Saturday, August 8, 2020

আজকের সূচি~

আজকের সূচি~

সবাই মিলে , সিনেমা হলে ~৮ || কান্তিরঞ্জন দে || পাড়ায় পাড়ায় পথসিনেমা ।।

সবাই মিলে , সিনেমা হলে ~৮
কান্তিরঞ্জন দে
           

 পাড়ায় পাড়ায় পথসিনেমা ।।

    অন্যপ্রসঙ্গে যাবার আগে সিনেমা দেখানো নিয়ে অত্যন্ত জরুরী আরও দু-চারকথা বলে নিই ।
      বর্তমানে সিনেমা দেখা ও দেখানোর ব্যবস্থা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে গেছে বলে , মাধ্যম হিসেবে সিনেমার শক্তি কিন্তু বিন্দুমাত্র কমে নি । উল্টে বেড়েছে ‌। এ যেন , "পঞ্চশরে  দগ্ধ করে , করেছ এ কি সন্ন্যাসী ? / বিশ্বময় দিয়েছ তারে ছড়ায়ে ।" ব্যাপারটা খুলে বলি -----
       সিনেমা তৈরির উপকরণ কিন্তু এখন আক্ষরিক অর্থে আমাদের হাতের মুঠোয় । ক্যামেরা আমাদের হাতের মুঠোয় । সিনেমা সম্পাদনা-র সফ্টওয়্যার এখন ঘরে ঘরে টেবিলে টেবিলে , ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ কম্পিউটারে । নতুন প্রজন্মের সিনেমা তৈরি করিয়ে ছেলেমেয়েরা কিন্তু এর সুযোগ নিতে পারেন । ছোট ছোট ছবি করছেনও অনেকেই । লিটিল ম্যাগাজিন বার করা , কিংবা গানের দল ( ব্যাণ্ড ) খুলে ফেলার মতো , সিনেমা তৈরির দলগত কিংবা একক সুযোগ এখন অত্যন্ত সুলভ ।

       কিন্তু সেগুলো পরিবেশন করবেন কোথায় ? দেখাবেন কিভাবে ? সবাইকে কি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পেছনে দৌড়বেন ? সে দৌড়ন । কিন্তু তার পাশাপাশি আরও একটি চমৎকার  উপায়  আছে।

     চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত থিয়েটার ছিল উত্তর কলকাতার স্টার , বিশ্বরূপা ( শ্রীরঙ্গম ) , কিংবা মিনার্ভা সহ অন্যান্য বাণিজ্যিক মঞ্চের হাতে বন্দি । গণনাট্য প্রযোজিত " নবান্ন " এসে থিয়েটারকে সেই বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছিল । কলকাতা মঞ্চের পাশাপাশি নবান্ন গ্রামে গঞ্জে মাঠে ঘাটে প্রচুর অভিনীত হয়েছিল ।
       প্রথমে গণনাট্য এবং পরে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের হাত ধরে নাটক ব্যাপারটা ক্রমশ জেলায় জেলায়, গ্রামে গ্রামে , পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে । বাণিজ্যিক মঞ্চে কম সে কম তিন-চার ঘন্টাব্যাপী নাটক সংক্ষিপ্ত হতে হতে একদিন মন্মথ রায়-এর হাত ধ‍রে একাঙ্ক নাটকে রূপান্তরিত হয় । দুই বাংলাতেই একাঙ্ক নাটক বিষয়ে ও উপস্থাপনায় বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ।
     তারই হাত ধরে আসে , পথনাটিকা বা স্ট্রিট থিয়েটার । উৎপল দত্তের মতো জনপ্রিয় নাট্যকার-পরিচালক- অভিনেতা পর্যন্ত অসংখ্য মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি প্রায় পঞ্চাশটি পথনাটিকা লেখেন এবং পাড়ায় অভিনয় করে বেড়ান ।
    সত্তর দশকের গোড়ায় বাদল সরকার তো পথনাটিকাকে একটি আন্দোলনেরই চেহারায় পৌঁছে দেন। তাঁর দলের নাম ছিল --- শতাব্দী । আর , আন্দোলনটির নাম ছিল --- থার্ড থিয়েটার মুভমেন্ট ।
     বাদলবাবু তাঁর দলের সদস্যদের নিয়ে  কলকাতার বিভিন্ন পার্কে , বিভিন্ন কলেজের উঠোনে , মহাবোধি  সোসাইটি-র দোতলার হলঘরে  কিংবা স্রেফ বিভিন্ন  গ্রামে গঞ্জে শহরের পাড়ায় পাড়ায়, পথের মোড়ে তাঁর পথনাটিকা গুলোর অভিনয় করে বেড়াতেন । অভিনয় শেষে দর্শকদের সামনে গামছা অথবা চাদর মেলে ধরতেন।
      দর্শনী যা সংগ্রহ হতো , তাই দিয়ে সেদিনের প্রদর্শনীর খরচ উঠে যেত।
অথচ, বাদল সরকার পেশায় ছিলেন অত্যন্ত সফল একজন টাউন প্ল্যানার- ইঞ্জিনিয়ার । তাঁর লেখা নাটক   শম্ভু মিত্রের ' বহুরূপী 'নাট্যদল ছাড়াও , পশ্চিমবাংলা , সারা ভারত এবং বাংলাদেশের অস‌ংখ্য নাট্যদল দীর্ঘকাল মঞ্চস্থ করেছে ।
     বাদল সরকার প্রবর্তিত পথনাটিকা বা স্ট্রিট থিয়েটার আজও জোরদার প্রতিবাদী আন্দোলনের একটি পথ ।

        সময় সমাজ  এখন অনেক বদলে গেছে । কিন্তু , মনের কথা , সমাজের কথা বলবার প্রয়োজন তো ফুরোয় নি । কোনওদিন কি ফুরোয় ?

      তাই ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর সহজলভ্য সিনেমা তৈরি এবং প্রদর্শনের এই সুযোগে নতুন যুগের ছেলেমেয়েদের নেওয়া উচিত । গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক - রাজনৈতিক বিষয়ে ছোট ছোট গল্প তৈরি করে কাহিনীচিত্র এবং নানা বিষয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করবার সম্ভাবনা এখন বিপুল ।
     জেলায় জেলায় , পাড়ায় পাড়ায় এ রকম গ্রুপও অনেক তৈরি হয়েছে/ হচ্ছে বলে , খবর পাই । যেমন ----- কলকাতার পিপলস্ ফিল্ম কালেক্টিভ কিংবা হিন্দমোটর- উত্তরপাড়ার ' জীবনস্মৃতি ' সংগঠন ।

      পথ সিনেমা বানাবার নতুন পথ খুলে গেছে । নতুন  প্রজন্ম কি তার সুযোগ নেবেন ?

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || এখন যা কিছু শর্ত

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

এখন যা কিছু শর্ত । অসীমকুমার বসু । দি সী বুক এজেন্সি । একশো টাকা ।

দীর্ঘদিনের কবিতাচর্চী অসীমকুমার বসুর বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ পড়া থাকার জন্য তাঁকে নিয়ে একটা ধারণা ভেতরে ভেতরে তৈরি হয় । বর্তমান কাব্যগ্রন্থ ' এখন যা কিছু শর্ত ' সেই ধারনা পোক্ত করে যে তিনি সব সময়ের জন্য একজন ভালো কবিতাকার । কারণ সেখানে পাওয়া যায়  : ' আমি একে একে খুলে রাখছি যাবতীয় অহঙ্কার/  নির্জন উপত্যকায়এই রাত্রে / মধুর বেদনায় ধীরে ধীরে আত্মসমর্পণ নেমে আসে । ( ' নির্জন উপত্যকায় রাত্রি)  -র মতো অসাধারণ  পংক্তি । তাঁর  কবিতা পড়ার জন্য যে মুহূর্তগুলো খরচা হয়ে যাচ্ছে , সেগুলো যে ভালো মুহূর্ত তা বুঝতে পারি কবির কবিতার প্রকরণ,  বিষয়ের প্রতি অসাধারণ মনোযোগ,  শব্দচয়নের আকর্ষণী ক্ষমতার জন্য । সে স্বাদ পাওয়া যায়:  ' এত ভুল প্রতিশ্রুতি এত বিভক্ত বাতাস/  তবু বারবার এই ছলনাময়ী ঝরোকার নীচে এসে দাঁড়াই। ' ( ঝরোকা ' ) পংক্তির সামনে দাঁড়ালে ।
         কবির ভেতরের সুচারু কবিতাযাপনের প্রশংসনীয় দিক  ' দশজন অনিমেষ ' কবিতার  এই সুন্দর পংক্তির ভেতর দিয়ে ছুটে আসে  : ' আমার চেনা অনিমেষের সঙ্গে/  কিন্তু ততক্ষণে সেই অনিমেষ/  মিলিয়ে গেছে ভীড়ের মধ্যে । /  সুতরাং আবার অপেক্ষা/  কবে আবার দেখা হয়ে যাবে/  চেনা অনিমেষের সঙ্গে ' তে।
          কবিকে যতই পড়ি তত ছুটে আসে ভেতরের গভীর দিক । ছুঁয়ে থাকে আলগোছে চেতনায়,  যার স্পর্শ ছেড়ে থাকতে ইচ্ছে করে না ।

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ৯৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৯৬.
' এমন অনেককে আমি জানি , যারা তাদের স্বপ্নগুলোকে থাকে থাকে সাজিয়ে রাখতে ভালোবাসে ।ঠিক যেমন বই-এর থাকে বই , কাপড়ের থাকে কাপড়।তাদের এই সাজিয়ে রাখার একটা রিদম্ আছে '।
কবিতাটি প্রলয় মুখোপাধ্যায় -এর। বেলিয়াতোড় চ্যাপ্টারের কবি। নয়ের দশকের কবি। বাংলাভাষার কবি।
কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৪৮ -এ।প্রকাশ তারিখ : ২২ এপ্রিল , ১৯৯৫ ।
আজ ০৭ অগাস্ট ,২০২০ ।
মধ্যবর্তী ব্যাবধান ২৫ বছরের অধিক। 
মান্যবর পাঠক , ২৫ বছর পর্যন্ত একটি কবিতা যেভাবে বেঁচে থাকে , তা দ্যাখার জন্য যেকোনো চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। চশমার কাচের রঙের ওপর নির্ভরশীল নয় কোনো প্রকৃত কবিতা। আমি কি কবিতার সঙ্গে প্রকৃত-কবিতার কোনো বিভাজন ঘটাতে চাইছি।  না , তা চাইছি না। তবে একটা বিভাজন তো চাইছি। রক্ষণশীল কবিতা থেকে আপডেটেড কবিতাকে আলাদা করতে চাইছি।
আমি আরো কয়েক পা এগিয়ে যেতে চাইছি।গিয়ে যে কবিতার মুক্তাঞ্চলের দ্যাখা পাবো , সেখানে প্রলয় মুখোপাধ্যায় -এর লিখে যাওয়া কবিতার রত্নাবলির যে সন্ধান পাবো , তার গুটিকয় চিহ্ন উপস্থাপিত করছি আপনাদের জন্য। আপনারাই বিচার করে দেখুন রত্নগুলি ঝুটা না আসল !
১॥ আমাদের চোখময় আরশোলামূলক বাদামি
    আভা আর নিশানা বৃষ্টিভেজা অল্পবয়সী
     বটগাছ।
২॥ আমার প্রত্যেকটি দাঁত নিলাম হয়ে যায়
৩॥  একটি কাপুরুষ হাসপাতালের
      নিষ্প্রাণ বিছানায় শুয়ে বেঁচে থাকার
       স্বপ্ন দেখছে একুশটি সদ্যজাত শিশু
এত দূর থেকে প্রলয় কি দেখতে পেয়েছিল মৃত্যুকে। আমি জানি না।
আমিও এত দূর থেকে সবটা দেখতে পাচ্ছি না। ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই সুব্রত চেল-কে ফোন করতে হচ্ছে।
[07/08, 11:38 am] Kobi Prabhat Chowdhury: ৯৬॥ শেষাংশ

কবিতাপাক্ষিক ৮৯ - এ প্রকাশিত হয়েছিল পরম শ্রদ্ধেয় কবি অরুণ মিত্র - ' ওড়াউড়িতে নয় ' কবিতাটি।আর ওই সংখ্যাতেই ছিল প্রলয়-এর ' অসুস্থ আত্মকথন ' তিন পর্বের নাতিদীর্ঘ কবিতাটি।
অসুস্থ আত্মকথন -কে কীভাবে বিভাজন করবো।
১॥ যে আত্মকথনটি অসুস্থ
নাকি
২॥ অসুস্থজনের আত্মকথন
যেভাবে ব্যাসবাক্য নির্ণয় করি না কেন , তা করার জন্য কবিতাটির কাছে যেতেই হবে। কবিতা কোন দিকে নির্দেশ দিচ্ছে তা দ্যাখা যাক :
১॥ চুরি করে রাখা কিছুটা সকালের
      রোদ উপচে পরতেই
       কারা যেন ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে
       পড়ল তোমার চারপাশে।
২॥ আসলে জলরঙের একটা দিন ছিল আমার
     চুরি গেছে আর তার ওপরে লেখা ছিল
     আমার প্রথম প্রেমিকার সমস্ত
     কথোপকথনের কোরিওগ্রাফ।
৩॥ খুব সঙ্গত কারণেই আমাদের একদিন
      ফিরে আসতে হয় ব্যক্তিগত আবেশের
       তৈরি সূচিছিদ্র সুড়ঙ্গে
এই তিনটি উদ্ধৃতি থেকে কি জানতে পারলাম
আত্মকথনটি অসুস্থ না এটি অসুস্থজনের আত্মকথন।
জানাটা কি সত্যসত্যই একটি সিলেবাসের সঙ্গে যুক্ত !
সবকিছুর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। পেতেই হবে এমন নির্দেশনামাও কোথাও ছাপা নেই।
,কপা ১১২ -তে ছিল  ' এই প্রজন্মের কবিতা ' , যার কথা গতকালের লেখাতে ছিল।ওই সংখ্যায় প্রলয়- এর ' হরিণডাঙা ' শিরোনামে ১১ পর্বের একটি দীর্ঘ কবিতা স্থান পেয়েছিল। এথেকে বলা যায় কবিতাপাক্ষিক প্রলয় মুখোপাধ্যায়-কে নতুন প্রজন্মের কবি হিসেবে সর্বান্তকরণে গ্রহণ করেছিল।
এখন ' হরিণডাঙা 'য় কী আছে তা অনুসন্ধান করে দ্যাখা যাক।
১॥ মাটি জানে তার অলসতার আড়াইশো কিমি
২॥ পাপের কথা আজ থেকে যাক
     রাশিফল থেকে সরেপড়ার প্রাকমুহূর্তে
৩॥  অনেক দূরে ট্রেনবাড়িটির শব্দে
৪॥ পৃথিবী মানেই হরিণডাঙা
৫॥ ওপারে যে নদী এপারে তার ভাসাবারান্দা
৬॥ আমার নদী আজ থেকে পৃথিবীর সবার হল
     তোমাদের সব আকাশ আজ থেকে আমি একা নিলাম / আজ থেকে শুধু হরিণডাঙাকে পিছিয়ে ফেলা
প্রলয় মুখোপাধ্যায় হরিণডাঙাকে পিছনে ফেলে কোথায় যে চলে গেল , জানি না। জানি যেখানে গেছে সেখান থেকে ফিরে আসার কোনো ফেরিসার্ভিস
নেই।

কবিতা:_ || --একা আমি || দুর্গাদাস মিদ্যা

কবিতা:_

--একা আমি
দুর্গাদাস মিদ্যা



কী ভীষণ আচ্ছন্ন থেকেছি এতকাল বহুতল বাড়িটির মতো কত নির্ঘুম রাত কেটেছে আমার। বিক্ষুব্ধ সংসার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে ঝালাপালা হল আমার এই নাবিক জীবন।মোহগ্রস্ত এই জীবন যেন চিরবল্কল জড়িয়েছে সারা গায়। যতবার বাড়িয়েছিল হাত ততবার ভেঙে ভেঙে পড়েছে স্বপ্ন আমার। পরিত্যক্ত নৌকার মতন গে

আটপৌরে কবিতা ৫৮৬-৫৯০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৫৮৬

খাদ্য/  বস্ত্র/  বাসস্থান
    ) অধিকার  (
কবে হবে বোঝা ভার !

৫৮৭

ধর্ম/  সংস্কার/  পূজা
      ) বিশ্বাস  (
তর্কের বাইরে মানুষ আনন্দে!

৫৮৮

কাগজ/ ফাইল/ সাক্ষী
     ) প্রমাণ  (
বিচারের ফল ঠিক করে ।

৫৮৯

রাহাজানি/  গুন্ডামি/  ডাকাতি
     ) ধারা(
জুড়ে যায় কর্মের সঙ্গে।

৫৯০

বাদী/ বিবাদী/ পুলিশ
     )  পক্ষ  (
গড়ে ওঠে বিচার পথ ।

শেষ শিক্ষা || দেবাশিষ সরখেল || গল্প

শেষ শিক্ষা
দেবাশিষ সরখেল


অসিতকৃষ্ণের জাবতীয় দুর্বলতা ছেলের প্রতি। দু’দুটো সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এই মানিকচাঁদ। তাই সাধারণভাবে বাবারা ছেলের আব্দার মেটাতে মোবাইল, দুধ, ফল ইত্যাদি সরবরাহ করেন। অসিতকৃষ্ণ প্রয়োজনে মদের বোতল জোগান দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। তবু বেঁচে থাক, আনন্দে থাক। অসিতকৃষ্ণ নিজেও জানেন, তিনি ভালো নন, পথভ্রষ্ট। একজন কনফিউজড পার্সন।
ছেলে বলে বাবা তুমি তাড়ি, বাশি, রাম, হেইড়্যা, মহুল্যা, ঘাড় সরু কিছু বাদ দাও না, আর আমার বেলা শুধু ওয়াইন। মুখ পঁচে গেল।
কথায় বলে, ১৮ বছর পার হলে বাবা ছেলে ইয়ার দোস্ত। তারা এক টেবিলে বসে খায়।
পরে তাম্বুল সেবনে আর পানদোষ থাকে না।
একদা গলা পর্যন্ত গিলে ঠ্যাঙ, হাত, বাক্যবাণ কিছুই আর নিজের বশে নেই। ছেলে বায়না ধরে বার-এ বসে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। আজ বারে যাই চলো।
-জনসমক্ষে?
নেশা এ্যাতোখানি চড়ে গেল যে সে ভেউ ভেউ করে কাঁদে। - শখের লাগিয়া যে ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
ছেলে টলতে টলতে বলে, তাহলে তুমি যাবে না ?
জেনে রেখো, মদ আমি খাই না, মদ আমাকে খায়।
ছেলে বোতল ছুঁড়ে মারে, নিশানা অব্যর্থ।
রক্তাক্ত অসিতকৃষ্ণ মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকে এবং দাড়িবাবার কবিতা মনে পড়ে যায়। রাত দুপুরে আবৃত্তি জুড়ে দ্যায়-
            এ্যাতোদিন হোল তোর বোধ
              অন্যায়ের কি করিয়া লয় প্রতিশোধ।
            শেষ শিক্ষা দিয়ে গেনু আজি শেষবার
              আশীর্বাদ করি তোরে হে পুত্র আমার।
এখানে নায়ক চতুরঙ্গ বল নয়, একটি সুরম্য মদের বোতল।

দেবাশিষ সরখেল
রঘুনাথপুর
পুরুলিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), সূচক – ৭২৩১৩৩
ফোন – ৯৯৩২৬৬৭৮৮১

Friday, August 7, 2020

আজকের সূচি~

আজকের সূচি~


পূরবী~ ২৪ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ২৪
অভিজিৎ চৌধুরী



একদিন ভৃত্যের দল চারিদিকে খড়ির গণ্ডি এঁকে দিয়ে চলে যেত।সেই গণ্ডিতে বসেও এক বালক বাইরের উদার পৃথিবীর কল্পনাকরত।হয়তো সেই পৃথিবীর দুর্মর কল্পনাই তাঁর ধর্ম,সাধনা।
তীর্থের আমাদের অনেকেরই তাই।আমরা তো চাই ভালোবাসার খেলাঘরে বসবাস করতে।সেখানে আবার অনেক অভিভাবকত্ব।সংসারের হাজার বাধা।কথা বলায় লেখায় সেন্সার।
দুপুরবেলার জাজিমপাতা ঘরে যে ছবি আঁকার শুরু সে যে শেষবেলায় তাঁকে পটুয়া করে ছাড়বে - কে জানত!
এক প্রভাতে যখন মায়ের মৃত্যুর কথা জানতে পেরেছিলেন,তখনও টের পাননি মৃত্যু কতো ভয়ংকর।কতো প্রদাহ তাঁকে জীবনভর অতিক্রম করতে হবে।
সেদিন ছিল এক কনিষ্ঠা বধূ যিনি বালকের ভার নিয়েছিলেন।চিরকালই তিনি পৃথিবীর ভার তেমন একটা অনুভব করেননি।চব্বিশ বছরে এক মৃত্যুর সঙ্গে পরিচয় হল।সে বড় ভয়ংকর।তারপর থেকে মমত্যু আর জীবন বিচ্ছেদের মালা দীর্ঘ করে চলেছে।
মায়ের মৃত্যু শোকের নতুন অর্থ নির্মাণ করল।স্তাবকেরা আসে যায়।বন্ধু নেই,সখা নেই।উৎসবে আলো জ্বলে কিন্তু হৃদয়ের প্রদোষে অন্ধকার আর অন্ধকার।
তীর্থের ঠাকুরমার মৃত্যুতে বাড়িতে হালুইকরের পাঠ চুকলো।এলো ক্যাটারিং।অনেক কান্নাকাটির মধ্যেও নব্বই উত্তীর্ণা বিধবার মৃত্যু নতুন জীবনের জয়গান গাইল।কিন্তু বাবা যখন মারা গেলেন ব্যস্ত পৃথিবী যেন গ্রাস করল তীর্থকে।কে যেন নেই।পুলিশের টিয়ার গ্যাসে চোখে জল আসা বালকের চির সহায় হারিয়ে গেল চিরতরে।
তবুও কি জীবন থেমে রইল! সে কখনও বিবেকানন্দের মতোন ভেবেছে ভগবানই সত্য।তখন রবীন্দ্রনাথ এসেছেন,মুচকি হেসেছেন।বলেছেন- তাই"
ঠাকুর বললেন,লরেন,রাখালের বিশ্বাস ভাঙলি কেন! তুই বড় অবাধ্য। নরেন রাখালকে বলছেন,তুমি কিন্তু কেশব সেনকে বলেছিলে,পুতুলে তোমার বিশ্বাস নেই।কথা দিয়েছিলে।
কোন ভগবান- নিরাকার না সাকার!
 গিরীশ বললেন,মন খারাপ কেন! নরেন আসছে না বলে! ঝগড়া করেছেন।
সে বড় বিশ্বেস নষ্ট করে।আমি বললুম,তুই আর আসিস নাকো"
আবার ডাকতে হবে!
লাজুক মুখে ঠাকুর বললেন,হ্যাঁ- গা গিরীশ, সে আসবে!

আটপৌরে কবিতা ৫৮১-৫৮৬ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৫৮১

খসরু/  গালিব/  খৈয়াম
     ) শায়েরি  (
আকুল হইল মোর প্রাণ ।

৫৮২

প্রাসাদ/  বৈভব/  উজ্জ্বল
        ) রাজকীয়  (
পূর্ণ হয় পার্থিব প্রাণ ।

৫৮৩

মাননীয়/  পুজ্য/ প্রণম্য
     ) প্রাতঃস্মরণীয়  (
অবিরাম তাদের এই প্রাপ্তি ।

৫৮৪

সাহির/  হসরত/  মজরুহ
      ) গীতিকার  (
জড়িয়ে আছে শ্রোতাদের মনে ।

৫৮৫

শচীন/ রাহুল/ নৌশাদ
   ) সুরকার  (
দাও গো  সুরের দীক্ষা ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৯৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৯৫.
টিম বেলিয়াতোড়ের  সেই সময়ের নবীন প্রজন্মের কবিদের কবিতার কথা বলার কথা। ভুলে যাইনি সেকথা। এখন প্রাসঙ্গিক একটি কথা বলে রাখতে চাইছি। সেই প্রাসঙ্গিক কথাটি হল কবিতাপাক্ষিক ১১২ সংখ্যার কথা।
এই প্রথম ' এই প্রজন্মের কবিতা ' মলাটনামে প্রকাশিত হয়েছিল মোট ১১ জন নবীনের কবিতা।ওই সময় প্রতিদিন আমি পাতিরাম -এ যেতাম সন্ধের সময়। সঙ্গে একটি প্রশ্ন নিয়ে যেতাম : এই সংখ্যার বিক্রি ঠিক আছে তো । তাপস  আশ্বস্ত করত প্রতিদিন। আমার পরিকল্পনা সার্থক। পত্রিকা বিক্রির জন্য নবীন প্রজন্মের কবিরাই যথেষ্ট। নামী-দামিদের অহেতুক গুরুত্ব দিতে যাবো কেন !
এবার কপা ১১২ সংখ্যার ১১ জনের নাম ঘোষণা করছি :
অংশুমান কর জয়দীপ চক্রবর্তী নয়ন রায় প্রলয় মুখোপাধ্যায় ভূদেব কর মানসকুমার চিনি রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় সব্যসাচী ভৌমিক সুদীপ বসু সুবীর সরকার এবং স্নেহাশিস সৈয়দ।
আমি ভরসা রেখেছিলাম এদের ওপর।আজকের আলোচ্য কবিদের মধ্যে নয়ন রায় এবং প্রলয় মুখোপাধ্যায়ের নামও ওই ১১ জনের মধ্যে ছিল।বলা বাহুল্য এই দুজনও আমাকে তৃপ্ত করেছিল।
নয়ন রায় - এর কবিতা এর আগে কবিতাপাক্ষিক ৩৯/ ৪৮/ ৯৩ / ১০০ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল কবিতাপাক্ষিক -এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠানেও নয়ন উপস্থিত ছিল  ।
এখন নয়ন রায় - এর কবিতার কাছে যাওয়া যাক।
 ১॥ তুমি যে ভাবেই হাঁটো পড়ে থাকে পথ
আর পথের ওপর মানুষ !
২॥ আবার নীললিপিগুলিই শুধু কবিতা নয়
৩॥ কথকতার কোনো অনুবাদই আজ মনে নেই
৪॥ অভিমানের পাথরগুলি লিপিগান লিখে রাখে।
৫॥ ছদ্মনামে সমস্ত / পাহাড় এবং বর্ণান্ধ আলো ---
    কুহকের মোমবাতি জ্বেলে দেয়।
৬॥ পালছেঁড়া নৌকোগুলি ডেকে আনে সাইবেরিয়ার
     পাখি ----
৭॥ লিরিকের দাবি নিয়ে বেঁচে আছে গাছ, গাছ আর
      মাংসের পদ্যগুলি ----
নয়ন রায় বিরচিত এই সাতটি উদ্ধৃতির মধ্যে কোনো আলোচক যদি এগুলির মধ্যে কোনো গ্রাম্যতা কিংবা মফস্ সলি গন্ধ বের করতে পারেন , আমি সম্পাদনা ছেড়ে দিয়ে সেই আলোচকের বাড়িতে বাসন মেজে দেবো তিনমাস।
আবার এই কবিতাগুলির মধ্যে গিমিক অনুপস্থিত। নাগরিক কবিদের মধ্যে যার ব্যবহারের কোনো সীমা- পরিসীমা নেই।
এই নয়ন রায় কিন্তু চেনে বীজতলা । জানে বীজ টানা। এবং কৃষিকাজের যাবতীয় কৃৎকৌশল। এসব জানার পরেরও লিখতে পারে :
অভিমানের পাথরগুলি লিপিগান লিখে রাখে।
অথচ রাঢ়ভূমির জনপ্রিয় কবির গ্রাম্যতা নির্ভর মোহগুলিকে সযত্নে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ।তথা বাংলাকবিতাকে গ্রাম্যতা থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছে।
এখন নয়নের কবিতাযাপনের কথা বলছি। নয়ন কবিতার হোলটাইমার। ওর ধ্যানে কবিতা।দানেও কবিতা। ও কবিতা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার মন্ত্র জানে না। জানে কবিতায় ডুবে থাকতে , ভেসে থাকতেও ।
নয়ন জয়দেবের মেলার আগে কপা দপ্তরে আসতো। উদ্দেশ্য কিছু বইপত্র নিয়ে যাওয়া।সেইসব ব্যাগে ভর্তি করে সে পৌঁছে যেত জয়দেবের মেলায়। সারারাত কবিতা পড়ত আর বিক্রি করত বইপত্র। এই নজির বাংলাকবিতায় খুঁজে পাবেন না।
আগামীকাল প্রলয়ের কথা।প্রলয় মুখোপাধ্যায়ের কথা ।

কবিতা || উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৩৭ || সোমনাথ বেনিয়া

কবিতা

উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৩৭ 
সোমনাথ বেনিয়া


এই হাড় ফিমার, আঘাত করবো নিজের মাথায়, ছপাং ঘিলু
রোদের ফোটন খুঁটে খাবে, ক‍্যালোরি নিয়ে দৌড়াবে জগৎ
ওই হাঁপানো জিভে লেগে থাক স্বাদের প্রয়োজনীয় ইতিকথা
ভীষণ সুন্দর ভেবে ছায়ার গায়ে হেলান দিয়ে স্বপ্ন বুনুক
কার কাছে চাইবো একহাত গর্ত, নির্জনতা ঢেলে ডোবা বানাবো
চুলের আণুবীক্ষণিক অংশ দেখা গেলে ধরবে এটুকুই সত‍্য
কেউ তেল নিয়ে ছুটবে বেলচার তলপেটে ব‍্যথার নিরাময়ে
তখন‌ই বুঝে নেওয়া আঙুলের ফোসকা ফুচকার জলছবি
সূর্য তেঁতুল দানার রঙ ধরে গা ডোবাবে ক্লোরিন মেশানো জলে
খাদ‍্যনালী যেন সুয়েজ খাল, গড়িয়ে নামছে চাহিদার মগ্ন তরল
কিছুটা ছটফট বাতাসে আধুনিক চিত্রকলার প্রায় ধরে ঘুমাবে
এই প্রদর্শশালায় দর্শক এসে খুঁজবে তার প্রিয় মাটির গন্ধ
প্রত‍্যেকেই খোলা মনের ঘর, পিছনের খিড়কি কার দোষে বন্ধ

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || স্বপ্নের আশ্রয়ে

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

স্বপ্নের আশ্রয়ে। নৃপেন চক্রবর্তী । নবার্ক । পনেরো টাকা ।

১৯৮৭ সালের লেখা কবিতার সঙ্গে  সেই কবির তুল্যমূল্য বিচার যেমন হাস্যকর,  কিন্তু তবু মনের ভেতর  সেই বিচার উঁকিঝুঁকি মারে ।কবি নৃপেন চক্রবর্তীর  '৮৭ র কাব্যগ্রন্থ ' স্বপ্নের আশ্রয়ে ' র ভেতরে যদি ঢোকা যায় ,  তবে বলা যেতে পারে আজকের নৃপেন চক্রবর্তী র কবিতা থেকে স্বাভাবিকভাবেই অনেক ফারাক । যা প্রশংসা নির্দেশ করে । উগ্রতা,  অহেতুক উচ্চগ্রাম কম কুশলী কবিতা ভরা এই আলোচিত কাব্যগ্রন্থটি । তবু বলতে পারি কবির মুক্তমনা দিক, কবিতা লেখার জন্য ব্যগ্রতা, স্বতস্ফূর্ততা আকর্ষণ করে ।
        এখানে ' অনন্ত আকাশ থেকে আর্তনাদ করে ওঠে চিল / ব্যাধের অব্যর্থ তীরে/  ছিঁড়ে যায় ঝরে যায় সোনালী পালক ' ( ' স্বপ্নের আশ্রয়ে ') যেমন পাই ' মিথ্যে কথা ধাপ্পাবাজি/ পরের ঘাড়ে দোষ/  কে করেছে কে করেছে/  ঐ তো নন্দ ঘোষ ' ( ' নন্দ ঘোষ ') এর মতো  অকবিতা ঢুকে পড়ে ।
          বলা যায় কবি নৃপেন চক্রবর্তী ধীরে সুস্থে কবিতাযাপন  করেছেন ও করছেন দীর্ঘদিন ধরে । তিনি আজ এই সময়ে এসে যে কবিতা লিখে চলেছেন তাকে দাম দিতে যে কোনো আলোচক বাধ্য হবেন । তাঁর কবিতা পত্র পত্রিকা ফেসবুক কাব্যগ্রন্থ ইত্যাদিতে পড়তে পড়তে বুঝতে পারি তিনি তাঁর ভেতরে  কবিতার  গভীর থেকে গভীরতর অসুখ বাঁধিয়ে বসে আছেন । প্রচ্ছদে দীপা চৌধুরীকে কালার কম্বিনেশন ও চিত্রের জন্য আদৌ গুরুত্ব দেওয়া যায় কিনা ভাববার বিষয়। কবিতার  বইয়ের প্রচ্ছদের মতো কঠিন দিক শিল্পীর জেনে করা উচিত ।

শব্দকবিতার আহ্বান...


মুহূর্ত কবিতা || মিশে যাচ্ছে আনাজখোসা || সৌমিত্র রায়

মুহূর্ত কবিতা || মিশে যাচ্ছে আনাজখোসা
সৌমিত্র রায়


মেদিনীপুর; ২০ শ্রাবণ ১৪২৭; রাত ১০টা ২৭; হাসি ; ফুটে উঠছে চরাচর জুড়ে ; শবাসনের গভীরে একটি নক্ষত্র ; জাগ্রত ; এই বিশ্রামকালে সে কোন্ আনন্দ তরঙ্গায়িত করছে ; প্লাস্টিক ঝুড়িতে থাকা আনাজখোসার হাসিতে ; একটা অনিন্দ্যসুন্দর অতীত তোমাকে নস্টালজিক করে তুলছে বারবার ; গোয়ালঘর ; গোবাদিপশু ; খুদ-কুঁড়োর সাথে মিশে যাচ্ছে আনাজখোসা ; ব্যালকনির সামান্য সবুজে মগ্ন চরাচর ; টিভির সংবাদে খুব একটা ব্যাতিব্যস্ত নয়; সুবোধ ব্যক্তিত্বের দৃঢ়চেতা রাম বলছেন, কিছু কী ঘটতে চলেছে ভারতভূমিতে; কবি বলছেন গোবাদি পশু, জীববৈচিত্র, সবার সমান ভূমিকা সৃষ্টিতে; স্রষ্টার আত্মবিস্তৃত সকল ক্ষেত্র সমান সমান পূজ্য; হাসি, হে পবিত্র হাসি, তারা কী পূজা চেয়েছেন চরাচরজুড়ে ! || শান্তি ||

Thursday, August 6, 2020

পূরবী~ ২৩ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ২৩
অভিজিৎ চৌধুরী



ঠাকুর গিরীশকে বললেন,থ্যেটারে লোকশিক্ষে হয়।আবার নটী বিনোদিনীকেও আশীর্বাদও করলেন।যা সেদিন বিদ্যাসাগর মশাইও পারেননি।
তিনি মোটেই কোন সংস্কারক ছিলেন না।সাবেকি একজন মানুষ।প্রথম দিকে তো কৈর্তব্য রাণীর প্রসাদ খেতেও দ্বিধায় ছিলেন।
 অথচ তিনি যখন বলেন,যতো মত,তত পথ।তীর্থ এখনও চমকে ওঠে।কোন তত্ত্ব নেই।এই সৃজনবেধ জীবন থেকে পাওয়া।
আর একটি ভাবার মতোন দিক হল যে  সকলের মধ্যে মাতৃভাব দেখা।সাবেকি কিন্তু সন্মাননায় তিনি নারীকে দেবী বলেই জানেন।
এসব টানাপোড়েন জীবনের অঙ্গ।গৌতম বুদ্ধ কি বিভ্রান্ত হননি! হয়েছেন।তথাগতের খোলস তাঁকে অবোধ্য করে তুলেছে।
এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ হিংসাত্মক আন্দোলন মেনে নেননি।আবার গান্ধীর চরকা বিশ্বাস করতেন না।ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে তাঁকে প্রথমে পাওয়া যায়নি।
পশুবলির  নরেন্দ্রনাথের ঝোঁক ছিল বেশী কারণ বিবেকানন্দের খাওয়া দাওয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল না।দীর্ঘ অনাহারের পর তিনি প্রচুর খেয়ে নিতেন।রবীন্দ্রনাথ কি পরিমিত আহার করতেন! তাও নয় কিন্তু।তবে যতো জীবন এগিয়েছে নিরাকার ব্রহ্মলোক তাঁর সমীপবর্তী হয়েছে।
 রবীন্দ্রনাথ বললেন নবীনচন্দ্র সেনকে তখন তিনি তরুণ,আমার পরিবারের অনেকের মতোন আমার পৌত্তলিকতা নিয়ে গোঁড়ামি নেই।ফলে গান বাঁধতে দোষ নেই।কিশোর কবি দস্যুদের গানে কিন্তু কালী কালী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।তবে বলি তিনি সমর্থন করেননি কখনও।বিসর্জনের জয়সিংহ ঘরের কোণায় পর্দা টাঙিয়ে বহুবার সেজেছে তীর্থ।
 না,আর প্যাঁচ পয়জার নয়।জীবনস্মৃতি বুকের কাছে নিল তীর্থ। কোন রক্তপাত টের পেল কী? না।
মানুষ নশ্বর, সময় অবিনশ্বর।মৃত্যুর কোরকে বসে জীবনের স্বাদ পেতে রবির কাছে আসা।
 তীর্থ কহিল,রবিঠাকুর- নীচ হইতে জীবনের টান কমাইয়া বাঁধা রাস্তা ছাড়িয়া দিবার নামই কি- তুমি!

দুটি অণুকবিতা || ফটিক চৌধুরী

দুটি অণুকবিতা
ফটিক চৌধুরী


১. পরিযায়ী
পরিযায়ী দিনগুলো চলে গেছে দূরে
রাতগুলো পড়ে থাকে বদ্ধ জলাশয়ে
যেখানে কোন পদ্মও ফোটে না
আমি আর অপেক্ষা করি না
হাঁটতে থাকি রেললাইন ধরে।

২. অনন্ত ভালবাসায়

আমার  বিষন্ন সময়গুলো ভেসে গেছে
নদীর প্রবাহে, যা ছিল গোপন বিষাদ
তাকে রেখে এসেছি গহীন অরণ্যে
যার গভীরে প্রবেশ করা দুঃসাধ্য
এখন আমি থাকি অনন্ত ভালবাসায়।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৯৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৯৪.
পটলডাঙার বিক্রয়কেন্দ্র চালু হওয়াটা একটা মাইলস্টোন , আমাদের কাছে ।এটা যেমন ঠিক , ঠিক তেমনই আরো একটা ঠিককথা লুকিয়ে ছিল অনেকের মনের ভিতরে। যাঁরা চেয়েছিলেন কবিতাপাক্ষিক কেবলমাত্র একটা ছোটো পত্রিকা রূপেই টিকে থাক। আধুনিকতার বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়াটা সঠিক কাজ হবে না।
এসব কথা লেখার আগে আরো কিছু 'আগের কথা' বলে রাখতে চাই বা জানিয়ে রাখতে চাই।
কবিতাপাক্ষিক-এর বেশ কয়েকটি পকেট ছিল বা এখনো আছে। সেইসব পকেটের কথা সঠিকভাবে বলা হয়নি। এটি আমার ব্যক্তিগত ভুল। যেমন আমাদের সব থেকে পুরোনো পকেটটির অবস্থান বেলিয়াতোড় ।
এই পকেট শব্দটিতে কারো আপত্তি থাকলে আমি পকেট-কে সরিয়ে লিখতে পারা ' চ্যাপ্টার '। আমি এই বেলিয়াতোড়ের মতো আরো কয়েকটি চ্যাপ্টারের কথা লিখে রাখতে চাই। সেগুলি হল : বর্ধমান , বহরমপুর , কাটোয়া , দুর্গাপুর , ঘাটাল , দশঘরা , সোনারপুর , মালদা , কোচবিহার , শিলিগুড়ি এইসব অঞ্চলে আমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এইসবই আমার কাছে তীর্থস্থান। এই পুণ্যতীর্থগুলিই কবিতাপাক্ষিকের প্রথম পর্বে আমাকে তথা প্রতিষ্ঠান - কে লালন করেছে। একে অস্বীকার করার কোনো স্পেস নেই। যতদিন কবিতাপাক্ষিক থাকবে , কবিতা থাকবে , কবিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সংকল্প থাকবে , ততদিন এই তীর্থকথা ঘুরেফিরে আসতেই থাকবে। আমি যতটা লিখে যেতে সক্ষম হব , আমি না থাকলে আমার ডায়রিগুলো সুরক্ষিত থাকবে , যেসব ডায়রিতে আমার ট্রেনের টিকিট , বাসের টিকিট সব ফেভিকল দিয়ে আটকানো আছে।এক এক বছরের এক একটা ডায়রি। আর আছে কয়েক হাজার ফটোগ্রাফ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এসব থেকে যাবে। মনে রাখবেন আমি উইকএন্ডে পিকনিক করতে আসিনি , এসেছি বাংলাকবিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
আজ এই মুহূর্তে আমি যেতে চাইছি বেলিয়াতোড় চ্যাপ্টারে। আমার দেশের বাড়ির সিং-দরোজাটার অবস্থান বেলেতোড়। এটা সকলে দেখতে পান না।কিন্তু আমি পাই।
এই বেলেতোড়ের যাবতীয় প্রাপ্তি রাজকল্যাণ চেল -এর কল্যাণে। এ-কথাটা আগেও লিখেছি ।এখন আবার লিখলাম। পরেও আরো অনেকবার লিখবো। আমার এই লেখাটিতে আমি মূলত ' নয়ের দশক এবং কবিতাপাক্ষিক ' - এই পরিসরেই বেধে রাখতে চাইছি। একারণেই রাজকল্যাণ সত্যসাধন বা সুব্রত চেল -দের অবদান বা ওদের কবিতা সম্পর্কে কিছুই বললাম না। বললাম না প্রণব চট্টোপাধ্যায় কিংবা মোহন সিংহ-র কথা। কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর যারা লেখালেখি শুরু করার পর কবিতাপাক্ষিক-কে অবলম্বন করে কবিতাচর্চা চালিয়ে গিয়েছিল তাদের কথাই লিখবো। সেই সঙ্গে এ-কথাও জোরের সঙ্গে উল্লেখ করব , কেবলমাত্র কবিতাপাক্ষিকই নয় , এই টিম বেলিয়াতোড়-কে প্রেরণা দিয়েছে ' কবিতা দশদিনে ' পত্রিকাও। কবিতা দশদিনে রাজকল্যাণের তৈরি একটি সুদৃঢ় একটি প্ল্যাটফর্ম । এই প্ল্যাটফর্মের কথাও কবিতাপাক্ষিকের পাশাপাশি উচ্চারিত হওয়া উচিত।
আমি এখন যাদের কথা  আলোচনায় আনতে সেই নামধামগুলি জানিয়ে আজকের পর্ব শেষ করব। আগামীকাল এদের কবিতার কথা।
 ১॥ নয়ন রায় ॥ নিত্যানন্দপুর , বাঁকুড়া।
২॥ প্রদীপ হালদার ॥  বনগাঁ , বাঁকুড়া।
৩॥ প্রলয় মুখোপাধ্যায় ॥ খেড়োশোল , বাঁকুড়া ।
৪॥ আশিসকুমার রায় ॥ বেলিয়াতোড় , বাঁকুড়া।
৫॥ আনন্দ দাস ॥ বনগাঁ , বাঁকুড়া।
এখান বলে রাখতে চাই বনগাঁ বেলেতোড়ের প্রায় লাগোয়া গ্রাম।আর খেড়োশোল হল মাকুরগ্রামের ভেতরের দিকের একটা গ্রাম।
মনে রাখতে হবে এরা সকলেই প্রকৃত গ্রামের মানুষ।খুব সহজ এবং সরল মনের মানুষ। এরা এদের সকলের মেরুদণ্ড দৃঢ়। আনুগত্য শব্দটি এদের অভিধানে নেই। এরা সোজা পথেই হাঁটতেই জানে।এদের কোনো বেপথ নেই। ধান্দাবাজি থেকে বহুদূরে এদের অবস্থান।
আগামীকাল থেকে এদের কবিতাকথা।

আটপৌরে কবিতা ৫৭৬- ৫৮০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৫৭৬

রোদ/  জল/বাহারি
   ) ছাতা  (
হাতে ব্যাগে সিটে চুরিতে ।

৫৭৭

মঙ্গলচন্ডী/ শিবরাত্রি/ ইতুপূজা
         ) ব্রতকথা  (
গ্রামে গন্ঞ্জে এখনো সজীব ।

৫৭৮

উন্নাসিক/  দুর্বিনীত/  আত্মবিলাসী
        ) দাম্ভিক  (
মুখ দেখলেই বোঝা যায় ।

৫৭৯

পূর্বজন্ম / স্মৃতি / বিস্ময়
       ) জাতিস্মর (
এ পৃথিবীর কতটুকু জানি!

৫৮০

আট /সাধারণ/ শব্দ
    ) আটপৌরে  (
কত যে কবিতা হয় !

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || অলৌকিক চুম্বকের টানে

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

অলৌকিক চুম্বকের টানে । অদীপ ঘোষ । পাণ্ডুলিপি । ত্রিশ টাকা ।

'এই সব  ভেবে নিয়ে আমরা শস্যের বুকে নারীদের উষ্ণতা খুঁজেছি/  নারীদের শস্য ভেবে গোলাঘরে মজুত করেছি  । ' -র মতো মর্মস্পর্শী উচ্চারণ যেখানে পাই ও বহু পাঠক হিসেবে ভেতর থেকে মুগ্ধতা নিয়ে যাঁর কথা ভাবতে হয় তিনি কবি অদীপ  ঘোষ । কবির ২০০২সালে র কাব্যগ্রন্থ ' অলৌকিক চুম্বকের টানে ' আবার পড়তে গিয়ে বুঝতে পারি তাঁর কবিতা শুধুমাত্র  মুন্সিয়ানার জোরে নয়, তাঁর বোধে মিশে থাকা কবিতা তিনি উপহার দেন যে অবাক উচ্চারণে তাকে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া উপায় থাকে না । সে কারণে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ থেকে যেসব উচ্চারণ আঁকড়ে ধরতে ইচ্ছে হয় তা: ' শেষমেশ কিছুই হল না / ফলত আবার তারা খনিগর্ভে ঢুকে এক ঘনরাতে মানুষের কঠিন করোটি তুলে আনে ।' (খনিজ), 'সাবানের স্থির দেহে অজস্র ফেনারা খুব সাগ্রহে ঘুমোয়/  এত লোক তবু কেউ প্রাণবন্ত বুদবুদের প্রার্থনা করে না ' (অসমাপ্ত পাঠক্রম) -এর মতো আরো কিছু ।
         অদীপের কবিতার ভেতরে যে টান অনুভূত হয় ,তাকে অস্বীকার না করে বলতে পারি তিনি সেই গভীর উজ্জ্বল অবস্থানে  আমাদের পৌছে দিতে উচ্চারণ করেন:  ' আলো কিংবা  অন্ধকার নয়/  আলো আর অন্ধকার দুপাশে সরিয়ে রেখে আমাদের হাইফেন জীবনযাপন । ' (গণতন্ত্র ও উন্মাদ ')।
        এরপরও অদীপের বেশ কিছু কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে,  তন্ময় হয়ে পড়েছি । অদীপ মনোযোগ ছিনিয়ে নেয়।  কবিকৃত প্রচ্ছদ অনুভবী।

Wednesday, August 5, 2020

ছোট গল্প || অনুরণিত বাতাসে || অমিতাভ দত্ত

ছোট গল্প
-
অনুরণিত বাতাসে।
            অমিতাভ দত্ত।



কেতকী গ্রামের মেয়ে। চোখের তারায় ভাবনা মিশ্রিত রং বাহারী বৈচিত্র্যময় অনেক ছবি। আঁকে মোছে বারেবারেই ক্ষণেক্ষণেই বুকের ক্যানভাসে। সংবেদনশীল নারী নয়, মানুষ। যৌবন কথা বলে। যে কথা সবটাই ধরা যায় না। ঠিক খানিকটা বাতাসে ভেসে আসা বকুল সুগন্ধেরই মতো। ঐ স্কুল জীবনের শালিক পাখির মতো। এখন ভালো কবিতা লিখছে। কেতকীর হাতে সকালের গরম চায়ের কাপ ডিস। টেবিলে রাখতেই , আমানত হাত চেপে ধরে। ওদের ভালোবেসে বিয়ে। দুই মেয়ে, আর এক ছেলে। দুই মেয়েই সুন্দরী। ওদের বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাওয়া সব ছেলেই একবার না একবার, তাকিয়ে তাকিয়ে যাবেই যাবে। কেতকী আমানত কে চুম দিয়ে বলে,
" এই শোনো না, আমার একক কবিতার বই-টা না ; প্রিন্টিংয়ের জন্য দিয়েছি। আমানত ও ওকে চুম দিয়ে বলে, " এর চাইতে ভালো খবর আর কিইবা হতে পারে!"
সাহিত্য গ্রুপে থাকাকালীন, ষষ্টিপদ, কৌশিক, সোমনাথ, কুমারেশ, কল্যাণ, বাসুদেব, অমল কোনো দিনই একটিও কমেন্ট আলোচনা বা সমালোচনা পোস্ট করে নি গ্রুপে। আর এরা তো লিটিল ম্যাগাজিনের নামের আড়ালে পুরোপুরি বিজনেসে নেমে পড়েছে। লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কে এরা একেবারেই ধুয়ে মুছে ধূলিসাৎ করে ফেলেছে। কেতকীর ফোনের বন্ধু অমিতাভ কে, এই দুঃখের কথা প্রায়ই বলতো।
" সাতকাহন ফুলঝুরি " প্রকাশনার প্রোপ্রাইটর মালিক   শৌভিক ,
 "পরিপ্রশ্নময় জ্যোতি " কেতকীর কবিতার বইটি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়ে , এখন গড়িমসি করছে। কেতকী বেশ কয়েক হাজার টাকার খুইয়ে বিমর্ষ এবং হতাশার অন্ধকারে। আমানত বলল,--
 " ঠিক আছে, চিন্তা করো না, অন্য প্রকাশনার কাছে চেষ্টা কর, যেভাবেই পারি টাকার ব্যবস্থা করবো। কেতকী আমানত কে বুকে জড়িয়ে বেশ কয়েক ফোঁটা উষ্ণ জল ফেললো। তারপর উড়ণীতে চোখ মুছলো। যে সৌন্দর্য কেতকীর বুকের লতায় পাতায় লুকিয়ে আছে , তা আমানত জানে। পাশের বাড়ির তন্দ্রা বৌদির বাড়ি থেকে ভেসে আসছে, রবীন্দ্র সংগীতের সুর ও বাণী, --
" তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি.......... , আমানত কেতকী কে বলল,-- " হ্যাঁ গো, তুমি তো রবীন্দ্রনাথের ঐ গানটা ভালো গাও, ঐ টা গাও না , একটু , " ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে............. , কেতকীর চোখের কোণায় অশ্রু গ্রন্থিতে আবার উষ্ণ জল।
------------------------------------------------------  অমিতাভ দত্ত ।

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ক্লেওমেনিস পাপাইওয়ানু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ক্লেওমেনিস পাপাইওয়ানু-র কবিতা


ক্লেওমেনিস পাপাইওপানু (Kleomenis Papaioannou,1990) গ্রিসের সামপ্রতিক কবিদের প্রতিনিধি। সারা পৃথিবীতে ছন্দ-অলঙ্কার- প্রতীক বর্জনের মধ্য দিয়ে কবিতার যে নতুন হয়ে ওঠা তার অভিঘাত একালের গ্রিক কবিতারতেও পরিলক্ষিত। পাপাইওয়ানুরকবিতাও সেই নিরীক্ষাপ্রবনতার চিহ্ন বহন করে। পাপাইওয়ানু পড়াশোনা করেছেন পেন্টিওন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইতিহাস বিষয়ে। তাঁর প্রথম কবিতা গ্রন্থের নাম 'লেটার অন এ ফুলিশ হার্ট হার্ট ফুলিশ হার্ট হার্ট এ ফুলিশ হার্ট হার্ট ফুলিশ হার্ট হার্ট'।


সীমা নেই

 সীমা ছিল না কোনো
সীমারেখা আমি অগ্রাহ্য করেছিলাম
 আমি উল্লঙ্ঘন করেছিলাম আইন-কানুন সীমান্তের পাশ দিয়ে আমি গিয়ে ছিলাম
 আর সবকিছু আমি
ভেঙে ফেলে ছিলাম
ছিঁড়ে ফেলেছিলাম
 ভেঙে ফেললাম
 প্রতিবাদ করলাম
 নিন্দা করলাম
উলটপালট করলাম
 কেড়ে নিলাম
কাটলাম
মুক্ত করলাম
 মুছে দিলাম
ধ্বংস করলাম
 বাতিল করলাম
 আর পোড়ালাম তোমাকে পেতে

 তোমার কাছে গোপন করছি না
আমি ভেঙে ফেললাম বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তোমাকে পেতে

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || অনেক রঙের পালক

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

অনেক রঙের পালক । অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় । সোঁতা । দুশো টাকা ।

একজন কবি যখন গদ্যের জন্য কলম ধরেন তখন তাঁর প্রতি কিছুটা বেশি উৎসাহ সঞ্চারিত হয়।  কবিরা সাধারণত কম কথার মানুষ । কম কথার ভেতর কিছু বাড়তি পাওয়ার আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম, কিন্তু মাত্র একশো আঠাশ  পৃষ্ঠার গদ্যগ্রন্থের মধ্যে তিনটি ভাগে মোট চব্বিশটি বড় ছোট অতিছোট  গদ্যের  ভীড়ে পাঠক হিসেবে বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে এই প্রয়াস । বইটির প্রথমে 'প্রতিবাদ প্রবাদ প্রতিম ' শীর্ষক বাহান্ন পৃষ্ঠার গদ্যের ভেতরে তিনি বহু বিশিষ্ট কবির  কবিতার অংশের মাধ্যমে দেখিয়েছেন বাংলা কবিতার প্রতিবাদী অবস্থান । যা পড়তে ভালো লাগে কিন্তু প্রতিবাদী কবিতার গতি প্রকৃতির ওপর বাড়তি নজর দিলে গদ্যটি ভালো জমতো । তবু এই গদ্য বইটির প্রধান আকর্ষক । বাকিগুলির মধ্যে কিছু অংশে বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের আলোচনা আছে । তবে তাতে অভিনবত্ব চোখে পড়ে না ।
         তবে অনন্যা তাঁর মতো করে দারুণভাবে চেষ্টা করেছেন । কিন্তু কিভাবে পাঠককে কিভাবে ধরে রাখতে হবে তা জানা তাঁর দরকারি । সে কারণে কিছু গদ্য পড়তে বিরক্তি আসে ও খেই হারায় ।
             এই ছোট পরিসরে বইটির বিস্তৃত আলোচনা সম্ভব নয় বলে শুধুমাত্র বইটি প্রসঙ্গে সংক্ষেপে তা করা হল।ভবিষ্যতে অন্য কোথাও বিস্তৃত আলোচনার অবকাশ আছে । দেবাশিস সাহা- র  সাদাসিধে প্রচ্ছদ চোখকে আরাম দেয় ।

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৫৭১

বাবা/  কাকা/ জ্যাঠা
     ) একান্নবর্তী (
এখন সিরিয়ালে দেখা যায় ।

৫৭২

স্বামী/ স্ত্রী/ সন্তান
    ) নিউক্লিয়াস  (
এখন পরিবার বলতে বোঝায় ।

৫৭৩

ফ্ল্যাট/  জিম/ সুইমিং
     ) কমপ্লেক্স   (
উচ্চবিত্তের কাছে সঠিক আশ্রয় ।

৫৭৪

মানসিক/ শারীরিক/  সামাজিক
        )  দুরত্ব  (
মানসিক অবসাদের জন্য দায়ী ।

৫৭৫

আদর/ খুনসুটি/  বকুনি
       ) পোষ্য  (
দিন বড় আনন্দে কাটে ।

স্বপ্ন || সমরেশেন্দু বৈদ্য || কবিতা

স্বপ্ন
---------
সমরেশেন্দু বৈদ্য



গেট বন্ধ
নোটিশ ঝুলছে
ভাগ্য দুলছে।

হেঁসেল শুন্য
গিন্নি শুঁকছে
বাচ্চা ধুঁকছে।

লাশটি কার?
গন্ধ আসছে
ধন্ধ ভাসছে।

বলছো ফালতু
আমার হাঁটছি
স্বপ্ন ঘাঁটছি।

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য ৯৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৯৩.
গতকাল প্রাপ্তিযোগ লিখেছিলাম। আজ লিখবো কর্মযোগ -এর কথা।বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধনের জন্য ছাপা আমন্ত্রণপত্রটি দেখে নেওয়া যাক :
                     কবিতাপাক্ষিক
         কবিতার প্রতিষ্ঠান , কবিদের প্রতিষ্ঠান
বইপাড়ায় নতুন যোগাযোগ এবং বিক্রয়কেন্দ্র
                    শুভ উদ্বোধন
           ২৭ অক্টোবর '৯৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪ টে
            উদ্বোধক □শ্রীপরেশচন্দ্র দে
  আপনার উপস্থিতিই আমাদের পাথেয়
নীচে আমার নাম ছিল।
এবার প্রস্তুতি-কথা। রাজা বা গৌরব তার বন্ধু গুন্ডু এই দুজন যাবতীয় ইলেকট্রিকের কাজ করেছিল।
আমি একা বড়োবাজার থেকে ছাদের মাপ মতো একটা শতরঞ্জি কিনে ট্রামের সেকেন্ড ক্লাসে চেপে নিয়ে এসেছিলাম। এর জন্য মাথাটিও যে ব্যবহৃত হয়েছিল , তাও জানিয়ে রাখলাম।
এবার অনুষ্ঠানের খবর।আমি নাসের হোসেন -এর কলমনাম অর্জুন মিশ্র-র রিপোর্ট সরাসরি তুলে দিচ্ছি :
কবিতাপাক্ষিক যুগ □
৪৯ পটলডাঙা স্ট্রিট।কবিতাপাক্ষিক-এর কলেজস্ট্রিট পাড়ার নতুন এবং স্থায়ী যোগাযোগ কেন্দ্র উদ্বোধিত হল ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার।এই সেই চত্বর যার অনতিদূরেই অবস্থান করছেন কল্লোলযুগের সহযোদ্ধারা, মনীশ ঘটক লিখেছেন পটলডাঙার পাঁচালি ,পূর্বাশা-র অন্তিমলগ্নে এসে বসতেন সত্যপ্রসন্ন দত্ত , এখানেই তো নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আশ্চর্য কিছু গল্প-উপন্যাসের জন্ম , চিহ্ন রয়ে গেছে অধুনা-বিলুপ্ত অমি প্রেস ও বহমান সাহিত্যের অনেকানেক হৃদ- সম্ভারের।আজ একথা বলতেই পারি কল্লোলযুগের পর নানান ইতিহাস পেরিয়ে আমরা এখন এসে পৌঁছেছি কবিতাপাক্ষিক যুগে ,কবিতাপাক্ষিক-এর উদার উন্মুক্ত আঙিনায়। বই বিক্রির রসিদ কেটে যোগাযোগ কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন শ্রীপরেশচন্দ্র দে।মেজদা নামেই অধিক আদৃত তিনি সকলের কাছে।
প্রথম বই কিনলেন বাপন চক্রবর্তী ।এসেছেন ছাপাখানা ও প্রকাশনা জগতের বেশ কয়েকজন কবি সাহিত্যিক শুভানুধ্যায়ীরাও সংখ্যায় খুব কম নয়। এসেছেন শঙ্খ ঘোষ থেকে শুরু করে নব্বই-এর তরুণতম কবি পর্যন্ত। আসতে না পারলেও আশীর্বাদ জানিয়েছেন অরুণ মিত্র । কবিতাপাক্ষিক -এর পক্ষে বক্তব্য বলেন সুজিত সরকার এবং প্রভাত চৌধুরী। চারপাশের শত-কোলাহলের মাঝে কিছুটা ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে এই যোগাযোগকেন্দ্রটি, শব্দহীন ছাদে।এখানে যে কোনো মুহূর্তেই জমে উঠতে পারে তুমুল আড্ডা , হতে পারে নিরুপদ্রব কবিতার আসর। সমস্ত পাঠক গ্রাহক ও বন্ধুদের আহ্বান , আমরা বুক পেতে আছি আপনাদের প্রত্যেকের তীব্র সংক্রমণের জন্য।
নাসের হোসেন - এর এই আহ্বানটিকে শিরোধার্য করে ৪৯ পটলডাঙা স্ট্রিটের বিক্রয়কেন্দ্রের ছাপে শুরু হয়েছিল কবিতাপাঠের আসর এবং কবিতাকেন্দ্রিক আড্ডা । প্রতি শনিবার।বিকেল ৪ টেয়।
'  আপনিও আমন্ত্রিত ' এই ঘোষণায় অনেকেই সাড়া দিয়েছিল । শুরু হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক- এর দ্বিতীয় ইনিংস। এখান থেকেই পেয়েছিলাম ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় , সৌমিত্র রায়  পলাশ বর্মণ প্রমুখ নবীন প্রজন্মের কবিদের।

Tuesday, August 4, 2020

স্মৃতি কথা || নীলাঞ্জন কুমার || এই আমি চরিত্র

স্মৃতি কথা || নীলাঞ্জন কুমার

                    এই আমি চরিত্র

                              


                         ।। ২ ।।

                 ( গত মাসের  পর)

বাকি তিন দাদা-দিদি (  যারা এই স্মৃতি কথায় ইচ্ছে অনিচ্ছেয় এসে পড়বে)  একজন সদ্যোজাতের প্রতি পার্থিব মায়া মমতা নিয়ে পাশে থাকার জৈবিক গুণগুলি নিয়ে সে সময় আমার সঙ্গে ছিল মা বাবার সঙ্গে যা আমাকে বাড়তি কিছু দিয়েছিল । জন্মস্থান তমলুক শহরের পার্বতীপুরে, সেখানে দাদু কাকুদের স্নেহচ্ছায়া অন্যতম পাওয়া বলে মনে করি । স্বাভাবিকভাবেই এই সদ্যোজাত অবোধ চরিত্রটি তার সেই সময় থেকে মা বাবার কাছে তাদের স্মৃতিমতো (পরবর্তীতে  যখন বাবা মা আমায়  নিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়তো ) জেনেছে সেই অবোধ সময়ের কিছু খন্ড মুহূর্ত । যেমন,  খুব একটা মা বাবাকে বিব্রত করিনি,  কি যেন ভেবে যেতাম । ভেতরে ভেতরে একটা চন্ঞ্চলতা ছিল,  তেমন কিছু দেখলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতাম । যার জন্যে মা আমায় আদর করে বলতো ' হাঁ করা ছেলে '। সবচেয়ে মজা হয়েছিল  আমার অন্নপ্রাশনের দিন , সেদিন ছিল ভীষণ বৃষ্টি । বৃষ্টির জন্য রুই কাতলা   মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না । তবে ছিল কেবল ইলিশ । বাবার মাথায় হাত , কি হবে! মা বুদ্ধি দিলো, অন্য মাছ নেই তো কি হয়েছে,  ইলিশ তো আছে । তাই সবাই খাবে । এলো ইলিশ,  সবাই মহানন্দে খেয়ে আমায় আশীর্বাদ করে চলে গেল । মা আর একটি কথা বারবার বলতো,  ওই দিন প্রথা অনুযায়ী আমার সামনে দেওয়া হয়েছিল  একটি রেকাবিতে একখানা রুপোর টাকা ও একটি বাবার সখের দামী সোনার নিব দেওয়া পারকার পেন । মায়ের  জবানিতে জানাই  :  যখন খোকনের  ( মা'র আমাকে দেওয়া ডাকনাম) সামনে এগুলো রাখা হল তখন কিছুক্ষণ  সেদিকে চেয়ে আস্তে আস্তে তুলে নিলো পেনটা । তখন ওর কি আনন্দ ! শক্ত মুঠোয় ধরে আছে,  মনে হচ্ছে আর ছাড়বে না । কিছুক্ষণ তাই নিয়ে খেলার পর এলো ঘুম , হাতে কিন্তু সেই কলম । ওর বাবা বুদ্ধি করে আস্তে আস্তে হাত থেকে পেনটা বের সেখানে ঢুকিয়ে দিলো একটা অন্য কলম । ঘুম থেকে উঠে অন্য পেন দেখে বাবুর কি কান্না!  অনেক কষ্টে ভোলাতে হয়েছিল ।
        আমি নামের এই চরিত্রের সঙ্গে মা বাবা সহোদর সহোদরা দাদা দিদি রূপে যে সব চরিত্র পাইয়ে দিয়েছেন   প্রকৃতি তাঁদের মধ্যে  হলেন বাবা মুক্তিদারন্ঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি তাঁর তারুণ্যে যৌবনে তমলুক শহরের দামাল ব্যক্তি । ছিলেন যশস্বী অভিনেতা ,যাত্রা নাটকের পরিচালক । বাবা নিয়মিত তমলুকের কুস্তির আখড়ায় ব্যায়াম ও কুস্তি লড়তেন।  উনি মেদিনীপুর শহরের এক অনুষ্ঠানে নটসম্রাট হিসেবে বিভূষিতও হয়েছিলেন । ১৯৫৬ সালে  তমলুক বান্ধব সমাজের প্রযোজনায় কলকাতার চেতলায় অহীন্দ্র মন্ঞ্চে 'কেদার রায় ' নাটকে বাবা   'শ্রীমন্ত ' চরিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। প্রতিযোগিতায় একজন বিচারক হিসেবে ছিলেন সাহিত্যিক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় । বাবার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাঁর লেখা উপন্যাসের সিনেমা ' না ' তে বাবাকে সুযোগ দিয়েছিলেন । কিন্তু তৎকালীন তিন ছেলে মেয়ের বাবা  (আমি তখনও পৃথিবীতে আসিনি  )  ও সরকারি চাকুরে হিসেবে সব ছেড়ে ছুড়ে  সিনেমাতে অভিনয় করা মানে সর্বনাশ , চরিত্র ও নিজেকে নষ্ট করে দেওয়ার পথ বেছে নেওয়ার সে সময়ে বদ্ধমূল ধারণার বশবর্তী হয়ে প্রধানতঃ দাদুর বাধায় সে প্রস্তাবে বাবা সায় দিতে পারেননি। পরে সে চরিত্র নবাগত বিকাশ রায়কে দেওয়া হয় । তাঁকে দেখি মেদিনীপুর জেলার শৌখিন নাটক ও যাত্রায় অসামান্য দক্ষতায়  অভিনয় ও পরিচালনা করতে । যা অবিভক্ত মেদিনীপুরের নাট্য ইতিহাসে আজও অম্লান ।১৯৯৮সালে ৭২ বছর বয়সে স্নায়বিক রোগের কারণে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি দেন ।
          মা অশ্রুকণা চক্রবর্তী ছিলেন সে সময়ের  ডাকসাইটে  সুন্দরী ও কণ্ঠশিল্পী । স্বাধীনতার আগে মহিলাদের মাইকে গেয়ে ফাংসন করতে খুব একটা দেখা যেত না । যারা করেছেন তাদের মধ্যে মা একজন । '  বালুচরি ' সিনেমা খ্যাত  সুরকার  রাজেন তরফদারের শিষ্যা ছিলেন তিনি।  হুগলির  শেওড়াফুলির  এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম হলেও মা ছিলেন ব্যতিক্রমী । তাঁর সাজপোশাক ছিল আধুনিক। যা মাত্র ষোল বছর বয়সে এক অনাধুনিক শহর তমলুকে বিয়ে হয়ে এসে পাড়াপড়শির অনেক কটুক্তি তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে । যা নিয়ে  পরে মাকে রসিয়ে রসিয়ে  দিদিদের সঙ্গে গল্প করতে শুনেছি । যেমন চল্লিশের দশকে কলকাতায়  নতুন ফ্যাশন উঠেছিল হাতকাটা ব্লাউজ পরা। মা প্রথম তমলুকে হাতকাটা ব্লাউজ পরেন । তা নিয়ে সারা পার্বতীপুরে মায়ের বিরুদ্ধে  গিন্নিবান্নিরা কটুক্তির বণ্যা বইয়ে দেয় । কিছুদিন পরে যারা কটুক্তি করতো তাদের একজনকে কোন বিয়েবাড়িতে মা হাতকাটা ব্লাউজ পরতে দেখেন ।মা তার দিকে তাকাতেই সেচোখ নামিয়ে নেয় । মায়ের কিছু কিছু গুণ আমার ভেতরে আছে বুঝতে পারি । যেমন অসম্ভব জেদ, স্থৈর্য ইত্যাদি । একটি অস্থির ও নানা জটিলতায় চলা একটি পরিবার তিনি যে কত কষ্ট সয়ে ধরে রেখেছিলেন তা শিক্ষণীয় । ২০০২সালে তিনি আমাদের মায়া কাটিয়ে চলে যাবার পর তা ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করতে পারি ।
   সত্যি বলতে কি, তমলুকের কোন সমৃতি প্রাকৃতিক কারণে বোধে আনা সম্ভব নয়।  বাবা চাকরির
বদলি গত কারণে মেদিনীপুর শহরে চলে আসেন সপরিবারে । তখন  আমার বয়স মাত্র আড়াই । তার কিছুদিন পরপরেই আমার বোধ আসে ।

কথকতা || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

কথকতা
----------------
শ্রাবণী গুপ্ত


তোমাকেই পছন্দ করি
ওগো গহন-কালো ওগো মেঘলা-বেলা

আমি সময়ের সমস্ত আয়ুধে শান দিতে দিতে
শিখে নিয়েছি আয়ুক্ষয়ের প্রস্তাবনা

সারাদিন যেদিন রৌদ্র ওঠে না
আমি গোছানো শীতের মতো শুয়ে থাকি
যেন গুটিশুটি

সারাদিন যেদিন আলো জ্বলে না
আমি চেনা আগুনের কাছে হাত পেতে থাকি
যেন হোমো ইরেক্টাসটি

তোমাকেই পছন্দ করি
ওগো প্রাচীন-শব্দ ওগো আদি-সংকেত

আমি নৈঃশব্দ্যের বুকে কান পেতে পেতে
শুনেছি যে কত কথকতা|


কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || অচেনা গলির আশকারা

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

অচেনা গলির আশকারা । আশিস গোস্বামী । ভিন্নমুখ । ষাট টাকা ।

' দরজায় দাঁড়িয়ে/  তাকে কিছু না দেওয়ার চেয়ে/  শূন্য দেওয়া ভালো ' ( 'শূন্য ') , ' আমার পুরনোয় /  অসুখের সুখ / কখনো সেও এক অলঙ্কার ' ( ' অলঙ্কার ')-এর মতো পংক্তি কণা কাছে এসে পড়লে মনকে উন্মন করে তুলতে পারে কুটিল জীবন যাপনের সময় । কবি আশিস গোস্বামীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ (২০১১) ' পাখি এক বৃত্ত পদ্ধতি ' -র সমালোচনা করতে গিয়ে যেসব ত্রুটি পেয়েছিলাম চার বছর পর তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'অচেনা গলির আশকারা ' তে তা অনেকটাই অন্তর্হিত ।
                কবিকে পড়তে পড়তে দেখতে পাই তার কবিতার শব্দগুলোর ভেতর দিয়ে যা ভাবনা আমাদের ভেতরে ছড়িয়ে দেন, তাকে যৌক্তিক অনুষঙ্গ অনেকের না মনে হতে পারে । তবে যদি নিজের টিপিক্যাল চেতনা থেকে সরে  কবির চেতনার সঙ্গে একাত্ম হওয়া যায় তবে এর সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে । হয়তো কবির এমনই উদ্দেশ্য নিয়ে এ কাব্যগ্রন্থ ।
          সে কারণে তিনি বলে ওঠেন:  'আমি শুয়ে আছি/  আকাশে দোদুল চোখ ' , ' হলকা দিন/  নাম লিখছি/  ভুল তুরুপের বিষুব ' । তপন বিশ্বাসের প্রচ্ছদে মনের দোলাচলের কিছু গ্রাফ উঠে আসে । যেখানে মন নিজস্ব ভাবনা তৈরি করে নেয় ।

আটপৌরে কবিতা ৫৬৬-৫৭০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৫৬৬

শ্বাস/  গন্ধ/  বৈশিষ্ট্য
      ) নাক  (
চোখ প্রথমে যেখানে পড়ে ।

৫৬৭

স্বাদ/  কথা / লেহন
    ) জিভ (
জীবনের এক আনন্দের ইন্দ্রিয় ।

৫৬৮

স্পর্শ/  অনুভূতি/ আকর্ষক
      ) ত্বক  (
শেষ অবধি সঙ্গ দেয় ।

৫৬৯

শ্রবণ/  সৌন্দর্য/ ভারসাম্য
     ) কান (
কথা সঙ্গীত ডেসিবেল আকুলতা ।

৫৭০

দেখা/  মনোভাব/  বৈচিত্র্য
            ) চোখ  (
তোমার চোখে আমার সর্বনাশ!

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৯২.
৩৬ ডি , হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে বইপাড়ায় একটা ঘর পাওয়া আমাদের জরুরি হয়ে পড়েছিল। আমাদের মনে হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক-কে এগিয়ে নেবার জন্য বইপাড়ায় নিজস্ব একটা কাউন্টার বা বিক্রয়কেন্দ্র থাকাটা খুব প্রয়োজন। আর জায়গাটা খুব ছোটো হলে অসুবিধা হবে। হরিশ চ্যাটার্জিতে মাটিতে বসা বা জানলা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর ঘরে ঢোকার সুযোগ পেত। আর বারান্দায় মাদুর পেতে বসা লোকজন তো ছিলই।
এজন্য দালাল ধরতে হয়েছিল। দালাল শব্দটি অপছন্দ হলে মনে করুন ' ব্রোকার '। অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল পটলডাঙা স্ট্রিটের ছাদের ঘরটি। ঘরটা ছোটো।সাবেক ঠাকুরের ভোগ রান্নার ঘর। দু-পাশে দুটি ছাদ। পছন্দ হয়েছিল ছাদ।
এবার টাকার চিন্তা। অ্যাডভান্স দিতে হবে পঞ্চাশ হাজার টাকা। ১৯৯৮ সালের পঞ্চাশ হাজার। আর সেই সূত্রে বের করলাম ১৯৯৮ -এর একটা ডায়রি।
প্রথম পৃষ্ঠায় টার্কোয়েজ ব্লু-তে লেখা :
                          কবিতাপাক্ষিক
                   বিক্রয়কেন্দ্র বাবদ হিসাব
পরের পৃষ্ঠায়। টাকা চাওয়া হবে : নামের তালিকা।তালিকাটি টুকে দিলাম :
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মঞ্জুষ দাশগুপ্ত সুজিত সরকার সমীর রায়চৌধুরী মলয় রায়চৌধুরী আলোক সরকার সুব্রত চেল দীপ সাউ রবীন্দু বিশ্বাস জহর সেনমজুমদার শান্তিময় মুখোপাধ্যায় ভূমেন্দ্র গুহ ডা. নীলাদ্রি বিশ্বাস কানাইলাল জানা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় তারাপদ আচার্য সুধীর দত্ত অমিতাভ মৈত্র প্রশান্ত গুহমজুমদার সুবীর সরকার কামাল হোসেন রজতশুভ্র গুপ্ত ভূদেব কর সৈয়দ কওসর জামাল পার্বতী মুখোপাধ্যায় অনিন্দ্য রায় ব্রজকুমার সরকার কৌশিক চট্টোপাধ্যায় অশোক বেরা অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় গণেশ ভট্টাচার্য জয়দীপ চক্রবর্তী + আরো একজনের নাম ছিল। সেই নামের বোঝাটা বইতে চাইলাম না বলেই সেই নামটি বাদ দিলাম। পরবর্তীকালে কখনোই সেই নামটি কখনোই ল

 পরবর্তীকালে কখনোই সেই নামটি কখনোই লিখব না। ঘোষণা করলাম।
ডায়রি-র পরের পৃষ্ঠায় : টাকা পাওয়া গেল  ,  সেই তালিকা।

তারিখ        নাম                                   কত টাকা
17. 02.98 ডা. নীলাদ্রি বিশ্বাস         1000. 00
             Cq.no 123200 dt.17.02.98
             UBI
20.02. 98   সুজিত সরকার                5000.00
22 .02.98   সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়          5000.00
              Cq. No397848 dt.23. 02.98
04.03.98   শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়           1000.00
06.03.98    আলোক সরকার                2000.00
11.03.98      দীপ সাউ                           5000.00
11.03.98     ভূদেব কর                           1000.00
14.03.98     ব্রজকুমার সরকার                500.00
17.03.98    শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়           500.00
23.03.98    শ্যামল শীল                             100.00
10.04.98    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত          5000.00
26.04.98     জয়দীপ চক্রবর্তী                     200.00
29.04.98   গৌতম দেব গোস্বামী                   100.00
23.07.98    প্রভাত সাহা                                   50.00
13.10.98     প্রভাত চৌধুরী                         2000.00
14.10.98     প্রদীপ চক্রবর্তী                             20.00
25.10.98      নাসের হোসেন                      1000.00 27.10.98    কমলেশ চক্রবর্তী                     2000.00
              Cq.no.607793 dt.27.10.98
              SBI Boroda Park Br.
06.07. 99   সুধীর দত্ত                                  500.00
             Cq.no.729827 dt.06.07.99
             SBI  Bikash Bhavan
এই তালিকা প্রকাশ আমার কাছে অনিবার্য ছিল।এই তালিকা থেকে দুটি ঘটনার কথা লিখে রাখতে চাইছি।
১ ॥ সুনীলদা ফোন করে বলেছিলেন : এই রোরবার একটু তাড়াতাড়ি এসো।
গেট খুললেন সুনীলদা ।হাতে একটা চেক। ব্লাঙ্ক চেক।বিক্রয় কেন্দ্র-র জন্য টাকা।
তো কত টাকা ?
তুমি জানো  । লিখে নিও।
আমি অনেক বুঝিয়ে টাকার পরিমাণটা সুনীলদাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিলাম।
২॥ একটা মনি অর্ডার এসেছিল। একশো টাকার।লেখা ছিল : কবিতাপাক্ষিকের বিক্রয় কেন্দ্রের জন্য এক শত টাকা পাঠাইলাম,দয়া করিয়া গ্রহণ করিবেন।নমস্কারান্তে / গৌতম দেব গোস্বামী।
মনি অর্ডার শ্লিপে কোনো ঠিকানা ছিল না। এতদিন পর 'কবি নির্দেশিকা ' -তে ঠিকানা পেলাম।
দেভোগ মেদিনীপুর ৭২১ ৬৫৭
এবং এতদিন পর প্রাপ্তিস্বীকার করলাম। এবং দায়মুক্ত হলাম।

রঙ বদল || কমল কৃষ্ণ কুইলা || কবিতা

রঙ বদল
কমল কৃষ্ণ কুইলা 




আজকে যারে কুৎসা কর
কালকে সে হয় প্রিয়,
শব্দ আছে? জবাব দেবে!
একটু ভেবে নিও।

টাকার কাছে বিবেক বিক্রি
করছে কতো নেতা 
ওদের হাতেই খুশি রবে
মোদের ভারত মাতা!

মেরুদণ্ড সোজা রেখে
কিছু নেতা বাঁচে
কোটি টাকাও মূল্যহীন
তুচ্ছ তাদের কাছে।

Monday, August 3, 2020

শীলাবতী অববাহিকার ইতিহাস ও কৃৃৃৃষ্টি ৯ || মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি || নদী বিষয়ক গদ্য

শীলাবতী অববাহিকার ইতিহাস ও কৃৃৃৃষ্টি ৯
মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি


এ ব্যাপারে পুরাতত্ত্ববিদরা এবং পুরাতত্ত্ব সম্বন্ধীয় লেখক-লেখিকারা কী বলছেন একটু দেখে নেওয়া যাক। “নাককাটি দেবী নয় – দেবমূর্তি” এই শিরোনামে আমার লেখা একটি বিশেষ নিবন্ধ ‘টেরাকোটা’ পত্রিকার জৈষ্ঠ-১৪১৭-এর দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এটি প্রত্নতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা। যার সম্পাদনা করেন তুলসীদাস 
মাইতি এবং প্রদীপ কর। যাই হোক পত্রিকাতে নিবন্ধটি প্রকাশ হওয়ার পর বিশিষ্ট পুরাতত্ত্ববিদেরা যা বলেছেন, এবং লিখিতভাবে মতামত দিয়েছেন   তা হুবহু তুলে ধরছি।

‘টেরাকোটা’ পত্রিকার শ্রাবণ ১৪১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘নাককটি’ মূর্তি প্রসঙ্গে চিঠি 
“চিঠিপত্র – ১ 
Dr. Tapas Bandyopadhyay
Keeper
State Archaeolojical Museum, West Bengal
Director of Archaeolojy and museums,
Government of West Bengal
1, Satyen Roy Road, Behala,
Kolokata-700034
Dated-09.07.2010

মাননীয় যুগ্ম সম্পাদক মহাশয়, টেরাকোটা
প্রত্নতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা,
বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া
মহাশয়, 
   আপনাদের উদ্যোগে প্রকাশিত তথ্যবহুল সুমুদ্রিত পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যা হাতে পেলাম। “নাককটি দেবী নয় – দেবমূর্তি” শীর্ষক রচনা প্রসঙ্গে জানাই সেটা সূর্যদেবের বিগ্রহ। এই ধরনের বিগ্রহ সাধারনভাবে সপ্তাশ্ব বাহিত রথে সম্পদস্থানক ভঙ্গিতে প্রস্ফুটিত পদ্মফুল দুই হস্তে ধরণ করে দন্ডি-পিঙ্গল, ছায়া-সংগা, ঊষা-প্রত্যুষা সহ দন্ডায়মান অবস্থায় আত্মপ্রকাশ করেছেন। পদদ্বয় জুতার দ্বারা আচ্ছাদিত। দুই পায়ের মাঝে দণ্ডায়মানা পৃথিবী ও সম্মুখে রথের সারথি অরুণ। কটিদেশে ছুরি। জুতা ও অস্ত্রের সংযোজনা সম্ভবত: অগ্নি উপাসক পশ্চিম এশীয় জনগণের প্রভাব সঞ্জাত। বিগ্রহে দাড়িযুক্ত প্রতিকৃতিটি পিঙ্গলের। অপর পার্শ্বস্থ প্রতিকৃতিটি দন্ডির। দন্ডি এবং পিঙ্গলের পাশে যথাক্রমে ছায়া ও সংগা দণ্ডায়মানা। ধনুকে তির ছুঁড়ে ঊষা এবং প্রত্যুষা অন্ধকার দূর করছেন। অবশিষ্ট সবকটি রচনাই আমার আনন্দ ও বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে। আপনাদের পত্রিকার শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি। 
   ভবিষ্যতে পত্রিকা উপরোক্ত ঠিকানা পাঠালে প্রাপ্তিযোগ সুনিশ্চিত হবে। 
                                                       ধন্যবাদান্তে-
                                                      তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়
পুনশ্চ – সূর্য মূর্তিটি সম্ভবত পালযুগের। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রচুর বিগ্রহ অষ্টম-দ্বাদশ শতকে নির্মিত হতে দেখা গেছে”।

 “চিঠিপত্র – ২

শ্রী প্রদীপ কর,
সম্পাদক ‘টেরাকোটা’
বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, পিন-৭২২১২২

প্রিয়বরেষু,
      আপনাদের ‘টেরাকোটা’ পত্রিকার ২য় সংখ্যায়(জুন,২০১০; জৈষ্ঠ,১৪১৭), শ্রী মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি লিখিত “নাককাটি দেবী নয় – দেবমূর্তি” প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা বলতে চাই। 
১৪
   মূর্তিটির আলোকচিত্র খুব সুস্পষ্ট না হলেও মঙ্গলপ্রসাদবাবুর বিবরণ সহযোগে নিরীক্ষণ করলে বুঝতে পারা যায় যে, মূর্তিটি আসলে কালো কোষ্ঠীপাথরে তৈরি সূর্যবিগ্রহ। তবে মূর্তিটি ভগ্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত। 
   বলা বাহুল্য, পূর্বভারতে সূর্যবিগ্রহের পূজা খ্রি: নবম-দশ-একাদশ শতকে প্রচলিত ছিল। আজকের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া-হুগলি-পশ্চিম মেদিনীপুর সহ এক বিস্তীর্ণ এলাকায় সূর্যপূজার ‘পাথুরে প্রমাণ’ পাওয়া গিয়েছে, অর্থাত্‍ নানা আকারের সূর্যবিগ্রহ ভাস্কর্যের সন্ধান মিলেছে। বিহার ও ঝাড়খন্ড রাজ্যেও সূর্যপূজার প্রমাণ হিসাবে সূর্যবিগ্রহ ভাস্কর্য নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। এমনকি ‘সূর্যপুত্র রেবন্ত’র অশ্বারোহী ভাস্কর্যের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে। 
   সূর্যমূর্তি ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, প্রস্ফুটিত বিশ্বপদ্মের উপর ঋজুভাবে দণ্ডায়মান সূর্য, তাঁর দুই হাতে ধরা সনাল পদ্ম, পদ্ম দুটি মূর্তির মাথর দু’পাশে সমান্তরাল সমদূরত্বে থাকে; পায়ে থাকে রণপাদুকা অর্থাত্‍ হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা জুতার মতো আবরণ; পরণে থাকে উদীচ্য বেশ; কটিদেশ(কোমর) ঢাকা থাকে সূক্ষ্ম ও অলঙ্কৃত ‘অব্যঙ্গ’; গলায় থাকে স্বর্গীয় পারিজাত কুসুমের মালা এবং উপবীত সদৃশ বস্তু; বিগ্রহের পায়ের নিচে বা কাছে থাকে সপ্ত-অশ্ববাহিত ‘একচক্র’ রথের সারথি কশ্যপ-তনয় ‘অনরু’(যার ঊরুদ্বয় নাই); মতান্তরে ‘অরুণ’, এবং অনরু চালিত রথ, বিগ্রহের উভয়পার্শ্বে থাকে সূর্যপত্নীদ্বয় ধনুর্বাণধারী ঊষা এবং প্রত্যুষা, এছাড়াও বহুসময় অপরাপর সূর্যপত্নী ছায়া ও সংজ্ঞার মূর্তিও থাকে, অবশ্যই থাকে দণ্ডধারী দন্ডী এবং মসীপত্র ও লেখনী সহ কুন্তী মূর্তি। সূর্যমূর্তির মাথার উপর আকাশদেশে, উভয়দিকে , থাকে স্বর্গীয় পুষ্পমাল্য হস্তে উড়ন্ত গন্ধর্ব বা বিদ্যাধর। সাধারণভাবে এইসব বৈশিষ্ট্যই সূর্যমুর্তি ভাস্কর্য চেনার অন্যতম সহজ উপায়। 
   আলোচ্যক্ষেত্রে, সমগ্র ভাস্কর্যটি খোদাই করার ক্ষেত্রে তিন ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। মূর্তির দেহকাণ্ড বা ‘টরসো’ খোদাই করা হয়েছে ত্রিমাত্রিকভাবে (‘স্কাল্পচার-ইন-দ্য-রাউণ্ড’ পদ্ধতিতে); মূর্তির মাথা এবং পা-ভাগ, পার্শ্ব সহচরীদ্বয় খোদাই করা হয়েছে উচ্চাবচ(হাই রিলিফ) পদ্ধতিতে; আর অপরাপর অংশ কোথাও ‘হাই-রিলিফ’,কোথাও নতোন্নত বা ‘লো-রিলিফ’পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। 
   এছাড়া আলোকচিত্রটি থেকে যতদূর বোঝা যাচ্ছে, সমগ্র ভাস্কর্যটি ‘ত্রিরথ’ পাদপীঠের উপর বিন্যস্ত। সালঙ্কারা বিগ্রহের মাথায় রয়েছে কিরীটমুকুট, দুইকানে কুণ্ডল, দুই বাহুতে বাজুবন্ধ। প্রচলিত শিল্পরীতি অনুসৃত হয়েছে আলোচ্য মূর্তির ক্ষেত্রে।
   আলোচ্য সূর্যবিগ্রহ  ভাস্কর্যটির প্রাপ্তিস্থান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা জনপদ হওয়ায়, এই ধারণা দৃঢ়মূল হল যে, হাজার বছর পূর্বে আজকের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নানান অংশে, সূর্যবিগ্রহের পূজার্চনার প্রচলন ছিল। খ্রি: ১৯৮২-৮৩ সনে ঝাড়গ্রাম মহকুমার থানাধীন দোলগ্রাম এলাকায় বন-ঝোপের মধ্যে সূর্যপুত্র অশ্বারোহী রেবন্তমূর্তির ভগ্নাবশেষ দেখতে পেয়েছিলাম। সম্ভবত তার কাছাকাছি একটি সূর্যমূর্তির মতো অবশেষ ছিল। ভগ্ন মূর্তির মাথাটি, স্থানীয় আদিবাসী ছাত্রাবাসে হলুদ-লঙ্কা মসলা পেশায় করার কাজে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। 
   পরিক্রমাকালে বহু জায়গাতেই দেখেছি, গ্রামবাসীরা এ ধরণের প্রাচীন মূর্তি ভাস্কর্য বা বিগ্রহাদি পাওয়ার পর সিঁদুর লেপে পূজার্চনা করছেন, নতুবা ধান্দাবাজ ফড়ে দালাল মারফত কালোবাজারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা তামাম ভারতবর্ষে ঘটে চলেছে অবিরাম ধারায়। আমরা পাঠ্যপুস্তকে প্রাচীন ইতিহাস পড়ি বটে, কিন্তু ছাত্র-শিক্ষক কোনও পক্ষের মনেই ইতিহাস চেতনা জাগ্রত হয় না। নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমরা হতচেতন। হাল আমলে মার্কিনি কালচারে তো গোটা দেশ আচ্ছন্ন হয়ে আছে। সেক্ষেত্রে ‘টেরাকোটা’ সম্পাদকমণ্ডলী ও কর্মীবৃন্দ এবং সুলেখক শ্রী  মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি ধন্যবাদের পাত্র, কারণ তাঁরা আপন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যধারার সন্ধান নিচ্ছেন ও দিচ্ছেন, অন্তত তাঁদের সীমিত ক্ষমতায় নথিবন্ধকরণের প্রাথমিক কাজটুকু আন্তরিকভাবে করছেন। এ কাজ অব্যাহত থাকুক, এই প্রার্থনা রইল। 
                                                         শুভেচ্ছাসহ,
তাং-১৯ আগস্ট, ২০১০                                      শিবেন্দু মান্না 
                                                      কদমতলা, হাওড়া – ৭১১১০১”

অল্প পরিসরে, আজকের সাহিত্য ও আমরা || অমিতাভ দত্ত || গদ্য

অল্প পরিসরে, আজকের সাহিত্য ও আমরা
অমিতাভ দত্ত


সারা পৃথিবীটাই হচ্ছে গিয়ে; একটা বাজার। এই কথাটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এবং, আজকের দিনের সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি, তা ও হচ্ছে গিয়ে এই বাজারেরই বিশাল মার্কেটিংয়ের মার্কেট। এ বাজারজাত সমস্যা সারা পৃথিবী জুড়েই , আগেও ছিল,
আর, তা কিন্তু এখনো রয়েছে। কারণ, সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত একটা সিস্টেমের মধ্য দিয়েই চলে। সে সিস্টেমের বাইরে কিছুই নয়। আমরা আমাদের চারপাশে যে সিস্টেমটাকে দেখে আসছি, সেটা হচ্ছে গিয়ে লাভ ভিত্তিক; বা মুনাফা ভিত্তিক। টাকা লাগাও ; পুঁজি লাগাও ; বিক্রি কর ; আর লাভ কর ; মুনাফা কর ; আর যত খুশি কামাও। এই হচ্ছে গিয়ে সিস্টেম। তা ; সাহিত্য কি এই সিস্টেমের বাইরে নাকি!? সারা বিশ্ব জুড়েই সাহিত্যও এক বিশাল বাজার। কিন্তু সাহিত্য ক্ষেত্রে ; ইদানিং  মারাত্মক ভয়ঙ্কর আকারের রূপ ধারণ করেছে এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ; এবং  সাহিত্য ব্যবসায়ীদের লোভ। মারাত্মক অবস্থা। আচ্ছা বলুনতো , মানুষ তাহলে বাঁচবেনই বা কি করে!? মিথ্যে চাকচিক্যময় শঠতার ইমিটেশন ভাষা এবং শব্দের ব্যবহারে নিত্য নতুন নতুন বাঁধনে আমাদের বেঁধে ফেলছে এবং অল রেডি বেঁধে ফেলেছে। না না, শুধু আমাকেই নয়, সব্বাইকেই , এবং সমস্ত ক্ষেত্রেই বলা যায়, আমাদের বেঁধে ফেলেছে। লাভ ; মুনাফা মানেই লোভ , এবং সেখান থেকেই বৈষম্যের জন্ম। কারণ যারা বেঁধেছে , তারা তো মাত্র হাতেগোনা গুটিকয় মাত্র ! বাকি সবটাই ক্রেতা। এ তো গেল ধনবাদী সিস্টেমের সমস্যার কথা। কিন্তু এ কি শুনছি! ট্রেন বাসে ফিসফাসে প্রায়ই শুনি, কবির কবিতা চুরি হচ্ছে, কবি কণ্ঠের স্বরচিত কবিতা পাঠের ; বা, আবৃত্তির ভিডিও চুরি হচ্ছে, কবিতা ছেপে দেবো বলে , টাকা মেরে দিয়েছে , বই ছেপে দেবো বলে টাকা নেওয়া হয়েছে , অথচ বই ছাপানো হয় নি, আজীবন সদস্যের নাম করে আড়ালে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে , ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কতশতই শুনি। আরো বাকি বন্ধুরা যারা যতটুকুই জানেন , তা সিরিয়াস সাহিত্যের স্বার্থে প্রবন্ধ আকারে বা আর্টিকেল হিসেবে লিখুন, এবং তা সৎ সাহিত্যেরই উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই স্বার্থেই লিখুন। শক্তিশালী বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে সাহিত্যকে বাঁচিয়ে তুলতে দৃঢ়তার সাথে কলম ধরুন। ভাঙচুর না করলে , নূতন ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে জায়গাটা তৈরি করে না নিলে , কোন ভালো নতুন কিছুই নির্মাণ করা সম্ভব নয়। যিনি যতটুকুই জানেন, সর্বত্র সেই গোপন কথা ছড়িয়ে দিন, এবং মানুষের সর্বসমক্ষে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করুন। ইদানিং নয়, বেশ কিছু কাল যাবৎ ধরেই লিটিল ম্যাগাজিনের নামের আড়ালে লোভের লাভের মুনাফার , এবং প্রতারণা ঠগবাজির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  আমাদের মনে রাখা উচিত, লিটিল ম্যাগাজিন শঠতার প্রতারণার প্রবঞ্চনার মুনাফার জায়গা নয়, লিটিল ম্যাগাজিন একটা সিরিয়াস সাহিত্যের প্লাটফর্ম, লিটিল ম্যাগাজিন একটি আন্দোলনের মঞ্চ। লিটিল ম্যাগাজিনের জন্মের একটা ইতিহাস আছে, লিটিল ম্যাগাজিনের একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার একটি স্বর্ণোজ্জ্বল চরিত্রের লিখিত ইতিবৃত্ত আছে। লিটিল ম্যাগাজিন হলো গিয়ে সিরিয়াস সাহিত্য আন্দোলনের এক ধারাবাহিক বহতা নদী। যেখানে নূতন লেখক লেখিকারা যাঁরা তাঁদের লেখনী শক্তির দ্বারা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ধরবেন , এবং এই নোংরা সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ নির্মাণের পথ দেখাবেন। এছাড়াও, যেখান থেকে উঠে আসবেন নূতন নূতন প্রতিবাদী লেখক লেখিকাদের মুখ, এবং প্রতিবাদী লেখক লেখিকাদের এবং লেখা। সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করে, সাহিত্য নির্বাক মানুষের মুখে ভাষা এনে দেয়, সাহিত্য মনুষ্য সমাজের বুকে সাহস এনে দেয়, সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে পথে নামায়, এবং মিছিলে পথ হাঁটায়। রাষ্ট্র সৎ সাহিত্যের সাহিত্যিককে লেখক লেখিকাদের জেল খাটায় ; এমনকি বহু লেখক লেখিকাদের মৃত্যুও বরণ করতে হয়েছে , এবং সে ইতিহাসও লিখিত সাহিত্যের প্রতি পাতায় পাতায়। এ কথা ঐতিহাসিক সত্য, এবং তা শুধুমাত্র আমার দেশেই নয়, সারা পৃথিবীব্যাপী এই ইতিহাস লিখিত রয়েছে। আসলে কি জানেন ; সারা বিশ্বব্যাপী সমস্ত রাষ্ট্র নায়কেরা এই লোভ সর্বস্ব লাভ এবং মুনাফা ভিত্তিক সিস্টেমটাকে চালাতে গিয়ে ; বহু অকর্ম কুকর্ম করতে হয় , এবং এ কারণেই ওরা ভীষণ আতঙ্কে থাকে। ফলশ্রুতিতে এরা লিটিল ম্যাগাজিনের লেখক লেখিকাদের , এবং সৎ সাহিত্যের লেখক লেখিকাদের ভীষণ ভয় পায়। এ কারণেই , সে ভয় থেকেই এই অমানবিক সিস্টেমের চালক রাষ্ট্র নায়কেরা লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলনের লেখক লেখিকাদের, এবং সিরিয়াস সৎ সাহিত্যিকদের গারদে পাঠিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, তাঁদের লেখনী বাজেয়াপ্ত করা হয়। সাহিত্য আন্দোলন নিছক খেলা নয়, সাহিত্য আন্দোলন আগুন। সাহিত্য সমাজের বুকে প্রেম ভালোবাসা মানবতা জাগিয়ে তোলে, এবং , সাহিত্য মানুষকে ভাবতে শেখায়। সাহিত্য আগুন, অতএব আগুন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ফল মনুষ্য সমাজকেই ভুগতেই হবে।  সাহিত্যকে মুদ্দা করে নাম সুনাম কেনা, একে ফেলে দিয়ে, তাকে ল্যাং মেরে ফেলে সরিয়ে দিয়ে উত্তরীয় পরা ; ছবির তোলা, সাহিত্য নয়। শিল্প সংস্কৃতি সাহিত্য , এবং লিটিল ম্যাগাজিনের আড়ালে ঠগবাজির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া, আমাদের যে ভাবেই হোক রুখতেই হবে। নইলে সিরিয়াস সাহিত্য চাকচিক্যময় ইমিটেশন শব্দের মিথ্যা সাতকাহন কথার ভীড়ে হারিয়ে যাবে, এবং মৃত্যু ঘটবে। শুকিয়ে যাবে সাহিত্যের বহতা নদীর জল।
কড়া বুড়ি গন্ডা কাহন ইত্যাদি ইত্যাদি শব্দগুলো আমরা ষাট পঁয়ষট্টি বছর আগেকার ধারাপাতে পেয়েছি। তা আমার বলবার বক্তব্য হলো গিয়ে, আজকাল বেশ কিছু শঠ প্রতারক সাহিত্যের অঙ্গনে ঢুকে লিটিল ম্যাগাজিনের নামের আড়াল নিয়ে ; ভয়ঙ্কর রকমের ঠগবাজির খেলায় মেতে উঠেছে , এবং সে কম্ম তারা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে ; মিথ্যা সাতকাহন কথার চাকচিক্যময় জড়ির পর্দার আড়ালে। লেখাজোকাও গতিপথ হারিয়েছে , এবং বিষয় হারিয়ে ফেলেছে। বহু নূতন নূতন লেখক লেখিকা এই ঠগবাজি চক্রান্তের জালে পড়ে ; এই সমস্ত ব্যওসাদারদের পাল্লায় পড়ে ঠকেছেন। লিটিল ম্যাগাজিন এখন আর সাংগঠনিক সিস্টেমের কাঠামো নয়, ভালো মানুষকে ঠকানোর মাধ্যম মাত্র। লিটিল ম্যাগাজিন আসলে সাংগঠনিক কাঠামো, একক ব্যবস্থা নয়। লিটিল ম্যাগাজিন মানে হচ্ছে গিয়ে , রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কলম ধরা, লিটিল ম্যাগাজিন মানে হচ্ছে গিয়ে কারাবাস করা, লিটিল ম্যাগাজিন মানে হচ্ছে গিয়ে মৃত্যু বরণ করা, লিটিল ম্যাগাজিন মানে হচ্ছে গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিলে
হাঁটা, লিটিল ম্যাগাজিন মানে উত্তরীয় নয়, ফুলের মালা নয়, সার্টিফিকেট নয়, মেমেন্টো নয়, লিটিল ম্যাগাজিন হচ্ছে গিয়ে , সততা সত্য, এবং একটা সাংগঠনিক সিস্টেম।  গুটিকয় সৎ সাহিত্য পত্রিকা যে নেই, তা কিন্তু নয়, আছে, কিন্তু তাতে করে, সেই শক্তি নিয়ে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। প্রবাহমান ধারা কোথায়!? মিথ্যা বিজ্ঞাপনের জৌলুসে, মিথ্যা সাতকাহন কথার ভীড়ে , সাহিত্যের আসল কাজটাই বিঘ্নিত হচ্ছে। সাহিত্যের বাজারে সারা পৃথিবী জুড়েই এই লিটিল ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার আন্দোলন আজও পর্যন্ত চলেই আসছে। ক্ষীণ দূর্বল আকারে হলেও , সবটাই এখনো শেষ হয়ে যায় নি। লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলন আবার জাগবেই, এবং জাগিয়ে তুলতেই হবে।  কারণ, আমরা সবাই-ই এই শোষণ জুলুম অত্যাচার নির্যাতনের সিস্টেমের সাথেই জড়িয়ে রয়েছি , আসলে লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আমার বাংলাতেও এই আন্দোলন আজও জারী রয়েছে, কিন্তু অল্প সংখ্যক কতিপয় সৎ লিটিল ম্যাগাজিন সংগঠন দিয়ে এ লড়াইয়ের ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আমার তো মনে হয় না। লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলনকে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ভাস্বর করে তুলতে যৌবন দ্যুতিময় যুবক যুবতীরা সাংগঠনিক বলিষ্ঠ চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে না এলে, এ লড়াইয়ে জেতার সম্ভাবনা খুবই কঠিন। লিটিল ম্যাগাজিনের অর্থই হচ্ছে গিয়ে, গ্রুপ লিডার শীপের সিস্টেম। কোন একক ব্যক্তির নয়। একক ব্যক্তির পরিচালনার মানেই হচ্ছে গিয়ে, ব্যক্তিগত মালিকানার সিস্টেম। অর্থাৎ , লাভ এবং লোভ।  সাহিত্যের এ গ্লানিময় তাপ উত্তাপ থেকে মুক্তি পেতে, এই কদর্য সাহিত্যাকাশের আজকের যোধন থেকে বাঁচতে ,বা মুক্তি পেতে,  আমাদের এই লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে, যৌথ সাংগঠনিক সিস্টেম ডেভেলপ করেই এগিয়ে আসতে হবে।  একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, লিটিল ম্যাগাজিন নাকি ক্ষণজন্মা, কিন্তু, লিটিল ম্যাগাজিন আন্দোলনের ক্ষেত্রে তা প্রাণের অনুরণন , এবং জীবনের লক্ষণ। ঠিক যেমন বহতা নদীর জলে ময়লা ভেসে চলে যায়, ঠিক তেমনিই। আমি ট্রেনে বাসে চায়ের দোকানে আড্ডায়, এই আজকের সাহিত্যের অবস্থার অ-কথা কু-কথা প্রায়ই শুনে থাকি, এবং তা শুনে মনে ভীষণ কষ্টও পেয়ে থাকি। এবং, এও সত্য যে, ম্যাজিকের মতো ফুস করে ঠিক হয়ে যাবে এ বিশ্বাস করি না। কিন্তু বদলটা মানুষকেই করতে হয়, সেটা খুব ভালো করেই জানি। অতএব সাধু, সাবধান সাবধান সাবধান , লিটিল ম্যাগাজিনের নামে ব্যবসা বন্ধ আমাদের করতেই হবে । লিটিল ম্যাগাজিনের আড়ালে, ঠগবাজি চক্রান্তবাজি ভেদাভেদ মুনাফাবাজি, নাম কেনা, মালা পরা , উত্তরীয় পরা ইত্যাদি ইত্যাদি নয়, লিটিল ম্যাগাজিন
আসলে সিরিয়াস সাহিত্যের একমাত্র সার্বজনীন প্লাটফর্ম।
🌑🌕🌑🌕🌅🌱🌳🌹🎻🦚🌄⛵🛶⛵🛶🛶
    শেয়ার করুন দয়া করে।
                     অমিতাভ দত্ত।
৯৪৭৫২৩৩

আজকের সূচি~

আজকের সূচি~