সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ডিমা মাহমুদ-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ডিমা মাহমুদ-এর কবিতা


ডিমা মাহমুদ(Deema Mahmood, 1972)  মিশরের তরুণ কবি।  তাঁর পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স এবং স্ট্যাটিস্টিকস।  দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি অ্যারিবিয়ার  কলেজ অফ এডুকেশন এবং কলেজ অব হেলথ সার্ভিসেস এই দুই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স ম্যাথমেটিক্স এবং স্ট্যাটিসটিকস পড়ান। বিদ্যায়তনিক পেশার বাইরে তিনি একজন ভয়েস ওভার,  অডিও ন্যারেটর এবং ডাবিং অ্যাক্টর এবং ডাবিং অ্যাক্টর। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ  ব্রেইড অব স্পিরিট। ২০১৭ তে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ আই পিক কোয়ারেলস ওভার আ ভায়োলিন। তাঁর অনেক কবিতা ইংরেজি ফরাসি স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত এবং প্রকাশিত হয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে তিনি মিশরের কবিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১.
ভ্রুণ হয়ে ওঠা

আমি নিজেই পাক খাই আরম্ভের তৃণ খাওয়ার আশায়
আমি হয়ে উঠি একটি ভ্রুন
এবং উঠি ধূসর প্লাসেন্টার ধূসর দুধের উপর দুধের উপর উপর
 আমি সেই অনন্তকে উদ্ধার করি কিছুক্ষণ আবার মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকি
হয়ে উঠি তার সাথে এক কক্ষপথ ও মহাশূন্যের ভেতর ভেতর ভেতর ।

আমি মানুষের সমস্ত রকমের তলানি থেকে মুক্ত হয়ে উঠি
মুক্ত হই মানুষের সমস্ত  থেকে
সমস্ত জেলমলম ও ডাই থেকে।

আমি হয়ে উঠি আর চলতে থাকি মিথ ও ভবিষ্যৎবাণী ছাড়াই।

২.
ছুঁড়ে ফেলা

আমি ছুঁড়ে ফেলছি,
 হ‍্যাঁ, ছুড়ে ফেলেছি !

আমি অভিশাপ দিই সেই জিনকে যা আমাকে বেঁধেছে মানব জাতির সঙ্গে
আর হস্তান্তর করেছে এই কেওসের কাছে

 আমি যদি হতাম একটা ঘেয়ো অথবা সিরাজী বেড়াল
একটা পাগলাটে অথবা হৃষ্টপুষ্ট কুকুর
 আমি কেয়ার করি না,
আমি যদি হতাম একটা ছোট পাখি
অথবা একটা মাছি জীবাণু সহ ময়লার স্তূপের একটা একজোড়া ডানাসহ
দূরে উড়ে যাবার জন্য এবং আমার আত্মাকে টেনে বার করার জন্য
 এই পচাগন্ধ ছাড়া মানুষের পাগলাটে গর্ত থেকে

 হায়...
 আমি প্রস্থানের পথ খুঁজি ‌
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে এবং বমিতে ভাসছি।
 মোটা ফেনা আমার গলা টিপছে এবং তাকে থামানোর কোন পথ নেই!

আটপৌরে কবিতা ৬৯৬-৭০০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৬৯৬

উচ্ছিষ্ট/  অপাংক্তেয়/  প্রয়োজনহীন
          ) ফেলনা  (
তারও কিছু মাহাত্ম্য থাকে ।

৬৯৭

চোখ/  দেখা/  ভঙ্গি
    ) চাউনি  (
বুঝিয়ে দেয় প্রেম ক্রোধ ।

৬৯৮

উচ্চারণ/  মুখভঙ্গি/  কন্ঠমাধুর্য
        ) সংলাপ  (
সব মিলিয়ে জমজমাট অভিনয় ।

৬৯৯

রুক্ষ/  ক্যাকটাস/  উট
     ) মরুভূমি (
মাঝে মধ্যে মরুদ্যানও আছে ।

৭০০

হলুদ/  কেল্লা/  সত্যজিত
       ) সোনারকেল্লা (
মন পর্যটক হয়ে যায় !

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১১৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৯.
আজ আমার সমরমাস্টারের কথা।
সমরমাস্টার = সমরেন্দ্রনাথ রায়।
শান্তিময় মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে সমরেন্দ্রকে নাথহীন করেছিল নাসের হোসেন।
চণ্ডী মণ্ডলের চরণদুটিকে লুপ্ত করেছিলাল আমি।
আর বিষ্ণু দে-র পদযুগলকে কে ছেঁটে দিয়েছিলেন তা আমার জানা নেই।
জানি আমার কিরণ-কে সহস্তে ঢেকে দিয়েছিলাল আমি ।
এই মধ্য-নামের বিলুপ্তি নিয়ে একটা বড়ো গদ্য লিখতে হবে , তবে সেটা এখন নয়। এখন সমরমাস্টার -এর কথা। সেই কথা শুরু করবো কীভাবে , আর শেষই বা করব কোথায় !
 সমরেন্দ্র রায় -এর ঠিকানা দিয়ে শুরু করছি লেখাটা।
৬৪ ইলা ভবন , ১৪৭ স্বর্ণময়ী রোড , বহরমপুর।
ঠিকানা দেখে ঘরের বিচার করতে যাবেন না। কানা ছেলের নাম যখন পদ্মলোচন হয় , তখন সমরমাস্টারের ঠিকানায় স্বর্ণরেণু-র সন্ধান পাওয়া যাবে , এটা ধরে নিতেই পারি। সেসব উড়িয়ে দিলাম। এই লেখাটি একটু অন্যরকমভাবে লিখব। আমার যতদূর মনে আছে ' সাক্ষাৎকার '- এর কবিতাগুলি প্রথম যে -কজন গ্রহণ করেছিল তার মধ্যে অন্যতম একজন সাগরি , সমরমাস্টারের মেয়ে। শুধু গ্রহণ নয় প্রধানতম প্রচারও ছিল। কীভাবে !
সমরেন্দ্র রায় আমাদের অনেকের কাছে ' সমরমাস্টার ' , তার কারণ সমরমাস্টার সংসার চালায় মাস্টারি করে। না , কোনো স্কুলে নয় । সমরমাস্টারের বাইরের ঘরটাই টোল। একদল যায় তো নতুন একদল আসে। বিরাম নেই।
সাগরি-র তখন স্কুলের শেষ পর্ব।  সাগরিও সমরমাস্টারের ছাত্রী। ও নিজ উদ্যোগে 'সাক্ষাৎকার ' -এর মহত্ব প্রচার শুরু করে। সম্ভবত রাজনের সঙ্গেও সাক্ষাৎকার -এর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সাগরি।
অনেকক্ষণ ধরে নিজের কথাই বলে গেলাম। এবার সমরমাস্টারের কথায় প্রবেশ করা যাক।
কবিতাপাক্ষিক ৬৩ সংখ্যায় প্রথম আত্মপ্রকাশ সমরেন্দ্রনাথ রায়ের।ওই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল প্রভাত চৌধুরী ২০ টি সাক্ষাৎকার। এই ঘটনাটির সঙ্গেও সমরমাস্টার যুক্ত হয়ে ছিল।
'সংরক্ষণ ' -এর দুটি বাক্যাংশ :
১॥ নামগোত্র নিয়ে আজকাল কেউ নাক গলায় না।
২॥ গলি গলি বিক্রি করি উৎসব মুখর করমর্দন।
মাত্র এই দুটি মৌলিক লাইন সৃষ্টি করাই একজন কবির কাজ।
এরপর নাথহীন করা হয়েছিল । কপা ৭২ - এ সময়সূচি । এখানে সমরেন্দ্র রায় কয়েকটি সময়মাপক যন্ত্র আবিষ্কার করেছিল। সেগুলি হল :
মোরগের কণ্ঠনালি ,চৌকিদার ,জেগে থাকা বাতি , সূর্যরশ্মি আর দুটি কাঠি , ইত্যাদি ইত্যাদি ।
কপা ৮২ -তে ছিল ১০ টি টুকরো খবর। খবরগুলি দ্যাখা যাক / শোনা যাক।
১॥ শিশুদের করমণ্ডলে এখন আর ফুলরেখা নেই।
২॥ বাতাসের দেশে আমরা নগ্ন ,
৩॥ বিষুবরেখা অতিক্রান্ত হতেই কালো তাওয়াটা স্থির।
এত পর্যন্ত আসার পর আমার কাছে দুটি অফশন।প্রথমটি সমরমাস্টার প্রভাত চৌধুরী এবং বহরমপুর বিষয়ক অরূপকথাগুলি। দ্বিতীয় অফশন : চোখ : অন্তর্জাল , সমরেন্দ্র রায় বিরচিত কাব্যগ্রন্থটি।
প্রথম অফশনটি এখন লোকমুখে শোনা যায়। কান পেতে শুনে নিন।
বইটি 4 ফর্মার।ক্রাউন সাইজের।
উৎসর্গ : কবিতাপাক্ষিক পরিবার ।
নাসের হোসেন শুরুর কথা লিখেছিল। আমি যাচ্ছি কবিতায়। তুলে দিচ্ছি কবিতার পঙ্ ক্তি।
১॥ যারা পালন করে পদতল , ধুলোপথ নিজস্ব নিয়ম।
২॥আমাদের কনটিনিউএশন ধীরে ধীরে পুতুলনাচের জাদুকর বনে যায়
৩॥আমাদের চোখ সবসময়ই খোলা থাকে।
৪॥ চোখের অন্তর থাকে না , যেটা থাকে--- /অবকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
৫॥ আমাদের অক্ষিকোটরে যে নদীটি বয়ে চলে তার ঘোলাটি জল ক্রমান্বয়ে পরিণত কুয়াশাশরীর। ঘ
এগুলি পড়তে থাকুন।
সমরমাস্টার মানেই  ' সমিধ ' । একটি স্বাধীন পত্রিকা ।আর জ্যৈষ্ঠসংক্রান্তি মানেই সমিধ-এর জন্মদিন সংখ্যা ৷ সম্ভবত রাজনে আমার থেকে ভাগ্যবান কোনো কবি আর একজনও নেই।

#অসম্ভব কবিতা কবিতা পাচ্ছে || অভিজিৎ দাসকর্মকার || কবিতা

#অসম্ভব কবিতা কবিতা পাচ্ছে
অভিজিৎ দাসকর্মকার


                 রাত ১০:৩৯
কবিতা লিখবো।
 তাই দই বসিয়েছি।
 ভাবনারা প্রতিফলিত হচ্ছে বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে।
       
                 রাত ১০:৪৭

অনর্গল বয়সের শুকনো পাতাগুলো ছাগলে মড়মড়িয়ে চিবিয়ে চলেছে সেই চোল বংশের রাজত্বকাল থেকে।

                 রাত ১০:৫৩

তৃষ্ণার ভিতরে সভ্যতার বিনির্মান হয়ে আসছে তরাই উপকূল থেকে ব-দ্বীপিয় সমভুমিতে।
 মগজের ভিতরে শিল্প-সমৃদ্ধ অঞ্চল শব্দ গড়িয়ে দিচ্ছে। আর আলাই দরওয়াজা খুলে রাজনৈতিকভাবে ঢুকে পড়েছে ১টি অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ আর
প্রভাত চৌধুরীর কবিতা।

                 রাত ১০:৫৬

তাতে সমস্ত ল্যাকটিক অ্যাসিডের অম্লশোধনাগারে স্নায়বিক অক্ষরগুলো মেগাস্থিনিসের খোঁজে
  টেবিলল্যাম্পের আলোর সেই কবেকার পুরনো সরলরেখা ধরে আস্তে আস্তে পশ্চিমবাহিনী হয়ে সার্বভৌম এবং সমভাবাপন্ন সাদা দাগ টানা কুমারী খাতায় চলে এসেছে——

                 রাত ১০:৫৯

    আমার আর খাতার মধ্যে ভৌগলিক সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
আমি জুলাই মাসের ইমারত ঠেসিয়ে একশালা বন্দোবস্তে ক্রমশ বিশ্বাসী হয়ে পড়ছি। আর দুধ জমতে জমতে দই তৈরি হয়ে চলেছে___
  অসম্ভব কবিতা কবিতা পাচ্ছে



*

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || পিছুটান, দীপক কর

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

পিছুটান । দীপক কর । বাকপ্রতিমা । চল্লিশ টাকা ।

পনেরো বছর আগে প্রকাশিত কবি দীপক করের কাব্যগ্রন্থ ' পিছুটান ' পড়ে বুঝতে পারি কবির কবিতায় ফুটে উঠেছে নস্টালজিয়া,  মৃত্যু ভিত্তিক  চিন্তা । যা বিভিন্ন কবির ও কবিবন্ধুর স্মরণ ভিত্তিক  কবিতায়  স্পষ্ট । বেশিরভাগ কবিতা জুড়ে স্বগতোক্তি ও দুঃখঘেরা  এই কাব্যগ্রন্থ বিরহস্বাদ নিয়ে আসে । তাই ' কতটুকুই- বা ক্ষণ/ তবু পশমের অবগুন্ঠন/ ভালো লাগে? / বলো । ( ' ভালো লাগে ') , ' কে শোনে এ গান? / দুচোখে স্রোতস্বিনী বয় ।' ( স্রোতস্বিনী), ' কতো কথা গৃহবন্দি ছলোছলো ছলোছলো/  সময়ের দ্রুতলয় ধুলোঝড় অন্ধকার । ' ( ' ধুলোঝড় অন্ধকার ') - এর মতো দুঃখবিন্যাস পংক্তি পড়ে বিষণ্ণ হই ।
              তবে আফশোস, কবির কবিতার বৈচিত্র্যের অভাবে এই কাব্যগ্রন্থে  আছে আছে  থেকে নেই নেই দিকটি প্রকট হয়ে ওঠায় সেভাবে আকর্ষণ করতেপারে না  । তবে আয়োজনের কোন অভাব ছিল না । কবির বহু অনেক কবিতায়  সাদামাটা রূপ আরো সুষম হতো যদি তার ভেতরে লুকিয়ে থাকতো কিছু সচেতন কাব্যিক  শব্দচয়ন ।
                 তবু বর্ষিয়াণ এই কবির ' আমি যেন এক ফিনিক্স পাখি/  শিয়রে আমার কুড়োনো ঝিনুক/  ছড় টেনে যায় ভ্রমণ ! ভ্রমণ !' (অবসরের আঁকিবুঁকি)  এর সামনে দাঁড়িয়ে বুঝি তাঁর কাব্যচেতনার দিকটি সজীব । তবে গ্রন্থের  একান্ন পৃষ্ঠায় বইটির সঙ্গে সম্পর্ক রহিত সম্পূর্ণ আযৌক্তিক ভাবে শিল্পী অরুণ সমাদ্দারের একটি ছবি ছাপার কি প্রয়োজন থাকতে পারে বুঝে উঠলাম না ! প্রণবেশ মাইতির প্রচ্ছদ অত্যন্ত সাদামাটা হলেও,  নামাঙ্কনে নিজস্ব সিগনেচার বজায় রেখেছেন।

বটুক বাবুর গল্প || দেবব্রত রায় || গল্প

বটুক বাবুর গল্প
দেবব্রত রায় 

       
                    এই যে কেউ কেউ চক্ষুষ্মান হলেই, ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ,ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ করে কোশ্ন করতেই থাকেন, কোবতে-টোবতে ক্যাঁও ৯খেন এবং কখনো কখনো  উত্তুর না পেয়ে জবরদস্তি উত্তরিও-টিও ঘেঁটে ঘটিঘঙ হয়ে তিনি যে কোথায়-কোথায়, কতটা ফাটেন তার জমা জলে ডেঙ্গি মশার পোষ্যাবাদ দেখেই সেটা বেশ পরিমেয় ! আসলে,আমি যে পত্রিকাটির জন্য লেখালেখি করি....
কী বললেন, আমার লেখা কস্মিনকালেও আপনার চোখে পড়েনি! আহা! ছাপা না-হলে তা পড়বে কীভাবে ! তবে, লেখা ছাপুক, না- ছাপুক আমি তো মশায় ওই  ই-ঈ পত্রিকার জন্যই লিখি তাই, বলছিলাম,আর-কি !  যাইহোক, ছাপা হোক বা,না-হোক,কবিতা লিখে আমার খুব আরাম হয় , ঠিক যেন বায়ু নিঃসরণের মতোই ! কারণ ,বাড়িতে যাই-ই হোক আর, বাইরেও জল-স্থল যাই খাইনা কেন, গ্যাস-অম্বল, বুক আইঢাই, অরুচি-অজীর্ণ সব একেবারে পয়সাআলা আত্মীয়ের জ্ঞাতিগুষ্টি-র মতোই, আঁকড়ে ধরে মশাই !
এই তো সেদিন ছেলের ব্যাকরণ মুকুলম বইটাতে সারাদিন এঁটুলির মতো চিপকে থেকে বিশেষ্য-বিশেষণ-তৎসম-তদভব কতকিছু-ই টুকলুস করে আপনার সাতদুগুণ গুষ্টি উদ্ধার হেতুক একখানা কবিতা লিখলাম আর, আপনি কি না, হপ্তাখানেক পরে এসে বললেন , বাহ!বাহ! খুব ভালো হয়েছে কোবতেটা ! আপনি না কি ওটাই আপনার বউয়ের জন্মদিনে প্রেমনিবেদংমিদং করে পড়ে শুনিয়েছেন ! কী বিপদ !
তা মাশায়, বিপদই বলুন আর, সামোসাই বলুন , দুটোতেই গ্যাস হবেই হবে এবং সেই গ্যাস গ্যাস-বেলুনের মতো আমাদেরকে কোনো জায়গাতেই স্থির হতে দেয় না! যেমন ধরুন, গত তিনদিন আগের একটা কবিতায় যা-যা এবং যাদের-যাদের কথা ভেবে বকের পালকের রঙ হলুদ আর বেড়ালের গলায় তুলসী-মালা শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলাম তা কিন্তুক এই মুহূর্তে কিছুতেই আর তিনদিন পূর্বের বাসি আমানি-র অবস্থায় বিলং করে না! অর্থাৎ,....ভোট শব্দটির মতোই ! ইভিএমে বাটন টেপার আগে তার গুরুত্ব এক আর, বাটন টেপার পরেই আরেক  !!!!!
ই-ঈ পত্রিকার সম্পাদিকা খুবই উজ্জ্বল এবং চৌম্বকীয় উচ্ছল ! তাকে ঘিরে আট-দশটি গ্রহ-উপগ্রহ তার হ্যাঁ তে হ্যাঁ আর, না তে না মিলিয়ে চব্বিশঘণ্টা কীর্তন-দলের মতো ঘুরতেই থাকে ( তবে, টয়লেট এবং স্নানাগারের গেট অব্দিই তেনাদের কক্ষপথ  ) ! সেইসব বুধ শুক্কুদের পাশ কাটিয়ে আমার পরাণ কি আরাম ঢুলুঢুলু বুলবুলিটির পাশে আমি আজও  ঘেঁষতে পারিনি আর, তিনিও তৃষা হরিয়ে প্রাণ ভরিয়ে আমাকেও তার কাছে সামান্য ধুমকেতুর মতোও ডেকে নেননি অথচ, আমার বড়ো মামা জবাকুসুমসঙ্কাশ বাবুকেও একেবারে তুরগ-হারান  হারিয়ে তিনি প্রায় চব্বিশঘণ্টা-ই তার পরম উষ্ণতায় আমাকে উৎসারিত করে রেখেছেন ! যাইহোক,সেইসব কাফ-কাসুন্দি আপাতত,বরং মৃৎ-ভণ্ডে জমে ক্ষীর হোক !
যাইহোক, আসল কথাটা হলো গিয়ে এরকমই একটি আমজামকাঁঠালের কলম-বিনুনি কবিতায় পরপর দু-দুখানি সুখানীচঃ প্রেমপত্র লিখে হারি কি পড়ি করে সব গ্রহ-উপগ্রহের টেবিল-চেয়ারে ঠোক্কর খেতে খেতে সেই চুম্বনীয়ার সামনে গিয়ে সম্পূর্ণ সমাহিত হবার আগেই,পত্রমুকুল দুটি তার করকমলে ধরা কয়েনটির সম্মুখে আমার সমাধিফলকের মতো ঠুকে দিয়েই মুষ্টিমেয় ধোঁয়া আর, ছাই হয়ে বেরিয়ে এলাম! লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কলমের চেয়ে তার কয়েনের শক্তি-ই বেশি ! হেড পড়লে ইয়েস, টেল পড়লে  নো!
দিন পনেরোর মাথায় আমার একই অঙ্গে করোনারি থ্রম্বোসিস, সেরিব্রাল অ্যাটাক এবং কোভিড-১৯  হলেও বোধহয়, এতটা আঁতকে উঠতাম না !!!!!!
দেখলুম, সেই প্রেম পত্রের-ই একখানি প্রকাশিত হয়েছে পঁচিশের বৈশাখের রবীন্দ্র-সংখ্যায়, কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে!! আশংকায় আছি !
 সামনে এগারো-ই জৈষ্ঠ্য । জানি না , কী হবে  ¡¡¡¡¡¡¡

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১১৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৮
.একভাষায় এক কবি ছিলেন।তাঁর একটি পত্রিকাও ছিল। সেই পত্রিকার জন্য লেখা সংগ্রহ করতে তিনি পৌঁছে যেতেন বিভিন্ন জনপদে। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে তুলে আনতেন নতুন নতুন কবিদের। খুঁজে খুঁজে ।তাঁর খোঁজই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে কোচবিহারের নতুনপাড়া থেকে কাকদ্বীপের নক্ষত্রের রাত বাড়িটিতে। বালিচক থেকে সোনারপুর।এমনকী একটি জনপদের এক এক প্রান্তে। কখনো স্কুলডাঙায়, তো কখনো বা প্রফেসর কলোনিতে , আবার কখনো কেন্দুয়াডিহির সাহানাপল্লিতে। এই খোঁজই বাংলা কবিতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
আজ তিনি যাচ্ছেন কেন্দুয়াডিহির সাহানাপল্লিতে।  ওখানে নবীন কবি স্বরূপ চন্দ -র সঙ্গে দেখা করার কথা তাঁর।
১৯৯৩- এর বড়োদিনের ছুটির সময়। সঙ্গে কে ছিল ? মনে পড়ছে না। কেবলমাত্র যাত্রাপথটি মনে আছে।  তখন বাঁকুড়া বলতে আমার ছান্দার বেলিয়াতোড় বেলবনি আর সোনামুখী বাসুদেবপুরেরই সীমাবদ্ধ। তবে বাঁকুড়া শহরে গেছি। রাজকল্যাণ -কে অনুসরণ করে।
 স্বরূপ চন্দ-র কবিতাপাক্ষিকে প্রথম কবিতাটি ছাপা হয়  কবিতাপাক্ষিক ১৬ -তে।২৫ ডিসেম্বর ১৯৯৩। কবিতাটির নাম : মুক্তি । কবিতাটি পড়া যাক।
' মানুষ বাতাস নির্ভর। যে করেই হোক / পাখিরা জেনেছে সে কথা। /তাই আজ সমস্ত পাখি ডানা মুড়ে / মানুষের বিপক্ষে । /যদি সব খাঁচার দরজা খোলা হয় /তাহলে আবার ;/ পৃথিবীতে ডানার বাতাস পৌঁছুবে '
কবিতাপাক্ষিক ১৬ - র পর কবিতাপাক্ষিক ২০ । স্বরূপের দ্বিতীয় কবিতা : আমার ভ্রমণ ।
' সকালবেলার ট্রেন চলে যাচ্ছে পুরুলিয়ার দিকে '...
' ইচ্ছে হয় ঘুরে আছি ।পুরী অথবা গোপালপুর '.....
বনজঙ্গলে ঘেরা কোন নদীর তীরে ...চড়ুইভাতি ' ....
দু-দশ দিন কেটে গেল পুরনো তারিখ নতুন হয়ে এলো আবার। '
কপা ১৬ ,২০ -র পর ৩৭ ।কবিতার নাম :
একটা বছর।
এবার স্বরূপ চন্দ -কে চিনুন এবং মনে রাখুন :
' একটা বছর ভাতের সঙ্গে মেখে খেয়েছি / আর একটা বছরকে রুমালের মতন ভাঁজ করে/ পকেটে রেখেছি। '
এরপর স্বরূপ ঘোষণা করছে :
' বাইশ বছর থেকে দু'টো বছর খসে গেল '। এভাবেই আরো কিছু বছর খসে গেল।
' আমি এখন ষোলো উত্তীর্ণ এগারো ক্লাসের ছাত্র / মাস্টারজি আপনার কাঁটা ও কম্পাস বুননে / কোথাও ভুল রয়ে গেছে। / তাই আমার মুখের ভূগোলে টোল পড়ে না '।
একটা বছরকে নতুন করে চিনিয়ে দিল স্বরূপ।
কপা ৩৭ -এর পর কপা ৪৮।
এখানে স্বরূপ - এর আমার প্রেম । দ্বিতীয় পর্যায় -এর ১ এবং ২।
আমি ওই দুটি কবিতা থেকে কয়েক লাইন উদ্ধৃত করছি :
১॥  স্মৃতি হাতড়ে তুলে আনি ঝিনুক।
২॥ মনখারাপের দিন তুমি পরোনি সান্ত্বনা রঙের শাড়ি।
৩॥ টনটন করছে নাবালক স্মৃতি।
৪॥ আমি সেই নৌকা বিহারের ব্যর্থ নাবিক।
৫॥ অন্ধকূপ থেকে তুলে আনছি ভালোবাসার লাশ ।
এবার কপা ১০০ ।স্বরূপ চন্দ - শীত। ওই কবিতাটি থেকে কর্নিক দিয়ে তুলে নিচ্ছি কিছু শব্দমালা।
আঁশটে রঙের ঘুম / শিশিরে সিক্ত হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ /
রবীন্দ্রনাথ বাঁকুড়ায় নেমে গামছা কিনছেন আমার সঙ্গে /
ব্যক্তিগত সংযোজন :গত কুড়ি বছর আমার সঙ্গে স্বরূপ চন্দের দ্যাখা হয়নি। ওর সাম্প্রতিক লেখালেখির সঙ্গেও আমার যোগাযোগ নেই। তবু এক সময়ের সঙ্গী কীভাবে ভুলে যেতে হয় , সেই পাঠ নেওয়া হয়নি বলেই এই লেখাটির অবতারণা।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || করতলে হ্ঋদয়রেখা

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

করতলে হ্ঋদয়রেখা । গুরুপ্রসাদ যশ । নান্দনিক । একশো টাকা ।

কোন কোন কাব্যগ্রন্থে যেমন কবিতাগুণে বাড়তি অক্সিজেন পাই,  তেমন আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অবান্ঞ্ছিত শব্দচয়ন,  আযৌক্তিক বিস্তার ও ক্লান্তিকর কবিতা বিন্যাসে খেই হারাই ।মনে হয় কখন শেষ হবে কাব্যগ্রন্থটি,  যার পর মুক্তশ্বাস নিতে পারব । খারাপ কবিতা কতখানি মানসিক অশান্তি বয়ে আনে,  প্রকৃত পাঠককুল তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন । সে উপলব্ধি পাই গুরুপ্রসাদ যশের কাব্যগ্রন্থ ' করতলে হ্ঋদয়রেখা ' কাব্যগ্রন্থে । ' ফেরার কথাটা মনে রেখো মনে করে/  ন-ই পৌষ মিনির জন্মদিনে , ' অঝোরে ভিজবে প্রেমিক প্রেমিকা/  অন্ধকারের কোনো প্রেম নেই/  আছে শুধু ভোগের লালসা ' , ' জীবনটাকে চালিয়ে যাব/  শিল্প টাকে ধরে ।' - র মতো অসংখ্য অপটু পংক্তি পড়তে হয় কাব্যগ্রন্থটিতে । ফলে খেই হারানো স্বাভাবিক ।
           তবু তার মধ্যে ফুলকি ওঠে তাঁর সামান্য কিছু উচ্চারণে , যেমন:  ' তবু ছুঁইনি তোমাকে/  নিজেকে যাচাই করতে/  নিজেকেই  পুড়িয়েছি বারবার ' ( ' যাচাই '),' চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরে পা রাখলেই/  ছায়ার চোখে অস্পষ্ট/  দৃষ্টি জেগে ওঠে/  আমার সঙ্গে হাঁটে আমারই মতো ।'(' ছায়া নিয়ে ')। সত্যি বলতে কি,  কবিকে কবিতার ভেতরে ঢুকতে হবে,  নাহলে ফাঁক রয়ে যাবে । আমি বললেও থাকবে,  না বললেও । তাঁর কিছু কবিতা পত্রিকায় ছাপাটাপা হতে পারে , কাব্যগ্রন্থে হাস্যকর । তবু কবি ধৃতরাষ্ট্র হয়ে বই ছাপান , মন্তব্য আশা করেন ।
লাভের ভাঁড়ারে শূন্য বিরাজ করে । চন্ঞ্চল গুঁই এর প্রচ্ছদ গ্রন্থটির মতো আকর্ষণহীন ।

২টি কবিতা || আশিস চৌধুরী || দৈনিক বাংলার কবিতা

আশিস চৌধুরীর ২টি কবিতা


কানামাছি

আসলে তুমি হারিয়ে যাওনি
এ আমার মনের ভুল
দিনরাত হয় তুমি আমার চারপাশে ঘুরছো
নয় তো আমি তোমার চারপাশে
অল্টারনেটলি চোখবাঁধা থাকে বলে
ঠাহর করতে পারলেও
ঠিক বুঝতে পারি না
শুধু কানামাছি খেলছি।






মহাভারত

মলাটে জমেছে কত ধূলো
তাই অস্পষ্ট দেখাচ্ছে নামটি
ভেতরেও ততোধিক ধূলো
একে মহান বলে অনেকেই
তবে কেন এত অবহেলা,এত ধূলো? 
কার হাতের ছোঁয়ার  অপেক্ষায় পড়ে আছে
শতব্দী প্রাচীন এই মহাভারত?
যে ধূলো ঝেরে আবার ফেরাবে স্বমহিমায়
নামখানি স্পষ্ট হলে 
তার হৃত গৌরব ফিরে আসবে
আর ভেতরের পাতায় যা লেখা আছে
তাতো কাশীরাম দাস সেই কবে বলে গেছেন।

আটপৌরে কবিতা ৬৯১-৬৯৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৬৯১

ইমেজ/  ফোকাস/  মানুষ
       ) খ্যাতনামা  (
জীবন এভাবে গড়িয়ে যায় ।

৬৯২

স্বজন/  গোষ্ঠীবদ্ধ/ বংশ
         ) আত্মীয়  (
জানলে বুকে অন্য অনুভূতি !

৬৯৩

দৃষ্টিভ্রম/  ভয়/  মনভ্রম
        ) ইলিউশন  (
চোখ থাকলেও ভুল অনুভব ।

৬৯৪
জীববৈচিত্র/  বিবর্তন/  গতিপ্রকৃতি
         ) নৃতত্ত্ব  (
      যে বোঝে সে বোঝে !

৬৯৫

মানসিক/  জটাজাল/  উদ্বিগ্ন
           ) মনোবিদ(
    সে পারে করতে রহস্যভেদ ।

অণুগল্প || অবিচার || দীপক মজুমদার

অণুগল্প 
অবিচার || দীপক মজুমদার 



সুজন মজুমদার ।  জলপাইগুড়ি জেলার উত্তরডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক  হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে।বাবা ভাগচাষী। ওর একটাই স্বপ্ন ছিল পড়াশুনা করে একদিন  শিক্ষক হবে সে। 2000-এ HS  পাশ করতে করতে অভাবের সংসারে একমাত্র রোজগারে বাবা যখন প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তখন  ওর মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।তবুও অদম্য জেদ নিয়ে সে পড়াশুনা চালিয়ে যায় । খুব ভাল মার্কস নিয়ে সে একে একে  BA অনার্স , MA এবং শেষে BEd ট্রেনিংও কমপ্লিট করে।কিন্তু  নিজের পড়াশুনার জন্য শেষ আশ্রয়টুকু বিক্রি করে দিতে হয়।পড়াশুনার পাঠ শেষ করার পর শুরু হয়  SSC -র প্রস্তুতি। তাও এর ওর বাড়ীতে থেকে ।তখন  ওর পকেটে একটা কানাকড়িও ছিলনা । ছিলনা  মাথাগোঁজার জায়গা বা দুবেলা খাবার । বন্ধুদের  সামান্য সাহায্য ছিল ওর ভরসা । ভেবেছিল চাকরী পেলে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ওর স্বপ্ন  অধরা থেকে গেল । চাকরীতো পেলই না বরং ভাগ্যে জুটল কঠিন নির্মম বাস্তব। 2011-এ SSC-TET পাশ করে কম্বাইনড্ মেরিট লিষ্টে পিজি ক্যাটেগুরিতে ভাল রেন্ক করা সত্ত্বেও ওর চাকরী হলনা।অথচ ওর পরে রেন্ক করা অনেকেরই চাকরী হয়ে গেল । বঞ্চিত হল সুজন ।ফলে সে মনের দিক থেকে আরও ভেঙ্গে পড়ল ।এভাবেই অতিরিক্ত  দূঃশ্চিন্তায় কিছুদিন পর  যথারীতি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। দিনের পর দিন পাগলের মত  অনাহারে অসহায় ভাবে কখনো স্কুলের বারান্দায় কখনো বা খোলা আকাশের নীচে সে রাত কাটাতে থাকে। ও যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে  প্রায় বিড়বিড় করে কিছু বলে।ওর প্রতি যে অবিচার হয়েছে ঈশ্বরের কাছে  হয়ত বা তারই বিচার চায় ।রাষ্ট্র ওর সাথে একরকমের প্রতারণা করল বলা চলে। রাষ্ট্রের মদতে  চাকরী দেওয়ার নামে  যারা চাকরী বিক্রি করে তাদের কাছে ওর মেধা হেরে গেল। আজ ওর থেকে কম যোগ্যরা মেধাতালিকা কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে শিক্ষকতা করছে ।এটি হল আজকের দিনে শিক্ষার মূল্যায়ণের নমুনা! হতভাগা শিক্ষা ব্যবস্থা! একটা ছেলে উচ্চশিক্ষিত হতে গিয়ে সব হারাল।বাবা-মা-ভিটে-বাটি-বাঁচার স্বপ্ন .....! একজন পরাজিত সৈনিকের মত সে আজ মৃত্যুর সম্মুখে দাঁড়িয়ে ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

সবাই মিলে সিনেমা হলে~ ১১ || কান্তিরঞ্জন দে || হাল বাংলার সিনেমা বাংলা সিনেমার হাল

সবাই মিলে সিনেমা হলে~ ১১ 
কান্তিরঞ্জন দে


হাল বাংলার সিনেমা
বাংলা সিনেমার হাল 

       মাত্র কয়েকদিন আগে পথের পাঁচালী সিনেমা মুক্তির ৬৫ বছর পূর্ণ হল । খাঁটি সিনেমার ভাষায় তৈরি প্রথম সার্থক বাংলা সিনেমা ,  তথা ভারতীয় সিনেমা । ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট সত্যজিৎ রায় প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে , ভারতীয়রাও শিল্পগুণসম্পন্ন সিনেমা বানাতে পারে ।
        অনেকের আজও ধারণা ----- পথের পাঁচালী বোধহয় বাংলা বাজারে ভালো চলে নি । ওসব সত্যজিৎ রায়- টায়দের ছবি বিদেশে প্রাইজ - টাইজ পায় ঠিকই । কিন্তু হুঁ হুঁ বাবা !! বাংলা বাজার বড় কঠিন ঠাঁই । এখানে সিনেমা নিয়ে অত সিরিয়াস হলে ব্যবসা করা মুস্কিল । অনেক প্রযোজক পরিচালকের এটাই মনের কথা ।
     
       কিন্তু , ভাবনাটা একেবারে ভুল । বসুশ্রী ,বীণা , শ্রী সহ অন্যান্য হলে প্রথম রিলিজ করে পথের পাঁচালী ভালোই ব্যবসা দিয়েছিল । আজও দিয়ে চলেছে । বসুশ্রীতে এ ছবি টানা ১৪ সপ্তাহ চলেছিল ।
      ২৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির মধ্যে   ৩ /৪ টি বাদ দিলে , সত্যজিৎ রায়ের অধিকাংশ ছবি প্রথম রিলিজেই বাণিজ্য সফল । যেগুলো প্রথম দফায় ফ্লপ , সেগুলো সহ সত্যজিতবাবুর সব  ছবিই আজও ধারাবাহিক  প্রফিট দিয়ে আসছে ।  ব্যবসার ভাষায় একে বলে , রিপিট বা রি-সেল ভ্যালু ।
    শুধু রায়সাহেব কেন , ঋত্বিক ঘটক , মৃণাল সেন , বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত , উৎপলেন্দু চক্রবর্তী , অপর্ণা সেন , গৌতম ঘোষ----- প্রত্যেকের ছবির  রিপিট ভ্যালু অত্যন্ত ভালো ।
      অন্যদিকে মশলাদার বাণিজ্যিক ছবি , আজ হিট হয়েছে , কিন্তু  পরের বছর সে ছবি দেখবার দর্শক নেই , এমন  আকছার ঘটে ।
    সিনেমাকে সব সময় মনে রাখতে  হয় , সে একইসঙ্গে শিল্প এবং বাণিজ্য দুই-ই । এখনকার  বাংলা সিনেমার সবগুলো  সম্পর্কে সে কথা বলা চলে কি ? হাল আমলের বাংলা সিনেমার হাল কি ? এ প্রশ্নের এককথায় উত্তর হল---- হাঁড়ির হাল । আমি করোণা সংকটের আগের সময়ের কথাই বলছি ।

       পথের পাঁচালী-র সময় থেকে গত ৬৫ বছরে বাংলা সিনেমা কতটা এগিয়েছে , সে খতিয়ান নেবার প্রয়োজন  আছে বৈ কি । সারা পৃথিবীতেই সিনেমা একইসঙ্গে বাণিজ্য এবং শিল্প । যাকে বলে , কমার্শিয়াল বা পপুলার আর্ট ।
      উত্তমকুমার মারা যাবার পরে , গত ৪০ বছরে বাংলা  সিনেমার ব্যবসার জগতে এমন কিছু ফাটকা কারবারী ঢুকে বসে আছেন , যারা  শিল্প বোঝার তো প্রশ্নই উঠছে না।  সিনেমা বাণিজ্যটাও ভালো করে বোঝেন না । যারা বোঝেন , তারা আবার মৌরসি পাট্টায় বিশ্বাসী । নতুন প্রযোজক-পরিবেশকদের চট্ করে বাজারে ঢুকতে দিতে চান না ।
     ফাটকা কারবারীরা  সৎ ও অসৎ নানা উপায়ে বেশ কিছু পয়সা কামিয়ে মোহ এবং লালসার বশে সিনেমায় টাকা ঢালতে চলে আসেন । সিনেমা মাধ্যমটির বৈশিষ্ট্য , গুণাগুণ  কিছু সম্পর্কেই এদের কোনও ভালোবাসা বা আগ্রহ নেই ।এরা চান সিনেমার ঘাড়ে চেপে যেন তেন প্রকারেন টাকা কামাতে । সিনেমা এদের কাছে স্রেফ মুনাফা ধরার কল।

     ১৯৫০-৬০ - ৭০ দশকের পরিচ্ছন্ন পারিবারিক ছবিগুলো কিন্তু বাণিজ্যিক ছবিই ছিল। সেগুলো হিটও হত । কারণ প্রযোজকেরা জানতেন , সিনেমার গুণাগুণ নির্ভর করে তার গল্পে ও পরিচালনায় । শুধু নায়ক নায়িকার সুন্দর মুখ দেখিয়ে কখনও ব্যবসা নিশ্চিত করা যায় না । সেই সময়ের সিনেমাগুলোর  রিপিট ভ্যালু আজও দুর্দান্ত ।  উত্তম-সুচিত্রা জুটির ছবি হলে তো কথাই নেই ।

     হাল হামলের বাংলা সিনেমার ব্যবসা ততটা নিশ্চিত কি ?? হ্যাঁ মানছি ---১৯৮০-র দশক থেকে টেলিভিশন এবং ইদানীংকালে  ওটিটি প্ল্যাটফর্ম  এসে সিনেমা ব্যবসাকে অনেক জটিল করে দিয়েছে ।
        কিন্তু ভালো গল্প , দক্ষ পরিচালনা এবং ভালো উপাদান দিলে দর্শক চিরকাল সে সিনেমাকে মাথায় করে রাখে । কিন্তু আমোদ বিতরণের নামে যুক্তিহীন নাচাগানা , মারপিট , ঝলমলে পোশাক-আশাক ,  চোখ ধাঁধানো লোকেশন দেখিয়ে দর্শককে বেশিদিন বোকা বানিয়ে রাখা যায় না ।  এর সঙ্গে বস্তাপচা আবেগকে যারা  সিনেমা হিট করানোর একমাত্র শর্টকাট ভাবতেন ---- আজ তাদের মাথায় হাত ।
      অন্যদিকে , ঝকঝকে মাল্টিপ্লেক্সের কথা ভেবে যারা  স্মার্ট প্রেমকাহিনী কিংবা বড়লোকী  ড্রয়িংরুম ড্রামাকেই একমাত্র ফর্মূলা ভেবে বসেছিলেন , তাদের জারিজুরিও আজ শেষ হতে বসেছে ।

     আসলে ভেজাল সিনেমা ব্যবসায়ী এবং অতিচালাক সিনেমা নির্মাতারা ভুলে যান যে ----- গ্রাম হোক কিংবা শহর  ------ সব জায়গার দর্শক সবসময় চান ভালো গল্প , ভালো অভিনয় , ভালো গান , এবং পরিচ্ছন্ন  বুদ্ধিদীপ্ত  পরিচালনার কাজ । দর্শককে অশিক্ষিত এবং বোকা ভাবা-র রোগ হাল আমলের বাংলা সিনেমার ঘাড়ে একেবারে চেপে বসেছে ।

      সেদিক থেকে দেখতে গেলে , বাইরের চাকচিক্য অনেক বেড়েছে , প্রযুক্তিগত  সুযোগসুবিধে অনেক সহজলভ্য হয়েছে ঠিকই ।         
      কিন্তু বাইরে থেকে  যতই ঝকঝকে দেখাক, পথের পাঁচালীর  আমল থেকে হাল আমলের বাংলা সিনেমার হাল কতটা ফিরেছে-----সে সন্দেহ থেকেই গেছে ।

    করোণা সংকট বাংলা সিনেমা ব্যবসার হাল কোনদিকে নিয়ে যাবে ?
  সে প্রসঙ্গে পরে আলোচনা করবার ইচ্ছে রইল ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || চাঁদ যাপনের ক্ষত

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

চাঁদ যাপনের ক্ষত । অরণ্যা সরকার । দিবারাত্রির কাব্য । একশো টাকা ।

যৌনতা যখন কেবল একমাত্র ফোকাস হয়ে  কবিতায় ধরা পড়ে,  তখন তার সামনে দাঁড়ালে কেবল রিপু তাড়না প্রধান হয়ে উঠবে এ কথা  অনস্বীকার্য । কিন্তু যৌনতা যার কবিতার সঙ্গে মিশে শিল্পে রূপান্তরিত হয়, তখন খাজুরাহো,  কোনার্ক মন্দিরের দেওয়ালের মতো শিল্পসম্মত হয় । কবি অরণ্যা সরকার ' চাঁদ যাপনের ক্ষত ' কাব্যগ্রন্থে দ্বিতীয় কাজটি করেছেন , যার উদাহরণ:  '  চিতাকাঠ ছাড়া পোড়ে যে জীবন/  সেই জানে প্রকৃত দহন' ( চাঁদ যাপনের কবিতাগুচ্ছ-  ৮ ),
' বিস্বাদ জীবন যদি শুধু নুন ছুড়ে দেয়/  আমাদের সন্তান হবে প্রকৃত ম্যানগ্রোভ ... ' ( প্রত্যয়) ।
            অরণ্যা সেই কবি, যিনি সেই সত্য তুলে ধরেন,  যা আমরা সামান্য মগ্ন হলেই ধরে ফেলি ও সেই সমাধানের অপার আনন্দ দেয় । অরণ্যার সরলতা কোন ক্ষেত্রে অতিসরলীকরণ হয়ে ওঠে না তাঁর সংযত শব্দচয়নের গুণে । যেমন:  ' একবার ঘুরে দাঁড়াও , / দেখো কোথাও যাইনি আমি/  তোমাতেই থেমে আছে সব পদছাপ ' ( ' উড়ান ')।
          কবির প্রতিটি কবিতায় নিজেকে কবিতার কাছে  উৎসর্গ করার ছাপ থাকে,   সে কারণে তাঁর কবিতা পড়তে গিয়ে মন অন্যদিকে ধাবিত হয় না  ভালো লাগে তন্নিষ্ঠ হতে ।
          ' এই আলো অন্ধকার শরীরী ভূগোল ঝাপটায়/  তোমাকেই নিংড়ে জয়ী হয় নিজস্ব ইতিহাস ' ( ' নিজস্ব ভূগোল থেকে ') ,' কে দেবে চন্দন স্নান/  আমাকে ভাঙছে ঋতু, / আমাকে গড়েছে মরুত্রাস ।' ( ' অহল্যা ') - এর মতো পংক্তির সামনে বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ি শিল্পের গুণে । এখানে অরণ্যার সার্থকতা । কবি অমিত সরকারের প্রচ্ছদ বইটির টিউনিংয়ের সঙ্গে সামন্ঞ্জস্যপূর্ণ ।  কালার কম্বিনেশন ও সামগ্রিক পরিপাট্য চমৎকার ।

শব্দ'৬ কবিতা || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

শব্দ'৬ কবিতা
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


কাটাঘুড়ির মতো আমাকে নিয়ে খেলছে সময় !

জেলেরা ডুব দেয় মাছেদের গোপন সংসারে ।

কেবলমাত্র গাছ জানে বৃন্তচ্যুত ফুলের আর্তনাদ।

মানুষের মতো পাখিদের কোন সংবিধান নেই ।

এখন চতুর্দিকে উঁচুগলায় মিথ্যা প্রতিষ্ঠার দিন।

আটপৌরে কবিতা ৬৮৬-৬৯০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৬৮৬

তপস্যা/  নির্জন/  সত্যজ্ঞান
        ) তপস্বী  (
সময় হার মেনে যায় ।

৬৮৭

মিতভাষী/  বিনয়ী/ ;আন্তরিক
         ) সজ্জন  (
এ যুগে ক'জন মেলে!

৬৮৮

ব্রোঞ্জ/  মাটি/ পাথর
      ) ভাস্কর্য  (
ছেনি হাতুড়ি বাটালি শিল্পদৃষ্টি ।

৬৮৯

রং/ তুলি/ ক্যানভাস
     )   চিত্র  (
কি করে হয় জীবন্ত  !

৬৯০

মৃতদেহ/  শীতল/  কুগন্ধ
       ) মর্গ  (
দেহ অপেক্ষায় দগ্ধ হতে ।

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৭.
আজও দুর্গাপুরে। আজ ব্রজকুমার সরকার সম্পর্কিত সরকারি তথা বেসরকারি কথাবার্তা। ব্রজ তখন দুর্গাপুরের এ জোনের হর্ষবর্ধন রোডে থাকত। আমার কাদাকুলি/ বাসুদেবপুর যাওয়া পথে দ্যাখা হওয়া সঙ্গীদের মধ্যে এখন একমাত্র ব্রজকুমারই সেই পুরোনো ট্রাডিশন ধরে রেখেছে বা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গতবারের পুজোর আগেও দ্যাখা হল। একই রকম। কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। কুড়িবছর আগে যেমন প্রাণময় ছিল , এখনো তেমনটাই তাজা এবং গার্ডেনফ্রেস রহে গেছে। এটা খুব জটিল একটি কাজ। ব্রজকুমার তার মনের মধ্যে কোনো ময়লা জমতে দেয়নি। এটাও খুব বড়ো কৃতিত্ব। আরো একটা কথা ব্রজ কখনোই , কোনোদিন নিজের কবিতা সম্পর্কে সবাক হয়নি। লিখে গেছে লেখার নিয়মে।
এখন পড়া যাক ব্রজকুমার সরকারের কিছু কবিতা।
আমার আলোচনার প্রথম কবিতাটির নাম ' কলকাতা থেকে সুতানুটি '। ভুল লিখলাম নাকি ! আগে তো সুতানুটি , পরে কলকাতা । এখানে ইতিহাসকে ব্রজ তার নিজের খেয়ালে পরিচালিত করেছে।
এটা একটি পারফেক্ট রিপোর্টাজ। ব্রজ এবং প্রদীপ , অনুমান করতে পারি প্রদীপ চক্রবর্তী , দুজনে দমদম-টালিগঞ্জ মেট্রোর যাত্রী। এই সফরে সন্ধান পেলাম কয়েকটি চিহ্ন । চিহ্নগুলি দ্যাখা যাক :
১॥ মঞ্জুষদার উদাস পাখিটা এইমাত্র উড়ে গেল।
এই মঞ্জুষদা : মঞ্জুষ দাশগুপ্ত।
২॥ কুরুক্ষেত্রের শরজালে
এই কুরুক্ষেত্র প্রদীপ চক্রবর্তী-র সৃষ্টিক্ষেত্র বা পত্রিকা।
৩॥ বিদ্ধ হচ্ছে দুটি ভিন্নমুখ।
এই ভিন্নমুখ ব্রজ-র নিজস্ব পত্রিকা।
৪॥ দুহাত উপরে তোলে শুভরাত্রি গায় আমাদের প্রভাতদা।
এই প্রভাতদা যে প্রভাত চৌধুরী এটা বলার জন্য ভৌগোলিক অভিধান খুলতে হবে না।
এই মেট্রো-যাত্রাটি কবিতার নতুন সংযোজন।কিন্তু কলকাতা থেকে সুতানুটি এই বাক্যচয়নটি ব্রজকুমারের আর্কাইভেই থাকুক। যেমন আমার
' কৃষিকাজ থেকে পশুপালন ' নামের গল্পটি।
 ব্রজকুমারের দুটি ' যাপনপ্রণালী '- র সন্ধান আমার জানা আছে। তা আপনাদের জানানো যেতে পারে।
১॥ সারা বিছানায় প্রবালের আলপনা , মাছরমণীর প্রণয়চিহ্ন।
২॥  শীতের ডানায় ধূসর আয়না , ঘোরলাগা সাপ।
কুসুমকলির বিকেল।
ব্রজকুমারের যাপনপ্রণালীতে জলখননের কার্যক্রম দ্যাখা যাচ্ছে বা আমি দেখতে পাচ্ছি।
এবার ব্রজ -র বিনির্মাণ -এর প্রথম স্তবক :
' যে স্পর্শবিন্দু থেকে শুরু হয় বৃত্তের পরিভ্রমণ
তাকে আমি স্থাপনকেন্দ্র বলি।
নাভিজন্ম বলে কেউ কেউ।'
এই বলা এবং দ্যাখার মধ্যে কোনো মেকি আধুনিকতা নেই। এই দ্যাখার মধ্যে আধুনিকতার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দ্যাখা যাচ্ছে।
কবিতাটির নাম : বিবাহ।কয়েকটি লাইন :
' যা বহনযোগ্য তাকেই তোমরা বিবাহ কর ,
রমণীয় বলে সাজিয়ে রাখো ঘরের ভেতর।
যাবতীয় আসবাব , টিভি , রেফ্রিজারেটর ,
 তৈজসপত্র --- বস্তুত সবই বহনযোগ্য ,
রমণযোগ বলেই রেখেছ অন্তঃপুরে ;
আর সব স্থবিরতা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছ
বিবাহবাসর।'
আমরা কিন্তু ব্রজবুলি থেকে ব্রজকথা-য় পৌঁছে গেছি। এটুকুই জানাবার ছিল।

নিশান || ইয়াসিন খান || কবিতা

নিশান 
ইয়াসিন খান


শব্দের মত এই পৃথিবীর ছবি
আকাশের পথ নির্জনতার ছোঁয়ায়
অমাবস্যা রাতে ছায়া ঢাকা মহানগর
বৃষ্টি জলে ডুবে গেছে অনুভব

স্বাদহীন স্বপ্নের ভীড়
মৃতের খবর এখানে নিবিড়
ভোর রাতে ছায়া বৃষ্টি জলে
নীতি সব বিভ্রান্তির জাঁতা কলে

নয়া স্বাভাবিকতায় জীবন
ঝুঁকি হবে শেষ
বন্যা ক্লান্ত পুরাতন মন
 আসুক নতুন সৃজন মেঘ

বাস্তবের ঢেউ আদর্শের ফাঁদে
অনেকেই নোনা মাছ রাঁধে
সাগরের বুকে রামধনু রং
স্মৃতি জুড়ে আলেয়া সং

কথা ও গান সুর হীন
বাস্তবের গতি হীনতায়
আদর্শ ভরা জোয়ার হাওয়ায়
বিকেলে ভোরের নিশান উড্ডীন

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পানাগিয়োটিস জানেটাটোস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
পানাগিয়োটিস  জানেটাটোস-এর কবিতা


পানাগিয়োটিস জানেটাটোস (Panagiotis Tzannetatos, 1989)  জন্মেছেন গ্রিসের সেফালোনিয়া দ্বীপে।  তিনি পড়াশোনা তিনি পড়াশোনা করেছেন ট্যুরিজিম বিজনেস এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতির ইতিহাস বিষয়ে।  ২০১১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ পোয়েমস, ২০১৫- তে প্রকাশিত হয় দ‍্য এজ অব পিপল, ২০১৮-তে প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। খবরের কাগজ ও অনলাইন পত্রিকায় তিনি লেখেন কবিতা ও প্রবন্ধ।  ইংরেজি স্প্যানিশ ও ফরাসি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতা। তাঁর কবিতা বাংলা ভাষায় এর আগে অনুবাদ  ক‍রেছেন  কবি উজ্জ্বল ঘোষ।

প্রতিবিম্বন
এই সন্ধ্যাও উড়েছিল,
 অনিমন্ত্রিত যখন সে এসেছিল।
 স্মৃতি যা বয়ে আনে সবই অনাহূত,
সময় যা তুমি মনে রাখতে চাও না।
 এখন যখন আলো কমে এসেছে
 অন্ধকারের ভেতরেও আমি পরিষ্কার দেখছি রাস্তার অই দিকের সমস্ত দাগ।
 এই শরীরে থাকা পূর্বেকার প্রতিবিম্বন
সময় যার দিকে আমি তাকাতে সাহস করেছিলাম
 ছায়া ও তাদের নাচ
 দেয়ালের ও আয়নার উপর ।
আর তখন আবার আমি দেখলাম মানুষ
কীভাবে বদলায় নিজেকে অন্ধকারে
 স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
 আর তখন আবার একবার আমি দেখলাম অনাহূত স্মৃতি নিজেই ফিরছে বর্তমানে।
প্রতিশোধ নিতে সেই সমস্ত স্বপ্নের উপর
যারা বেঁচে উঠতে পারেনি।

২.
রাতের জীবন ছিল স্বর্গে

আমি একটা ছোট বেসমেন্ট ভাড়া করেছি,
 আকাশের সঙ্গে বিছানা পাতবো বলে,
কারণ আকাশ ছাড়া কে আর রাতের বেলা
 শান্তিতে ঘুমাতে পারে ।
বছরের এই সময় জানালার বাইরে পারিজাত গোলাপ ফোটে
 জানালার বাইরে ।
 ভালোবাসা জন্ম নেয়
 ভালোবাসা মরে যায়
যেমন করে পরগাছা যা জন্মায় স্বাস্থবান  শিকড়ের উপর ।
কার আর ক্ষমতা আছে হাত দিয়ে এইসব কিছু তুলে ধরার
শব্দকে অন্ধকারে  নিরাবরণ মনে হয়।
 যখনই তুমি তাদের স্পর্শ করতে চেষ্টা করো
দাগ থেকে যায় পিছনে।
 আমি দরজা খুলি চলে যেতে দিই
সমান দূরত্ব দিয়ে যা আমাদের জুড়ে রাখে।
 একটা কংক্রিট দেওয়াল পিছনে উঠে
যা আলাদা করে দেয় আবেগকে পাপের ভিতর থেকে
ঈশ্বর ও মানুষের, একই  শরীরছ তারা বসবাস করার আগে
 দিনের শেষে  ভয় ফিরে আসে ভালোবাসার কাছে
কারণ এই জগৎ পরিবর্তনশীল আর রাত্রির সবকিছু,  যার প্রয়োজন হয়।

পূরবী~ ৩০ || অভিজিৎ চৌধুরী || এক অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~ ৩০
অভিজিৎ চৌধুরী


কাকদ্বীপে তীর্থের ধরা পড়ল প্রস্টেটের সমস্যা।কোলেস্টেরল। ফ্যাটি লিভার।আর সব অনেক কিছু।
 কারুর কথা না শুনে এলেন কালিম্পং। ভাবলেন শরৎকালটা কাটাবেন কারণ নির্জনতা।বড় প্রিয় তাঁর। সেই ছেলেবেলা থেকে।
 বার্ধক্যে এসে জীবন আর অন্তর্মুখী হয়েছে।বহিরঙ্গ আর বিচলিত করে না।শান্তিনিকেতনের কাজ থেকেও মুখ ফিরিয়ে থাকার দিব্যি আনন্দ রয়েছে।পা দুটো বেশ ফুলে উঠেছে।
 প্রতিমা আর নীলমণি রয়েছে।রাতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লেন।সংজ্ঞা নেই।রথীকে খবর পাঠাতে হবে।পাহাড়ে ঝড় বৃষ্টি ভয়ংকর।সেই রাত যেন কাটে না।
 পাহাড়ের ঠাণ্ডায় সেই ভোরে ওঠা।স্নানও কাকভোরে তবে গরম জলে।নাওয়ার ঘরে এক সময় পুরো গান লিখে গেয়েছেনও।যেমন খুশী অঙ্গভঙ্গী করা যায়,দেখার তো কেউ নেই।  কাকদ্বীপের সেই ডাক্তারবাবু গান গাইতেন।ইউরিম্যাক্স দিয়েছিলেন।খেতে ইউরিনের গন্ধ গেল কিন্তু ভয়ংকর মাথার যন্ত্রণা শুরু হল।
 ভোরে ইউরোপিয়ান ডাক্তার এলেন।এতো অনুপম দেহ সৌষ্ঠব দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তারপর বললেন,ওঁকে এখনই নিয়ে যেতে হবে।
 তীর্থের মজা লাগল তাও।রবীন্দ্রনাথ আর সে দুজনেরই প্রস্টেট সমস্যা।অবশেষে একটা মিল পাওয়া গেল।
 দার্জিলিং থেকে ট্রেনে চেপে অচৈতন্য রইলেন।কলকাতায় এসে জ্ঞান এলো কিন্তু বিরক্ত হলেন খুব।তবে রথী এসে দেখালেন আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়ায় তাঁর ল্যাবরেটারি গল্পটা ছাপা হয়েছে।মন প্রসন্ন হয়ে গেল।তার পাঠালেন অমিয় চক্রবর্তীকে গল্পটা পড়েছো!
 অমিয় চক্রবর্তী লিখলেন,এরকম গল্প লেখা যায়! আপনি যে পাষাণে অমৃত নিয়ে এসেছেন।
 কাকদ্বীপে প্রবল বৃষ্টি হলে বি ডি ও অফিস লাগোয়া মাঠে জল জমে যেত।
 তীর্থের মনে হয়েছিল কিছু কবিগান লিখলে মন্দ হয় না।তবে লেখা হয়নি।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || পথে পথে দুঃখহরণ।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

পথে পথে দুঃখহরণ। সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।  আদম । চল্লিশ টাকা ।

' মরচে পড়া দাগের কাছে রেখে যাব আমি- শানিত অস্ত্রের লোলুপতা । ' -র মতো লাইন যখন কোন কবি, যার কবিতার  সঙ্গে পূর্বে পরিচিত ছিলাম না,  তার কাব্যগ্রন্থে পড়ি ; তখন বুঝি কবিতা নিয়ে ভাবনা চলছে উত্তরসূরিদের ভেতরে ও যত্নশীল হয়ে যৌক্তিক কবিতা লেখার প্রয়াস করছেন ।
               কবি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ' পথে পথে দুঃখহরণ ' কাব্যগ্রন্থে ছড়িয়ে আছে এ ধরনের অবাক করা বহু উচ্চারণ : ' আমার সবকটি রঙ নিয়ে তুমি এসে দাঁড়াও একটিবার - অভিলাষে অথবা  অবকাশে ! ' , ' ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আমি খুঁড়ে ফেলব নীরব শব্দের বাগান । '
           কবি সুমনের শিরোনামহীন আঠাশটি করিতার ভেতরে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থের মূল চরিত্র ' দুঃখহরণ ' কে দাঁড় করিয়ে গেঁথে চলেছেন একের পর এক কবিতা ।কবিতাগুলি যেন  কবি স্বগতোক্তি করছেন,  আর পাঠক তার স্বাদ উপভোগ করছেন যত্ন নিয়ে । তবে কবির একই কথা বারবার বলার প্রবণতা না কাটলে ভবিষ্যতে পাঠকবর্গ তাঁকে কতখানি পছন্দ করবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যেমন:  ' আলোড়ন থেমে গেছে আজ । কোথাও কোন শব্দ নেই আর । তোর আমার সম্পর্ক থেকে হেঁটে চলেছি দূর রাত্রির পথে । ' - র উচ্চারণে-' কোথাও কোন শব্দ নেই আর  ' -এর মতো একই কথা বলার প্রবণতা তাঁকে পরিহার করতে হবে ।
           পাশাপাশি ' ভেজা পাণ্ডুলিপির পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে আমি নৌকা বানাই । একান্তে পাড়ি দেব তোমারই  গভীরে । '' র মতো মনোমুগ্ধকর উচ্চারণ তাঁর কবিতা ভালোবাসতে বাধ্য  করে । পার্থপ্রতিম দাসের প্রচ্ছদে চহট রঙের ব্যবহার চোখকে ক্লান্ত করে ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১১৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

১১৬.
দুর্গাপুর-পর্বে প্রথমে রজতশুভ্র গুপ্ত , পরে রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রদীপ চক্রবর্তী-র কথা লিখেছি। লেখা হয়নি পিনাকীরঞ্জন সামন্ত-র কথা , ব্রজকুমার সরকারের কথা। এদের কথা , এদের কবিতার কথা না বললে দুর্গাপুরকথা শেষ করা যাবে না।
খুব সহজ করে একটা কথা ঘোষণা করতে চাই , পিনাকীরঞ্জনের ' কেন আমি অঙ্কে শূন্য পেয়েছিলাম ' কবিতাটি পোস্টমডার্ন বাংলা কবিতার একটি মাইল- স্টোন।
এখন এই কবিতাটি থেকে বেশ কয়েক লাইন স্থাপন করছি আমার এই লেখাটিতে। সিদ্ধান্ত আপনার।
' এখন কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করেন (a +b )2= কী ?আমি দেখাব/ বিদ্যাসাগর সেতুর দু- পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি খুঁটি / অর্থাৎ গঙ্গার পশ্চিমের খুঁটিটিকে যদি আমি a2 ভাবি ,/ অবশ্যই পূর্বপারের খুঁটিটিকে ভাবতে হবে b2/ মাঝখানে যুক্ত হবে এক স্রোতস্বনী নদী এবং/ তার ওপরের ঝুলন্ত ব্রিজটি হবে 2ab ।/
সুতরাং/ (a+b )2 =a2 + 2ab +b2= বিদ্যাসাগর সেতু।'
 এভাবেই পিনাকী দেখিয়েছিল
(a --b ) 2 = a2  -- 2ab + b2 = রবীন্দ্রসেতু ।
এই লেখায় স্কোয়ার চিহ্ন ঠিক মতো দিতে পারলাম না , তা আমার ব্যক্তিগত অক্ষমতা তার জন্য পিনাকীকে কোনোভাবেই দায়ী করা যাবে না।
আরো একটা কথা খুবই বিনয়ের সঙ্গে লিখছি , বিনয় মজুমদার , রতন দাস এবং আমি , বাংলাকবিতায় গণিতকে বিভিন্নভাবে প্রয়োগ করেছি। কিন্তু স্বীকার করতে দ্বিধা নেই পিনাকীরঞ্জন সামন্ত-র মতো করে পারিনি। আমরা তিনজন আমাদের মতো করে গণিত- কে কবিতার অঙ্গ করে নিয়েছি। পিনাকীর ব্যবহারের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে সমসাময়িকতা , যা পাঠকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য , এমনটাই আমার বিশ্বাস।
আমার পিনাকীচর্চা জারি থাকুক। পিনাকীরঞ্জনের আরো কয়েকখণ্ড হীরকদ্যুতি আপনাদের সামনে উপস্থিত করছি।
১॥ অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে মানুষের দাঁতের সম্পর্কের কথা উঠলেই সমস্ত ইঁদুরবাহিনীর গর্ত খোঁড়ার কাজ শুরু হবে এমনকথা ইতিমধ্যে কেউ ভেবেছেন কিনা অন্তত আমার জানা নেই ।'
না, পিনাকী আমারও জানা ছিল না। এবং তা স্বীকার করাকে আমি গৌরবজনক আখ্যা দিলাম।
২॥ অদ্ভুত এক মিশ্রণের ভেতর দিয়ে তোমার গার্হ্যস্থ জীবন শুরু , মাঝখানে কয়েকটি ঝুলন্ত দোলনা।
৩॥ আমাদের প্রতিটি অনুভবের রঙে/ পিছনের দরজা খোলা আছে/ তোমার ' হ্যাঁ ' সূচক স্বাদের মধ্যে আমার শরীরের গন্ধ ' না '।
৪॥ ক্যান্টিনসভ্যতার উছল আলোয় গল্পকারের হাত থেকে চায়ের উপচে পড়া ইশারায় ঋতুচক্রের পূর্বাভাস ,
আমি কেন এগুলিকে হীরকদ্যুতির সঙ্গে তুলনা করেছিলাম তার জন্য কোনো কৈফিয়ৎ দিতে আমি বাধ্য নই। যাঁরা আমার বক্তত্বের বিরুদ্ধে আছেন , তাঁরা বিরোধিতা করতে পারেন , আমার কান কোনোদিন কুকথা  শোনেনি , আজও শুনবে না।
 পিনাকীরঞ্জন সামন্ত সম্পর্কে আমার জানানোর কথা , ও যখন এইসব লেখা লিখেছে , তখন থাকত দুর্গাপুরের B / 22  CMERI কলোনিতে।
এখনকার ঠিকানা আমার লেখা নেই।

আটপৌরে কবিতা ৬৮১-৬৮৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ



আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার




৬৮১

একান্নবর্তি/  স্বচ্ছল/  নিউক্লিয়াস
          ) পরিবার  (
গড়ে তোলে স্বপ্ন আনন্দ ।

৬৮২

সামগ্রী/  দোকান/  খদ্দের
       ) পশরা  (
কেনাকাটায় দোকানীর আনন্দ ।

৬৮৩

জমকালো/  ডিপার্টমেন্টাল/  মাল্টিপ্লেক্স
            ) শপিংমল (
বিনোদনের এক অনন্য উপায় ।

৬৮৪

ধনুক/  সাতরঙা/  অপরূপ
        ) রঙধনু  (
একটু পরে মিলিয়ে যায় ।

৬৮৫

বৃষ্টি/  ডিম/  নদী
     ) ইলিশেগুঁড়ি  (
ইলিশ মাছের ডিম ছেড়েছে !

সমান্তরাল চক্রবুহ || শুভ্রনীল চক্রবর্তী || কবিতা

সমান্তরাল চক্রবুহ 
শুভ্রনীল চক্রবর্তী


একটা শিহরিত কালবেলা
ইচ্ছের উপর ডানা সাজিয়ে পাখী বসে আছে
মানুষ সাজার অপেক্ষায়
ধীরে ধীরে পালক খুলে
লাগিয়ে নিচ্ছে --
     রঙিন মোড়ক
     রস আস্বাদন
     পার্থিব সুখ
   
খাঁচার আস্ফালনে পুড়ে নিচ্ছে
চার দেওয়াল -- সংসার যাতনা
অমোঘের চোঁখে চুম্বক
বনস্পতির শরশয্যা ইস্পাতের ঘুলঘুলি বেয়ে
নিষিক্ত করছে ইচ্ছে ডানা
   অবয়ব
   রিপু দোষ
   চক্রবুহ
       
পাখীরা একে একে আসছে
খাঁচার দরজায় রাখা আছে
     রঙিন মোড়ক
        রস আস্বাদন
           পার্থিব সুখ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

পূরবী~২৯ || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~২৯
অভিজিৎ চৌধুরী


তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি / বিচিত্র ছলনা জালে / হে ছলনাময়ী।
তারপর বললেন,জ্যোতি ডাক্তার আমায় কিছু বললে না।রানী,আমার অপরাশেন কবে! তারপর যেন ভুলে গিয়ে শেষ করলেন হয়তো শেষ কবিতা।
এটুকু বলে থামলেন রবীন্দ্রনাথ। রানী চন্দকে লিখতে বলেছেন।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
চোখ দুটো জলে ভরে উঠল।জানলা দিয়ে তাকালেন বাইরে।৬ নম্বর জোড়াসাঁকো। অবন কি করছে! রিদয়।ভেবে একটু হাসলেন।
সে পায় তোমার হাতে/ শান্তির অক্ষয় অধিকার।
ললিতবাবু কাছে এসে বললেন,ছোট্ট কাজ, আজই তবে সেরে ফেলি।
চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ।
ছুটি,শমীদের কাছে যাওয়ার পালা এলো।
প্লুতস্বরে ডাকলেন,নতুন বউঠান।আমি রবি।
ইস্ এবারও কিছু হল না।
রবি হতাশ কণ্ঠে বললেন,জানতুম।বিহারীলালের জন্য আমার এই দশা।
খিলখিল করে কেউ যেন হেসে উঠল।
কে!
রানী খাতাটা হাতে বাড়িয়ে দিতে কাঁপা কাঁপা অক্ষরে সই করলেন।
ললিতবাবু বললেন,মনকে শক্ত করুন।একদম সহজ অস্ত্রোপচার। সুস্থ হয়ে উঠবেন।
রথীন্দ্রনাথকে দেখে বললেন,মণি কেমন আছে!
রথী বললেন,জ্বর কমছে।
মুখে বলতে পারলেন না,সে আসবে কবে!
একা একা ছাদে ঘুরছেন আর গন্ধ পাচ্ছেন নতুন বউঠানের।তুমি কোথায়!
রথীন্দ্রনাথ বললেন,বাবামশাই,সবাই আসবেন।
ললিতবাবু বললেন,কবি খুব সাইকোলজিক্যালি উইক।
বলতে পারলেন না,তবু মনে হল- ছুটি নেই তো তাই তিনি একা।
রথীন্দ্রনাথ বললেন,তিনি বলতেন- আমি প্রকৃতির সন্তান।ঝরা পাতার মতোন ঝরে পড়তে দাও।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১১৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৫.
কবিতাপাক্ষিক ৫০০ সংখ্যায় মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ সম্পর্কে কী লিখেছিলাম , সেটা পড় ফেলুন :
' কবিতাপাক্ষিক ' - এর প্রায় প্রথমযুগে শাহবুদ্দিন-এর আত্মপ্রকাশ।
প্রান্তিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া কবিতাপাক্ষিক-এর গৃহীত সিদ্ধান্ত।সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে শাহবুদ্দিন-এর বেড়ে ওঠা।
গ্রাম্য-কবিতা নয় , এই সময়ের যেসব বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন দেখা যায় মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ সেগুলিকে প্রাধান্য দেন তাঁর কবিতায়।
সে কারণেই তাঁর কবিতা স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করে '
অরিজিন্যাল মেদিনীপুরের , দীর্ঘদিন মুম্বাই-তে ছিল কর্মসূত্রে , বারাসতের কাজিপাড়ায় ছিল ।
সম্ভবত মেদিনীপুরে বিদ্যুৎ পালের ' নয়ন ' পত্রিকার অনুষ্ঠানে প্রথম দেখাদেখি হয়।
শাহবুদ্দিন কপা-র প্রথমযুগের কবি , এটার প্রমাণ দাখিল করছি :
কপা ১৩৫ -তে শাহবুদ্দিন -এর তিনটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।
তিন নম্বর কবিতাটির নাম :
কী কী উৎসর্গ করতে পারি তোমাকে

১.একগুচ্ছ বন্ধ্যা জমির অভিশাপ।
২.একরাশ ভেসে যাওয়া স্বপ্নচারী স্রোত।
৩. বিকলাঙ্গ অথবা মৃত শিশু যে জীবিত প্রতি বিস্ফোরণে।
৪. জীবনসংগ্রামে শহিদ হওয়ার আংশিক পুরস্কার। এই কবিতাগুলি যে গ্রাম্য , এই অপবাদ কে দেবেন !
কবিতাপাক্ষিক ১৩৯ সংখ্যার ' এই পক্ষের কবি ' ছিল মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ। মোট আটটি কবিতা ।'
' স্মৃতি দর্পণে বন্ধু সিরিজ '।
মোট বন্ধুর সংখ্যা ৮। কবিতাগুলির নাম জানাটা এখানে বাধ্যতামূলক  ।
১॥ ছোট্ট সাথী ২॥ হিমাংশুশেখর প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩॥ প্রদীপ পিরির সবজি দোকান  বন্ধ এখন !
৪॥ আলিমের জীবন যাপন ৫॥ ফুচকাওয়ালা বিনোদ
৬॥ শ্রীমান কবি দেবাশিস   ৭॥ কেবল নেটওয়ার্কে দেবু  ৮॥  সাজেদা খাতুন ।
এই আটটি কবিতার শিরোনাম চিনিয়ে দিচ্ছে শাহাবুদ্দিন-কে। শৈশব , স্কুলজীবন ,সাম্প্রতিক বন্ধুজনেরা ধরা ৩রইল কবিতায়।
কপা ৫০০ থেকে কয়েকটা উদ্ধৃতি দিচ্ছি। পড়তে থাকুন :
১. তাসের দেশে এক প্রেম জন্ম নেয়
২. ইউকেলিপটাসের গন্ধে বিশেষ কোনও ব্রান্ডনেম/
                                                 মনে পড়ে।
৩. রাতজাগার ভিতর একটা শিল্প থাকে।
৪. লেখার টেবিলে স্বপ্নদানি , মিথ , এপিটাফ থেকে বন্ডপেপার/অন্যমনস্কতা কাটানোর জন্য হিজিবিজি ছবির অ্যালবাম/ নস্ট্যালজিয়া।
৫. যা শোনাবো বলে ঘুরছি / দরজায় দরজায়....
যা পড়বো বলে খুঁজেছি মঞ্চ ,
সেটা তো অনেক  শহর দূরে ! / আজও লেখা হয়নি ...
৬. মানুষ যদি স্বপ্ন দেখে ,/ তবে স্বপ্নরা মানুষ দেখে না কেন ?
৭. অক্ষর চেনা শৈশব থেকে, বাক্যরচনা যৌবনে।
৮.সূর্যের আলো ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছি/ বলেছি ' শব্দ ' এসো;
৯. সামান্যতম কথাতেই গড়ে ওঠে--- / প্রাচীন সভ্যতার লোকালয় ...
১০.  নির্জনে ভাসা কান্নাগুলো , সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়নি।
এইসব নিয়েই মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ। কখনো ফিরোজ বলি , কখনো বা শাহবুদ্দিন। ডাকে কিছু যায় আসে না।
শাহবুদ্দিনের একটা বড়ো গুণ , ও কখনো একা থাকে না , কবিতার সঙ্গে থাকে , কবিদের সঙ্গে থাকে। একে বলা যায় কবিসংঘ-এ থাকা।
প্রথমে নিরুক্ত , এখন টার্মিনাস , এইসব নিয়েই মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ-এর কবিতাযাপন।

আটপৌরে কবিতা ৬৭৬-৬৮০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার

৬৭৬

দুর্ঘটনা/  বিপর্যয়/  আত্মহত্যা
     ) অপঘাত  (
এই মৃত্যু কেবল অসহ্য !

৬৭৭

দান/  অনুকম্পা/  সমবেদনা
     ) সাহায্য (
কেউ কি সহজে চায় !

৬৭৮

অন্বেষণ/  রহস্যভেদ/  সমাধান
       ) তদন্ত (
না হলে কিভাবে হবে !

৬৭৯

জিজ্ঞাসা/  উচ্চাকাঙ্ক্ষা/  অজ্ঞাত
          ) প্রশ্ন  (
করলে তবে উত্তর সম্ভব ।

৬৭০

আলোচনা/  স্বীকারোক্তি/  ফলাফল
          ) জবাব  (
পেতে গেলে যুক্তি লাগে ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ছোট শহরের হাওয়া

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

ছোট শহরের হাওয়া । শ্যামলকান্তি দাশ । বাকপ্রতিমা । সাত টাকা ।

কবি শ্যামলকান্তি দাশ তাঁর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত   কাব্য পুস্তিকা ' ছোট শহরের হাওয়া ' তে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই ভালো লাগার দিক যা অনুপ্রাণিত করে ।
সে কারণে এসব উচ্চারণ: ' বঁটি আর বঁটি নয়, চারধারে আঁশ / আঁচড়ে দেওয়াল থরহরি-  / প্রাণীদের এমনই প্রকাশ/  বেড়ালেরা স্বয়ং প্রকাশ! ' ( বেড়াল ') , ' এরকম স্তব্ধ নিশুতি রাত্রে মানুষ কোথায় যায়,  / কেন মানুষের পাশে এই সময় একটাও চরাচর থাকে না ? '
(  ' মছলন্দপুরের কথা ' ) , ' চোখ জ্বেলে রক্ত জ্বেলে হাহাকার জ্বেলে/  তোমার জন্য রচনা করি/  একটির পর একটি নিবেদনের মালা! ' ( ' মালা ') অজান্তে বহুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখে ।
         কবির এই কাব্য পুস্তিকাতে দেখিয়েছেন তিনি শুধু চোখ দিয়েই দেখেন না , অন্য ইন্দ্রিয় দিয়েই অনুভব করেন না,  যাঁর সমগ্র সত্ত্বায় মিশে আছে কাব্যিক অনুপ্রেরণা ।কবির এই পুস্তিকাতে মিশে গেছে প্রেম,  দৃশ্য,  প্রকৃত পর্যবেক্ষণ ও স্বাভাবিক শব্দমাধুর্যের অপূর্ব টিউনিং । যা পাঠকের লোভনীয় দিক ।  কবি এখানের প্রতিটি কবিতার  প্রতিটি শব্দ পড়িয়ে ছাড়েন শব্দের জাদুকরী আকর্ষণের জন্য,  যেমন:  দানা শস্যে খামার রচনা করো,  আমি আজ প্রস্তুত,  শরীর/  শরীর প্রস্তুত আজ , হে গম, গমের দেশ,  কত দূরে বাড়ি !' ( 'প্রস্তুত ')।
         কবির কবিতায়  রহস্যময়তা,  সার্বিক উপলব্ধি ও আঁটোসাঁটো কাব্যগঠন তাঁর জাত চেনায় । প্রদীপ মাইতির সাদামাটা প্রচ্ছদ পুস্তিকাটির নামের মেজাজ ধরে রাখে ।

তিনটি অণুকবিতা || ফটিক চৌধুরী || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

তিনটি অণুকবিতা
ফটিক চৌধুরী


হৃদিমন্দির

আমার মুক্তইচ্ছাগুলোর দশা এখন বন্দির
শরীর নামক দেহ এবং হৃদয় নামক মন্দির
বিলিয়ে দিলেন ফুরায় না মনটা বরং জুড়ায়
পথপ্রান্তে যেটুকু পাই, কুড়াই শুধু কুড়াই।

জীবন নদী

জীবন যেভাবে বয়ে যায়
সে তো বহতা এক নদী
সে খরস্রোতার মতো ধায়
মাঝখানে বাঁধ না পায় যদি।

না বলেই

আমার যেসব বন্ধু ছিল
একে একে যাচ্ছে সব চলে
যেতে তো হবেই একদিন
কেউ চলে যাচ্ছে, না বলেই।

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
  ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা


ইয়ানিস লিভাদাস (Yannis Livadas, 1969) গ্রিসের নিরীক্ষামূলক কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সনেটের এক নতুন  আঙ্গিক 'ফিউশন-সনেট- এর উদ্ভাবন করেন। তাঁর কবিতার নতুন প্রকরণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন 'অর্গানিক এন্টিমেটাথিসিস' (organic antimetathesis) যে ভাবনার ভেতর গঠনগত বৈপরীত্য,  বাক‍্যবিন‍্যাসের তুলনা এবং অর্থের অনির্দিষ্টতা-বোধের সমন্বয় ঘটেছে। তাঁর কবিতা যথার্থ অর্থেই পোস্টমডার্ন টেক্সট যাদের অর্থ সর্বদাই বহুকেন্দ্রিক ইশারা উৎসাহিত।

১.
সমন্বয়


দুইটি অস্তিত্বের মধ্যবর্তী সম্পর্ক:
 তাদের ভেতরে সেই শূন্যতার পিছলে পড়া

 জানালাগুলোর মধ্যে দিয়ে তুমি দেখো 
আত্মার শার্সিগুলোকে।

সব কিছু   সাধারণ  কঠিন হয়ে ওঠে।

২.
আমার হাড়গোড়গুলো আমার সমাধির স‍্যুপে

আমি সব চেয়ারেই বসি 
কারণ উপযুক্ত কোন জায়গা নেই
 শিল্পের জন্য 
যা প্রতিষ্ঠিত
২০০৮,২০১১ অথবা ২০১২তে;

শুকিয়ে ওঠা আমার জামা থেকে ঝরা  জলফোঁটা।

 সন্ত জেনেভিয়েভের সুর।

 আমার নির্মম মাথা হেফাজত হিসাবে মঞ্জুর
 আত্মার নির্দেশ দ্বারা।

 কী ভয়ানক অভিজ্ঞতা;

আমার হাড়গোড় স‍্যুপের ভেতর 
কবরের ভেতরের 
কাদা সহ।

৩.
বলেছিলাম যার প্রতীক আমরা 

বাক্যের শব্দটি
 যা সব কিছুর সমাধান কিছুর সমাধান 
আছে সেখানে

 যথেষ্ট অনভিপ্রেত 
যথেষ্ট সমাপ্তি হিসাবে 
যদিও সম্পূর্ণতায়
 সমন্বিত কিনা

 বিরক্তিতে 

ধ্বংস করে স্থৈর্য 
একদা বলা হতো
 যার প্রতীক আমরা।

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || একই বৃত্তে অন্য ক্ষেত্রফল ।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

একই বৃত্তে অন্য ক্ষেত্রফল । সমরেন্দ্র রায় । সমিধ । দশ টাকা ।

বড় স্পষ্ট কথা যখন দ্বর্থহীন ভাষায় কোন কবির কবিতার ভেতরে সন্ঞ্চারিত হয়,  তখন সে কবিতার রূপ তা বদলে দিতে পারে ও কবিতাকে প্রবাহিত করতে সাহায্য করে । কবি সমরেন্দ্র রায়ের ২০০৭সালে প্রকাশিত কাব্য পুস্তিকা ' একই বৃত্তে অন্য ক্ষেত্রফল ' এ এরকম অনেক কবিতা পাই যা ওপরের কথাকে সমর্থন করবে: ' নদী যেমন ভূমি চাটে তেমনি আগুন খায়/  শুধু মানুষ মানুষ খায় না,  রক্ত চোষে । ' ( এগারই সেপ্টেম্বর)  , ' যদিও স্মারকস্তম্ভ আনন্দ-  খোরাক তৈরী করে/  অথবা অজান্তেই বেড়ে ওঠে/  নাগরিক খোলস ।' (  ' অগোচরে অল্পকথা ') ।
             সমরেন্দ্রের কবিতার  স্বাদ-গন্ধ  তেমন ঝাঁঝালো না হলেও তাঁর কবিতা কিন্তু সম্পূর্ণ নিম্নগ্রামের নয় । মাঝেমধ্যে তিনি জ্বলে ওঠেন সামাজিক ব্যবস্থা,  দুর্দশা ও অপছন্দের বিষয়গুলো সামনে দাঁড় করিয়ে, যেমন:  ' কবে খসেছিল ও দুটি কবিতা পা ; কলকাতা হেঁটেছিল?  / যেমন এখন হাঁটে অভুক্ত কঙ্কাল,  /  জনান্তিকে বেড়ে ওঠা খরস্রোত । ' ( ' স্খলন ') ভালো বাসিয়ে ছাড়ে ।
             কবির কবিতায় কানে বাজে ' কেননা ' শব্দটি। যা কাব্য পুস্তিকায় দুটি কবিতায় বিসদৃশ ভাবে আছে । পাশাপাশি কখনো কখনো অতিকথার কিছু ঝোঁক লক্ষ্য করা গেছে । কিন্তু তা সত্বেও প্রায় কবিতায়  গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার নির্বাচিত বিষয় । যাকে ঘিরে গড়ে  উঠেছে আপাত সফল এই পুস্তিকায়:  ' সাবলীল আমাদের খড়কুটো,  হাড়গিলে বৌ-  / বাঁচার তাগিদেই বাঁচে- জিরাফের মতো মরে ।' ( ' মৃত্যু ') তার প্রমাণ ।  স্বরূপেন্দ্র দাসের অপাংক্তেয় প্রচ্ছদচিত্রের বদলে প্রচ্ছদ চিত্রহীন থাকলে আনন্দ পেতাম ।

আটপৌরে কবিতা ৬৭১-৬৭৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৬৭১

বাজার/  খিটিমিটি / স্থূলতা
     ) সাংসারিক  (
কি এক অপ্রতিরোধ্য প্রক্রিয়া !

৬৭২

চ্যালেঞ্জ/  বিদ্রোহ / প্রতিবাদ
       ) অস্বীকার  (
করার মানুষ আলাদা ধাতুর ।

৬৭৩

দ্রুত/  উৎসাহী/ প্রাণবন্ত
      ) চটপটে  (
মানুষ জীবন বয়ে আনে ।

৬৭৪

সাফল্য/  শ্রম/  প্রগতি
     ) উন্নতি  (
মানুষের সর্ব প্রধান চাহিদা ।

৬৭৫

বোধ/  আন্তরিক/  শুভার্থী
       ) শুভেচ্ছা  (
জানালে তবেই তো আনন্দ!

শব্দকবিতা || স্বরূপ মুখার্জ্জী || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা



শব্দকবিতা
© 
স্বরূপ মুখার্জ্জী




শব্দ'৭ || ৭ শব্দের কবিতা
মানুষ আজও মৃত্যুর চারিদিকে অসহায়ভাবে ঘুরে বেড়ায়~


শব্দ'৬ || ৬শব্দের কবিতা

পৃথিবীতে শবেরা এখন নিস্তব্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়~


শব্দ'৫ || ৫ শব্দের কবিতা

~
শব্দের ধারণ ক্ষমতায় অসাধারণত্ব আছে~


শব্দ'৪ | ৪শব্দের কবিতা

~
পৃথিবী চিরকাল,কবিতা চিরকালীন~


শব্দ'৩ || ৩শব্দের কবিতা

~
অভিজ্ঞতা অন্তহীনতার প্রতীক ~


শব্দ'২ || ২শব্দের কবিতা

~
নিঃসঙ্গতা একাকীত্বতা~


শব্দ'১ || ১শব্দের কবিতা

~
মর্মান্তিক~

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১১৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৪.
' ঠিক এসময় অলিখিতভাবেই এর ভার গ্রহণ করেছেন কবিতাপাক্ষিক । না , তার পত্রিকা বলেই তার গুণগান নয়। এ যেন শুক্ল আর কৃষ্ণপক্ষের মতোই সত্যি। একদম নিয়মিত বললে মিথ্যে বলা হবে , মাঝে মধ্যেই ' বুকস ' থেকে টেনে আনি। রাখি নিজের সংগ্রহশালায়। কবিতায় নিমগ্ন কবিতাপাক্ষিককে।পড়ি। ভালোবাসি। নিন্দুকেরা অনেক কিছু বলেন। না, যাদের ' নেই কাজ তো খই ভাজ ' তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। কষ্ট হয়। প্রশ্ন আসে। হাজারো। ওরা কেন কবিতাকে কাছে টানলে এমন করে তবে ভয় পাওয়া তো দূরের কথা , পাত্তাই দিই না। চলি নিজের মতো । কবিতার সাথে। কারণ আমি যে অঙ্গীকারবদ্ধ তারই কাছে , নিভৃতে, একান্তে। '
কবিতাপাক্ষিক সম্পর্কিত এই সার্টিফিকেটটি আমার নয়। এটি রিমি দে-র লেখা। প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ২৫০ -এ। ওই সংখ্যাটির শিরোনাম ছিল ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক '।
রিমি দে শিলিগুড়ি থেকে উঠে আসা বাংলাভাষার কবি।
রিমি দে আমাদের একান্ত আপনজন। ও যখনই কলকাতায় আসত , আগে থেকে খবর দিয়ে আসত। উঠত কিছুটা ভালো হোটেলে। মনে আছে আমার তরুণ বন্ধু সুমিতেশ সরকারের সঙ্গে ওর সঙ্গে আড্ডা দিতে গেছি। পরের দিকে একাও গেছি।
আমি ওকে যতটা চিনেছি , ও কবিতা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। শিলিগুড়িতে যখন ওদের নতুন বাড়ি হল , তখন সে বাড়িও দেখে এসেছি।
রিমি খুব রুচিশীল একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতে শুরু করে কিছুদিন পরে। পদ্য । পত্রিকাটির নাম। পদ্য এখনো একই রকম পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। এবং কবিতাপাঠকের সমর্থন আদায় করে নিয়েছে।
২০০৪ - এর ২৪ -২৫ জুলাই সমবায়ীপ্রথায় ১৭ জন কবি ১০০টি  কবিতা লিখেছিলেন, যার নাম ' মাদলে লেখা কবিতা '। এই ১৭ জনের একজন রিমি দে।
কবিতাপাক্ষিক ২৫৮- এর ' মাঝের পাতা ' কবি ছিল
রিমি দে। ওই পাতাটির অলংকরণ করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী অমিতাভ সেনগুপ্ত।
কবিতাটির নাম : ছায়ান্তর। ৬ পর্বের কবিতা। পঙ্ ক্তি বিন্যাস -রান অন। বা টানা গদ্যে লেখা। পড়া যাক কিছু কিছু :
১॥ তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো এক অপরিচ্ছন্ন ভোর এসে ছুঁয়ে গেল দুর্বলতর রেলস্টেশন ,
২॥ বিকৃতির একটা বিয়োগান্তক রূপ আছে , ঠিক যেমন ২+ ২ = ৪ , আলো যুক্ত হচ্ছে , বাতাস যুক্ত হচ্ছে , টেরাকোটায় সমৃদ্ধ শিল্প।
৩॥ স্তরে স্তরে বিন্যস্ত হতে হতে অসুখেরা এগিয়ে যাচ্ছে শুকনো ডালপালার দিকে ...
৪॥ একটা নীলাভ অঞ্চল তেড়ে আসছে।বুকে বর্ষার বলিরেখা । শিরা ঊপশিরায় গজিয়েছে আঞ্চলিক গান।
৫॥ বিষণ্ণ বৃষ্টিপতনের শব্দে মাছেরা জেগে উঠে ডিঙিতেই ছুটে আসে।
৬॥ ঘনীভবনে যে যন্ত্রপাতিগুলো কাজ করজে তির অন্তহীন ক্রিয়াকলাপের শত্রুরা আজ এই মুহূর্তে ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে।

' কবিতায় মগ্নতা ' একটি অন্যতম প্রধান নির্ণেয়ক , এ কথাটা আমি বলতেই পারি। গলা উঁচু করে বলতে পারি। আরো সহজ -সুন্দর করে বলতে পারি রিমি দে-র কবিতায় যে মগ্নতা দ্যাখা যায় , তাও খুব দুর্লভ , একথাটাও গলা উঁচু করেই বলতে পারি।

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...