বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস

শ্রাবণী গুপ্ত




একটা গোটা জীবন

আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম


জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল

আমাদের গায়ে, হৃদয়ে


তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আমাদের গাছের কথা

মনে পড়ল না....


তবু প্রতিহিংসা করতে গিয়ে আমাদের ছায়ার কথা

মনে পড়ল না....


একটা গোটা জীবন

আমরা শুধুই আলোর উৎসের সন্ধানে মেতে

থাকলাম?


আহা কী আশ্চর্য সহবাস!

নস্টালজিয়া ২১ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ধারাবাহিক গদ্য

 নস্টালজিয়া ২১

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



খুব দোলাচলে কাটছে দিন। ছুটি আছে অথচ ছুটির আনন্দ নেই। অন্য বারের বিজয়া দশমীর শূন্যতা এবার আগমনীর পূর্ণতাকে ছাপিয়ে গেছে। কী এক বিষাদের ছায়া সবার মুখে। মনে আছে, যে বার পুজোর ঠিক আগে  আমার মেজমামা মারা গেছিল সেই বার মায়ের মুখে এই বিবর্ণ পুজোর ছবি দেখেছিলাম। মা তার মেজদাকে খুব ভালো বাসত।ছোটবেলায় পিতৃহারা আমার মা তার দাদা ভাইদের আদরে বড় হয়েছিল। মা খুব কাঁদত মেজদার  জন্য।  মায়ের মন খারাপের জন্য  আমাদের সে বছর পুজো খুব বিষণ্ণতায় কেটে ছিল। সংসারে  গৃহকর্ত্রী মা যদি কোনো কারণে আনন্দে না থাকে, তাহলে সেই সংসারে আনন্দ থাকে না। মায়ের মনের আনন্দ আমাদের মনেও   আনন্দের উৎস মুখ খুলে দিত। মাকে মাঝে মাঝে আমার নদী বলে মনে হত। সে সংসারের সব  দুঃখ কষ্টকে অনায়াসে বয়ে নিয়ে যেতে পারত আবার আনন্দে দু'কুল ছাপিয়ে যেত। শরতের  ভোরের হাওয়ায় শিউলির গন্ধে মায়ের আগমনের সুগন্ধি ছড়িয়ে যেত।ভোরের শিশির ভেজা ঘাসে আলতা রাঙা পায়ে মা গঙ্গা স্নান করে ঘরে এলে কত কচি ঘাস মায়ের ভিজে পায়ে জড়িয়ে থাকত।পুজোর খুশির ছোঁয়ায় মা  কাজের মাঝে মাঝেই গুনগুন করে গান গাইত। সেদিন মায়ের খুশির আলাদা কোনো কারণ আমি খুঁজে পেতাম না। সারাদিন তো আর পাঁচটা দিনের মতোই কাটত তবু কী যেন একটা ভালো লাগা মনকে স্পর্শ করত বুঝতে পারতাম না। মায়ের একবার ইচ্ছে হলো চরকায় সুতো কাটা শিখবে।আমাদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে কাটরা মসজিদের কাছে একটা চরকা সেন্টার ছিল। মা খুব উদ্যোগের সাথে সেখানে ভর্তি হলো। খুব তাড়াতাড়ি শিখেও গেল তুলো থেকে  সুতো তৈরি করতে। এইরকম শরৎকালের দুপুরে মা সব কাজকর্ম সেরে যেত সেখানে। আমিও মাঝে মধ্যে যেতাম মায়ের সঙ্গে। দুপাশে মাঠে অজস্র কাশফুলে চারদিকে পুজোর সাজ ,সবুজ ধানখেত। 

সেন্টারে দেখতাম অধিকাংশই দুঃস্থ, দরিদ্র মেয়েরা সুতো কাটছে। আমার মা কত অনায়াসে তাদের সঙ্গে বসেই নিজের কাজ করত। তুলো থেকে সুতো তৈরির বিনিময়ে মা সামান্য হলেও কিছু টাকা পয়সা মা পেত এবং তাতে খুব খুশি হতো। মায়ের এই আগ্রহ দেখে বাবা সেখানে permission করিয়ে বাড়িতেই একটা চরকা আনিয়েছিল। খুব খুশি মনে মা ঘর্ঘর শব্দে তাতে সুতো তৈরি করতো।পরে আমি সবরমতী আশ্রমে চরকা দেখে খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম। আর আমি যে চরকায় কীভাবে সুতো কাটতে হয় জানি এটা ভেবে মায়ের জন্য  কী জানি কেন খুব গর্ব বোধ হচ্ছিল।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৭০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৭০.

এরপর আফজল আলি-র লেখা। আফজল সম্পর্কেও আমি এই লেখায় বেশ কয়েকবার বলেছি। অতএব রাজকল্যাণের মতো আফজল -এর লেখা থেকেই আপনাদের কবিতাপাক্ষিককে চিনে নিতে হবে। চিনতে শুরু করুন :

' মনের ভিতর একটা ছটফটানি কাজ করছিল। কবিতাকে পাল্টানোর তাগিদ , ভিন্নধরনের লেখার তাড়না। এইরকমই এক বাঁকবিন্দুতে পেয়ে গেলাম কবিতাপাক্ষিকের সন্ধান। একদিন দেখলাম( আজ থেকে অনেক পুরোনো কোনো এক সংখ্যায় ) পত্রিকার ভিতরে বিজ্ঞপ্তি --- " নবীন কবিরা তাদের কবিতা নিয়ে আসুন। আমরা সাগ্রহে শুনতে রাজি।"ঠিকানা পটলডাঙা স্ট্রিটের কবিতাপাক্ষিকের আড্ডাখানা। প্রতি শনিবার বিকেল ৫টা।দৃষ্টি আটকে গেল। ডাকে কবিতা পাঠালাম। মনোনীত হল না দূরাভাষে মাননীয় প্রভাত চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম।উনি আরো লেখা পাঠাতে বললেন । পরবর্তী কালে ডাকে পাঠানো লেখার মধ্যে একগুচ্ছ কবিতা ছাপা হল। প্রথম কবিতাটি ছিল---" হাইফেনবিষয়ক গদ্য "। তার আগেই একদিন পটলডাঙায় গেলাম। প্রভাত চৌধুরীকে সম্মুখ দেখতে। ' ...   ...

' একটি ঘণ্টা ছিলাম সেদিন। অদ্ভুত কাছে টানার ক্ষমতা আছে এই কবির।তারপর থেকেই আমিও কবিতাপাক্ষিক পরিবারের সদস্য বনে গেলাম।তখন পোস্টমডার্ন নিয়ে বেশ কাজকর্ম শুরু হয়েছে।আমার লেখার মধ্যেও ফুটে উঠতে লাগল উত্তর-আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য।কবিতাপাক্ষিক আমাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দুই-ই দিল। এরপর আমার অনেক কবিতাই কবিতাপাক্ষিকের বিভিন্ন সংখ্যায় স্থান পেয়েছে। '

আফজল আরো লিখেছিল :

' আর কবিতাপাক্ষিকের যে কোনো আড্ডা মানেই নির্ভেজাল আনন্দের ও সৃজনীমাত্রার। যেমন সাংগঠনিক বিস্তার , তেমনি বিস্তার পারস্পরিক সম্পর্কও। সার্বিক অর্থে কবিতাপাক্ষিক আজ এক বড়ো পরিবার যা বাংলাভাষাভাষী সব মানুষের কাছে পৌঁছুতে চায়। '

সুজিত দাশ = আমি আর লীনা হেঁটে চলছি। 

সুজিত দাশ = তারকেশ্বর । 

এই সুজিত দাশ ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' শীর্ষক লেখাটিতে ব্যবহার করেছিল ক্যালেন্ডারের কয়েকটি তারিখ। তৎসহ কিছু আত্মকথন। গুটিকয়ের অংশ পড়া যাক :

২২ নভেম্বর ২০০২

...   ...  আজ সিঙ্গুর বইমেলায় কবি প্রভাত চৌধুরীর সাথে পরিচিত হলাম।অবাক হই , একজন প্রতিষ্ঠিত কবিকে , সম্পাদককে নিজের প্রকাশিত বইপত্র সাজিয়ে বুকস্টলে উপস্থিত থাকতে দেখে।কোনো এক কথা প্রসঙ্গে প্রভাত চৌধুরী বললেন , --- আমি আধুনিক নই।'

২৯ নভেম্বর ২০০২

কবিতা পাক্ষিক গোষ্ঠীর কেউ রবীন্দ্রবিরোধী নন  । রবীন্দ্রনাথের যথার্থ উত্তরাধিকারীরাই কবিতার প্রতিষ্ঠান।

 ১৫ জানুয়ারি ২০০৩

নন্দন চত্বরে লিটল ম্যাগাজিন মেলা।সুভাষ আমি শ্রীকান্ত গিয়েছিলাম। পোস্টমডার্ন বাংলা কবিতা বইটা সংগ্রহ করলাম। কবিতাপাক্ষিক স্টল। ৯৬ জন কবির বৈচিত্র্যময় কাব্যচর্চার নমুনা হাতে পেয়ে আমি যৎপরোনাস্তি খুশি। উত্তরাধুনিক বিশ্বের চিন্তাভাবনা নীরবে  যে কয়েকজন কবিকে দোলা দিয়ে গেছে তাদের বেশি অংশই আজ কবিতাপাক্ষিক পরিবারের লোক। ঘোষিত ভাবেই।

৩১ জানুয়ারি ২০০৩

কবিতাপাক্ষিকের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের ৫০ প্রান্তে পঞ্চাশটি অনুষ্ঠান হচ্ছে। এর মধ্যে  একটা হবে তারকেশ্বরে। কলকাতা বইমেলায় কবিতাপাক্ষিকের স্টলে বসে গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রভাত চৌধুরীর সাথে কথা হচ্ছিল এ বিষয়ে। 

৩১ মার্চ ২০০৩

আমরা এই বহুবাচক শব্দটা মিথ্যা কি ? বোধহয় না। বোধ হবে কেন ? নয়ই। প্রভাত চৌধুরীর টোটাল পোয়েট্রির ধারণায় আমরা শব্দটি আবশ্যিকভাবেই আর একটি উপাদান হবে।...   ...    ...সুতরাং আমরা একটি সত্য শব্দ। আমরা এই পরিবারের  ...   '

আমিও কিছুই ভুলে যাইনি সুজিত। ভুলে যেতে পারি না , বলেই ভুলে যেতে পারিনি। তোমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তা অটুটই থাকবে।

আটপৌরে কবিতা ৯৫১-৯৫৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার


৯৫১

ইশারা/  চাউনি/ মুখভাষা
       ) মনোভঙ্গি  (
বুঝিয়ে দেয় মানুষের চরিত্র ।

৯৫২

ঘটনা/  সংবাদ/  গল্প
        ) বিষয়বস্তু  (
রোমান্ঞ্চকর হলে তবে আকর্ষক ।

৯৫৩

অহং/  গর্ব/  আনন্দ
       ) আত্মশ্লাঘা  (
বোধ কখনো বিষ হয় ।

৯৫৪

অনুষ্ঠান/  স্মৃতিতর্পণ/  পরাক্রমণ
          ) প্রভাতফেরী  (
পঁচিশে বৈশাখ দারুণ লাগে ।

৯৫৫


প্রতিশোধ/ দ্বন্দ্ব/  অভিযোগ
      ) দোষারোপ(
করা আমাদের একান্ত অসুখ ।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার কবিতা ১৯৮৮ - ১৯৯২ । ঋজুরেখ চক্রবর্তী । রক্তকরবী

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 




কবিতা ১৯৮৮ - ১৯৯২ । ঋজুরেখ চক্রবর্তী । রক্তকরবী । পনের টাকা ।


' সমগ্র জীবনসূচি থেকে/  সমগ্র জীবনসূচি বাদ দিয়ে দিলে/  পড়ে থাকে সমগ্রতা জীবনসূচি । ' ( 'জীবনসূচি' ) । কিংবা,  ' মশলার গন্ধে সন্ধ্যে ঢেকে যায় / চকিতে রাস্তার মোড়ে জ্বলে ওঠে সোডিয়াম মৃত্যু চেতনার মতো ' (ইতিবৃত্ত)  -র গভীর গভীরতর কাব্যইঙ্গিত অক্লেশে কবি ঋজুরেখ চক্রবর্তী আমাদের সামনে হাজির করেন তাঁর 'কবিতা ১৯৮৮-১৯৯২ ' শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে  । তাঁর কবিতার সামনে আকর্ষিত হয়ে  তাই বারবার উচ্চারণ করতে ইচ্ছে হয়: ' সেই সব নারকীয় সন্ধ্যাগুলি অবশেষে ত্যাগ করে বাঁচান আমাকে, বাঁচান হাঁপানির মতো দিনগুলি বহু দূরে চলে দিয়ে একেবারে ।'( ' ব্যক্তিগত শ্বেতপত্র '),' নির্জন,  তোমাকে অবশেষে গোপনে জানাই,  / সে আমার রাত্রিজোড়া অন্ধকারে আলোর রোশনাই । ' ( নির্জনকে পাঁচটি সনেট)  -এর মতো পংক্তি ।

               কবি ঋজুরেখ  এ কাব্যগ্রন্থে এক সাবলীল অবস্থানে দাঁড়িয়ে  গভীর ব্যন্জ্ঞনার শব্দ সমষ্টি ছড়িয়ে দিয়েছেন । তিরিশ বত্রিশ বছর আগের লেখা এই চার ফর্মার কাব্যগ্রন্থটি তাই ছেড়ে যেতে চায় না মন থেকে । কবি শিখিয়ে দেন কিভাবে শব্দের সুতো দিয়ে কবিতাকে বপন করা যায় । 

           কাব্যগ্রন্থে পাই:  ' আমি শুধু তোমাকে জড়াতে চেয়ে হাত থেকে ধুয়ে ফেলেছি সব অন্ধকার ছাপ । তাই আজ আর তোমার যথার্থ কোন উপমা খুঁজি না । ' ( স্বীকারোক্তি ) -এর মতো অজস্র পংক্তি । যার ভেতর দিয়ে পাঠক গভীরতর অবস্থানে পোঁছে যেতে পারেন অনুষঙ্গের ভেলায় চড়ে । পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ ও মুদ্রণ পারিপাট্য দাম দেবার মতো । এত নির্ভুল কাব্যগ্রন্থ অনেক দিন পর পাওয়া গেল ।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

দশটি হাইকু || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

 দশটি হাইকু

ফটিক চৌধুরী



১. রবিঠাকুর

কাছে টানে নীরবে

বাড়ায় হাত।


২.প্রাণের টানে

কবিতায় এসেছি

কবিতা জানে!


৩.রাত বাড়ুক

আসবে সুপ্রভাত

তোমার জন্য।


৪.ঘুমের ঘোরে

তোমাকে প্রতিরাতে

কাছেই পাই।


৫.দিবস রাতি

চোখেরই পাতায়

জীবন মাখি।


৬.আমি অতল

খুঁজি, তুমি যেখানে

থাক গভীরে।


৭.কিসের টানে

চেয়ে আকাশ পানে

মনই জানে।


৮. পুরনো দিন

পথের পাশে জমে

কুড়িয়ে নেবে?


৯.ভীষণ খরা

প্রবল ধারাপাত

আসুক জরা।


১০.প্রহর গোনো

দেখ যমদূত কী

আছে দাঁড়িয়ে!

আটপৌরে কবিতা ৯৪৬-৯৫০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯৪৬

স্থায়ী/  অধিকার/  বাসিন্দা
      ) পাকাপাকি  (
হলে তবে সন্মান আসে ।

৯৪৭

গন্ধ/  স্বাদ/  লোভ
   ) খোসবাই  (
আমাদের খিদে বাড়িয়ে দেয় !

৯৪৮

বিশিষ্ট/  গভীর/  মনোযোগ
        ) তাৎপর্যপূর্ণ  (
কিছুটা আমাদের আশ্রয় বাড়ায় ।

৯৪৯

সংযত/  লক্ষ্যমাত্রা/  সুন্দর
       ) মাত্রাবোধ  (
না থাকলে সব তালগোল ।

৯৫০

গোঁড়ামি/  ভেদ/ সাম্প্রদায়িক
       ) জাতধর্ম  (
মানুষকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন করে ।

কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার উটের শহর । নমিতা চৌধুরী । চেতনা

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 




উটের শহর । নমিতা চৌধুরী । চেতনা । আঠারো টাকা ।



ভিন্ন ভিন্ন কবির কবিতায়  আলাদা আলাদা চেতনার গুণে কবিতা জীবন্ত হয়ে ওঠে । সেই জীবনের সন্ধানে ধাবিত হয় কাব্যসম্বল মানুষজন । তাই যখন:  ' দেখেছি কিভাবে স্বেদ রক্ত মাখামাখি/  বিকলাঙ্গ একটি নতুন দিন/  সাদা ধবধবে নার্সের কোলে চোখ বুজে ঘুমিয়ে রয়েছে । ' ( নিদ্রাহীনতা ') এর মতো  কবিতাকণা কোন পাঠক পান , তখন তাঁর ভেতরে কেমন স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে!  কবি নমিতা চৌধুরীর  'উটের শহর ' কাব্যগ্রন্থে আছে এ ধরনের অজস্র পংক্তি,  যা আজ থেকে বাইশ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল ।

                 নমিতার কবিতাতে আরো পাই:  '  ধুলোর ক্লান্তি মেখে দরজায়/  চর্যাপদ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন / শব্দ থেকে শব্দ ঘুরে বসি '( ' পর্বান্তর ' ), 'জন্মহীন দাগের মতন - / নীলজলে গুলে যাচ্ছে সময় ' ( ' প্রজন্ম কথায় ') , ' আলতা পায়ে অন্ধবধির জানে/  প্রকৃতির বিবাহ মঙ্গল ।' ( ' তিনকন্যা '), ' সেই সব এলোমেলো ভাষা শব্দহীন/  বৃক্ষের কোটরে নিম খুন ডেকে আনে ' ( ' নিম খুন ' ) এর মতো  উজ্জ্বল পংক্তি তাঁর লেখা পড়ার চাহিদা বাড়ায় । 

                 একথা বলা যেতে পারে,   কবি এই সব নিম্নগ্রামের কবিতার ভেতরে বেছে নেন কিছু প্রত্যয়। তিনি নিঃশব্দে কিছু ম্যাজিক উপহার দেন,  যার জন্যে গিলি গিলি গে, অ্যাবরা ড্যাবরা উচ্চারণ করে পাঠকের মনকে বিক্ষিপ্ত করতে হয় না । ' উটের শহর ' সেই পর্যায়ের কাব্যগ্রন্থ যা সত্যেরসামনে দাঁড় করাতে শেখায় , বাজারী কবিদের মতো ভান শেখায় না । 

                  কবির সত্যকে আবিষ্কার করা পাঠকের কর্তব্য , যা মেখে নিতে হয় মনের গোপন কোণে । হিরণ মিত্রের প্রচ্ছদচিত্র ব্যতিক্রমী ।  বর্তমানে তিনি এই ধরনের প্রচ্ছদ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। প্রচ্ছদটি অসামান্য চেতনার ফলশ্রুতি বলে ধারনা জন্মায় ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৯.

এবার রাজকল্যাণ চেল। আমার এই লেখাটিতে বেশ অনেকবার রাজকল্যাণের প্রসঙ্গ এসেছে। সেইসব প্রসঙ্গে আমি রাজকল্যাণ সম্বন্ধীয় বহুকথা বলেছি। এবার আমি একটিও আমার কথা বলব না। পুরোটাই রাজকল্যাণ যা লিখেছিল , আমি সেগুলি আপনাদের পড়াতে চাইছি। পড়তে থাকুন :

' এই মুহূর্তে বাংলা কবিতার রাজ্যে বৃহত্তম পরিবার অবশ্যই কবিতাপাক্ষিক পরিবার। শুধু আসমুদ্র হিমাচল নয় , কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র কথিত --" দক্ষিণে সুন্দরবন।উত্তরে টেরাইও নয়।"আরৌ দূরে ভারতবর্ষের অন্যত্র থেকে বিশ্বেরও বিভিন্ন প্রান্তে এ পরিবারের পারিবারিক সীমানা বিস্তৃত। ঘরকুনো বাঙালির এই অভাবনীয় সৃষ্টি অবশ্যই একদিন বাংলা কবিতার ইতিহাসে সশ্রদ্ধ স্বীকারোক্তি আদায় করে নেবেই , বৃহত্তম দ্বিতীয় কীর্তি হিসেবেই। কেননা পরিবারের সংজ্ঞাই যখন বদলে যাচ্ছে , কবি প্রভাত চৌধুরীর এই অনন্য প্রয়াস, একটি কবিতা পত্রিকাকে নিয়ে এই স্বপ্নরচনার প্রতি আজ আমরা উদাসীন থাকলেও ভবিষ্যতে আমাদের মেনে নিতেই হবে। '

' কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকটা শহর বনাম শহরতলির মতন। কবিতাপাক্ষিকের একজন পাঠকরূপে। এই পাক্ষিক পত্রিকাটি যে কবিতাধারার তন্নিষ্ঠ প্রচারক , পোস্টমডার্ন কবিতা আমার কাছে এই কবিতার ফর্ম এবং কনটেন্ট মারাত্মক ইন্টারেস্টিং। একই রকম লেখা পড়তে পড়তে একঘেয়ে এই আমি  ওই ধারার কবিতাগুলির ভবিষ্যৎ পরিণতির দিকে চেয়ে আছি। '

 এরপর রাজকল্যাণ চেল লিখেছিল কবিতাপাক্ষিক - এর ২য় বর্ষপূর্তি উৎসবের যাবতীয়। এই যাবতীয়-র মধ্যে প্রস্তুতিসভা থেকে উৎসবকথা। 

আমি যখন এই বর্ষ পূর্তি উৎসবের কথা রিপোর্টিং করেছিলাম , তখন যা বলেছিলাম , তার সঙ্গে রাজকল্যাণ পরিবেশিত এই তথ্যগুলি যোগ করা আমার অবশ্য কর্তব্য। রাজকল্যাণ লিখেছিল :

' এই  কবিতা উৎসব পরিকল্পনাটির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল প্রভাত চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ১০/১৫ জন তরুণ প্রধান শিল্পী ও কবির উপস্থিতিতে বেলিয়াতোড়ে , ডা: দীপংকর মাজীর ভদ্রাসনে বসে ।' এখানে আমার প্রতিবাদ স্থাপন করছি। প্রতিবাদ - স্মারকটি হল : ওই উৎসবের যাবতীয় কর্মকাণ্ড কবি রাজকল্যাণ চেল - এর নির্দেশে প্রতিপালিত হয়েছিল। আমি সজ্ঞানে এই স্বীকারোক্তি করলাম। রাজকল্যাণ আমাকে সামনে রেখে পেছন থেকে সব কাজের বা প্রতিটি পদক্ষেপের মনিটরিং করেছিল রাজকল্যাণ। কে সভাপতি হবেন থেকে কে সঞ্চালনা করবেন, সবকিছু ঠিক করেছিল রাজকল্যাণ। কারণ বাঁকুড়া আমার জন্মস্থান হতে পারে , সে সময় বাঁকুড়া আমার কাছে পুরোটাই অপরিচিত ছিল। কার্যত রাজকল্যাণের নির্দেশ পালন করতে আমি বাধ্য ছিলাম।

ফুরিয়ে আসছে দিন || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

 দীর্ঘ কবিতা

                                                  

ফুরিয়ে আসছে দিন

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



পৃথিবীর সবকিছু বদলে যাচ্ছে অনবরত ‌।

মাটি জল বায়ু আর ভূ-বৈচিত্রে সেই কবে যেন

বেসামাল এক ধাক্কা লেগেছিল হঠাৎ করেই।

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব হল উনবিংশ শতাব্দীতে।

মানুষের চোখে এক প্রকৌশল ডানা মেলেছিল।

মানুষও ভেবেছিল তারা সব বদলাতে পারে।

#

সুফল কিছু মিলেছে জীবনের গুণগতমানে ।

কালক্রমে দেখা গেল, জল বাতাস দূষিত হচ্ছে।

ভূবৈচিত্র ক্রমে ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ।

একে একে হারাচ্ছিল বাস্তুতন্ত্রের সব চরিত্র।

কার্যকারিতা হারায় তার যাবতীয় উপাদান।

আট লক্ষ বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি তাই

ঘটে চলল পঞ্চাশ ষাট বছরের ব্যবধানে।

সবচেয়ে উষ্ণতম হয়ে উঠল এই শতাব্দী ।

#

আমার শহর এক উষ্ণতম দ্বীপের মতন ।

কলকাতা শহরকে দিশেহারা দেখিনি এমন। 

নানা প্রশ্ন উড়ে আসে,জবাব কঠিন হয় ক্রমে !

শিল্প বিপ্লবের পরে, কার্বন, বিষাক্ত কার্বনই

বেশি মিশেছে বাতাসে,  কমপক্ষে চল্লিশ শতাংশ 

তার আবহমন্ডল গিলেছে সাত আট দশকে । 

#

আমাদের পৃথিবীর যে তিন শতাংশ জল, সেই

জল এই শতাব্দীর মাঝেই উষ্ণ হয়ে উঠবে ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি

উত্তর মেরু অঞ্চল আর হিমালয় অঞ্চলের

জমে থাকা বরফও দ্রুত গলতে শুরু করবে ।

সমুদ্রতল উঁচুতে উঠছে আমাদের অলক্ষ্যে ।

সমীক্ষা বলছে, গত এক শতাব্দীতে আমাদের

সুন্দরবনের ভূমি ক্ষয়ে গেছে ভয়াবহভাবে ।

#

আর সাগর এগিয়ে গেছে কয়েক কিলোমিটার ।

বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে কয়েক কোটি হেক্টর, 

দিন, মাস ও বছর আমাদের অক্সিজেন দিয়ে  

বেঁচে থাকতে সাহায্য করে সহজ সরল বন।

কত কৃষিজমি আর চারণভূমি হারিয়েছে জাত !

আমাদের ব্যবহৃত কত হাজার টন প্লাষ্টিক...

#

কত পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করে সে হিসেব কেউ

রাখে না নির্ঘাৎ, এই অঢেল বর্জ্য সমুদ্রে মেশে।

অক্সিজেন শূন্যতায় ভোগে সমুদ্রের কিছু অংশ,

যেখানে কোন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণী বাঁচবে না আর।

মাত্র চল্লিশ বছরে অসংখ্য প্রজাতি লুপ্তপ্রায় ।

গবেষকদের মতে, সংখ্যাও কমেছে ততোধিক।

সবচেয়ে বেশি কমে গেছে মিষ্টি জলের প্রাণীই।

কীটনাশক অথবা কেমিক্যাল সারও ঘাতক  ।

#

বাস্তব্যবিদ্য্যায় বলে,পৃথিবীর মানুষের জন্য

বেঁচে থাকার জন্যই মাথাপিছু জমি চাই যতো

এখন পাওয়া যায় মোটামুটি  অর্ধেকটা তার

অর্থাৎ জনসংখ্যার জন্য চাই দ্বিতীয় পৃথিবী ।

এতো অভাবে মানুষ তাহলে বেঁচে আছে কীভাবে ?

ভূগর্ভস্থ জলস্তর, বায়ুর উপাদান বিষিয়ে !

#

মানুষ প্রতিনিয়ত গোপনে ধ্বংস করে নিজেকে 

জানেনা, মিনিটে  মুছে দিচ্ছে কত অরণ্যসম্পদ 

এই ভাবেই ক্রমশ বিপন্নতা ঘনিয়ে আসছে ।

অবশেষে মানুষই মানুষের প্রকৃত ঘাতক।

এই ধ্বংসলীলা যদি চলতে থাকে অবাধে তবে,

পৃথিবীতে মানুষের আয়ু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ।

ফুরিয়ে আসছে দিন, গোনা শুরু ধ্বংসের প্রহর ।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক তারই পূর্বাভাস !


----------------------------------------

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

৫৭/৬এ/২  সন্তোষ রায় রোড

শিবম অ্যাপার্টমেন্টস

কলকাতা - ৭০০০০৮

কথা : ৮৬৯৭৯০০৬০৬

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার ||কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ । সম্পাদনা: কমল চক্রবর্তী

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ । সম্পাদনা:  কমল চক্রবর্তী । ভালোপাহাড় ছাপাভুবন । পন্ঞ্চাশ টাকা ।


কবি কমল চক্রবর্তীর ব্রেনচাইল্ড পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ভালোপাহাড়ে পন্ঞ্চম বর্ষ কবিতা ক্যাম্পের স্মৃতি ভরপুর এক কবিতা সংকলন এই 'কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ ' তে পাই বিভিন্ন ধারার কবিতা যা পড়তে আনন্দ আনে । সংকলনটি থেকে জানা যায়, ক্যাম্পের আহ্বায়ক  বারীন ঘোষাল সহ তেরো জন এই ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন । তার মধ্যে এই ক্যাম্পে লেখা কিছু কবিতা পড়তে আনন্দ আনে,     যেমন কবি  দেবান্ঞ্জন দাসের:  ' হারানো চশমায়/  মাইল মাইল টমেটো চাষ/  এমন গোলগাল সন্ধে/  মনে পড়লেই দুঃখ বিলাস লাগে '(' টমেটো চাষ ') , কবি দেবাশিস সাহার কবিতা:  ' মাঠে জো/  নতুন বৌয়ের সাধ/  আতপ চালের গন্ধে অঘ্রাণ/  চাষিঘরে ঘড়া ঘড়া আলো ' , কবি স্বপন রায়ের: ' সে যে কি তেপান্তর কি ভাবে যেন আকাশের  গায়ে/ টপ্পাই টাঙিয়ে দিয়েছে ' 

( ' বর্ধমানের টোকা ')।

           সংকলনের প্রধান আকর্ষণ বলা যেতে পারে  সম্পাদক কমল চক্রবর্তীর ভূমিকা,  তিনি তাক লাগান যখন বলেন:  ' শারদীয়া উপন্যাস বা শত শত কবিতা লেখেন যে সব কবি/  সাহিত্যিক,  তাঁরা!  মাসে তিনটে চারটে বাচ্চা । হয় নাকি । .....কোন বিজ্ঞানে ! ফলে হচ্ছে কাঠের পুতুল,  কাঠের কুকুর, মাটির পুতুল! ' এই সত্যবচনের জন্য কমল বাবুকে ধন্যবাদ ।

               কবিতার ক্যাম্প আর হয় কিনা জানা নেই,  সারা বইটির ভেতরে ক্যাম্পে লেখা কবিতাগুলির সামনে দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছে হয় ' আরো চাই আরো চাই ' । ধূর্জটি প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ শারদীয় উৎসব চিন্তনকে প্রকট করে ।

নদীর তালে তালে || পার্থ সারথি চক্রবর্তী || কবিতা

 

নদীর তালে তালে  

পার্থ সারথি চক্রবর্তী 



যেখানে নিঃশব্দে মিশেছে আমার স্মৃতি-
    পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর সঙ্গে, 
বাঁকে বাঁকে মিশে গেছে বয়ে আসা 
     পাথরের আপাত কাঠিন্য।
কখনো মনে করায় আদিম উৎসমুখ
কখনো বা হারিয়ে যাওয়া কপট সুখ।
বারবার তাও কেন ফিরে ফিরে যাই 
কোন এক অজানা পরশপাথরের টানে।
     প্রাণভোমরা যেন নদীর চলায়
অদ্ভুত এক নৃত্যনাট্য দেখায়, তালে তালে ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

 সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৮.

মৃত্যুঞ্জয় সেন আমাদের দশকের কবি এবং গদ্যকার।ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের বিশাল বাড়িটিতে একসময় যাতায়াত ছিল। সূত্র : স্নেহাকর ভট্টাচার্য-র সঙ্গে দেখা- সাক্ষাৎ।  সেটা ছিল কবিপত্র-কাল। আবার এই কবিতাপাক্ষিক পর্বে মৃত্যুঞ্জয় সেন। কবিতাপাক্ষিকের প্রস্তুতিপর্বে।

আমরা প্রথম যেবার বইমেলা দৈনিক বের করেছিলাম সেবার মৃত্যুঞ্জয়ের সূর্যতোরণ-এ দৈনিকের পেজ মেকাপ করতে গিয়েছিলাম।

আমাদের কবিতাপাক্ষিক লেখাটি মৃত্যুঞ্জয় সেন শেষ করেছিলেন কীভাবে সেটা পড়ে নিন :

' এই কাগজের সঙ্গে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত , তাঁদের প্রতি , তাঁদের গৌরবকাহিনির প্রতি থাকল আমার চিরদিনের মুগ্ধতা '।

আমরাও মুগ্ধ মৃত্যুঞ্জয় , আপনিও আমাদের পরিবারের একজন ছিলেন। এখনো আছেন ।


কালীকৃষ্ণ গুহ তখন, অর্থাৎ  ২০০৩ - এ লিখেছিল : প্রভাতের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের বয়স প্রায় চল্লিশ বছর ---

একদম। হ্যাঁ , লেখালেখির শুরুতে । আমাদের যখন সাম্প্রতিক , কালীকৃষ্ণদের তখন ক্রান্তদর্শী , সুনীথ মজুমদারদের তখন প্রতিবিম্ব , মৃণাল বসুচৌধুরীদের তখন শ্রুতি।

পত্রিকা ভিন্ন , লেখার জগৎ ভিন্ন ; তবু বন্ধুত্ব ছিল অভিন্ন , অটুট।

আজ এখন ২০২০ । 

এখন বন্ধুত্বের অঙ্ক করা যাক। 

২০২০ --- ২০০৩  = ১৭ 

আর ৪০ + ১৭ = ৫৭

এই ৫৭ বছরের বন্ধুত্ব আমাদের। এখনো অটুট। আমার প্রথম জীবনের অনেকের কাছেই আমি ভিন্ন গ্রহের মানুষ। আমি অচ্ছুত ।কিন্তু একমাত্র কালীকৃষ্ণ এখন আমাকে অস্বীকার করে না। আমার বন্ধুত্বকে মনে রাখে। আমি কৃতজ্ঞ।

আমি কালীকৃষ্ণ গুহ উবাচ বলে কিছু আপনাদের পড়াতে চাইছি :

' বলা বাহুল্য , লেখালেখির মূল্যবোধের দিক থেকে আমি একজন পুরোনো লোক।প্রায় জরাগ্রস্ত। প্রভাতের সঙ্গে আমার ধ্যানধারণার বিশেষ কোনো মিল নেই। তবু প্রভাত আমাকে তার সঙ্গে রাখলো।আমাকে কবিতাপাক্ষিকে লিখে যেতে বললো। '

' প্রভাত বললো সে আমার নির্বাচিত কবিতা বের করতে চায়। '।

 " আমার 'নির্বাচিত কবিতা ' প্রকাশিত হল , '

এসব কালীকৃষ্ণ-র কথা। এবার আমার একটি সাফল্য-র কথা শুনিয়ে রাখি :

সিউড়িতে কালীকৃষ্ণ কেন্দ্রিক একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি আমন্ত্রিত ছিলাম। সময় মতো পৌঁছে গিয়েছিলাম সিউড়ি। ছিলাম ইরিগেশন বাংলোয় যুক্ত কমিটির কমরেডদের ব্যবস্থাপনায়। পরদিন অনুষ্ঠানে গেলাম। হলে বসার জায়গা পেয়েই আমি ধন্য হয়েছিলাম। কেউই আমাকে মঞ্চে কিছু বলার জন্য আমন্ত্রণ করেনি।এমনকী বন্ধুবর কালীকৃষ্ণ গুহও নির্বাক ছিল। এই সাফল্য আমাকে গর্বিত করেছিল ।তারপরও কিন্তু কবিতাপাক্ষিকের দরজা কালীকৃষ্ণ-র জন্য সদাসর্বদা উন্মুক্ত ছিল।

কালীকৃষ্ণ আরো যা বলেছিল তার কয়েক লাইন :

' কবিতাপাক্ষিক দশ বছর ধরে নিয়মিত নিরবচ্ছিন্নভাবে কীভাবে প্রকাশিত হতে পারল ভাবতে অবাক হতে হয়। পত্রিকার পাশাপাশি অগণিত বই , কবিসম্মেশন , তর্কবিতর্ক। প্রভাতের জীবনে কোনো বিশ্রামের দরকার নেই ? নাকি এই বিপুল কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তার বিশ্রামের একটা পাটাতন রাখা আছে ? '

ঠিক তা-ই কালীকৃষ্ণ। আমি আমার বরাদ্দ কাজের মধ্যেই একটা  বিশ্রামের ' ময়ূর সিংহাসন ' পেতে রাখি। পাটাতন বড়ো ঠুনকো ! আমি তো মধ্যস্বত্বভোগী জমিদারের বংশধর।আমাকে পাঠাতন মানায় না। আমার চাই ' ময়ূর সিংহাসন ' !

অবশিষ্টাংশ ছাই || চিরঞ্জিৎ বৈরাগী || কবিতা

অবশিষ্টাংশ ছাই

চিরঞ্জিৎ বৈরাগী





কত শিক্ষা
ভরে যায় পেজের পর পেজ

ব্লক করে ঠকেছি, এটা ভাবা ভুল
বরং। ব্লকলিস্টে কিছু শিখেছি

ঠিক সেই পথেই পা বাড়াচ্ছি
আলো নিভবে

যারা জ্বলেনি তাদের পোড়ার সময় কাছেই
আমি তো সেই কবে থেকেই পুড়ছি
অবশিষ্টাংশ ছাই!

আটপৌরে কবিতা ৯৪১-৯৪৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯৪১

উপদেশ/  অমৃতবাণী/  উপনিষদ
         ) আপ্তবাক্য  (
     লক্ষ্য স্থির করতে শেখায় ।

৯৪২

সংবহন/  তন্নিষ্ঠ/  দাগানো
        ) রেখাপাত  (
অসাধারণ হলেই তা হয় ।

৯৪৩

তান/ সুর/  রাগ
    ) বন্দিশ  (
গানের শুরুই জাত চেনায় ।

৯৪৪

পরিক্রমা/  হাঁটা/  অস্থির
        ) পায়চারি(
কখনো সুখের কখনো দুখের ।

৯৪৫

সূর্য/  তেজ/  নাম
   ) তাপস (  
তাপস  দাসের মুখ  ভাসে !

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

জ্বলন্ত রোদের তাপে || মৃত্যুঞ্জয় জানা || কবিতা

জ্বলন্ত রোদের তাপে

মৃত্যুঞ্জয় জানা





জ্বলন্ত রোদের তাপে 

সাদা পিঠ তামাটে হয়ে যাচ্ছে-গেছে ৷

প্রতিটি কাস্তের প্যাঁচে পেটের মধ্যে বেড়ে উঠছে ভ্রুণ৷


মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে যুদ্ধ বিমান

কাস্তে হাতে অন্ত:সত্ত্বা ঘুরে দেখে -

চোখ আর যানের দূরত্ব-উজ্জ্বলতায় ঈন্দ্রজালের মাথা ঘুরে যায় !


কাস্তে আবার প্যাঁচ খায় 

জীবনের সার্কাসে ৷


পাস দিয়ে হেঁটে যায় বারোলাখি তেরোলাখি কর্মচারী!হতাশা....


দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাস্তে হাতে 

অন্ত:সত্ত্বা প্যাঁচ দেয় ধান গাছের গায়ে ৷৷

কবিতা কেন লিখি || রবীন বসু || গদ্য

কবিতা কেন লিখি

রবীন বসু





না, আমি প্রেমে পড়ে কবিতা লিখিনি। বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে। স্কুলের শেষ ধাপে কিংবা কলেজে প্রথম দিকে এক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে হাতে পেয়েছিলুম নগদ ২৫ টাকা আর কিছু বই। বইগুলোর মধ্যে ছিল বিশেষ দুটি বই। যা পরবর্তীতে আমার জীবন ও তার লক্ষ্যের অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছিল। প্রথমটি বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধের বই "কালের পুতুল" আর দ্বিতীয়টি হল কবি "আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিতা"। এর আগে যা কবিতা পড়া তা ওই পাঠ্য বইয়ে। যৌবনের সেই রোমাঞ্চিত সময়ে সারারাত ধরে ওই আশ্চর্য বইটির পাতা উলটে গেলাম। পাতায় পাতায় ছন্দময় জীবনের এক আলোকিত উদ্ভাস। দেশজ শব্দ, দেখা চিত্রকল্প, পুরাণ-মিথ, লোকজীবনের প্রেম, নারী, ফেলে আসা গ্রাম, আটপৌরে জীবন…সব অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের দোলায় ভাসতে ভাসতে আমার গহিন মনোলোকে স্থায়ী ছাপ ফেলে দিল "সোনালী কাবিন" । সেই আমার কবিতাকে প্রথম ভালোলাগা। আর সেই ভালোলাগার হাত ধরে পর পর এলেন রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ ও অন্যান্য আধুনিক কবিরা। আমার সমগ্র সত্তায় এইভাবে কবিতা জড়িয়ে গেল। ছড়িয়ে গেল তার শিকড় গভীরে। মাথার মধ্যে আজও ঘোরে---


"কবিতা তো শৈশবের স্মৃতি

কবিতা চরের পাখী, কুড়ানো হাসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস

ম্লানমুখ বউটির দড়িছেড়া হারানো বাছুর

কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"

( আল মাহমুদ ) 


হ্যাঁ, এই সরল আপাত নিরাভরণ শব্দসমষ্টির গভীরে যে জীবনছবি, যে দ্যোতনা তা আমাকে আকৃষ্ট করল। অজান্তে কেন জানিনা একটা সুর সব সময় আমার যাপন-ঘিরে প্রবাহিত হতে লাগলো। ট্রামে বাসে ট্রেনে, এমনকি ভিড়ের মধ্যে বা নির্জনতায় আমার মধ্যে ছবি জাগতে লাগলো। তারই হাত ধরে কিছু শব্দ, কিছু উচ্চারণ উঠে এলো আপনা-আপনি। আর নির্মাণ হতে শুরু করল কবিতা। এই নির্মাণপর্ব না দেখানো যায়, না বোঝানো যায়। বোধের গভীরের এক অবাক বিস্ময়। 

আর এই বিস্ময়কে রূপদান করতে গিয়ে আমাদের শব্দের আশ্রয় নিতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে সংহত করে নিজের জ্ঞান মেধা অনুভব ও অনুসন্ধানের সবটুকু দিয়ে একটা কবিতা নির্মাণ করতে হয়। কিন্তু এবার প্রশ্ন হল কবিতা কেন লিখব? বা লিখি। মানুষ হিসেবে সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে, এমনকি নিজের কাছেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। যার উত্তর আমরা পেতে চাই। কিংবা নিজস্ব কিছু ভাবনা অনুভব আর্তি অপরকে শোনাতে চাই, যার ফলশ্রুতিতে কবিতা লেখা। আমার নিজের অভিমত সমাজ মানুষ হিসেবে, রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে কবিরও একটা দায়িত্ব থাকে, যারা অনুচ্চার, সংশয়িত, বিশৃঙ্খল, প্রতিবাদহীন ক্ষয়িত নিরন্ন মানুষ তাদের কথা বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা। আমিও ব্যক্তিগত ভাবে সময়ের দুর্বিনীত আচরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে থাকতে পারিনা। সমাজের প্রতিটা আলোড়নে গভীর আর্তি আর সংবেদন নিয়ে উপস্থিত হই আমার কবিতায়। আমি সমাজ-বাস্তবতায় বিশ্বাসী । 

আবার আমার যে আত্মগত বোধ তাকে খনন করি ক্রমাগত। খননের পর যে ধ্বংসাবশেষ ওঠে, সেখানে ম্যাগনিফাইং ফেলে তন্ন তন্ন খুঁজি নিজের অর্জন সমৃদ্ধি ব্যর্থতা বা বিকৃতি। আলো ফেলি সুদূর অতীত, ছেড়ে আসা গ্রাম, স্মৃতির নদী, আমার চারপাশের বহমান জীবন, ভালোবাসার মানুষজন, স্বজনবন্ধু, হারানো মুখ আর অনির্দেশ ভবিষ্যতের দিকে। আমি বিশ্বাস করি এতদিন ধরে যেসব কবিতা লিখেছি, তা এই মহাবিশ্বের ইথার তরঙ্গের কোথাও না কোথাও থেকে যাবে। আর অনেক সময় পরে কোন উন্নততর মানবপ্রজাতি এসে  তার পাঠোদ্ধার করবে। এই আশায় আমি কবিতা লিখি। 


আটপৌরে কবিতা ৯৩৬-৯৪০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯৩৬

সম্পৃক্ত/  স্বচ্ছল/  সমৃদ্ধি
     ) হাতভরতি  (
সব কিছুতে সুখ আনে ।

৯৩৭

হত্যা/  আঘাত/  মৃত
       ) প্রাণঘাতী  (
আক্রমণে মানুষ জেনেও লড়ে ।

৯৩৮

মানসিক/  বিড়বিড়/  আত্মবাক্য
          )  স্বগতোক্তি  (
চিন্তা  বাড়লে আপনিই হয় ।

৯৩৯

সাসপেন্স/  আকর্ষক/  আনন্দ
           ) চমকপ্রদ  (
একটু হলেও জীবন মজায়।

৯৪০

ত্রুটিহীন/  আনন্দদায়ক/  মনোমত
          ) সুনিপুণ  (
       যা কিছু সবই কাম্য ।



কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার স্বপ্নসুন্দরের জগৎযাত্রা । অদীপ ঘোষ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



স্বপ্নসুন্দরের জগৎযাত্রা । অদীপ ঘোষ । ইসক্রা । চল্লিশ টাকা ।


' সঙ্গমের অনুবাদ করেছে শিশুর জন্ম/  এ সব অবশ্য অসম্পূর্ণ অনুবাদ/  আমি গোটা মহাভারত অনুবাদ করতে চাইছি '( ' এটা ভূমিকাও হতে পারে ')  চিনিয়ে দেয় কবির ইপ্সিত ইচ্ছে , যা স্বপ্নসুন্দরের সন্ধানে যেতেই পারে,  আর পারে বলেই কবি অদীপ ঘোষের কবিতা পড়তে মুখিয়ে উঠি । কবির কাব্যগ্রন্থ 'স্বপ্নসুন্দরের জগৎযাত্রা ' -র ভেতরের অদ্ভুত সহজতা অথবা পুরো কবিতা হয়ে যাওয়া সৃষ্টিগুলির সামনে দাঁড়িয়ে অনেক কিছু ভাবতে ইচ্ছে হয় । কেঠো চালের নয়তো  জিলিপির প্যাচ মারা কবিতাদের পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে ওঠা মন আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে যখন পাই:  ' 

এখানে বালির ভাষা জলের প্যারডি/  ফণিমনসার ঝোপ অরণ্যের সবুজ খেউড়/  রক্ত নয়-  পতনের শিরা উপশিরা ফুঁড়ে বালিস্রোত হাঁটে ' ( ' মরুভবন' ) এর মতো সফল উচ্চারণ ।

                    অদীপের সমস্ত কাব্যগ্রন্থ পড়ে ফেলার কারণে  তাঁর কবিতার নাড়িজ্ঞান আমার আছে । কবির গুণ তিনি প্রতিটি কাব্যগ্রন্থের টিউনিং নিয়ে মাথা ঘামান । তাঁর ভেতরে যথেষ্ট সম্পাদনা গুণ  থাকার জন্য তিনি অক্লেশে অপছন্দের কবিতা বাদ দিতে জানেন,  ফলে কাব্যগ্রন্থের আকর্ষণ আরো বাড়ে ।

                 ' একবার তুমিও উদ্ধত হও/  ভেঙে দাও পরিচিত প্রিয় বর্ণমালা ' ( ' ম্যাজিক্যাল বসন্ত ') যেভাবে অচিরে কবিতা হয়ে ভেতরে সংবহিত হয়,  তেমনি হরেক কিসিমের পংক্তি পাই তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে। কবির কাছে সম্পূর্ণ মহাভারতের অনুবাদ চাই না,  নিজস্ব কবিতা চাই,  যা দেওয়ার যোগ্যতা কবির আছে ।কত সুন্দর সহজ অথচ মর্মস্পর্শী প্রচ্ছদ হয়ে উঠেছে এ গ্রন্থে  অদীপ ঘোষ ও অশোক রায়ের হাতের গুণে  , তাঁরা ধন্যবাদার্হ ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৭.

অরূপ আচার্য রাইটার্সের । আমার নির্বাসনপর্বেও যোগাযোগ ছিল। অরূপ মূলত গল্পের ।আমাদের একটা খেলা চলত। আমাকে বলতে হত বাংলাসাহিত্য -র দশটি সেরা উপন্যাস-এর তালিকা। এইসব খেলা এখন ফেসবুকে হয়, দেখি ।আমরা খেলতাম ১৯৯০/৯১-এ । 

অরূপ তার লেখাটি শেষ করেছিল কীভাবে , দেখুন :

' সর্বোপরি বলতে হয় কবিতার প্রতি তার নির্মোহ ভালোবাসা ছাড়া একটি নিয়মিত পাক্ষিক কবিতার কাগজ হওয়া সম্ভব নয় দীর্ঘকাল ধরে। এটা তাকে তোষামোদ নয়, এটা জানানো কর্তব্য মনে করি '।

দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ও রাইটার্সের ।আবার কবিতাপাক্ষিক পরিবারের  । আমরা একসঙ্গে গেছি  মালদা থেকে দুর্গাপুর, শান্তিনিকেতন , ছান্দার , কাটোয়া , এমনকী সিঙ্গুর বইমেলাতেও। দেবাশিসের পুরোনো লেখাটি পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেল আমাদের সাদা দুষ্টমি-র কথা।

দেবাশিসদের শিবরামপুরের বাড়িতেও অনেকবার গেছি। ' জন্মদিন ' , প্রায় একটি দীর্ঘকবিতা ওর বাড়িতে বসেই লেখা।

দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' শীর্ষক লেখাটির শেষ প্যারাগ্রাফটি শুরু হয়েছিল :

' যা বলার তা হল ,মানচিত্র চুপচাপ বসে বদলানো যায় না, তার জন্য স্বপ্নকে জ্যামিতিক পরিসরে সাজাতে হয় , ডাকতে হয় প্রান্তিকেও  । প্রতিটি স্পর্শ জীবনের প্রতিটি অণুপরমাণুকে জারিত করে স্বপ্ন ও মানচিত্র গঠন করতে হয় । সেখানে অবশ্যই থাকবে সুতানের জঙ্গল। নৌকোবিহার ,ছাঁদারের লোকসংগীত , কাটোয়ার নিতাই ক্ষাপার বাউল গান , ঠাকুরের বজ্রাসন , রজতেন্দ্রর উদাত্ত কণ্ঠস্বরে রবীন্দ্রগান , শান্তনুর মনমজানো বাঁশি , নাসেরদার মিটি মিটি হাসি , স্টলে মুরারির পাঠককে ডেকে বলা : নিয়ে যান প্রেমের কবিতা, বিরহের কবিতা, ভালোলাগার কবিতা। পোস্টমডার্ন মানচিত্র --- এই তো , এর বেশি আর কীই বা যার ভূমধ্যে স্বপ্ন ও কবিতা তীব্র।'

আর কীই বা লিখতে পারত দেবাশিস ! মন এবং প্রাণ উজাড় করে কবিতাপাক্ষিক সঙ্গে ছিল এবং আছেও।

সুজিত সরকার সম্বন্ধে যতটুকু বলতে পারব আমি সেটা সুজিত-কে সর্বাঙ্গে চেনাতে সক্ষম হব না আমি। কবি এবং প্রবন্ধকার হিসেবে সর্বজন পরিচিত সুজিত সরকার এক সময় কবিতাপাক্ষিকের এডিটোরিয়াল টিমে ছিল। এবং ওর পরিকল্পনা এবং আয়োজনে আমরা ' কবিতা পরিচয় ' সংখ্যা প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছিলাম। ওর ' কবিতা কেন কবিতা ' গদ্যের বইটি আমরা দু-হাজার কপি বিক্রি করেছি।

সুজিত সরকার সম্পর্কে একটি গোপন সংবাদ জানিয়ে রাখছি। সংবাদটি বেশি লোকজানাজানি করবেন না। করলে আমি লজ্জা পাবো। আমি যে ইংরেজিতে দক্ষ নই , এটা ইতিমধ্যে অনেকেই জেনে গেছেন। কিন্তু আমি যে সুজিতের কাছে ইংরেজি কবিতার ক্লাস করেছি , এটা অনেকেই জানতেন না। সেই অর্থে সুজিত সরকার আমার শিক্ষকও। 

সেই সুজিত লিখেছিল :

' কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছিল কবিতাপাক্ষিক এবং দিনে দিনে পোস্টমডার্ন কবিতা ও পোস্টমডার্ন তত্ত্বের অবিরাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা আজ অবশেষে সত্য হ্য়ে উঠেছে। বিশ শতকের শেষ দশক থেকে বাংলা কবিতায় যে বড়ো রকমের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে তার পেছনে ' কবিতাপাক্ষিক '- এর অবদান অনেকটাই। তরুণতম কবিদের কথা বাদই দিলাভ , শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ও সদ্যপ্রয়াত মঞ্জুষ দাশগুপ্তের মতো প্রতিষ্ঠিত ও বিখ্যাত কবিরাও যে এই পত্রিকার সংস্পর্শে এসে নিজেদের লিখনভঙ্গিমাকে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে কিছুটা বদলে ফেলেছেন তা লক্ষ করে আমি বিস্মিত হয়েছি।'

এই কথাগুলি কিন্তু আমার কথা নয়। বিশিষ্ট কবি প্রাবন্ধিক সুজিত সরকার-এর কথাগুলি আমি উদ্ধৃত করলাম মাত্র।

ধন্যবাদ সুজিত। ঠিক এই সময় আমার চোখে পড়ে গেল তোমার এই লেখাটি। এখন একদল মান্ধাতাগন্ধী কবিতালেখক একযোগে কবিতায় আপডেট বিষয়টি সহ্য করতে পারছেন না।তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায়  নিজেদের সনাতন-পন্থায় আস্থা রেখে চলতে চাইছেন। তাতে তাঁদের স্বাধীনতায় আমি হস্তক্ষেপ করতে যাব কেন ? এই জন্মান্ধদের চোখে আলো ফোটানোর সব দায়িত্ব আমার একার নয়। এখনকার কবিতা মনোযোগ দিয়ে পড়লেই বিষয়টি দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ হয়ে যাবে।

মান্ধাতাগন্ধী বা মান্ধাতাপন্থীরা সমস্ত সময়েই বিরাজ করেন। তাঁরা  এগিয়ে  যেতে চান না অথবা তাঁদের এগিয়ে যাবার ক্ষমতাই নেই ।তাঁরা ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পরবেন।ততদিন আমরা আমাদের মতো করে কবিতার আপডেট করে যাব।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

শিলালিপি কথা || অচিন্ত্য নন্দী || কবিতা

শিলালিপি কথা 

অচিন্ত্য নন্দী 



' ভালো কাগজে ভালো লেখা হয় না '-- এ যে পরীক্ষিত সত্য   l সহি-কলমে লেখা শব্দের থ্যাবড়া মুখ দেখতে আর অভ্যস্ত নই l কিন্তু আমার তো হাতুড়ি বাটালিও নেই ! তাহলে   কি শিলালিপি অলিখিত থেকে যায় ?

সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ১৮) || কান্তিরঞ্জন দে || সাহিত্য এবং / অথবা সিনেমা

সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ১৮)

কান্তিরঞ্জন দে



সাহিত্য  এবং / অথবা সিনেমা


      আগেই বলেছি , বাংলায় সাহিত্য এবং সিনেমা এই দুটো শিল্প মাধ্যমে  আজও কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে ।  এর কারণ , বাংলা সংস্কৃতির সংসারে সাহিত্য হল বড় ভাই এবং সিনেমা মাধ্যম তার অনুজ ।  তাই এই দুই মাধ্যমের সম্পর্কটি বুঝতে অনেকেই ভুল করেন ।

       প্রথমেই বুঝতে হবে যে সিনেমা প্রয়োজনে  সাহিত্য থেকে গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি উপকরণ হিসেবে নেয় ঠিকই ,  তবে সাহিত্যকে অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করবার কোনও দায় সিনেমার নেই । দুটো সম্পূর্ণ আলাদা শিল্প মাধ্যম । দুটোর প্রকাশ রীতি একেবারেই আলাদা । একটা যদি আপেল হয় , অন্যটি কমলালেবু । দুটোই রসালো ফল । ব্যস্ , দুজনের মধ্যে মিল বলতে এটুকুই । আর কিছু নয় ।


        সত্যজিৎ রায়ের " পথের পাঁচালী " বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিত্র রূপান্তর মাত্র । হুবহু চিত্র অনুবাদ কখনোই নয় । পথের পাঁচালী প্রায় চারশো পাতার উপন্যাস । অসংখ্য চরিত্র  এবং অসংখ্য ঘটনা   মিলিয়ে এক মহৎ সাহিত্যকর্ম। " আম আঁটির ভেঁপু " সিগনেট প্রেস প্রকাশিত তারই এক কিশোর পাঠ্য সংক্ষিপ্ত সংস্করণ । সেটিও মাত্র দেড়শো পাতা আয়তনের হলেও তাতেও প্রচুর চরিত্র এবং ঘটনা ।

     সত্যজিৎ রায় ওই আম আঁটির ভেঁপু থেকেই সিনেমার জন্য প্রয়োজনীয় চরিত্র এবং ঘটনাগুলোকে সিনেমার উপযোগী করে সাজিয়ে সিনেমার নিজস্ব উপস্থাপন রীতির ব্যাকরণ মেনে পর্দায় হাজির করেছিলেন । উপন্যাসে ইন্দির ঠাকরুণ মারা যান , উপন্যাস শুরুর কয়েক পৃষ্ঠার মধ্যেই । সত্যজিৎ রায়  সিনেমার প্রয়োজনে ( বলা ভালো , সিনেমার নাটকীয়তার প্রয়োজনে ) এই চরিত্রটিকে বাঁচিয়ে রাখেন আরও বেশ কিছুক্ষণ । এইরকম টুকিটাকি পরিবর্তন সিনেমাটিতে আরও বেশ কিছু  ছিল ।

         ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট পথের পাঁচালী রিলিজ করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সে সময় সিনেমার বৈশিষ্ট্য না বোঝা বেশ কিছু  সাহিত্য প্রেমিক হৈ চৈ বাঁধিয়ে বসেছিলেন । তাদের অভিযোগ----- সত্যজিৎ পথের পাঁচালীকে বিকৃত করেছেন । ১৯৬৪ সালে সত্যজিৎ রায় যখন রবীন্দ্রনাথের  বড় গল্প " নষ্টনীড়" থেকে চারুলতা নির্মাণ তখন তো হৈ হট্টগোল একেবারে তুঙ্গে উঠেছিল । পরিচয় পত্রিকায় লম্বা চিঠি লিখে সত্যজিৎবাবুকে প্রায় পাখি পড়ার মতো করে ব্যাখা করতে হয়েছিল যে , সিনেমায়  মূল গল্প কি কি  অদলবদল জরুরী ছিল এবং কেন সেগুলো জরুরী ছিল ।


       সত্যজিৎ রায় ছাড়াও বাংলার আরও অনেক পরিচালকদের ছবি নিয়েও বিশুদ্ধ সাহিত্য প্রেমিকেরা  বিভিন্ন সময়েই আপত্তি তুলতেন । আজকাল অবশ্য এ ব্যাপারটা একটু কমেছে ।

       তবুও বলব , আজও বাংলায় সিনেমা মাধ্যমের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গুলো উপলব্ধি করবার লোক যথেষ্ট কম । বাংলায় সাহিত্য নির্ভর সিনেমা বানানোটাই অনেকটা কমে গেছে । সে কারণেই হয়তো চ্যাঁচামেচিটা কমেছে । যথার্থ সিনেমা রসিক ও বোদ্ধার সংখ্যা খুব একটা যে বেড়েছে , এমন কথা বলা মুস্কিল ।


        সাহিত্য নির্ভরতা ছিল , বাংলা সিনেমার পক্ষে সে-ও একরকমের ভালো ছিল । এখন তো সিনেমার নামে  বাংলা সিনেমায় বাইরের চাকচিক্যের দিকে যতটা নজর দেওয়া হয় , বিষয়ের গভীরতার দিকে ততটা নজর দেওয়া হয় কি ?


         পশ্চিমবঙ্গের ( এবং সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশেরও ) বাংলা সিনেমার  নিজস্ব ভাষা খুঁজে নিয়ে , নিজের পায়ে দাঁড়াতে যথেষ্ট দেরি আছে । কত দেরি ? বলা খুব মুস্কিল । 

     সব কিছু দেখে শুনে মনে হয় , বর্তমান যুগের বাংলা সিনেমা সাহিত্যের হাত ছেড়ে একসময়  পেছন দিকে হাঁটা শুরু করেছিল । ইদানীং  আবার সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ।

     সামনে এগোচ্ছে কি ? সে কথা জোর বলা খুব মুস্কিল।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৬.

এর পরে ছিল প্রদীপ বিশ্বাস -এর লেখা। আমরা জানি 

প্রদীপ বিশ্বাস = রূপনারায়ণপুর = হিন্দুস্থান কেবলস। 

আমি বিশ্বাস করি , আমি যতটুকু বাংলাকবিতাকে আপডেট করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি , প্রদীপ বিশ্বাসের প্রচেষ্টা আমার থেকে কম নয়।

সেই প্রদীপ বিশ্বাস-এর লেখার কয়েক লাইন :

' ...   অথচ কপা-র প্রতিটি সংখ্যাই যখন পড়তে থাকি প্রথম সাইকেল চালানো শেখার , সাঁতার শেখার , প্যাঁচালো অঙ্ক বাগে আনতে পারার সফল অনুভব সঞ্চারিত হয় শিরায় শিরায়। ' 

প্রদীপের প্রতিক্রিয়া পড়লেই বোঝা যায় ওর নিজস্বতা।

অসীম দাস  তখন কর্মসূত্রে ইসলামপুরে। BSNL কর্মী।

শিলিগুড়ি BOOKS -এর কর্ণধার তপন মজুমদার সূত্রে কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে যোগাযোগ  ।

অসীম দাস যা লিখেছিল, তার কয়েক লাইন :

 ' কবিতাপাক্ষিকও নেটওয়ার্কিং-এ বিশ্বাস করে অবশ্য মুখ চিনে টিনে নয়। '

তপন মজুমদার এই মানুষটির পূর্ণ সমর্থন না থাকলে উত্তরবঙ্গে আমরা ঠিকভাবে ঢুকতে পারতাম না। তপনবাবু শিলিগুড়ির BOOKS -এর কর্ণধার। দীর্ঘকাল কবিতাপাক্ষিক পত্রিকা এবং প্রকাশনার যাবতীয় বইপত্র একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বিক্রি করেছিলেন । ওঁনার জন্যই পোস্টমডার্ন চিন্তাচেতনার প্রচার হয়েছিল অনেকটা।

তপন মজুমদার জানিয়েছিলেন :

' কবিতাপাক্ষিক কবিদের প্রতিষ্ঠান।১০ ম বর্ষে এই প্রতিষ্ঠান পা রাখল । প্রতিষ্ঠানের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।আজ থেকে দু বছর আগে প্রভাত চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন দে বুক স্টোরের মেজদা (মেজদা)।

অর্ণব চক্রবর্তী , এখন নীলার্ণব চক্রবর্তী । এই বদলটিও আমার একটি অপকর্ম। তখন একাধিক অর্ণব , যারা আবার পদবিতেও চক্রবর্তী , ঠুকঠাক কবিতা লেখালেখি শুরু করেছে। এর মধ্য কে যে কপা-র অর্ণব , বা বারুইপুরের অর্ণব তা জানা যাবে কীভাবে। অতএব আমাদের অর্ণব-কে আমরা নীল যুক্ত করলাম। সেটাই এখনো চলছে।

সেই অর্ণব বা আজকের নীলার্ণব চক্রবর্তীর কবিতা - পাক্ষিক ১০ বছর-এর সংখ্যায় , ০৩ মে , ২০০৩ , লিখেছিল :

যাই হোক , কবিতাপাক্ষিক আমাকে একটা নতুন জীবনে ঢুকিয়ে দিয়েছে। যে জীবনে যেমন প্রচুর নীলনদ , মেহগনি গাছ , ঝরনা আছে , তেমনই আছে শকুন , বিষবৃক্ষ ,মরুঝড়। সুতরাং কুঁজো না হয়ে , পিঠ বাঁচিয়ে দেখা যাক না কতটা এগোনো যায়।দেখা যাক না ,' উদয়পথ পানে দুই বাহু বাড়ায়ে ' বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় ' কিনা।

ওই লেখাটিতে  নীলার্ণব একটা তথ্য পরিবেশন করেছিল , সেটি বেশ মজার। আমার জন্য একটি ঢাকের কাঠি। 

ও-বছর বইমেলা থেকে যে-কটা বই কিনেছিল নীলার্ণব , প্রতিটি বই-এর ফাঁকা জায়গায় একটা করে কবিতা লিখে দিয়েছিলাম।

ঘটনাটি ছিল একটি পরীক্ষাহল।

পরীক্ষক : নীলার্ণব চক্রবর্তী

আর পরীক্ষার্থী  : আমি ।

রেজাল্ট এখনো ঘোষিত হয়নি। আর আমার কোনো অধিকার নেই রেজাল্ট ঘোষণা করার।

আটপৌরে কবিতা ৯৩১-৯৩৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯৩১

ভালো/ সামাজিক/  নিরীহ
        ) লক্ষ্মীছেলে  (
সবাই তাকে ভালোবাসা  দেয় ।

৯৩২

বেআদব/  বেআক্কেলে/  বদ
          ) বাঁদরামো (
    সবাই দূরে দূরে থাকে ।

৯৩৩

পতন/  নষ্ট/  অজান্তে
      ) হুড়মুড়  (
করে পড়লে সবাই হতচকিত ।

৯৩৪

অসফল/  অচলায়তন/  অদৃষ্ট
        ) বিধিবাম  (
  হলে শুধুই কপালের দোষ !

৯৩৫

মোহিনী/  লাস্যময়ী/  কামিনী
           ) ছলনময়ী  (
পুরুষের মাথা ঘুরিয়ে ছাড়ে ।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার অগ্নিকীট । তপন ভট্টাচার্য । আদম

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



অগ্নিকীট । তপন ভট্টাচার্য । আদম । বারো টাকা ।


আজ থেকে একত্রিশ বছর আগে প্রকাশিত তপন ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিকীট '  এই আজকের কবিতার বাইরে কিছু অন্য স্বাদ দিয়ে যায়,  যখন পাই: 

' কামে দেহ লাল,  রাত্রি তার কোলে/  ধাত্রী ঘুমমগ্ন,  আয় জন্ম মেঘ ফুঁড়ে '  তখন শিরোনামহীন ছাব্বিশটি কবিতার টিউনিং ধরা পড়ে । বোঝা যায় জন্মস্বাদ, যৌনতা  , প্রাণ ইত্যাদির মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে কবি তাঁর নিজস্ব সুরে কথা বলেন,  যার বেশির ভাগই নিজের সুরে কথা বলা হয়ে যায়,  তাতে পাই বিশেষ আকুতি । সে কারণে এই সব  পংক্তি টানে:  '  ' অন্ঞ্জলি ঢালো স্তনে, আর গর্ভফুল ফেটে/  রুদ্র এলো,  শিশু রুদ্র-  জটাজালে ঔদার্য দ্যুতি ' , ' বুভুক্ষু বাতাস গরম,  অম্লগ্যাস - গান নেই-  ওঁ কার ..../ কে হাসে বিশুদ্ধ ঝড় বেগে- ত্রাহিমাং, ত্রাহিমাং! ' 

            কবি তাঁর কবিতায় যে চিন্তন সৃষ্টি  করেছেন  তার ভেতরে প্রাচীন বা তৎসম শব্দের আরোপ প্রকট । যা গোটা বইতে বিশেষ আবহ আনে। কবি ইচ্ছে করেই সাজিয়ে রাখেন এক বিশেষ রহস্য,  যাতে ' অগ্নিকীট ' কে বিশেষভাবে মানুষের সামনে দাঁড় করানো যায় । এই ব্যতিক্রমী বইটির ভেতর থেকে তাই যৌনতার স্বাদ আলাদাভাবে পাই,  যেখানে বাৎসায়ন ও কোকাপুরী  বেশ দূরে রয়ে যায় । 

                 কবিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তাঁর শব্দসম্ভারের ভেতরে এক সুনিপুণ ভাবনার কারণে । যা, ' সূর্যের কেন্দ্রীভূত আগুন-  স্পর্শ-  আশ্লেষে/  অনুকণা তীব্র হলাহলে জীবপ্রাপ্ত- একবার ' এর মতো উচ্চারণ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । গৌতম ঘোষ দস্তিদারের প্রচ্ছদের নামাঙ্কনের হরফগুণ স্পর্শ করে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

স্বল্পোচ্চার || সুবীর ঘোষ || কবিতা

 স্বল্পোচ্চার

সুবীর ঘোষ




মৃদুস্বরে উত্তেজনা বুনে দেওয়া যায়

যুক্তিবাক্যে আমাদের আরণ্যক পরম্পরা

স্বল্পোচ্চারে উত্তিষ্ঠত জাগ্রত বলা

হৃদয়ে উল্কির মতো বসে ।

________________________________

আটপৌরে কবিতা ৯২৬-৯৩০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯২৬

জটিলতা/  সমস্যা/  জটাজাল
        ) ভজঘট  (
জীবন কারোর কাম্য নয় ।

৯২৭

অস্তিত্ব/  বাস্তবতা/  অদর্শন
       )  নামগন্ধ  (
   না পেলেও তবু মনে ।

৯২৮

আবেগী / প্রেম/  অবৈধ
      ) লটঘট (
পাকালে তো চর্চা হবেই ।

৯২৯

জনতা/  শ্রোতা/  দর্শক
     ) জনগনেশ  (
আশির্বাদ না করলে চলে!

৯৩০

সন্তানহীন/  অযাত্রা/  কুলক্ষণ
           ) আঁটকুড়ে (
এখনো মানুষ গালাগালি দেয় ।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার নিজস্ব ভূমিকা । সুবোধ সেনগুপ্ত

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



নিজস্ব ভূমিকা । সুবোধ সেনগুপ্ত । পরিবেশনা : দেজ পাবলিশিং । কুড়ি টাকা ।


' চল/  সব ভুলে/  চন্ঞ্চল উপত্যকা/  বন্ধুকে রেখেছে ওই/  দিবালোক - ছিন্ন বনভূমি ।' (' শেষ কিছু '), ' এখন অরণ্য যাকে/ বুকে ধরে আছো/ অসংখ্য সে তারা শুধু/  চাঁদের আশ্বাস মোটে নয় ।'(অমাবস্যা '), ' আসে তারা কেন? / ভরা মন যেন/অরিক্ত, / ভরা সব ঘর ।  ('বোধ')

এর মতো ছোট্ট ছোট্ট কবিতায় আচ্ছন্ন কবি সুবোধ সেনগুপ্ত- র ' নিজস্ব ভূমিকা ' কাব্যগ্রন্থটি পাঠকবর্গকে আকর্ষণ না করার কারণ যথেষ্ট রয়েছে । 

            কিছু ধোঁয়াশা, কিছু অপ্রাসঙ্গিক তাঁর গঠিত কবিতাগুলো প্রত্যাশা মেটায় না বলেই এই কবির কবিতাকে মান্যতা দেওয়া যায় না । তাঁর অহৈতুকী কাব্যবিন্যাস,  তালগোল পাকানো ব্যঞ্জনা থেকে কতটা কবিতা পাওয়া যায় তা পাঠক বুঝে নিতে পারবেন এই সব পংক্তিতে:  '  অনানন্দ কবিতার নাম/  দুঃখের পরিধি তার/  রেখায় রেখায় দুর্নাম ।',( ' কবিকথা ') ' লগন যদিই পাও/  সূর্য চন্দ্র সমন্বয়ে  / তবে যে আলোতে তুমি আছো । '( ' বিংশ শতাব্দী ' ) -র মতো মাথার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া কবিতাকর্ম পাঠকের দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে । প্রচ্ছদে চারু খানের কিছুই করার ছিল না,  তাই আলোচনা অপ্রয়োজনীয় ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৫.

অতঃপর গৌরাঙ্গ মিত্র ।গৌরাঙ্গ-র সঙ্গে পরিচয়ের বেশ কয়েকটি পর্ব আছে। আমাদের কবিতাপাক্ষিক-এ ঠিক এরকমটাই লিখেছিল গৌরাঙ্গ। 

 গত দশ বছরের যে নতুন কবিতাপাক্ষিক , তার অন্যতম কোর-কমিটির মেম্বার গৌরাঙ্গ মিত্র। 'আমাদের গৌরাঙ্গ মিত্র ' বইটিতে যা লেখার লিখেছি।তবে এই কথাটা লিখেছিলাম কিনা মনে নেই।

গৌরাঙ্গ মিত্র-র যাবতীয় কিন্তু কবিতাপাক্ষিক কেন্দ্রীক। ওর স্বপ্নে যেমন কবিতাপাক্ষিক , ঠিক তেমনই জাগরণেও কবিতাপাক্ষিক।

গৌরাঙ্গ বেশ দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু সেই অসুস্থতাকে আমল দিতে নারাজ গৌরাঙ্গ।

কবিতাপাক্ষিক-এর অর্থনৈতিক অবস্থা কারোই অজানা নেই। অনেকের আর্থিক সহায়তায় কবিতা-পাক্ষিক টিকে আছে। দাঁড়িয়ে আছে। হাঁটাচলাও করছে। প্রয়োজনে দৌড়াদৌড়িও করছে। এই প্রসঙ্গে একটা কথা জানিয়ে রাখতে চাই :

পে-কমিশনের সুপারিশে বেতনকাঠামোর বিন্যাস হয়। ফলে একসঙ্গে কিছু টাকা এরিয়ারও পাওয়া যায়। গৌরাঙ্গ দু-বার সেই এরিয়ারের প্রাপ্য টাকার একটা অংশ কবিতাপাক্ষিক-কে দিয়েছিল। এই নজির বাংলাকবিতায় দুর্লভ। 

গৌরাঙ্গ মিত্র -র লেখার কয়েক লাইন :

' পশ্চিমবঙ্গে এবং পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে বিপুল সংখ্যক কবি কবিতাপাক্ষিককে কেন্দ্র করে আহ্নিকগতি সম্পন্ন করে যাচ্ছেন তাঁদের অনেকে আমার আত্মজন হয়ে উঠেছেন। আজ যদি পশ্চিম- বঙ্গের আঠেরোটি জেলায় ১৮ × ২ = ৩৬ জন কবিতা- প্রেমী মানুষের কাছে আমার নামটি পৌঁছে গিয়ে থাকে, তা কবিতাপাক্ষিকের জন্যই হতে পেরেছে। '

এই কথাটি গৌরাঙ্গ ঠিক লেখেনি। ৩৬ কেন , এটা নিরূপণ করার একটি পদ্ধতি হল --- বই বিক্রি। তার হিসেব কপা দপ্তরে আছে । কবিতা এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত বেশ অনেকগুলি বই-ই কিন্তু একাধিকবার ছাপতে হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান বই বিলিতে বিশ্বাস করে না। এটা নতুন করে লিখলাম না।

গৌরাঙ্গ মিত্র নামটি কবিতাপাঠকদের কাছে পরিচিত হয়েছে ,

 নামটি কবিতাপাঠকদের কাছে পরিচিত হয়েছে , ওর লেখার গুণে। এতে আমার কিংবা কবিতাপাক্ষিকের কোনো কৃতিত্ব নেই।

' নিজগুণে ' এই শব্দটির  নতুন একটি বিশেষ অর্থ হল গৌরাঙ্গ মিত্র । এটুকুই আমি জানি এবং বুঝি।।

পরের জন সত্যসাধন চেল। বাঁকুড়ার বেলবনী নামক গ্রামটি বাংলাকবিতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে: একই পরিবারের তিনজন কবির জন্য। রাজকল্যাণ , সত্যসাধন এবং সুব্রত-র জন্য। অনেকেই মজা করে 'চেলবংশ' বলে থাকে।যে যার মতো বলুক। বলার অধিকার আছে বলেই বলে। এখন আমি দেখব সত্যসাধন কী বলেছিল :

' আমি কবিতাপাক্ষিক পরিবারের একজন হিসাবে গৌরব বোধ করি। কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের প্রথম থেকে আমি রয়েছি। এমনকী যখন থেকে কবিতা-পাক্ষিক শুরু, তার পরিকল্পনা ও প্রচার- প্রসারে ওতপ্রোতভাবে রয়ে গেছি। প্রথম সংখ্যাটির জন্য বাঁকুড়ার কাদাকুলি গ্রামে প্রভাতদার বাড়িতেই কবিতাপাক্ষিক প্রকাশ ও লেখা নির্বাচনের প্রথম বৈঠকে আমার উপস্থিতি আমাকে অহংকারী করে রেখেছে আজও।

সত্যই সত্যসাধন ,  তোমরা তিন ভাই আমার অহংকার। আমি অহংকারী তোমাদের সঙ্গ পেয়ে।

পূরবী~ ৪৪ || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~ ৪৪

অভিজিৎ চৌধুরী



কোন কিছু ফিরে দেখার সময় নেই।অথচ নীহরিকার দিকে তাকালে মনে হয় সবটাই তো অচেনা রয়ে গেল।যদি আর ফিরে না আসা হয় তবে তো কিছুই হল না

রবীন্দ্রনাথ প্রায় বলতেন,এ কি আত্মখণ্ডন।যা আছে আর যা রইল না তাকে কি করে মেলানো যায়!

তীর্থও তাই ভাবে।আলোকবর্ষে পিছনে যেতে যেতে মানুষ কি তার কৈশোর দেখতে পায়।তার কি পুরোনো অবয়ব আছে,ভাষা আছে একই ভালোবাসা আর দুর্মর আকাঙ্খা রয়েছে!

সেই সমস্ত দিন কঠোর ছিল,অনিশ্চিত ছিল কিন্তু তার  নিজস্ব ভাষা ছিল।

ক্রমশ অন্যরা বলে আর তীর্থ নিজের ভাষা বলতে পারে না।

রবীন্দ্রনাথ বরাবরই নিজের ভাষা আর নিজের জীবনটার কাছে কারুর কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।জালিয়ানাবাগ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ তো গান্ধীজীর করা উচিৎ ছিল।তিনি করেন নি।

এগিয়ে এলেন রবীন্দ্রনাথ। নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করলেন।সেই রবীন্দ্রনাথ যিনি বরাবর ভেবে এসেছেন,ব্রিটিশরা শোসক হলেও তাঁদের কাছ থেকে গ্রহণও আমাদের অনুচিত কর্ম নয়।

কেন নয়!

ভারতবর্ষের হিন্দু রাজারা কখনও সঙ্ঘবদ্ধ কেন্দ্রীয় শাসন উপহার দিতে পারেননি।মোঘলেরা কেন্দ্রীয় শাসন- ব্যবস্থা চালু করেছিলেন কিন্তু ইউরোপের তুলনায় অনাধুনিক।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

পূরবী~৪৩ || অভিজিৎ চৌধুরী | | ধারাবাহিক বিভাগ

 পূরবী~৪৩

অভিজিৎ চৌধুরী।।




বেদনাহত রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসছেন ঘোড়ার গাড়িতে।বেলা আর নেই।বরপণও দিিয়েছিলেন।মৃণালিনীর দেবীর সায় ছিল না।কাবুলিওয়ালার মিনি সুদূরে চলে গেল আজ।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর ছেলে শরৎ।বিশ্ববিখ্যাত শ্বশুর মশাইয়ের জামাই।বেলার যক্ষার যাবতীয় খরচা রবীন্দ্রনাথ বহন করেন।তখন তিনি নোবেল পেয়েছেন।জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বেলাকে রাখতে পারেননি।সেই থেকে মনান্তরের শুরু।

সাধারণ মানুষ বিশ্বখ্যাত দেখলে আর বেশী অপমান করে যেমন করেছিলেন শরৎ ও তাঁর মা।সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে।শোনা যায় কবির প্রয়াণের দিন খুব কেঁদেছিলেন শরৎ। শুধু নিজের অভিমান সরিয়ে গ্রহণ করতে পারেননি।

তীর্থেরও ইদানীং ভয় করে অপমানিত হওয়ার।সে নিজেকে আড়ালে রাখতে চেয়েছে বরাবর।ডেকে দাঁড়িয়ে দূরবীন হাতে আকাশ দেখবে এই ছিল তার স্বপ্ন।

আলোকবর্ষ যেতে যেতে সে ক্রমশ দেখল জীবন গুটিয়ে এলো।কিছুই হল না তার।

ক্লান্তি ভয়ংকর ভাবে গ্রাস করছে।এই দিনলিপিটুকু ছাড়া কিছুই হয় নি আজ।

এক আতংকের অজগর তাকে প্রায়ই তাড়া করে।সে বলে,গহ্বরে প্রবেশ করো।উদরে প্রবিষ্ট হও।

তীর্থ বলে,কে তুমি

বলে,মৃত্যু।

মৃত্যু এক নিরাবয়ব ধ্যান।তার কাছে যাওয়া সহজ নয়।রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে ভয়ই পেয়েছিলেন।মরণ রে তুহুঁ মম শ্যাম সমান।ভেবেছেন কিন্তু গ্রহণ করতে পারেননি।

আমি যে বর্জিতের তালিকায় রইলেম,সেই সত্যি ছোঁয়া যায় না।

আটপৌরে কবিতা ৯২১-৯২৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯২১

উটকপালী/  অমঙ্গলা /অলক্ষ্মী
             ) অলক্ষুনে  (
নারীর আজও অঙ্গের ভূষণ ।

৯২২

বাউন্ডুলে/ :উদাসীন/  বাস্তবরহিত
           )  ভবঘুরে  (
  মানুষের চাহিদা কিছুই নেই ।

৯২৩

সমস্যা/  অসচেতন/  ভুল
       ) অবিমিষ্যকারী  (
হলে দুঃখ জড়িয়ে ধরে ।

৯২৪

জরাজীর্ণ/  ভঙ্গুর/  প্রাচীন
        ) লঝঝড়ে  (
যা কিছু বাতিল হবেই ।

৯২৫

প্রচার/  পরচর্চা/  বিস্তার
       ) কানাকানি  (
গোপন কথাটি রবেনা গোপনে।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৪.

এবার বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ভেবেছিল এবং ঠিক কী বলেছিল , তা দেখে নেওয়া যাক। তার আগে জানিয়ে রাখি বুদ্ধদেব-পরিচিতি।

বুদ্ধদেব = শ্রীরামপুর।

আবার অন্যরূপে ,

 বুদ্ধদেব = রাইটার্স , ব্লক 1 ,3rd floor.

এই দুই বুদ্ধদেব কিন্তু একজনই। কেউই ড্যুপলিকেট নয়। আর আমার তো সবখানেই বসত।

বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিল :

১॥ কোনো কোনো ঘটনা ও অনুষঙ্গ নিরন্তর সুখের।কবিতাপাক্ষিক সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা এককথায় এরকমই।

২॥  উত্তর আধুনিকতা বিষয়ে স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গীর নিরিখে , পুরস্কার প্রদান ,আলোচনা - প্রতি আলোচনায় কবিতাপাক্ষিক বাংলা ভাষাসাহিত্যে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ছিনিয়ে নিয়েছে।

৩॥ এখন পাক্ষিকের কর্মকাণ্ড অনেক ডালপালা মেলেছে। সেকথা অন্য কেউ হয়তো বলবেন।আমি কেবল এটুকুই বলব , কাছে থাকি বা দূরে , কবিতাপাক্ষিক সদাসর্বদা আমাদের হৃদয়েই রয়েছে।

কবি- গদ্যকার বুদ্ধদেব এখন প্রতিষ্ঠিত নজরুল- বিশেষজ্ঞ। তবু আমার সঙ্গী। বিবিধ প্রয়োজনে ফোন করতে হয়।

কৌশিক চক্রবর্তী মানে ভবানন্দ রোড । বলতে পারা যায় কবিতাপাক্ষিক থেকেই লেখালেখি শুরু। এবং আরো বলা যায় : কৌশিক কখনো কারো হয়ে কবিতা লেখে না। বা নিজের কবিতা লেখে।

সেই কৌশিক কবিতাপাক্ষিক-কে আপন করার প্রকল্পে ঠিক কী লিখেছিল , তার কয়েক লাইন দেখে নেওয়া যাক :

' প্রভাতবাবু সেই ছটা লেখাই নিলেন আর ঠিক একমাস বাদে রাসবিহারী মোড়ে ১১৬ সংখ্যার মলাটে ' এ পক্ষের কবি ' হেডিংয়ে আমার নাম : ছটা লেখাই ছাপা হয়েছে। '

 কৌশিক লেখাটা কীভাবে শেষ করেছিল দেখি :

' উত্তর ঔপনিবেশিক কালখণ্ডে , অধুনান্তিক পৃথিবীর ভাষ্য এভাবেই রচিত হয়েছে এখানে ; যে পৃথিবীতে আমাদের মতন কুচোপাখিদের দুটো দানা পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে ; কারণ পাখিরা জানে স্বপ্নদেখার শেষে পাখিদের শিকার করা হয় না, পাখিশিকার সেখানে অপরাধ; কারণ ,পাখি গান জানে ।'

এবং কবিতাপাক্ষিক চিরকাল সেই কুচোপাখিদের গান শুনতেই চেয়েছে ।

সুবীর ঘোষ কখনো আমার কাছে টিম দুর্গাপুর হয়ে ওঠেনি। দুর্গাপুরে বসবাস করেও ঠিক দুর্গাপুরের নয়।

অর্থাৎ রজতশুভ্র গুপ্ত পিনাকীরঞ্জন সামন্ত বা রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়- এর মতো নয়। অথচ এদের মতোই কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে সর্বাঙ্গে জড়িত , এমনকী কাদাকুলি-র সঙ্গের পরিচিত।

এহেন সুবীর ঘোষ লিখেছিল :

' আর এই  ওড়ারই কথা শুনিয়েছেন প্রভাতদাও। বলেছেন --- "মানুষ যতদিন স্বপ্ন দেখবে ততদিন কবিতাও থাকবে "।স্বপ্নই মানুষের কর্মের সবুজ নিশানা, স্বপ্নই মানুষের অস্তিত্বের তাৎপর্য। মানুষের অনুভব মাষুষকে পশুর থেকে আলাদা মাত্রায় নিয়ে গেছে। তাই সকলেই কবি , কেউ কেউ হয়তো লেখেন। বিভিন্ন অবস্থানে প্রত্যেক মানুষই অনুভব করেন। কেউ কেঊ হয়তো সেটা লিখে ফেলতে জানেন। আর কবি যা লেখেন তাই কবিতা। তবে একটা সতর্কবার্তা প্রভাতদা শুনিয়েছেন। চর্বিতচর্বণ নয় ,কবিকে লিখতে হবে update কবিতা ।'

জয়দীপ চক্রবর্তী কবিতাপাক্ষিক পরিবারের অন্যতম সদস্য।এই কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে জয়দীপের যোগাযোগের জন্য কয়েকটি নাম এবং স্থানকাল এসেছে। সেগুলি :

১৯৯২-৯৩। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ । আনন্দবাজার পত্রিকা দপ্তর। বইমেলার স্টল। সবটাই গল্পের মতো করে লিখেছিল জয়দীপ। সেই লেখা থেকে একটি ক্ষুদ্র অংশ :

' কেননা পত্রিকাটিও এখন আমাদের পত্রিকা। আমিও তো এই পত্রিকা পরিবারেরই একজন, যে এখনো নিয়মিত স্বপ্ন দেখে এবং কবিতাকেও বাঁচিয়ে রাখতে চায় আন্তরিকভাবে '। 

আমরা যেন ভুলে না যাই , বিশিষ্ট শিশু-কিশোর সাহিত্যিক জয়দীপ চক্রবর্তী এক কবি।কবিতাপাক্ষিক পরিবারের কবি।

এবং এটাও জানি কবিতাপাক্ষিক প্রকাশনা-তে বেশ কয়েকটি কিশোরদের উপযোগী বই আছে , যেগুলির বিক্রয়যোগ্যতাও প্রমাণিত।

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার সম্পর্ক । কুমারেশ চক্রবর্তী

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 




সম্পর্ক । কুমারেশ চক্রবর্তী । দি সী বুক এজেন্সি । আশি টাকা ।


সম্পর্কের আসল রূপ সোজাসুজি তুলে ধরতে গিয়ে যখন কবি কুমারেশ চক্রবর্তী তাঁর ' সম্পর্ক' কাব্যগ্রন্থের সম্পর্ক কবিতায়  লেখেন : ' সম্পর্ক- /হাঁটু জলে কাদায় ঘুমহারা,  এক বিপন্ন ভগীরথ- /শেকড়ের প্রত্ন ধুয়ে পুঁছে বহতা গঙ্গার মতো তাকে/  সর্বজনীন করে রাখে ....'  তখন বোঝা যায় কুমারেশের ভেতরে সম্পর্কগত সুতীব্র চিন্তার দিকগুলি । যার বিস্তার তিনি করে গেছেন এই চার ফর্মার কাব্যগ্রন্থে। এই বিস্তারে ডানা মেলে তার প্রতিবাদ,  প্রেম,  জীবন চর্যা  ইত্যাদি । তাই পেয়ে যাই: 

' ডান বাম সবই সুযোগ সুবিধে মতো কিছু থামিয়ে রেখেছে/  কিছু ক্ষেপিয়েও দিচ্ছে লিফলেটে,  ভোটের ময়দানে- / স্রেফ দলের স্বার্থে ....' ( ' বৃষ্টি ' ), ' নিরপেক্ষ বলে কিছু নেই,  হয়ও না - / কেউই  নিরপেক্ষ নয়, / তোমাকে মৃত্যুর দলে,  অথবা জীবনের দিকে/  চলে যেতেই হবে ...' ( ' নিরপেক্ষতা ' ) , ' নিরীহ পাখিদের ডানার ভেতরে আগুন!  / বিশ্বাস করো কেউ আত্মহত্যা করবে না- / যুদ্ধ করবে ....' ( 'রণক্ষেত্রে' ) এর মতো পংক্তিগুলোতে । কবিকে পড়ে নিতে অসুবিধে হয় না তাঁর সহজতার গুণে । 

               অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ থেকে এই কাব্যগ্রন্থে কাব্যভাষার দিক থেকে না পাল্টানোর কারণে কিছুটা হলেও তা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে।  মনে করি নতুন কাব্যগ্রন্থে পুরনো কাব্যগ্রন্থে কিছু আলাদা আশা করা অন্যায় নয় । তবু মাঠে মারা যায় না তাঁর অসাধারণ পংক্তিগুলি:  ' পিপাসা নেই,  ক্ষিদে নেই,  জানার ইচ্ছে নেই-  / স্বপাকে নিজের মাংস ভোজনই কেবল সুস্বাদু বলে মনে হয় ।'( সময়)  ' অতএব আত্মার কাছে নয়,  কবিতার কাছে অন্তত কিছুটা সৎ হতে চেয়ে/  আজকের প্রথম প্রভাতে নিজেকে ধুয়ে কেচে পরিস্কার করে নিলাম....' ( প্রতিবেশী ')।

                 কুমারেশ নিঃস্বার্থভাবে কবিতায়  আছেন বলে তিনি আজও কবিতায়  সজীব ।এ সজীবতা প্রতিটি কবির  কাম্য । পলাশ পালের প্রচ্ছদ রেখাপাত করে না ।

কবিতা || উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৬ || সোমনাথ বেনিয়া

 কবিতা


উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৬ / সোমনাথ বেনিয়া



চারিদিকে ফেস্টুন, ছুটে আসছে বিজ্ঞাপনের লোভনীয় হিল্লোল

যথেষ্ট রহস‍্য ভাষার ভিতর ঝুলবারান্দা, পাটের দড়ির দোলনা

কীভাবে শৈশব ভেঙে হাঁটুর খোলে জমেছে বয়েসের কানাকড়ি

শুধু মনে হয়, এই জীবন টেলিগ্রাম, অসময়ে অন‍্যের কাছে বিপর্যয়

তাই প্রকৃতির কাছে পাঠ নিতে শরীরকে সংকুচিত করে রাখি

দাও অভিপ্রায়, দাও মনের ভিতর আন্তর্জাতিক ভুবনডাঙার মাঠ

সমস্ত কথাচরিত উচ্চারিত হোক ফিকে হ‌ওয়া আড়চোখের ভাষায়

অবিলম্বে ভুলে যাওয়ার প্রেমকাহিনি সাইকেলে চেপে দাঁড়াবে মোড়ে

জানি কোনো আমন্ত্রণলিপি থাকবে না মলাটের রঙিন স্টিকারে

সমস্ত বিভাগে শূন‍্যের বাতাবরণ আশ্চর্য নির্বাণের বিলাসিতা

শুধু উপাধি নিয়ে রাস্তা পারাপার, আয়ুর মধ‍্যপন্থার হলুদ সিগন‍্যাল

লজেন্সের রসে জিভের ঐতিহাসিক বিভোর আনন্দ কার শৈশব

তামাটে মুখের পৃথিবীর সূচিপত্রের মাঝখানে মৃত কবিতার শব

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার আলখরিস । পার্থসারথি উপাধ্যায়

কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 



আলখরিস । পার্থসারথি উপাধ্যায় । বিনির্মাণ । পনের টাকা ।


' চোখে চোখে কথা হয়,  মুঠো থেকে খসে যায় পলকা সময়/  চুমুকে চুমুকে তুলি তোমার জহর ' ( ' আলখরিস  ') নয়তো ' কুচো চিংড়ির মতো তিন লাফে এই থেকে ওই/  মুচির চামড়ার মতো ভালোবাসা/  আয় ঘেন্না করি ' ( ' খ্যালা ' ) র মতো এক আলাদা চিন্তাভাবনা  নিয়ে আজ থেকে পনেরো বছর আগে প্রকাশ পেয়েছিল পার্থসারথি উপাধ্যায়ের  কাব্য পুস্তিকা ' আলখরিস ' । যা ক্লিশে কবিতার বাইরে সামান্য হলেও মুক্ত অক্সিজেন । 

    ৩২ পৃষ্ঠার ২৬টি কবিতার এই পুস্তিকাতে কোন কোন জায়গায় অতিরিক্ত কথা বলার প্রবণতা নিয়ে কবিতা সৃষ্টি হলেও কবির চেতনা ধাক্কা দেয় পাঠককে গভীরতায় যেতে । কবির প্রতিবাদী রূপ দর্শন করি ' '  'প্রস্তাবনা ' কবিতায়:  '  এই সময়ের বুকের ওপর এখন আমার অহংকারী পদচারণা/  বিশ্ব সুন্দরীদের মুখে পেচ্ছাপ করে দিয়ে আমার দর্পিত ব্রহ্মচর্যবিদ্যা । ' কিংবা  ওই কবিতাতেই  : ' শতাব্দী পার করে এক খচ্চর তার খোলস পাল্টায়/  মুখস্থ বমি করতে করতে এক শালিখনন্দন/  দরবেশের দাড়ি গজিয়ে বসে । ' তন্নিষ্ঠ করে । পাশাপাশি ' লিরিক  ' কবিতাতে তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি : ' এসো সমুদ্রের লবন হাওয়ায় মিশুক ভারতের/  পুরনো মধুর মতো নিজস্ব আঘ্রাণ/  এসো প্রজন্ম বিনিময় করি । ' 

            ' আলখরিস ' পুস্তিকাতে লুকিয়ে আছে বহু নির্মাণ, যা বিনির্মাণ বলা যায় । কবি চেয়েছেন  চেনা জগৎ অন্যভাবে দেখতে,  তাতে দোষ নেই,  তবে অহেতুক গর্জন বা মাধুর্যের শেষ সীমায় পৌঁছোনোর প্রচেষ্টা কৃত্রিম মনে হয় ।

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য ১৬৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৩.

সুমিতেশ সরকার কখনোই কবিতাপাক্ষিক - এর এডিটোরিয়াল টিমে ছিল না । কথা সঠিক লিখলাম না। লিখতে হত : কখনোই নামটা ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। প্রতিটি কাজে পাশে থাকত । ঠিক এরকমভাবে খুব কম জনই আমাকে সঙ্গ দিয়েছে। এমনকী বেশ কয়েকটি দিন সুমিতেশের অফিসে আমি স্রেফ টিফিন করতে গেছি। এই সমীকরণটা বোঝানো খুব একটা সহজ নয়।বরং   ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' -এর লেখায় ঠিক কীভাবে শুরু করেছিল , সেটা দ্যাখা যেতে পারে ।

' হয়তো । কিংবা হয়তো নয় , নিশ্চিতভাবেই বলা যায় কবিতাপাক্ষিক মানে এই আপনারা ; এবং আমিও।এইখানে , হ্যাঁ ঠিক এইখানে খুব সামান্যভাবে হলেও আমাকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এবং এইজন্য --- আপনাদের পাশাপাশি আসন পাচ্ছি বলে , সত্যি বলতে কি , আমার রোমাঞ্চ হচ্ছে। নচেৎ এই রচনাটির শীর্ষক আমাদের কবিতাপাক্ষিক হয় কী করে !'

 সুমিতেশ কেন যে আমাদের ছেড়ে এত দূরে চলে গেল , জানি না। ফিরিয়েও আনা গেল না।

অভিজিৎ চৌধুরী নিজেই বলেছিল 'কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে আমার প্রথম যোগসূত্র পাঠক হিসেবে ।'

কিন্তু এই পাঠক অভিজিৎ চৌধুরী খুব বেশিদিন পাঠক পরিচয় টিকিয়ে রাখতে পারেনি। প্রথমে কবি , পরে গদ্যকার রূপে হাজির হয়েছে কবিতাপাক্ষিকের পাঠকদের সামনে। 

বলতে দ্বিধা নেই , অভিজিৎ সূত্রে আমি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম মদনমোহন তর্কালংকার এবং তৎকালীন সমাজের প্রতি। এবং অভিজিৎ-এর সৌজন্যে বেথুন সাহেবের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। এবং পরবর্তী সময়ে ভগবান বুদ্ধ-র স্ত্রী গোপা সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবগত হয়েছিলাম।

এবং অভিজিৎ যেমন কবিতাপাক্ষিক পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিল , আমিও অভিজিৎ-এর পরিবারে যুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

পরের লেখাটি ছিল সমীর রায়চৌধুরী-র। আমি সমীরদাকে প্রথম থেকেই আমার শিক্ষক রূপে প্রচার করে এসেছি। এর মধ্যে আমার কোনো কৌশল ছিল না। আমি প্রথম থেকেই সততার সঙ্গে বলে এসেছি যে ইউরোপের পোস্টমডার্ন চিন্তকদের কোনো বই -এর মলাটও আমি মন দিয়ে দেখিনি। পড়া তো দূরের কথা। সমীর রায়চৌধুরী বলে দিয়েছিলেন : আমার লেখার মধ্যে পোস্টমডার্নের যাবতীয় লক্ষণ বর্তমান , অতএব আমি পোস্টমডার্ন ।

তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই , সমীরদা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। আর রুদ্র কিংশুক-এর কাছে ছুটে গেছি পোস্টমডার্ন সম্পর্কে জানার জন্য।

আর সমীর রায়চৌধুরী এবং রুদ্র কিংশুক সমবেতভাবে ঘোষণা করেছিলেন / করেছিল : আমি যা লিখব , সেটাই পোস্টমডার্ন রূপে গণ্য হবে। এভাবেই আমি বা আমার  ওড়াউড়ি।

তো ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' শিরোনামের লেখাটিতে জানালেন :

' এলো কবিতাপাক্ষিক।পরিষ্কার ঘোষণা টেক্সটের গুরুত্বের। পোস্টমডার্ন কবিতার মানচিত্র। গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে গেল কবিতা ।চট্টোপাধ্যায় , গঙ্গোপাধ্যায় , গোস্বামী বা দাশগুপ্তের কেবলমাত্র কদর নয়। হরেকপদবির কবির কবিতা। নানা ধরনের কবিতা। প্রত্যন্ত গ্রামের কবিতা।'

সমীরদা আরো লিখেছিলেন :

' কবিতাপাক্ষিক-কে ঈর্ষা করা যায় কিন্তু কোনো মতেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কবিতাপাক্ষিকের প্রচ্ছদ ঘোষণা কেউ মানুক না মানুক। এভাবে দীর্ঘকাল সজীব নিয়মিত প্রকাশিত কবিতার পাক্ষিক কাগজ এই পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় ক-টা আছে!!'

সমীর রায়চৌধুরী তাঁর লেখাটির শেষে লিখেছিলেন :

' কবিতাপাক্ষিক কবিতার এ যাবৎ অচেনা অদেখা অধরা স্পেসগুলোকে শনাক্ত করে সেই মানচিত্রের আবছা এলাকাসমূহকে গড়ে চলেছেন । '

হ্যাঁ সমীরদা আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজগুলি নিষ্ঠার সঙ্গে করার চেষ্টা করে চলেছি। বহু সমস্যা , বহু মৎস্য-শিকারিদের টোপ ,নানাবিধ  প্রলোভন ইত্যাদি থেকে  কতদিন , কতটা ঠিক থাকতে পারব জানি না। তবে

চেষ্টা থেকে সরে যাব না সমীরদা। কথা দিলাম আপনাকে। আপনার সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রিয় পাঠকদেরও কথা দিলাম নিজকাজে ফাঁকি দেব না। করে যাব আপন -স্বভাবে।

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...