউকে বলিস না, আসলে এখানে যারা প্রশাসনে বসে আছে তাদের সবার মুণ্ডু কাটা মানে মাথা নেই! তাই হাতে বন্দুক ...

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

কবিতা || লাজের ইতিহাস থেকে || সঞ্জয় চক্রবর্তী

লাজের ইতিহাস থেকে 
সঞ্জয় চক্রবর্তী

আমি একটু পরেই মিথ্যের খোলস থেকে বোধিজ্ঞান নেব ।
সে আমার থেকে অভিমানী শীতমেঘ দূর ।
এই পৃথিবীর প্রেমে অনেকটাই অম্ল-মধুর
আমি, তুমি আর এই বটের মরিচঝাল একাকিত্ব ।

জানি সব নিয়মিত নয়, নতুন কিছু শুরু করা সুন্দরের মতো কিছুটা কঠিন, কিছুটা জলীয় ।

একটা পথের গন্তব্যে মড়া তার জীবিত হওয়ার সব ইচ্ছেকে বিসর্জন দিতে এলে,
পচা শরীরের ভেতর আত্মার অনুতাপ শোনা যায়,
তবুও সারাংশে পূর্ণতার বিবরণ শ্রেয় ।

ভয়ানকে কোনো নারী অথবা পুরুষ নগ্ন সম্পূর্ণ,
লাজের ইতিহাস থেকে আদিম সত্ত্বা হারিয়েছে ।

গুলবাহার সব মধুমক্ষিকার সৌভাগ্যের চাবিকাঠি,
ওখানেই প্রজন্ম নতুন পৃথিবীকে বিন্যস্ত হতে শেখায়,
শিক্ষা পেয়েছে দেবদ্যুতি ।

অণুগল্প || মহালয়ার ভোরে || জয়ন্তী মন্ডল

মহালয়ার ভোরে
জয়ন্তী মন্ডল

 সবুজ রঙের ওড়নাটা খুব যত্নে ভাঁজ করে টেবিলটাই রেখে দিল অরুন্ধতি।
 অরুন্ধতীর বাবা রামশঙ্কর বাবু গঙ্গাসাগর মেলা থেকে ওড়নাটা এনে দিয়েছিলেন অরুন্ধতীকে। সেবার রামশঙ্ক বাবু গঙ্গাসাগর মেলার ডিউটি থেকে ফিরে এসে বললেন,
 এবার মেলায় এত ডিউটির চাপ ছিল তোর জন্যে কিছু কিনতে সময় পায়নি।
 এই ওড়নাটা এক গুজরাটি মহিলা তর্পণের দিন হাতে আমার হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটাই তোর জন্যে এনেছি। ওড়নাটার সঙ্গে ম্যাচ করে এবার পুজোয় তোকে একটা সালোয়ার কিনে দেবো। 
 অরুন্ধতী ওড়নাটা হাতে নিয়ে খুব খুশি হয়ে বলল, ওড়নাটা কিন্তু দারুণ দেখতে বাবা।
 তারপর ওড়নাটার দুধার বেশ সুন্দর করে সেলাই করে নিয়ে তুলে রেখে দিল আলমারিতে।
 আজ তাড়তাড়ি শুয়ে পড়ল অরুন্ধতী। কাল ভোর উঠতে হবে।
 অফিস, বাড়ির কাজ, ভোরে তর্পণের জোগাড়। এত কাজের ক্লান্তিতে শুতে না শুতেই ঘুমে অচৈতন্য।   
অরুন্ধতী।
কে যেন ডাকল!
 অরুন্ধতী!
ও মা! বাবা!
একটু বললেই তো পারতে। তোমার জামাইকে পাঠাতাম। শুধু শুধু কষ্ট করতে গেলে।
এ আর কী ব্যাপার মা। ট্রেন থেকে নেমে মিনিট দশেক হাঁটলেই তোদের বাড়ি। আজকাল তো হাঁটাই হয় না।
কিন্তু বাবা। কাল ভোরে তোমার তর্পণ। আবার কষ্ট করে আজকেই তোমায় বাড়ি ফিরতে হবে।
রামশঙ্কর বাবু বললেন, ওড়নাটার সঙ্গে ম্যাচিং করে সালোয়ারটা কেনা হয়নি। তাই আজ কিনে নিয়ে এলাম। সে বছর এমন হল যে পুজোয় তোর নতুন জামা কেনাই হল না। তাই এ বছর আর দেরি করতে চাই না। মহালয়ার আগেই কাজটা সেরে ফেলতে চাই।
অরুন্ধতী ভাবে ……সে বছর কি হয়েছিল যে বাবা ওর জন্যে নতুন জামা কিনতে পারেনি। আবার মনে করার চেষ্টা করে কি হয়েছিল?
মনে একটা ভীষণ কষ্ট চেপে বসে। কিছু মনে করতে পারে না। মায়ের কাছে ছুটে যায় জিজ্ঞেস করতে। শত চেষ্টা করেও পা যেন গড়াচ্ছে না। দূর থেকে মাকে ডাকে, মা!
ও মা!
পরিতোষ অরুন্ধতীর মাথায় হাত রাখে।
বলে, শরীর খারাপ লাগছে অরুন্ধতী? মাকে ডাকছ কেন?  উঠে বোসো। একটু জল খাবে। বলে তাড়াতাড়ি খাট থেকে নেমে জল আনতে যায় পরিতোষ।
অরূণধুতি ধড়ফড় করে উঠে বসে। চোখ চলে যায় টেবিলটার দিকে। সবুজ ওড়নাটা ভাঁজ করা যেমন কার তেমন বিছানার পাশে টেবিলটার উপর রাখা আছে।
কোথায় বাবা! কোথায় পুজোর নতুন সালোয়ার। মনে পড়ে যায় বাবা সে বছর ওড়নার সঙ্গে ম্যাচ করে সালোয়ার কেনার আগেই স্ট্রোকে মারা গেলেন।
পরিতোষ তখন একগ্লাস জল নিয়ে দাঁড়িয়েছে ওর বিছানার পাশে।
অরুন্ধতী ভাবে, তবে কি গঙ্গাসাগর মেলায় কেনা ওড়নাটার সঙ্গে ম্যাচ করে সালোয়ারটা কিনতে পারেন নি বলে, বাবা প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে আসেন ওর কাছে।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

৭১.

পরিপূর্ণ/  ভরন্ত/ সমৃদ্ধ 
      )জীবন (
সারাক্ষণ স্বপ্নে শুধু ঘোরে ।

৭২.

মুর্খ/ সরল/ চিন্তাহীন 
     )মানুষেরা(
দিশাহীন হয়ে ঘোরে ফেরে ।

৭৩.

স্বাভাবিক/ গয়ংগচ্ছ/  স্রোতহীন 
        ) জীবনযাপন  (
ক্রমশ ফিকে হতে থাকে ।

৭৪.

অগোছালো/  ছন্দহীন / উল্টো 
    ) সত্ত্বা (
তছনছের মধ্যে দিয়ে কাটে ।

৭৫.

দুর্ধর্ষ/  দুরাচার/ দুর্লঙ্ঘ 
  ) মানুষ  (
ভয় দেয় প্রেম নয় ।

অণুগল্প || মজদুরডাঙা || অভিজিৎ চৌধুরী

মজদুরডাঙা

অভিজিৎ চৌধুরী।

শহরে কেটেছিল ছেলেবেলা।তারপর যেখানে এলাম শিল্পায়নের জোয়ার।কারখানার ভোঁ শুনে রাতের পড়া শেষ হতো।পোনে দশটা বাজল।এবার ভাত খাওয়ার ডাক।জনাকীর্ণ পাড়া।লোডশেডিং হলে কমন উঠোনে আড্ডা।ক্যুইজ,গানের লড়াই আর ভূতের গল্প।

 ফলে সুজিত যখন বললো,ওদের গ্রামের বাড়ি যেতে।মন নেচে উঠল।হাওড়া থেকে বাস ঊরে পাত্রসায়ের হয়ে মজদুর ডাঙা।জমিদার জোতদার রয়েছে তখনও।অপারেশন বর্গা শুরু হয়েছে সবে। পালকি এলো আমাদের নিতে।সাত বেহারা জোয়ান তারা।আমি আর অনুপম তো হেসে অস্থির।আমরা হাঁটতে থাকলাম।দুপুরে গনগনে রোদ্দুরেও টের পেলাম সবুজ।শাল পিয়ালের অরণ্য।সে ছিল ফাগুন মাস।খেতে বসে তো অবাক।কতো পদ,মাছ মাংস।বললাম,সুজিতকে এতো কেন!সে বলল,বাগালদের কম তরকারি দিলে গ্রামে নিন্দে হবে।

  অচেনা জীবন।কয়েকদিনে সাঁতারও শিখলাম।একদিন বেশী সাহস দেখিয়ে একা একা সাঁতার কাটছি।মনে হলো ডুবে যাচ্ছি।অকুতোভয় সে আমাকে অনায়াসে বাঁচাল।গায়ের রং তামাটে মুখটা সুন্দর।

  আমি বললাম,জীবন দিলে আমায়।কিছু চাইবে আমার কাছে।সে তখন বলল।খুব কঠিন কাজ।

  সিদ্ধি খেলাম সেদিন।ব্যাপক নেশা হল।খেতে বসে মনে হল থালা বাটি সব উড়ছে।কোনক্রমে খাওয়া সেরে ঘুম দিয়ে উঠতে উঠতে সন্ধে হয়ে গেল।

তখন সুজিতকে বললাম।সবটা। কে আমাকে বাঁচাল।তাকে আমি কি কথা দিয়েছি।জীবনে একবারই গুমঘর দেখলাম।খাজনা না দেওয়ায় আটক শীর্ণ এক মানুষ।সুজিত কথা রেখেছিল। মুক্তি দিয়েছিল।

 ফিরে আসার সময় মেয়েটা এক ঝলক দেখি।চোখ দুটো ছলছল করছিল ওর।বিদায়ের হাত নাড়লাম।

 সুজিতদের সেই জমিদারি আর নেই।ও আর বউ প্রাইমারি স্কুলে পড়ায়।নিমন্ত্রণ ছিল,যাওয়া হয়নি।একবার ওর সঙ্গে কলকাতায় দেখা হওয়ায় বলেছিল, তুই চিনিস আমার বউকে।

 মজদুর ডাঙার সেই ছবিটা ধরে রাখব বলেই যাওয়া হয়নি আর।

কবিতা | চিৎকার | কুমারেশ মণ্ডল

চিৎকার
...
কুমারেশ মণ্ডল

ঘন অন্ধকারে শোনা গেল আবার
আর্তনাদের চিৎকার-
আজ আবার পশুদের দল
তরুন সতেজ প্রানকে
খুবলে খুবলে খাচ্ছে।
সেই চিৎকার বার বার
সাহায‍্যের প্রার্থনা করেছিলো,
কোন লাইট জ্বললো না -
অন্ধকারে আর্তনাদ ধীরে ধীরে
শেষ হয়ে গেল
শেষ নিঃশ্বাসের সাথে।
তখনই বুকটা আমার ছ‍্যাৎ করে উঠলো,
দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে
আমি পশুটা কিছু করলাম না।
পারতাম আমি ওদের আটকাতে...
পারতাম!কিন্তু হাতটা আমার বাঁধা।
আজকাল এরকম চিৎকার শোনা
প্রায় অভ‍্যেস হয়ে গেছে,
আমিও মানুষ ছিলাম হয়তো...
কিন্তু কেউ আমাকে নিষ্ঠুরতায়
পশু বানিয়েছে,
আমার চিৎকার কেউ শোনেনি সেদিন।
তাই অন্ধকারে পশু শিকারে করলে
এই পশু পথ আটকায় না।
                         আলাদিন

রম্যরচনা || ভাইরাস || কাশীনাথ সাহা

রম্যরচনা
ভাইরাস
কাশীনাথ সাহা

কোথা থেকে কি হয়ে গেল বোঝবার আগেই হম তুম এক কামরে মে বন্ধ হো ঔর চাবি খো যায়ে।
আমরা দেশবাসী আর বিদেশবাসী সবাই গাড্ডায় পড়ে গেছি। বাজার বন্ধ, বেড়ানো বন্ধ, আড্ডা বন্ধ,পরকীয়া বন্ধ। কুড়ি পঁচিশ বছরের প্রাগৈতিহাসিক  বউকে আবার পালিশ মেরে চকচকে করে নিজের মতো করবার অসাধ্য সাধন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পালিশে বউ কতোটা চকচকে হয়েছে জানিনা তবে পালিশ করতে করতে আমি পালিশওয়ালা বনে গেছি। রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান!  বউ মশলা বাটছে আমি আলু কাটছি। বউ চপ ভাজছে আমি বেসন গুলছি।বউ তরকারিতে নুন দিল, ভালবেসে আমি আর একবার নুন দিলাম। বউ বলল পায়েস করবো, আমি বললাম তাই করো আমি আমি পেঁয়াজ বেঁটে  দিচ্ছি। বউ, অবাক, পায়েসে পেঁয়াজ কি হবে? আমি বললাম, কেন দেয়না? না পায়েসে পেঁয়াজ দেয় না।  কেন দেয়না?  আজ থেকে চালু হোক পায়েসে পেঁয়াজ দেওয়া। বউ হেসে লুটোপুটি।  এই করতে করতে আবার পুরাতন প্রেম মাথা চাড়া দিচ্ছে। পরকীয়া নয় স্বকীয় ভাইরাস। কে বলে কদমতলা ছাড়া প্রেম হয়না!  চার দেওয়ালের মধ্যে টগবগিয়ে প্রেম ফুটছে।  চলুক, অনন্তকাল চলুক এই চায়না সেলিব্রেশন। তবে চায়না মাল তো বেশিদিন লাস্টিং করবে না। ভাইরাস চলে গেলে ওপারে রইবে তুমি আমি রইবো এপারে...।
বউকে বললাম ছুটি চলছে চল পুরী যাই। বউ বলল দূর অসব্য ( আদরে ভ টা ব হয়ে গেছে) এখন তো লকডাউনে সব বন্ধ যাবে কি করে?  বউ ধরতে পারেনি সময়  বুঝেই কোপ মেরেছি। আমি বললাম তাই তো!  ঠিক আছে সমুদ্রকেই ঘরে নিয়ে আনছি। হোম ডেলিভারিতে দু বোতলের অর্ডার দিয়ে দিলাম। না, আপনারা যা ভাবছেন পুরোটা তা নয়। জিনিসটা ওটাই  তবে দুবোতল মানে গিন্নীর জন্য একটা নয়। দুটোই আমার জন্য। আজ একটা কাল একটা। সরকারের চিন্তা ভাবনাকে স্যালুট। আমাদের মতো গরীবের দুঃখ টা বুঝতে পেরে এটা ছাড় দিয়ে দিয়েছে । জিও। আগলে বার....  কা সরকার!
এই দুর্যোগে গরীবের কষ্টতো হচ্ছেই। হাহাকারে ভরে গেছে গরীবের উঠোন। কিন্তু সবচেয়ে বেশী কষ্ট নব্য প্রেমে পড়া ছেলেমেয়েগুলোর। কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না, ছুতো ছাতায় ছুঁতে পারছে না। মান অভিমান নাই। একি কম যন্ত্রণার। রাজ্যসরকার, কেন্দ্র সরকার, পাটী, ক্লাব জনগণ  কেউ বুঝতে পারছে না ওদের দর্দ ভরি কহানী। এ ব্যথা কি যে ব্যথা বোঝে কি আন জনে সজনি আমি বুঝি মরেছি মনে মনে...
এখন প্রচুর সমাজসেবী ময়দানে নেমে পড়েছে। হাতে পাঁচ টাকা দামের এক প্যাকেট বিস্কুট সাথে তিনজন ফটোগ্রাফার। হাসিহাসি মুখে পোজ মেরে উত্তমকুমার মার্কা ভুবন ভোলানো হাসি বিলোতে বিলোতে বিস্কুটটাই আর বিলানো হলো না। না হোক, আসছে বছর আবার হবে। ফটোটা জম্পেশ হয়েছে, বউ যা খুশি হবে....। এই নকলি মাকালদের দাপটে আসলি দাতারা আর হালে পানি পাচ্ছে না।
দেশভক্তিতে গদগদ করছে কিছু মানুষ। দেশের প্রতি এদের এতো প্রেম যে কোথায় ছিল বুঝতে পারিনি।  পনের টাকার মাক্স সত্তর টাকা।চাল, তেল ডাল আটা, চিনি সব হু হু করে গোষ্ঠী সংক্রমণের মত বিস্তার করছে।  আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি ই ই ই ই...
কবিদের টাটকা কবিতায় ভরে উঠছে দিস্তা দিস্তা কাগজ। কি নেই কবিতায়৷!  ঝর্ণা আছে পাহাড় আছে  সাগর আছে নদী আছে। জৈবসারের মতো প্রেম আছে। আর করোনাতো বস্তা বস্তা।
 জিলে লে জিলে লে আও আও জিলে লে...
সংগীতের সুরও ভাইরাসে আক্রান্ত। সুর আছে কথা পাল্টে গেছে...
সরকার লকডাউন করেছে আমরা হরদিল জো প্যার করেগা ও গানা গায়েগা.. মৌজ মস্তিতে আমরা লকডাউন মানাচ্ছি। দুবেলা মোটরসাইকেল চক্কর মেরে দেখতে বের হচ্ছি কেমন চলছে মাদারি কা খেল!
সরকার বললো হাততালি দাও শঙ্খ বাজাও আমরা ঢাকঢোল তাসা ব্যান্ড খোল করতাল নিয়ে দুর্গাপূজার বিসর্জনের মতো বেরিয়ে পড়লাম দলবেঁধে। কি ফূর্তি!  আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
সরকার প্রদীপ জ্বালাতে বললো আমরা শুশুনিয়া পাহাড়টাই জ্বালিয়ে দিলাম। অল্পেতে খুশি হবে দামোদর শেঠ কি, মুড়কির মোয়া চাই চাই ভাজা ভেটকি।
আমরা বেশ মজে আছি। কখনো পাখির নীড়ের মতো বনলতা সেনে কখনো আঁখ মারে ও লেড়কি আঁখ মারে ...
রামায়ন মহাভারতেও আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছি।  এজীবনে কতো সাধ ছিল কিছুই তো পেলাম না। কিন্তু লকডাউন তো পেলাম। সেটা কম কি?
রাজনীতির কচকচানি ভুলে আবার তো একসাথে হলাম কয়েকটি দিন । ধর্মান্ধতা সরিয়ে দু'চার দিন একটু হলেও তো মানবিক হলাম সেটা কি কম পাওনা।  মমতার বুক আবার মমতাময়। মোদীজির কন্ঠস্বরে দখিনা বাতাস। বামেদের হৃদয়েও বিপ্লব থেমে গিয়ে, মধু মালতি ডাকে আয়... । আর আমাদের মনেও বন্য প্রেমের ভাইরাস। বেশ করেছি প্রেম করেছি করবোই তো....

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা 
  
নীলাঞ্জন কুমার 


৬১.

আতিশয্য/ দেখনদারি / বৈভব 
      ) রাজসিক (
  স্থির থাকতে দেয় না ।

৬২.

প্রণাম/ শ্রদ্ধা/ আকুতি 
   ) সম্মান  (
যে পায়  সে পায় ।

৬৩.

অসহনীয়/  যন্ত্রণা/  জ্বালা 
      ) শাস্তি  (
অনুভব কত বড় বেদনার ।

৬৪.

পর্দা/ আবরণ/রক্ষণশীল 
   ) বন্দি (
দীর্ঘশ্বাস এমনি ছুটে আসে ।

৬৫.

প্রশ্ন/ ইঙ্গিত/ তীর্যক 
  )ক্রোধ  (
গড়িয়ে পড়ে গড়িয়ে পড়ে ।

৬৬.

তর্ক/ যুক্তি / বিচার 
         ) পাণ্ডিত্য  (
পা মাটিতে  মাথা আকাশে ।

৬৭.

ধর্ম/ বিজ্ঞান/ বাস্তবতা
     ) সত্য  (
কখনো এগিয়ে কখনো পিছিয়ে ।

৬৮.

বিনিময়/ উপলক্ষ/ জীবন 
      )সারাক্ষণ  (
এভাবে স্বাভাবিক থেকে যায় ।

৬৯.

হুংকার/ অট্টহাসি/ হাহাকার 
   )আতঙ্ক  (
জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি ।

৭০.

সুস্বাদ/ সুগন্ধ/সুবাতাস 
  )অবিরত (
যদি থাকতো দেহে মনে ।

অণুগল্প || সূর্যোদয় || রবীন বসু

নতুন সূর্যোদয়
    ( অণুগল্প )
-------------------------
রবীন বসু

মনে করুন সূর্য নেই। সমস্ত পৃথিবী জুড়ে অনালোকিত এক জ্যোৎস্না। ছায়া ছায়া চারপাশ। নক্ষত্রের খই ফুটছে আকাশে। বাতাস মন্থর মৃদু। একমাত্র জীবিত মানুষ প্রজ্ঞা।  ন্যুব্জ দেহে নিজের প্রাচীন শ্লথ শরীরটা টানছে। টেনেই যাচ্ছে। কোথাও লুকোতে হবে তাকে। গৃহবন্দী। কিন্তু গৃহই তো নেই। এক সুপার সাইক্লোন পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর তারপরেই এসেছে অজানা ভাইরাস কোভিড-১৯। যে সব মানুষ আর প্রাণী বেঁচে ছিল তারাও সংক্রমিত হল। একে অন্যের থেকে। তারপর কাশতে কাশতে জ্বর। ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতেই হৃদযন্ত্র বিকল।
প্রজ্ঞাই একমাত্র জীবিত। কেননা সে ধারক এই সভ্যতার। আদিম গুহাযুগ থেকে সে মানুষকে উৎসাহ দিয়েছে। অনুসন্ধান দিয়েছে। বিনিময়ে মানুষ মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিত্য নতুন আবিষ্কার করেছে। তাইতো সভ্যতার রথ গড়গড়িয়ে চলেছে। কিন্তু সেই মানুষই পরিশেষে হল বেহিসেবি। উদ্দাম লোভী উচ্ছৃঙ্খল। যে প্রকৃতি তাকে জন্ম দিল, ধারণ করল, খাদ্য ও নিরাপত্তা দিল, তাকেই সে আশ্রয়হীন করল। দূষিত করল। তাই প্রকৃতি আজ নিজের তাগিদে আর আত্মরক্ষার জন্য পালটা আক্রমণ শানালো। ঝড়, প্লাবন আর সব শেষে এই ভাইরাস কোভিড-১৯।
হাতে বেশি সময় নেই। মারণ ভাইরাস তাকে যেন স্পর্শ করতে না পারে। যে কোন ভাবেই হোক প্রজ্ঞাকে বেঁচে থাকতে হবে। আগামী পৃথিবীর প্রয়োজনে। রাত শেষ হয়ে আসছে। প্রজ্ঞার শরীর আর টানছে না। সে গড়াতে শুরু করল। গড়াতে গড়াতে কখন যেন এক মহাজাগতিক টানে একটা ব্ল্যাক হোলের মধ্যে ঢুকে গেল। অনন্ত অন্ধকার আর দুর্নিবার আকর্ষণ। প্রজ্ঞা মজা পেল। কোভিড-১৯ এখানে ঢুকতে পারবে না। ঢুকলেও বেঁচে থাকবে না। লাট খেতে খেতে প্রজ্ঞার মস্তিষ্কের কোষে সংকেত এল আগামী পৃথিবীর নতুন সূর্যোদয়ের ।
                         ---------


কবিতা || করোনাসুর || শংকর দেবনাথ


করোনাসুর
      শংকর দেবনাথ

মানবজাতির শত্রু দানব করোনা-
অদৃশ্য হানায় তার দেহ জর্জর।
সংক্রমণ অস্ত্র নিয়ে সংগোপনে ঘোরে-
সুযোগ পেলেই হানে শ্বাসরোধী শর।
বিপন্ন পৃথিবী আজ ত্রাসি ত্রাহি রবে-
মৃত্যুর মিছিলে কাঁদে অসহায় প্রাণ।
রক্ষঃকরোনার থেকে রক্
ষা নাই বুঝি-
কেমনে এ শত্রু থেকে পাবে পরিত্রাণ।

মানুষের সশরীরী হে দেবতা-দেবী-
ভরসা তোমরা শুধু। অাসুরী শক্তিকে-
পরাভূত করে দিতে ব্রহ্মাস্ত্র ভ্যাক্সিন-
হাতে নিয়ে রণাঙ্গণে জাগো দিকেদিকে।
রক্তবীজ অসুরের বংশ করোনাকে
নাশ করে বাসযোগ্য করো পৃথিবীকে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

অণুগল্প || পুরস্কার || সোমনাথ বেনিয়া

অণুগল্প
পুরস্কার / সোমনাথ বেনিয়া

চার জন দুষ্কৃতী দুম করে দরজা খুলে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়লো। মা-মেয়ে হকচকিয়ে গেল। দুষ্কৃতিদের লালসাময় মুখ দেখে মায়ের কাতর আবেদন - বাবারা, তোমরা এক-এক করে এসো। আমার মেয়ে ছোটো। ও মরে যাবে। এই শুনে প্রথম দুষ্কৃতী বললো - আগে মেয়ে, তারপর মা!
দ্বিতীয় জন বললো - না, আগে মা, তারপর মেয়ে!
তৃতীয় জন বললো - তারপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে মেরে ঘরে ঝুলিয়ে দেবো!
চতুর্থ জন বললো - শেষে ঘরের সব মাল লুট করে চম্পট!
       এত কিছুর পর‌ও আপাতত কিছু ঘটলো না। গল্পকার তরুণ রায় ভাবলো সমাজের এতটা ভয়ঙ্কর রূপ যা বাস্তবে যথাযথ সত‍্য তা এই নতুন উপন‍্যাসের কোনো অংশ হিসাবেই তুলে ধরা যাবে না কারণ এবছর শাসকদলের মদতপুষ্ট বোর্ড রাজ‍্যস্তরের পুরস্কার পাওয়ার জন‍্য অন‍্যান‍্যদের সাথে তার নাম‌ও প্রস্তাব করেছে ...


আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৫১।

উদ্ভট/  অসহ্য/ আযৌক্তিক 
     ) বিরক্তি(
আমার সঙ্গে সঙ্গে চলে ।

৫২।

আবরণ/ পরিধান/ মোড়ক
    ) নান্দনিক  (
বড় আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে ।

৫৩। 

ব্যোম/ শূন্য/ জ্যোতি 
       )অধ্যাত্ম (
কি করে পোঁছোয় মনে ।

৫৪।  

কাব্য/ তথ্য/ প্রযুক্তি 
      )I-সাহিত্য  (
অনাদি অনন্ত অরূপ অক্ষয়।

৫৫।

নিরাময়/ শান্তি/ আনন্দ 
      ) স্থিতি  (
এসো জড়িয়ে ধরে থাকি ।

৫৬।

আগডুম/ বাগডুম/ ঘোড়াডুম
    ) ছড়া  (
রক্ত মিশে যায় অক্লেশে ।

৫৭।

জুয়া/ বেসাতি/ মিথ্যা 
   ) নষ্ট  (
কোথাও কোন বাহাদুরি নেই ।

৫৮।

প্রাণ/ জীবন্ত/ ক্রিয়া 
      )বিস্ময়  (
সমাধান কোথাও দেখো নেই ।

৫৯।

ব্যঙ্গ /শ্লেষ/  কটুক্তি 
    ) অপমান  (
এই তুমি আমি ভুক্তভোগী ।

৬০।

শ্রদ্ধা/  প্রেরণা/ তাগিদ 
    ) আইকন  (
এখন কোথায় পাওয়া যায়?



কবিতা || বিজ্ঞান জিতবেই || কমল কৃষ্ণ কুইলা

বিজ্ঞান জিতবেই
 কমল কৃষ্ণ কুইলা

বিজ্ঞানের সঙ্গে যুদ্ধে আজ
জীবাণু জিতেই যাচ্ছে
তাইতো দেখি বিশ্ব জুড়ে
রোজই মানুষই মরছে।

অর্থ ক্ষমতা মূল্যহীন আজ
ঈশ্বর যে অসহায়
ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানীরা
তাই মগ্ন গবেষণায়।

সারাবছর ঐ ধর্মস্থানে
দেখি লক্ষকোটি ভিড়
মহামারীর এই দুর্দিনে
বল ধর্ম কেন স্থির!

আমজনতাকে ঢপ দিয়ে
কামিয়েছে কোটি টাকা
মহামারীর এই দুর্দিনেতে
তাদের কি পকেট ফাঁকা!

সরকারের কেন মুখে কুলুপ
রহস্য জানতে চাই
অর্থদানের নির্দেশিকায়
কিন্তু বাঁচবে সবাই।

জীবাণু ঠিক ধ্বংস হবে
মানুষেরা হাসবেই।
যুদ্ধ যতই কঠিন হোক্
বিজ্ঞান জিতবেই।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || অষ্টপদ মালিক

আটপৌরে কবিতা
অষ্টপদ মালিক


১.সম্পর্ক

আজ/ কথা /দিলাম
    ) তোমাকে (
দূরে দূরে থাকবো ।

২. ভবিষ্যৎ

আজ/সমাজ/থেকে
      )কাল(
পরিবার থেকে দূরে থাকবো ।

৩. নতুন দিন

নতুন /দিন /আসছে
   ) অপেক্ষায় (
দিন গুনছি তোমার জন্য ।



আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

৪১.

শোক/ আনন্দ/ উদ্বেগ 
     ) কান্না  (
দুই  চোখে জড়ো হয় ।

৪২.

সুদিন/ সুখ/সপ্রাণ 
       )আনন্দ  (
আসে হাসে ভাসে আজীবন ।

৪৩.

ভয়/ ঘৃণা/ দুরত্ব 
   ) উদ্বেগ  (
গ্রাস করে মনে মনে ।

৪৪.

সত্যাসত্য/ ঘটমান/ সর্বক্ষণ
          )সংবাদ  (
দেখি এখানে ওখানে সেখানে ।

৪৫ .

ছুঁই/  বাঁধি/  থাকি 
      )বিশ্বাসে(
যুক্তি তর্ক অবিশ্বাস দূর ।

৪৬.

গভীর/ সম্পৃক্ত/ পরিপূর্ণ 
        ) সাধক  (
অভ্যেসে কি না  হয় । 

৪৭.

উদার/ শান্তি/ মুক্তি
      )অনাবিল  (
    যে পায় সেই জানে ।

৪৮.

অসুখ/ অতিষ্ঠ/ অশান্তি 
     ) অস্থির  (
অনেক অনুগ্রহ অপার্থিব অমৃতে।

৪৯.

হাততালি/ উচ্ছ্বাস/ উন্মাদনা
        ) আবেগ  (
আমায় কে আর পায় !

৫০.

রাধা/ যমুনা/ প্রেম 
     ) স্বর্গীয়  (
কাপড়ে রঙ লাগাও কালা ।

কবিতা || প্লাস্টিক জোনে দাঁড়িয়ে || অভিজিৎ দাসকর্মকার

প্লাস্টিক জোনে দাঁড়িয়ে
অভিজিৎ দাসকর্মকার

Anthropology-র পাতা থেকে হু হু কোরে জীবাশ্ম উঠে আসছে।

       উত্তেজিত testosterone-প্রবাহ___

পুরো পৃথিবীর ডেসিবল, deconstruction-এ মাতোহারা।
হওয়াতে ভয়ংকর মাসকারা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে বিথীকার গহ্বর,
আমি
দাঁতকেলিয়ে mount dew দেখি,

কেনোনা__
খবরের কাগজের প্রিয়পাত্রটি আমিই, সেই
হরপ্পার ঐতিহাসিক বাস্তবতায় হলুদ মাখিয়ে রেখেছি নিজেকে।

       শরীর শুদ্ধ
           কোন কীট নেই ভাড়াঘরে, তবু
কার্পেট পাশে অদৃশ্য সরল-লাইন সমান্তরাল সংযমে রাখি।

       জরা নেই, মৃত্যুও আসছে না

পা-ভর্তি liberty-চটি, আর _____
ক্লান্তির পিছনে চোখ-লাইনার মেখেছি।

প্লাস্টিক-জোন পোস্টারে ঠেঁস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি ক্লিওপেট্রার হাত ধোরে, ঠিক পাশেই sociology___

হে বলাৎকারি বিছানা, তোমার সোহাগি জল-আচমনে নিশিপদ্মরেণু মাখছি রোজ।

       আমই পুরুষ,
       আমিও অভিযোজিত জীবাশ্ম বেশ্যা হয়ে প্রতিরাতে শরীর ঈষদুষ্ণ করার insurance করে চলেছি...


*

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || অলোক বিশ্বাস || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
অলোক বিশ্বাস
প্রাতিষ্ঠানিক
-----------------
পৃথিবীকে না দিয়ে
পরাবাস্তবিক
আপেলগুলি গোপনে খাবে ভেবেছো ?

জোঁক
--------
সেতো অন্য সম্প্রদায়ের
লোক
শুনতেই তেড়ে এলো জোঁক।

মাছি
-------
যার পদতলে আছি
আদপে
সে, ভাগাড়ের দৈবিক মাছি। 

ফলাফল
-------------
মরেছেন সহিস গতকাল
ফুটপাথে।
দলীয় পুলিশ নাজেহাল ছবিটাতে।



আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


৩৪.

মেলা/  মিলন/ যোগ 
      ) সন্নিধি  (
সূর্যাস্ত হাট তোমার আমার ।

৩৫.

অনর্গল/  সময়/  ঘটনা 
) আবর্তন  (
কোনদিন কেউ থামাতে পারেনা।

৩৬.

হতাশা/ অবসাদ/  আলস্য
       )সান্নাটা  (
   ছেয়ে থাকে দিকে দিগন্তরে ।

৩৭.

ভুল/  অশুদ্ধি/  বিপর্যয় 
     ) আজীবন (
জ্বালিয়ে মারে জ্বালিয়ে মারে ।

৩৮.

কামনা/ ভ্রম/  ছলনা 
   )উন্মাদনা (
বিশ্ব ব্রম্ভ্রান্ড ভুলিয়ে দেয় ।

৩৯.

ক্রোধ/  আগুন/  উত্তাপ 
       ) রিপু  (
কোথায় কখন ছুটে আসে ।

৪০.

গাঢ়/ গভীর/ গূঢ় 
  )মনন (
চিনে নেওয়া কি কঠিন ।


কবিতা || ন্যায় || ইয়াসিন খান

ন্যায়
ইয়াসিন খান


মন মুছে মুগ্ধ মতামত যত
চোখ দুটি আলেয়া ক্ষত
বর্ন চোর স্বপ্ন জীবন খুঁজি রোগ
যান্ত্রিক সভ্যতার যাপন কথন ভোগ

কখনও রাস্তায় ঘুরে ভাবনা
জল ভেসে কথনে সব ফাঁকি
বাতাসে এখন শীতের বোধ
সব কবির আঁকায় জব্দ অসংখ্য অস্থির

আমরা ঘরে বসে কত স্মৃতি
স্মরণিকায় বাঘুই উপস্থিত হৃদয় জুড়ে
কাঁসাই পথ ডাকে নানা খেয়ালে
রোগ নিরাময় না হয়ে মাধুরী

গোপন কথার মাধুকরী আজ
বিকেলে নতুন সৃজনে ভরে সকাল জোয়ার
 গোপনে চোখের ভাঁটা কখন রাত নামে
নাগরিক সুখ সেবায় ঝুঁকে


আমার গ্রাম গান সুরে
শহরের কথা বাস্তবতা ছুঁয়ে
দুটি তারা আর চাঁদ ও সূর্য
সময়ের স্রোতে ভেসে

কে যেন বসে আছে মাটি ধরে
প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়ে
ন্যায় কথন আর নতুন মন
নতুন মানুষ ও জীবন করি বরণ

আকাশের পথ নির্জন
সহজ সরল সবুজ ছুঁয়ে
দূরে বহুদূরে ওরা রাস্তায়
বাসা খোঁজে মন ভরসা

আমরা ঘরে বসে কত স্মৃতি
ওরা রাস্তায় ঘুরে নির্মান ভুবনে
এখন শীতের বোধ ভরা গরমে
অনুভবে অসাড় মন শরমে

অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার সংকল্প
শান্তি মনও জীবন
উপলব্ধি করে সত্য পবিত্র কথা
দূর পানে চেয়ে  দীর্ঘ শ্বাস
বর্ন নির্বিশেষে বাঁচাতেই আশ .

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || অলোক বিশ্বাস || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
অলোক বিশ্বাস

দর্শন
-------
মাকড়সা করেছি সাফ।
ইঁদুরেরা
সাম্রাজ্য বিস্তার করে যাক।

প্রেমিক
----------
তীব্রতায় বলেছি মণিকে
প্রেমিকাঙ্খা।
অদৃশ্য হয়ে গেছে ক্ষণিকে।

তৃতীয় বিশ্ব
---------------
ছোটবেলা থেকেই ভোটখেকু
দেখছি।
ভাঙাঘর বদলালো কই কাকু।

কবিতা || আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার


আটপৌরে কবিতা 

নীলাঞ্জন কুমার 

২৬.

তাপ/ জ্বালা/ পোড়া 
     ) কবিতা  (
আজন্ম এভাবে সুখে দুখে ।

২৭.

গড়ি/ ভরি/জুড়ি
     ) সান্নিধ্য  (
আমি তুমি সে সবাই ।

২৮.

আবেগে/বোধে/সত্ত্বায়
     ) মেদিনীপুর  (
জড়িয়ে ছিল আছে থাকবে ।

২৯.

ত্যাগী/ সন্ন্যাসী/ সাধক 
        )মান্য (
কি করে হয়ে ওঠে! 

৩০.

প্রশংসা/  প্রিয়তা / প্রাণনা
         ) ঈশ্বরদত্ত (
কোথা থেকে ছুটে আসে ।

৩১.

তথ্য/  প্রযুক্তি/ মন 
      ) সারাক্ষণ  (
ছুঁয়ে চলি ছুঁয়ে চলি ।

৩২.

ওস্তাদ/ পারদর্শী/ মান্য 
        ) শ্রদ্ধা  (
হৃদয় বেছে নেয় গোপনে ।

৩৩.

ঘটনা/  পার্থিব/  বাস্তব 
     )আপেক্ষিক  (
ক্রমশ সরে সরে যায় ।


কবিতা || মৃত্যুঞ্জয় || সঙ্গীতা মাইতি


মৃত্যুঞ্জয়
   সঙ্গীতা মাইতি

রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে
একটা করে থাপ্পর মুখস্থ করে নিও
সব থাপ্পরগুলো মুখস্থ করার পর 
তোমার নিজেকে আকাশ বলে মনে হবে,
মনে হবে বুকের ওপর শুয়ে আছে কোনো আদিম পশুর আর্তনাদ

ঘুম ভাঙলে রাষ্ট্র তোমার চুলের মুঠি ধরতে আসবে,
সমাজ তোমার শাড়ির খুঁটে বেঁধে দেবে একটা আধলা ইঁট
তুমি ভয় পেয়ে নিজেকে মাটিতে ছড়িয়ে দিও না
সদ্য ঘুমভাঙা শিশুর মতো গম্ভীর থেকো

মৃত্যুকে চৌকাঠে দাঁড়িয়ে তুমি কাঁদতে দেখেছ অনেকবার
পাথরকে কখনো দেখেছো কি কাঁদতে?

পাথরবুকে শুধু আগুন জমা থাকে
আর একটা পাথরবুক পেলে 
একদিন সব থাপ্পরগুলো চকমকি হয়ে জ্বলে উঠবে..

কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ || নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর ত্রিশ টাকা ।

  কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ ||  নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর  ত্রিশ টাকা । এমন কিছু কবিতার বই প্রকাশ...